শব্দ ও সত্যের অবিনাশী কারিগর: অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্মরণে – ডক্টর দিপু সিদ্দিকী

জগতে কিছু মানুষের প্রস্থান কেবল একটি নশ্বর দেহের অবয়ব বিলীন হওয়া নয়, বরং একটি গোটা প্রজন্মের বিবেক ও প্রজ্ঞার বাতিঘর নিভে যাওয়া। গত ৫ জুলাই ২০২৬, রবিবারের সেই তপ্ত দুপুরে ঢাকার মিরপুরের এক রেস্তোরাঁয় যখন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন, তখন মূলত এই বদ্বীপের চিন্তার আকাশের সবচেয়ে স্থির নক্ষত্রটি খসে পড়ল। ৮৬ বছরের এক সুদীর্ঘ, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অথচ জলোচ্ছ্বাসহীন শান্ত নদীর যাত্রা এসে থমকে দাঁড়াল মহাকালের মোহনায়।

আমরা এমন এক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে মেধা বিকিয়ে দেওয়া জলের মতো সহজ এবং যেখানে ক্ষমতার অলিন্দে মেরুদণ্ড বাঁকানোকেই চতুরতা বলে গণ্য করা হয়। নৈতিক অবক্ষয়ের এই চরম অন্ধকার যুগে আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন আমাদের পরম ভরসার আশ্রয়। এই বদ্বীপে নিষ্কলুষ চরিত্র, নির্মোহ চিত্ত আর লোভহীন জীবনযাপনের যে ক’জন চাক্ষুষ মানুষ আমরা দেখেছি, তাঁর প্রয়াণে সম্ভবত সেই ধারার শেষ প্রদীপটি নিভে গেল। শত বছরে এমন মানুষের জন্ম একবারই হয়। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন এক অন্তহীন শূন্যতা এবং আমাদের জন্য এক বিশাল দায়বদ্ধতা।

স্মৃতির পাতা ওল্টালে এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সেই মায়াবী বিকেলটি। কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্যার এসেছিলেন প্রধান অতিথি হয়ে। সেটিই ছিল স্যারের সঙ্গে আমার জীবনের সর্বশেষ দেখা।

সেদিন প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি যখন পোডিয়ামে এসে দাঁড়ালেন, পুরো মিলনায়তনে তখন পিনপতন নীরবতা। তিনি শওকত ওসমানের সাহিত্য, তাঁর চল্লিশের দশকের আধুনিকতা এবং মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রাম নিয়ে কথা বলছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই বলাটা কোনো শুষ্ক রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বক্তৃতা ছিল না; তা ছিল এক অনবদ্য কবিতার মতো। প্রতিটি শব্দ যেন এক একটি মুক্তোর দানা, যা শ্রোতাদের হৃদয়ের গভীরে গিয়ে বিঁধছিল।

তিনি বলছিলেন কীভাবে শওকত ওসমান আজীবন অসাম্প্রদায়িক, যুক্তিবাদী এবং শোষিত মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে কলম ধরেছিলেন। স্যারের সেই গভীর ও প্রাজ্ঞ উচ্চারণ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে, প্রকৃত বুদ্ধিজীবী তিনিই, যিনি ক্ষমতার চাটুকারিতা না করে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে পারেন। সেই বিকেলে তাঁর মুখাবয়বে যে প্রশান্তি আর চোখের কোণে যে সমাজবদলের তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখেছিলাম, তা আমার স্মৃতিতে আজীবন এক অমূল্য পাথেয় হয়ে থাকবে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ কেবল একজন শিক্ষক বা চিন্তাবিদের সঙ্গে একজন অনুজের ছিল না; এর নেপথ্যে ছিল এক গভীর আত্মিক ও পারিবারিক যোগসূত্র। আমার প্রয়াত পিতা, কবি আমি রউফ ছিলেন স্যারের সমকালের এবং একই জেলা—কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, একই প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে যুক্ত থাকার কারণে বাবার সঙ্গে স্যারের এক নিবিড়, অকৃত্রিম আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

পিতার সুবাদে শৈশব-কৈশোর থেকেই স্যারের স্নেহধন্য হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বাবা যখন চলে গেলেন, স্যার তখনো আমার মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে ছিলেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মাটি থেকে উঠে আসা এই কৃতি সন্তান ঢাকাইয়া নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতার মাঝেও মাটির সেই অমোঘ টানকে কখনো ভুলে যাননি। যখনই স্যারের সঙ্গে দেখা হতো, তিনি অত্যন্ত স্নেহে আমার খোঁজ নিতেন, বাবার কথা স্মরণ করতেন। এই পারিবারিক ও আত্মিক বন্ধনই আমাকে স্যারের জীবনের অতি কাছাকাছি গিয়ে তাঁর ভেতরের খাঁটি মানুষটিকে চেনার সুযোগ করে দিয়েছিল।

 

আজকের জমানায় দাঁড়িয়ে আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যারের চরিত্রের শক্তির কথা বিশ্লেষণ করতে গেলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তা রূপকথার গল্পের মতো মনে হতে পারে। জাগতিক কোনো ক্ষমতা, পদ-পদবি বা বৈষয়িক পাওনার জন্য তিনি কখনো উদগ্রীব ছিলেন না। লোভ লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি কোনোদিন। বর্তমান সময়ে যখন দেখি—কাকে ডিঙিয়ে কোথায় যেতে হবে, কোন রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করে রাষ্ট্রীয় পদক বা পুরস্কার বাগিয়ে নিতে হবে—এই ইঁদুরদৌড়ে যখন তথাকথিত পণ্ডিতেরা ব্যস্ত, তখন ফজলুল হক স্যার ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।

রাষ্ট্রীয় পদক বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় পদ তাঁকে কখনো টানেনি। তিনি ঠিক একটি পবিত্র শিশুর মতো নিষ্পাপ ও সরল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার যখন তাঁকে বাংলা একাডেমির সভাপতি পদে মনোনীত করে, তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন কেবল সংস্কৃতির প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা থেকে, কোনো ক্ষমতার মোহে নয়। তাঁর এই নির্লোভ চরিত্রই তাঁকে সমাজের অন্য সবার চেয়ে আলাদা এবং এক অস্পৃশ্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

 

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সামনে কোনো ক্ষমতার জৌলুস খাটত না। তাঁর কাছে সমাজের সব মানুষের মর্যাদা ছিল সমান। তিনি দেশের কোনো বড় মন্ত্রী, আমলা বা ক্ষমতাবানের সঙ্গে যেভাবে কথা বলতেন, ঠিক তেমনি স্নেহ ও মমতায় কথা বলতেন একজন সাধারণ ছাত্র, রিকশাচালক কিংবা মেহনতি মানুষের সঙ্গে। ক্ষমতার বড়াই করে কেউ তাঁর কাছ থেকে বিশেষ কোনো সমীহ আদায় করতে পারেনি।

তিনি ছিলেন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমত্বের এক মহাসমুদ্র। কাউকে খুশি করার জন্য, কিংবা নিজের কোনো আখের গোছানোর জন্য তিনি কখনো মিথ্যে বা চাটুকারিতামূলক কথা বলতেন না। যা সত্য, যা সমাজ ও মানুষের জন্য কল্যাণকর, তা তিনি অত্যন্ত অকপটে এবং সাহসের সঙ্গে বলতেন। তাঁর এই স্পষ্টবাদিতা অনেক সময় ক্ষমতাবানদের অস্বস্তির কারণ হলেও, সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন পরম বিশ্বস্ত এক অভিভাবক।

 

আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যারের জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসেছিল ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর, যখন তাঁর একমাত্র পুত্র, জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনকে উগ্রপন্থীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। একজন পিতার পক্ষে সন্তানের এমন নৃশংস মৃত্যু সহ্য করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। কিন্তু সেই চরম শোকের মুহূর্তেও তিনি যে প্রজ্ঞা ও মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

পুত্রের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ এই পিতা সাংবাদিকদের বলেছিলেন—“আমি কোনো বিচার চাই না। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক।” তিনি আরও বলেছিলেন, যারা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনীতি করছে আর যারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে, উভয় পক্ষই দেশের সর্বনাশ করছে। জেল-ফাঁসি দিয়ে এই হিংসার সংস্কৃতির অবসান হবে না, দরকার মানুষের ভেতরের শুভবোধের জাগরণ।

এক শোকাতুর পিতার এই জবানবন্দি কেবল একটি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া ছিল না, তা ছিল এ দেশের সামগ্রিক বিচার ও political ব্যবস্থার ওপর এক বড় চপেটাঘাত। তিনি জানতেন, সমাজকে ভেতর থেকে পরিবর্তন না করতে পারলে কেবল শাস্তির মাধ্যমে শান্তি আনা সম্ভব নয়।

 

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেননি, তিনি তাঁর কলমকে করে তুলেছিলেন সমাজ ভাঙা-গড়ার হাতিয়ার। তিনি ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে একুশটিরও বেশি মৌলিক ও সম্পাদিত গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত ‘মুক্তিসংগ্রাম’ (১৯৭২), ‘নৈতিকতা: শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি’ (১৯৮১), ‘রাজনীতি ও দর্শন’ (১৯৮৯), এবং ‘রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ’ (২০০৮) আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ ভাবনার এক একটি আকর গ্রন্থ।

তিনি বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘রাজনৈতিক আদর্শ’ এবং ‘নবযুগের প্রত্যাশায়’ অনুবাদ করে বাঙালি পাঠককে বিশ্ব ভাবনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি একক প্রচেষ্টায় ‘লোকায়ত’ নামক একটি প্রগতিশীল সাময়িকপত্র সম্পাদনা করে আসছিলেন, যা ছিল এ দেশের প্রগতিশীল তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক আশ্রয়স্থল। ১৯৮১ সালে তিনি তাঁর এই অনন্য অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।

তিনি এমন এক প্রাজ্ঞ দার্শনিক ছিলেন যিনি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও সমাজবাস্তবতাকে বুঝতে পারতেন। তিনি মনে করতেন, যেহেতু এ দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ, তাই তাদের বিশ্বাসে আঘাত দিয়ে কোনো বড় সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। মানুষকে সাথে নিয়ে, তাদের শুভবোধকে জাগিয়ে তুলেই এক সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—এটাই ছিল তাঁর আজীবন লালিত দর্শন।

 

স্যার প্রায়শই তাঁর ক্লাসে এবং লেখায় ইতিহাসের নানা উদাহরণ টেনে সমাজকে সতর্ক করতেন। তিনি জালালুদ্দিন রুমির সেই উটের পিঠে বই বহনের গল্প বলে বোঝাতেন যে, অহংকার কীভাবে মানুষের পতন ঘটায়। প্রকৃত জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে, যা স্যারের চরিত্রে আমরা আজীবন দেখেছি। চীনের প্রাচীর নির্মাতা সম্রাট শিন হুয়ার লাইব্রেরি পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টার বিপরীতে কনফুসিয়াসের সেই জ্ঞান রক্ষার লড়াইয়ের কথা তিনি বলতেন, যা আজীবন জ্ঞান ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার অনুপ্রেরণা যোগায়।

বিল গেটসের মায়ের সেই তিনটি উপদেশের মতো স্যারও আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সবসময় বলতেন—প্রচুর বই পড়তে হবে, বড় চিন্তা করতে হবে এবং নিজের জন্য এমন এক অনন্য পথ তৈরি করতে হবে যা অন্য কেউ কখনো ভাবেনি। স্যার তাঁর শিক্ষার্থীদের মাঝে এভাবেই নিজের চিন্তা সঞ্চারিত করে সমাজ বদলাতে ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকেছেন।

 

আজকের নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত, মূল্যবোধহীন সমাজের সামনে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মতো মানুষদের জীবন ও দর্শন তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা যদি এই ঋষিতুল্য ব্যক্তিত্বের আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যতে এ দেশে আর কোনো ফজলুল হক জন্মাবে না।

তিনি বলতেন, “শিক্ষকতা চাকরি নয়, শিক্ষকতা একটি ব্রত।” এই ব্রতকে আজ আমাদের যাপনে নিতে হবে। কৃত্রিমতামুক্ত ভালোবাসা ও মমত্ববোধে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলো বিতরণ করে তিনি প্রকৃত শিক্ষক হতে পেরেছিলেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মহলে অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর নাম আজীবন স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলা সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার যে স্বপ্নরাজ্যের অবসান ঘটল, তাকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।

হে আলোর দিশারি, হে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় অভিভাবক, আপনি চলে গেছেন পাকুন্দিয়ার সেই চেনা মাটির কোলে, যেখানে আপনার শিকড় ছিল। কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া আদর্শ, আপনার শিশুর মতো নিষ্পাপ চাহনি, আর সত্যের পক্ষে আপনার সেই অকুতোভয় কণ্ঠস্বর আজীবন আমাদের পথ দেখাবে।

যতক্ষণ এই বদ্বীপে মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রাম চলবে, যতক্ষণ মানুষ অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা করবে, ততক্ষণ আপনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মননে, আমাদের চেতনায়। আপনার পবিত্র স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর ভালোবাসাময় বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

লেখক : অধ্যাপক ডক্টর দিপু সিদ্দিকী,ডিন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ রয়েল ইউনিভার্সিটি অভ ঢাকা,

Share: