Main Menu

বরিশালে আবেদন করেই বছরের পর বছর চলছে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক ব্যবসা!

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নানা কর্মকাণ্ডে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃস্টি হওয়ায় পর নড়েচড়ে বসেছে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ বিভাগের ৬ জেলা এবং ৪২ উপজেলায় ক্লিনিক-হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের তথ্য হালনাগাদ করা শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ বিভাগের ৬ জেলা এবং এর অন্তর্গত বিভিন্ন উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে নিবন্ধনকৃত (আবেদনকৃত) হাসপাতাল-ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক-ল্যাব রয়েছে ৯৬১টি। এর মধ্যে ২৯৭টি হাসপাতাল-ক্লিনিক ডাগায়গনস্টিক-ল্যাবের কাগজপত্র হালনাগাদ আছে। বাকী ৬৬৪টি হাসপাতাল-ক্লিনিক ডাগায়গনস্টিক-ল্যাবের যথাযথ কাগজপত্র নেই।

এদের মধ্যে অনেকেই শুধুমাত্র আবেদন জমা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগে আবেদন (নিবন্ধনভুক্ত নয়) জমা দেয়নি এমন হাসপাতাল-ক্লিনিক ডাগায়গনস্টিক-ল্যাবের পরিসংখ্যান নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় নিবন্ধনকৃত ক্লিনিক-হাসপাতাল রয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে ১১টির কাগজপত্র পুরোপুরি বৈধ। একইভাবে সিটি এলাকায় নিবন্ধনকৃত ১১৬টি ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের মধ্যে অনুমোদন রয়েছে ২৮টি’র।

বরিশাল জেলায় নিবন্ধনকৃত ৫৩টি ক্লিনিক-হাসপাতালের মধ্যে ২৭টি ও ১৪৬টি ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের মধ্যে ৬২টি, ভোলা জেলায় ৩১টি ক্লিনিক-হাসপাতালের মধ্যে ১২টি ও ৮৭টি ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের ৪৬টি, পটুয়াখালী জেলায় ৫৩টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে ১২টি ও ১৬৭টি ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের মধ্যে ৩০টি, বরগুনায় ২৪টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে ৮টি ও ৬০টি ডায়াগনস্টিক ল্যাবের মধ্যে ১৮টি, পিরোজপুরে ৪৬টি ক্লিনিক-হাসপাতালের মধে ১৫টি ও ৯৪টি ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের মধ্যে ১৭টি এবং ঝালকাঠী জেলায় ১৪টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে ৩টি ও ৩১টি ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের মধ্যে ৮টি নিবন্ধিত।

অভিযোগ আছে সংশ্লিস্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিক ডাগায়গনস্টিক-ল্যাবের মালিকরা সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে নামমাত্র একটি আবেদন জমা দিয়ে রাখেন। বিনিময়ে প্রতিমাসে তাদের কাছ থেকে মাসোহারা পেয়ে থাকেন সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি এমন কয়েক হাজার হাসপাতাল-ক্লিনিক ডাগায়গনস্টিক-ল্যাব রয়েছে বরিশাল বিভাগে। তবে এর কোন পরিসংখ্যান নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিবচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, বরিশাল বিভাগের সকল ক্লিনিক-হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক-ল্যাবের তথ্য হালনাগাদ করতে সিটি করপোরেশন এলাকায় সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালককে (রোগ নিয়ন্ত্রণ) প্রধান করে এবং ৬ জেলায় সিভিল সার্জনদের প্রধান করে পৃথক ৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অবৈধ সকল হাসপাতাল-ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক-ল্যাব বন্ধ করে দেয়া হবে।






Related News