Friday, December 11th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: December 11, 2020

ডব্লিউএইচও’র সিয়েরো ইডি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীতায় ভারতের সমর্থন

প্রেসওয়াচ রিপোর্ট : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (সিয়েরো) নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে বাংলাদেশের প্রার্থীতার প্রতি ভারত সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই সমর্থনের কথা জানান।
বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীজনিত কারণে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশী নাগরিকরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতীয় দূত আলোচনা করেছেন।
হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ ভারতীয় ভিসা ইতিমধ্যে প্রদান শুরু হয়েছে, আর বাকিগুলো কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে দেয়া হবে।
বিক্রম কুমার সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ৩ কোটি ডোজ সরবরাহের চলমান প্রক্রিয়াটির কথা উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি কোভিড ভ্যাকসিন কার্যকরভাবে বিতরণের জন্য বাংলাদেশী স্বাস্থ্য পেশাদারদের সক্ষমতা বাড়াতে তার সরকারের সহায়তার ইচ্ছার কথাও জানান।
তিনি পারস্পরিক স্বার্থে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক পর্যায়ে আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার প্রণীত পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এর পুনরোল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন, বলেন তুষার।
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং এবং যুদ্ধ পরবর্তী নতুন স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে ভারতের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
‘বাংলাদেশের বেলায় সকল ভারতীয়ই তাঁদের কন্ঠে ঐক্যবদ্ধ,’ উল্লেখ করে তিনি ভারতের সংসদে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির বিষয়টি (এলবিএ) সর্বস্মতভাবে পাশ হওয়ার উদাহরণ টানেন।
তিনি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং দায়িত্ব পালনকালে সবরকম সহযোগিতারও আশ^াস দেন।
বিক্রম কুমার কৃষি পণ্যের মূল্য সংযোজনে বাংলাদেশের খাদ্য এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগে তাঁর দেশের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তিনি ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গৃহীত আগামী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এসব কর্মসূচি গ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করে এ বিষয়ে তাঁর সরকারের সবরকমের সহযোগিতার আশ^াস দেন।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভারতীয়রা বাংলাদেশের উন্নয়নের সহযোগী হতে চায়।
সেই অনুসারে, ১৯৬৫ সালের পূর্বের সংযোগ লাইন, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল সংযোগ আগামী ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে আসন্ন ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের সময় আরও কিছু প্রকল্পের সঙ্গে উদ্বোধন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।সুত্র-বাসস।পিআইডি

Posted by: | Posted on: December 11, 2020

ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

প্রেসওয়াচ রিপোর্ট : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশ ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশে এ দেশ অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৭০ শতাংশ করোনা রোগী ঘরে বসে টেলিমেডিসিনের সেবা গ্রহণ করছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের সকল ক্ষেত্র ডিজিটালাইজেশনের কারণে যে পরিমান প্রবৃদ্ধি হয়েছে তা অনেক দেশই প্রত্যাশা করতে পারেনি।
মন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে এসএমই ফাউন্ডেশন ও কম্পিটার প্রযুক্তি সংক্রান্ত বহুজাতিক কর্পোরেশন ওরাকলের যৌথ উদ্যোগে ‘দেশী ভালোবাসি ই কমার্স ওয়েভ সাইটের পেমেন্ট গেটওয়ের’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং নারী উদ্যোক্তা মানতাসা আহমেদের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম. নারী উদ্যোক্তা সুনিয়া বশির কবির এবং ওরাকলের কান্ট্রি ম্যানেজার রুবাবা দৌলা বক্তৃতা করেন।
দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বিকাশ বিস্ময়কর এ কথা উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল এখন তৃণমূলের মাানুষও পাচ্ছে। প্রাত্যহিক লেনদেন ডিজিটাল হয়েছে । এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনলাইনের পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রাহকের পরিপূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারলে ডিজিটাল কমার্সের ক্ষেত্রে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা পণ্য হাতে পাওয়ার পর টাকা পরিশোধের পরিমান কমে আসবে । এ সময় মন্ত্রী পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রদূত মোস্তাফা জব্বার বলেন,‘দেশে ১৯৮৯ সালে মোবাইল ফোন চালু হলেও জাতীয় নেতৃত্বের দূরদর্শীতার অভাবে তা সাধারণের নাগালে পৌঁছাতে পারেনি। বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ প্রত্যাখ্যান করায় ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে বাংলাদেশকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে ৪টি মোবাইল অপারেটরকে লাইসেন্স প্রদান করায় মোবাইল ফোন সাধারণের নাগালে পৌঁছে যায়। ভ্যাট ট্যাক্স প্রত্যাহার করে কম্পিউটার সহজলভ্য করা হয়।’
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি গত ১২ বছরে বাংলাদেশকে বিশ্বের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারি দেশে পরিণত করেছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ দুনিয়ায় বাংলাদেশের সংযোগ প্রতিষ্ঠায় গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে বীজ বপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তা আজ মহিরূহ হয়ে উঠেছে। এ সময় মোস্তাফা জব্বার ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিও তুলে ধরেন।সুত্র-বাসস।

Posted by: | Posted on: December 11, 2020

বিএনপির আশকারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননার দুঃসাহস: কাদের

ওবায়দুল কাদের

‘গণতন্ত্রহীনতায় উগ্রবাদের উত্থান ঘটছে’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি একদিকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে। আবার তারা গণতন্ত্রের কথা বলে! এদেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছিল বিএনপির হাত ধরেই।‘

এসময় বিএনপি নেতাদের কাছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন রাখেন, ‘বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমান কাদের সৃষ্টি? সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা কাদের আমলে করা হয়েছিল? ময়মনসিংহে চারটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলা কোন আমলে হয়েছিল?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। তাদের আমলে নাকি দেশে গণতন্ত্র ছিল! তাহলে বিএনপির আমলে উগ্রবাদ কীভাবে সৃষ্টি হলো?’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিই ক্ষমতায় টিকে থাকতে আর দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিতে ধর্মীয় উগ্রবাদের সৃষ্টি করেছিল। তারা উগ্রবাদের যে বিষবৃক্ষ লালনপালন করেছিল তারাই আজ ডালপালা বিস্তার করেছে। তাদের আশকারা, প্রশ্রয়, পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আজ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননার মতো দুঃসাহস দেখাতে পারে।’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে- বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মুখে মানবাধিকারের কথা ভূতের মুখে রাম রাম ধ্বনির মতো। আমি বিএনপিকে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কৃত অপরাধের জন্য বিএনপি এখন জনগণের কাঠগড়ায় বলে মন্তব্য করেন কাদের।

Posted by: | Posted on: December 11, 2020

‘বিদ্রোহীদের মদদ দিলে অ্যাকশন’

প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব আসছে। তা জেনে-শুনে, যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন দিতে হবে। যারা আগে বিদ্রোহ করেছেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারা বিজয়ী হন অথবা পরাজিত হন, তাদের অবশ্যই মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এ বিষয়টি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই।’

কাদের এ সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘পেছনে থেকে এমপি, মন্ত্রী, জেলা পর্যায়ের বা কেন্দ্রীয় কোনও নেতা যদি বিদ্রোহ প্রার্থীদের মদদ দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও দল ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেবে। এ বিষয়টি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই।’

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের প্রতিটি বিভাগীয় সদর দফতরে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

উপ-কমিটির সদস্য ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটির মতো উপকমিটি ঘোষণা করেছি। বাকিগুলোর বিষয়ে আমি সম্পাদকদের বলবো। আপনারা আপনাদের উপকমিটি সদস্যদের নাম ঘোষণা করুন। অবিলম্বে আপনাদের তালিকা জমা দিন। কেউ যদি ঘোষিত কমিটিসমূহের ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ হন, অথবা কারও কোনও অভিযোগ থাকলে তা আমাদের পার্টির সভাপতির কার্যালয়ে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগগুলো শোনা হবে। নিষ্পত্তি করা হবে। এ ব্যাপারে নেত্রী পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে বদলে দিয়েছে জীবন প্রবাহ, জীবনের চলমান ধারা। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ অভ্যস্ত হচ্ছে নিউ নরমাল জীবনযাত্রায়। বিশ্বে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ, কোথাও কোথাও তৃতীয় ঢেউ আঘাত আনছে। বাংলাদেশে অতিসম্প্রতি সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হারের ট্রেন্ড আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা আবার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন। এ বাস্তবতায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের কোনও বিকল্প নেই। তাই তাই শতভাগ মাস্ক পরিধান হতে পারে ভ্যাকসিনের এই মুহূর্তের বিকল্প।’ ওবায়দুল কাদের এ সময় করোনার সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার কথা বলেন।

ধানমন্ডিতে এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক সামছুন্নাহার চাঁপাসহ বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

Posted by: | Posted on: December 11, 2020

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বায়ুদূষণে ভুগছে ঢাকা

বায়ু দূষণের তালিকায় সপ্তাহ জুড়ে শীর্ষে অবস্থান করেছে ঢাকা। বলা হচ্ছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষণ হয়েছে গত এক সপ্তাহে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আর পরিবেশ মন্ত্রণালয় বলছে,  দূষণ রোধে কাজ চলছে। কাজ তরান্বিত করতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’ এর বায়ুমান সূচক (একিউআই) অনুযায়ী আজ শুক্রবার  (১১ ডিসেম্বর)  বায়ু দূষণের মানমাত্রায় তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকা। আজ দুপুর ১টায় মানমাত্রা ছিল ১৯০।  বিশেষজ্ঞদের মতে এ মানমাত্রাও অস্বাস্থ্যকর।.

বায়ুদূষণ (ছবি: ফোকাস বাংলা)

সম্প্রতি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক পর্যবেক্ষণে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরের প্রথম আট দিনে ঢাকায় বায়ু মান সূচকে দূষণ ছিল ১৮১, ২০১৭ সালে ছিল ১৮৯,  ২০১৮ সালে ২০৭, ২০১৯  ছিল ১৭৩।  এর বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহে বায়ুমান সূচক বেড়ে গিয়ে ২৩৭ এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৯৯ ভাগ বেশি।.

বায়ুদূষণ (ছবি: ফোকাস বাংলা)এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে মান সূচকে দূষণের গড় মাত্রা ছিল ১৬৩। নভেম্বরের তুলনায় গড়ে ৪৫ দশমিক ৩৬ ভাগ বায়ু দূষণ বেড়েছে ডিসেম্বরে।

বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যে,  গত পাঁচ বছর ধরে ডিসেম্বর মাসে ঢাকার মানুষের একদিনের জন্যও ভালো বায়ু সেবনের সৌভাগ্য হয়নি। অস্বাস্থ্যকর থেকে খুবই অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান অবস্থা বিরাজ করেছে। আরও আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, গত পাঁচ বছরের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর দিনের সংখ্যা বেড়েছে। এদিকে গত পাঁচ বছরে বায়ু মান সূচকে কখনোই দূষণের মাত্রা দুর্যোগপূর্ণ হয়নি। সেখানে গত ৬ ডিসেম্বর তা দুর্যোগপূর্ণ, অর্থাৎ বায়ুমান সূচকে ৩১০ উঠেছিল।’.

বায়ু দূষণের মাত্রা ২০০ ছাড়ালে বিশেষজ্ঞরা বলেন, মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। আর ৩০০ ছাড়ালে বলা হয় ‘দুর্যোগপূর্ণ’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনক্সাইড, মার্কারি ও লেডের মতো ভারী পদার্থ বাতাসে মিশে যাচ্ছে। এগুলো ফুসফুস ও হৃদরোগ, যকৃতের সমস্যা ও গর্ভবতী মায়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিশু ও বয়স্কদের জন্যও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।.

এদিকে, গত বছর ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের কারণ খুঁজে বের করা এবং বায়ুদূষণ রোধে ও কমাতে নীতিমালা প্রণয়নে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সচিবকে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের আদেশ দেন। কোর্টের আদেশে মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে ১৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি আছেন।.

এদিকে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারা বায়ু দূষণের কারণ হিসেবে ২০টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এসব কারণ চিহ্নিত করে কাজও শুরু হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে- ১.ইটভাটা, ২.রাস্তা নির্মাণ, পুণঃ নির্মাণ এবং মেরামত, ৩.সেবা সংস্থাগুলোর নির্মাণ, পূণঃ নির্মাণ এবং মেরামতের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ৪. বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর (যেমন, এক্সপেসওয়ে, মেট্রোরেল) কাজ, ৫. সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, ৬. সড়ক বা মহাসড়কের পাশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বালু উত্তোলন  ও সংগ্রহ,  ট্রাক বা লরিতে বালু, মাটি, সিমেন্টসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী উন্মুক্ত অবস্থায় পরিবহন, ৭. রাস্তায় গৃহস্থালী ও পৌর বর্জ্য স্তূপাকারে রাখা এবং বর্জ্য পোড়ানো, ৮. রাস্তার পাশের ড্রেন থেকে ময়লা তুলে রাস্তায় ফেলে রাখা, ৯.হাতে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে গিয়ে ধুলাবালি ছড়ানো, ১০.বিভিন্ন সড়কের পাশে অনেক অনাবৃত স্থান থেকেও বায়ু দূষণ, ১১.ফুটপাত ও রাস্তার ডিভাইডারের আইল্যান্ডের মাঝখানের ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মাটি ও ধুলাবালি, ১২.তীব্র যানজট এবং ফিটনেস বিহীন পরিবহন থেকে ক্ষতিকর ধোয়া নিঃসরণ, ১৩. বিভিন্ন যানবাহনে এ সঙ্গে চাকার সঙ্গে যুক্ত কাদামাটি রাস্তায় ছড়ানো, ১৪. বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকার কলোনির ময়লা আবর্জনা পোড়ানো, ১৫. বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল এবং বাণিজ্যিক ভবনের ময়লা আবর্জনা ও ধুলোবালি রাস্তায় ফেলে দেওয়া, ১৬. ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ প্রবণ এলাকার ধুলোবালি, ১৭. হাসপাতালের বর্জ্য রাস্তায় ফেলা,  ১৯. অধিক সালফারযুক্ত ডিজেল ব্যবহার করা এবং ২০. সর্বশেষ জনসচেতনতার অভাব।

মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, সম্প্রতি বায়ু দূষণ বেড়ে যাওয়ায় এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি একটি সভা করে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এই সভায় কাজগুলো মনিটরিং জোরদার করতে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।.

বায়ুদূষণ (ছবি: ফোকাস বাংলা)পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বায়ু দূষণ রোধে যে কারণগুলো দায়ী সেগুলোকে আগেই চিহ্নিত করে কাজ করা হচ্ছিলো। এখন সেই কারণগুলোকে আলাদা আলাদা করে সাব কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। কমিটিগুলো তাহলে প্রত্যেকটি বিষয়ে আলাদা করে মনিটরিং করতে পারবে। এতে কাজের গতি বাড়বে।’