অণু-পরিবারের মনস্তত্ত্ব ও ভোগবাদের দাঁড়িপাল্লায় রক্তের সম্পর্ক – অধ্যাপক ডক্টর দিপু সিদ্দিকী

মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে পঁচাত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের পচা-গলা লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি স্রেফ কোনো প্রাত্যহিক ক্রাইম রিপোর্টের খতিয়ান নয়। এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এবং সর্বোপরি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিক দেউলিাত্ব ও পচনের এক জীবন্ত ময়নাতদন্ত। ১ জুন রাতে ৯৯৯-এ আসা একটি ফোন কলের সূত্র ধরে পুলিশ যখন মিরপুর-৬ নম্বরের সি ব্লকের সেই অন্ধকার কক্ষটিতে প্রবেশ করে, তখন সেখানে সভ্যতার এক বীভৎস কঙ্কাল পড়ে ছিল। দীর্ঘদিন অবহেলা, অনাহার আর চরম অমানবিক পরিবেশে পড়ে থাকার কারণে শরীরটিতে পচন ধরেছিল।

এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে নির্মম এবং কুৎসিত অধ্যায়টি উন্মোচিত হয় যখন মৃতার সন্তানদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় সামনে আসে। নূরজাহান বেগম কোনো গৃহহীন বা অনাথ বৃদ্ধা ছিলেন না। তিনি সেই ফ্ল্যাটটিতে নিজের মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন, যিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষিকা। তাঁর অন্য সন্তানদের মধ্যে একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক এবং অপরজন কানাডাপ্রবাসী। সমাজের সর্বোচ্চ স্তরের সফল, প্রতিষ্ঠিত এবং উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের জন্মদাত্রীর এই পরিণতি একবিংশ শতাব্দীর বাঙালি সমাজকে এক চরম আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া ও দ্বিমুখী দ্বন্দ্ব:

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে। কিন্তু এই ভার্চুয়াল প্রতিক্রিয়ার গভীরতা কতটুকু? এটি কি সাময়িক হুজুগ, নাকি সমাজ পরিবর্তনের কোনো আন্তরিক তাগিদ—তা নিয়ে আজ নির্মোহ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, নূরজাহানের এই চলে যাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন পারিবারিক দুর্ঘটনা নয়। এটি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত সংকটের খণ্ডচিত্র মাত্র।

যখন কোনো বাবা বা মা নিঃসঙ্গ অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেন, তখন সমাজ খুব দ্রুত সন্তানদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। চারদিকে রব ওঠে—

“সন্তানরা অকৃতজ্ঞ এবং অমানুষ ছিল।”

 

কিন্তু আমরা কখনো নিজেকে প্রশ্ন করি না—যে সন্তানকে আজ অকৃতজ্ঞ বলছি, তাকে কৃতজ্ঞতা শেখানো হয়েছিল কবে? যে সন্তানকে আজ হৃদয়হীন বলছি, তার হৃদয়টা ভেঙেছিল কে?

একটা শিশু পৃথিবীতে আসে মায়া নিয়ে। তারপর ধীরে ধীরে আমরা তাকে বদলে দিতে শুরু করি। আমরা বলি—ওকে হারাতে হবে, ওর চেয়ে বেশি নাম্বার পেতে হবে, ওর চেয়ে বড় হতে হবে। আমরা তার হাতে বই দিই, কিন্তু মানবতা দিই না। আমরা তাকে অঙ্ক শেখাই, কিন্তু সম্পর্কের হিসাবের বাইরে ভালোবাসতে শেখাই না। আমরা তাকে সফল হওয়ার শিক্ষা দিই, কিন্তু কারও চোখের জল মুছে দেওয়ার শিক্ষা দিই না।

বছরের পর বছর ধরে আমরা তার ভেতরের কোমল মানুষটাকে হত্যা করি, তারপর একদিন আশা করি—সে আমাদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসবে। এ যেন একটি গাছের শেকড়ে প্রতিদিন বিষ ঢেলে, শেষ বয়সে এসে মিষ্টি ফল খুঁজে বেড়ানোর মতো।

 

আধুনিক শিক্ষার ভ্রান্তি: মেশিন বনাম মানবিক সত্ত্বা:

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জোয়ারে ভাসছে। ডাটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং আর করপোরেট ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়ে জ্ঞানলাভের এক অন্ধ প্রতিযোগিতা চলছে আমাদের চারপাশে। নতুন প্রযুক্তি আসছে—এটি নিঃসন্দেহে সময়ের দাবি। কিন্তু এই সব অগ্রগতির কেন্দ্রে যে উপাদানটি থাকার কথা ছিল, তা হলো ‘মানুষ’। মানুষের সেবায়, মানুষের আত্মিক কল্যাণে কীভাবে এই বিজ্ঞানকে কাজে লাগানো হবে, সেই পরিমিতিবোধ মানুষকে কে দেয়? এই চেতনা কোনো ল্যাবরেটরি বা কোডিং ক্লাসরুম থেকে আসে না; এটি আসে কলা (Arts), সাহিত্য, ইতিহাস এবং সামাজিক দর্শন বিষয়ক চর্চা থেকে।

দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা দর্শন শিক্ষাকে চরম অবজ্ঞার চোখে দেখছে। যে শিক্ষা সরাসরি কোনো আর্থিক মুনাফা এনে দেয় না, তাকে আমাদের নীতিনির্ধারকেরা ‘অনুৎপাদনশীল’ বা অপ্রয়োজনীয় তকমা দিয়ে পাঠ্যক্রমের প্রান্তসীমায় ঠেলে দিয়েছেন। আজকের শিক্ষাব্যবস্থা জিপিএ-৫ আর লোভনীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্যারিয়ারের পেছনে এক অন্ধ ইঁদুরদৌড় তৈরি করেছে। আমরা সন্তানদের মুখস্থ বিদ্যা গিলিয়ে মেধার সার্টিফিকেট দিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু তাদের ভেতরের মানবিক সত্ত্বাকে সুকৌশলে হত্যা করছি।

বিজ্ঞানমনস্কতা জরুরি, কিন্তু একজন বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদের চিন্তায় যদি মানবিক বিজ্ঞান ও দর্শনের স্পর্শ না থাকে, তবে তার ভেতরের সহানুভূতি মরে যেতে বাধ্য। দর্শনহীন বিজ্ঞান আর মূল্যবোধহীন উচ্চশিক্ষা মানুষকে মানুষ বানায় না, বরং তাকে পরিণত করে এক-একটি দক্ষ, সংবেদনহীন, স্বার্থপর রোবটে। নূরজাহান বেগমের সন্তানরা সেই যান্ত্রিক শিক্ষারই একেকটি চূড়ান্ত প্রোডাক্ট। তারা বুয়েটে পড়াতে পারেন, সরকারের নীতি নির্ধারণ করতে পারেন, ক্লাসরুমে শিশুদের পাঠ দিতে পারেন—কিন্তু মায়ের জীর্ণ ঘরের খবর রাখার, অসুস্থ জন্মদাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর ন্যূনতম মানবিক বোধটুকু তাদের ভেতর গড়ে ওঠেনি। কারণ, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা তাদের ‘সফল’ হতে শিখিয়েছে, ‘মানুষ’ হতে শেখায়নি।

 

ভোগবাদী সমাজ, আত্মকেন্দ্রিক পরিবার ও করপোরেট দাঁড়িপাল্লা:

এই সংকটের শেকড় আরও গভীরে, আমাদের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরে। বর্তমান বিশ্বায়িত অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে ব্যক্তিস্বার্থ আর চরম ভোগবাদের (Consumerism) ওপর। আমাদের সনাতন যৌথ পরিবারের সুরক্ষামূলক কাঠামো ভেঙে আমরা এখন ‘আমি, আমার সঙ্গী আর আমার চার দেয়াল’—এই আত্মকেন্দ্রিক অণু-পরিবার (Nuclear Family) সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এই পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় সম্পর্কগুলোও এখন লাভ-ক্ষতির করপোরেট দাঁড়িপাল্লায় পরিমাপ করা হয়।

নিজ স্বামী অথবা স্ত্রী আর সন্তান নিয়ে সকলকে ভুলে একাকী জীবন উপভোগ করার ফলে ভবিষ্যৎ সন্তান কিন্তু চরম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে বেড়ে উঠছে। যেমনি তার মা তার দাদিকে, দাদাকে, চাচাকে কিংবা ফুফুকে পৃথক করে তাকে বড় করেছিলেন, ঠিক তেমনি পরবর্তী প্রজন্মও একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। সন্তানরা হঠাৎ করে পাথর হয়ে যায় না। তাদের ভেতরের মায়াগুলো একটু একটু করে মরে যায়—তুলনার চাপে, অপমানের চাপে, অপূরণীয় স্বপ্ন চাপিয়ে দেওয়ার চাপে।

যে সন্তান সারা জীবন শুনেছে “তুমি যথেষ্ট নও”, সে বড় হয়ে কাউকেই যথেষ্ট মনে করতে পারে না। যে সন্তান সারা জীবন শর্তের বিনিময়ে ভালোবাসা পেয়েছে, সে নিঃশর্ত ভালোবাসতে শেখে না। এটাই সবচেয়ে নির্মম সত্য।

মা-বাবা যখন বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন, তখন এই স্বার্থপর সন্তানদের কাছে তাঁরা কোনো পরম শ্রদ্ধেয় বা আবেগের আশ্রয় থাকেন না; বরং তাঁরা গণ্য হন এক প্রকার ‘অনুৎপাদনশীল অর্থনৈতিক বোঝা’ (Non-productive Burden) হিসেবে। এক সময় এত বেশি আত্মকেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি হয় যে একপর্যায়ে সে তার পিতা বা মাতাকেও পর করে ফেলে।

ড. সুকোমল বড়ুয়ার দর্শন ও বাস্তবায়নের শূন্যতা:

কারিগরি শিক্ষার এই নৈতিক মহামারি থেকে সমাজকে বাঁচাতে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর সুকোমল বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আত্মিক রূপান্তরের কথা বলে আসছেন। তাঁর মতে, কেবল বস্তুগত শিক্ষা মানুষকে অহংকারী ও বিচ্ছিন্ন করে তোলে। এর বিপরীতে তিনি আমাদের পাঠ্যক্রমে অহিংসা, পারস্পরিক মৈত্রী এবং অসাম্প্রদায়িক সামাজিক দর্শনের মেলবন্ধনের ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি মূলত ‘মানবিক জ্ঞান ও বিজ্ঞানের একটি সমন্বিত শিক্ষা মডেল’ প্রস্তাব করেন। বিভিন্ন ফোরামে তাঁর এই দূরদর্শী চিন্তাধারা প্রশংসিত হলেও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক মহল, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা কারিকুলাম বোর্ড (NCTB) তা বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই দর্শনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা যায়নি বলেই আজ সমাজ এমন মানবিক শ্মশানে পরিণত হয়েছে, যেখানে কাগজের সার্টিফিকেটের আড়ালে তৈরি হচ্ছে ‘উচ্চশিক্ষিত অমানুষ’।

 

উত্তরণের পথ: আইন বনাম মনস্তাত্ত্বিক সংস্কার:

এই সামাজিক মড়ক থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে আমাদের এখনই একটি সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই সংকটের সমাধান কেবল একতরফা আইনি প্রয়োগে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন দ্বি-মুখী নীতি:

“`

┌────────────────────────────────────────┐

│ সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট উত্তরণ │

└───────────────────┬────────────────────┘

┌────────────────────────┴────────────────────────┐

▼ ▼

┌──────────────────────────┐ ┌──────────────────────────┐

│ আইনের কঠোর প্রয়োগ │ │ মনস্তাত্ত্বিক সংস্কার │

│ (বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ) │ │ (অভ্যন্তরীণ আলো) │

└────────────┬─────────────┘ └────────────┬─────────────┘

│ │

├─► ২০১৩ সালের আইন গতিশীল করা ├─► শৈশব থেকে দর্শন ও সুকুমার

│ │ বৃত্তি চর্চা বাধ্যতামূলক করা

└─► ক্যারিয়ার ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা │

বাতিলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি └─► অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি বদল:

সন্তান ‘বিনিয়োগের মাধ্যম’ নয়

 

 

১. আইনের কঠোর প্রয়োগ:

বাংলাদেশে ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ রয়েছে। এটি একটি ভালো আইন হলেও সচেতনতার অভাব ও আইনি জটিলতার কারণে এর প্রয়োগ অত্যন্ত সীমিত। এই আইনের ধারাগুলো আরও কঠোর ও গতিশীল করা সময়ের দাবি। মা-বাবাকে অবহেলাকারী সন্তানদের চাকরি, পদোন্নতি বা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান যুক্ত করতে হবে। যখন একজন উচ্চপদস্থ আমলা বা চিকিৎসক জানবেন যে মায়ের অবহেলার কারণে তাঁর ক্যারিয়ার ও ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তখন ভয়ের কারণে হলেও তাঁরা দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবেন।

২. পারিবারিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্বের সংস্কার:

আইন দিয়ে রাষ্ট্র কাউকে শারীরিকভাবে পাশে দাঁড় করাতে পারবে, কিন্তু মনের ভেতরের সহানুভূতি জোর করে তৈরি করতে পারবে না। সেটার জন্য প্রয়োজন পারিবারিক মনস্তত্ত্বের আমূল সংস্কার। প্রকৃতির সবচেয়ে কঠিন নিয়ম হলো—যা বপন করবে, একদিন তাই ফিরে আসবে। ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা ফেরে। অবহেলা দিলে অবহেলাই ফেরে।

তাই সন্তানকে শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিসিএস ক্যাডার বানানোর স্বপ্ন না দেখে, তার আগে তাকে মানুষ বানান। তাকে শেখান—একটা ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দিতে, একটা কান্নারত মানুষকে সান্ত্বনা দিতে, একটা সম্পর্ককে আগলে রাখতে। কারণ জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে মানুষ বুঝতে পারে—এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় অভাব অর্থের নয়, সবচেয়ে বড় অভাব ভালোবাসার।

সারকথা:

মিরপুরের সেই চার দেয়ালের ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়া মায়ের পচা-গলা লাশের গন্ধ আসলে আমাদের ঘুণে ধরা শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের পচনের গন্ধ। আইন যদি বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করে অপরাধের সংখ্যা কমায়, তবে পারিবারিক মূল্যবোধ ও দর্শন ভেতর থেকে মানুষকে আলোড়িত করে প্রকৃত মানুষ বানায়। যতক্ষণ না রাষ্ট্র ও পাঠ্যক্রমে এই দুইয়ের সঠিক সমন্বয় ঘটছে, ততক্ষণ শিক্ষার কাগজের সার্টিফিকেটের আড়ালে এমন সংবেদনহীন রোবট তৈরি হওয়া বন্ধ হবে না।

সবচেয়ে করুণ মৃত্যু সেই নয়, যখন মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। সবচেয়ে করুণ মৃত্যু তখনই ঘটে, যখন জীবিত অবস্থাতেই একটি হৃদয়ের ভেতর থেকে মায়া, ভালোবাসা আর মানবিকতা মারা যায়। সন্তানদের শুধু আমলা বা প্রকৌশলী বানানোর অন্ধ ইঁদুরদৌড় বন্ধ করে, সবার আগে তাদের ‘মানুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার যৌথ প্রতিজ্ঞা আমাদের রাষ্ট্র, শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবারকে নিতেই হবে। নয়তো আজ যে অবহেলা আর নির্মমতার শিকার এই মা হলেন, কাল সেই একই ভয়াবহ নিয়তি আমাদের প্রত্যেকের দরজায় এসে কড়া নাড়বে।

লেখক: প্রাবন্ধিক এবং কবি, ডিন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা।

Share: