ডিপার্টমেন্টের করিডোরটা আজ বড্ড নিঝুম। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ফাইলগুলো, কিংবা ড্রয়ারে জমে থাকা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চিঠিপত্রগুলো সাক্ষী—এই মানুষটি শুধু রুটিন মেপে ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফেরার চেনা শিক্ষক ছিলেন না। অথচ যে চেয়ারটায় বসার বিন্দুমাত্র মোহ তাঁর ছিল না, নিয়ম আর স্বচ্ছতার স্বার্থে যেখানে তাঁকে জোর করেই একরকম বসানো হয়েছিল, সেখান থেকেই ধেয়ে এলো বিনা মেঘে বজ্রপাত।
স্বার্থান্বেষী দুটো চেনা মুখের ইশারায় একদল সাবেক শিক্ষার্থী যখন তাঁর সামাজিক মর্যাদা আর চরিত্রের ওপর কাদা ছোড়াছুড়ি করছিল, শিক্ষক তখনো শান্ত। প্রাপ্য সম্মানী না পেয়েও যিনি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রবৃদ্ধিতে আর সহকর্মীদের উজ্জীবিত করতে দিনরাত এক করেছেন, তাঁর গায়েই জড়ানো হলো অপবাদের গ্লানি।
অন্যায়কারীদের মুখোশ একদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উন্মোচিত হবে, ফেরেশতাদের আমলনামায় সব হিসাব তোলা থাকছে—এই ধ্রুব সত্যটুকু তিনি জানেন। তাই এত আঘাতের পরও তাঁর মনে কোনো প্রতিশোধের আগুন নেই।
শিক্ষক শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অবুঝ শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই, আছে এক বুক উদাসীনতা আর ক্ষমা। সত্য আড়াল করা যায় না। কুয়াশা কেটে যখন আসল সত্যটা শিক্ষার্থীদের সামনে আসবে, তখন হয়তো বড্ড দেরি হয়ে যাবে—শিক্ষকের আফসোস শুধু এটুকুই।