Sunday, December 13th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: December 13, 2020

বঙ্গবন্ধুর নামে জাতিসংঘে পুরস্কার প্রবর্তন

প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ বিজয়ের মাসে নতুন সুখবর দিয়েছে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো। বঙ্গবন্ধুর নামে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দি ফিল্ড অফ ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ পুরস্কার প্রবর্তন করছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইউনেস্কো এ ধরনের ২৩টি পুরস্কার চালু করেছে। এই প্রথম ইউনেস্কো বাংলাদেশের কোনও প্রথিতযশা সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার চালু করলো।’

আগামী ছয় বছর ধরে প্রতি দুই বছর পরপর ৫০ হাজার ডলার সমমানের এই পুরস্কার দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এরপর আবার জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারটি নবায়ন করতে হবে। পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো আগামী ২০২১ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সভা চলাকালে প্রদান করা হবে।’

গত বছর পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত আগস্ট ২০১৯ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন গ্রহণের পর প্যারিসের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে ইউনেস্কো মহাপরিচালক বরাবর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম আমরা।’

তিনি বলেন, ‘ইউনেস্কোর অধিক্ষেত্র, যেমন–শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাকস্বাধীনতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও বাংলাদেশ সরকারের ইউনেস্কোর প্রতি অঙ্গীকারের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তনে সম্মতি প্রদান করে। ইউনেস্কো সচিবালয়ে গত ২-১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৮ সদস্যবিশিষ্ট ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের ২১০তম অধিবেশনের প্রথম পর্বে এ প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য ইউনেস্কো সচিবালয় উত্থাপন করে। ১১ ডিসেম্বর নির্বাহী পরিষদের প্লেনারি সেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়।’

কে পুরস্কার পাবে তা পাঁচ সদস্যের জুরি নির্ধারণ করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে সমাজের অনগ্রসর নারী, অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত বছর ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ সভায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ‘শতবার্ষিকী কর্মসূচি তালিকা’য় অন্তর্ভুক্ত করে সংস্থাটি। মুজিববর্ষে এ পুরস্কার প্রবর্তনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ইউনেস্কো সরাসরিভাবে সম্পৃক্ত হলো। এর আগে, ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমেও ইউনেস্কো বাংলাদেশকে সম্মানিত করে।

এছাড়া ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এবং সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে এবং বাউল গান, জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও শীতল পাটিকে বিশ্ব অপরিমেয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে সুপরিচিত করেছে।

Posted by: | Posted on: December 13, 2020

স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান -ইয়াফেস ওসমান

স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান -ইয়াফেস ওসমান

শেখ হাসিনার অবদান
পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
নিজের টাকায় পদ্মা সেতু
বীর বাঙালি রাখল মান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
বিশ্ব জুড়ে সবার জানা
নয়কো কার দয়ার দান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
সেতু সাথে বাংলাদেশের
মান রক্ষার উপাখ্যান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
পিতার কন্যা পিতার মতই
সদাই তিনি একজবান ।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
কন্যা দিলেন অপবাদের
জুতসই তার জবাবখান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
চেষ্টা করিলে আমরাও পারি
কাজেই হলো তার প্রমাণ।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
কোটের রায়ে বাতিল হলো
মিথ্যা তোলা ঝড় তুফান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেত
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
বলছে লোকে জননেত্রীর
উপযুক্ত জবাবদান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
পিতার মতই কন্যা সদায়
রাখছে জাতি দেশের মান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
“দাবায়ে রাখতে পারবনা “
কন্যা দিলেন তার প্রমাণ।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
দেশের লাগি কন্যার এ এক
সত্যি কারের অপার দান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
সৎ সাহসী নেত্রী মোদের
পদ্মা সেতু তার প্রমাণ ।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
পিতা কন্যার অমর কীর্তি
ইতিহাসে রবে অম্লান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন৷ হলো দৃশ্যমান
ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার
দেখতে জবর আলী শান।

পূর্ণ হলো পদ্মা সেতু
স্বপ্ন হলো দৃশ্যমান
সত্য পথে আল্লাহ সহায়
সদায় তিনি মেহেরবান।।

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কবি ও রাজনীতিবিদ।

রজন ভট্টাচার্য ও সুবল বিশ্বাসঃ
_______________________________________
২০০১ সালের চার জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন
থেকেই দেশের মানুষ গুরুত্বপূণ এই সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এরই মধ্যে কেটেছে ১৯ বছরের বেশি সময়। আর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা দুই মিনিটে
দেশে আরএকটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। পদ্মা সেতুতে
সর্বশেষ স্প্যান বসানো হয়েছে এই মাহেন্দ্রক্ষণে। যুক্ত হয়েছে মাওয়া – জাজিরা দুই প্রান্ত। দৃশ্যমান হয়েছে ছয়
দশমিক ১৫ কিলোমিটারের সেতুটি।এরমাধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে স্বপ্ন।
(জনকন্ঠ শুক্রবার ১১ই ডিসেম্বর ২০২০)

Posted by: | Posted on: December 13, 2020

আঘাত এলে প্রতিঘাত করার মত সক্ষমতা অর্জনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রেস ওয়াচ রিপোর্ট: ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ নয় শান্তি চায়,’ মর্মে দেশের পররাষ্ট্রনীতির পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে প্রতিঘাত করার মত সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই,’ কিন্তু কেউ যদি আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত করতে আসে, প্রতিঘাত করবার মত সক্ষমতা যেন আমরা অর্জন করতে পারি-সেভাবেই আমাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতি থাকতে হবে। এ বিষয়টি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সবসময় মনে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)-২০২০ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি )-২০২০ এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আমাদের দেশে তাদের প্রায় ১০ লাখের ওপরে নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কখনও সংঘাতে যাইনি এবং আলোচনার মাধ্যমে এটা সমাধানের চেষ্টা করছি এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও সকলকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি-এই যে বিশাল একটা বোঝা আমাদের ওপর রয়েছে-এটার যেন তারা দ্রুত সমাধান করেন।’
জাতির পিতার করে যাওয়া দেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এর পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছে। সবথেকে বড় কথা আমাদের দেশের উন্নতি করতে হবে। তার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে যেখানে এবং যাদের কাছ থেকে যতটুকু সহযোগিতা পাওয়া যায়, প্রযুক্তি জ্ঞান পাওয়া যায়, সেটুকু নিয়েই আমরা আমাদের দেশকে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই কথাটা মনে রাখতে হবে, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমরা রাখবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের দেশের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে এবং আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি এবং সেকারণে সারাবিশ্বে আজকে আমরা মর্যাদা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। এর সুফল বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা পৌঁছে দিতে চাই।
চলমান মুজিববর্ষ থেকে আগামী বছর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকালীন দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভূমিহীন, গৃহহীনকে অন্তত একটি করে ঘর করে দেওয়ায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সকলকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলার আহ্বানেরও পুনরুল্লেখ করেন।
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমানড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
আইএসপিআর’এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানায়, এ বছর ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২০ এ (এনডিসি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩১ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চার কমোডোর এবং একজন ক্যাপ্টেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাঁচ জন এয়ার কমোডোর রয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনী অফিসারদের পাশাপাশি দু’জন অতিরিক্ত সচিব, ১১ জন প্রশাসনের যুগ্ম সচিব এবং সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য ক্যাডার, বিদেশি পরিষেবা থেকে একজন মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের দুইজন উপ-মহাপরিদর্শক এতে অংশ নিয়েছিলেন। ১২ টি বন্ধু দেশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল/কর্নেল এবং সমমানের পদমর্যাদার ২৫ জন সদস্যও অংশগ্রহণ করেন।
এ বছর আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সে তিনজন কর্নেল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ জন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, দু’জন ক্যাপ্টেন এবং ছয় জন কমান্ডার বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে সাত গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং একজন উইং কমান্ডার অংশগ্রহণ করেন।
‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠেছে’, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদেরকে আপনারা গড়ে তুলবেন। যেন সবসময় জনগণের পাশে থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করেন।’
তিনি সবসময় দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর সময় নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখেও আপনারা ব্যাপকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সেবা দিয়েছেন। সেজন্য সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করার জাতির পিতার স্বপ্নের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি আধুনিক, সুশিক্ষিত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেন প্রতিরক্ষা নীতি। সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি।
তিনি ’৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকারে এসেই ক্ষুদ্র পরিসরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের উচ্চমানের প্রশিক্ষণ ও উচ্চ শিক্ষার কথা বিবেচেনা করে ১৯৯৮ সালে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ। বর্তমানে এটি একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’
নবীন গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯-এর একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে স্ব-স্ব কোর্স সম্পন্ন করে আপনারা আজকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগ দেবেন। আপনাদের জীবন সফল হোক, আমি সেটাই চাই।
তিনি বলেন, আমি আশাবাদি যে, এনডিসি তার প্রশিক্ষণে উচ্চমানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের গ্রাজুয়েটগণ আপনারা আপনাদের অর্জিত জ্ঞান, ইচ্ছাশক্তি এবং অঙ্গীকারকে সামনে রেখে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, টেকসই, উন্নয়ন আত্মনির্ভরশীলতা সর্বপরি গৌরবময় অবস্থানের দিকে নিয়ে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা যেন কখনো ব্যর্থ না হয়। আমাদের দেশকে যেন উন্নয়নের উচ্চ শিখরে নিয়ে যায়। সারাবিশে^র কাছে সবসময় আমরা যেন মাথা উঁচু করে বিজয়ী জাতি হিসেবে চলতে পারি।
তিনি বলেন,‘আপনারা যেখানেই যাবেন বিজয়ী জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা বোধ নিয়ে আত্মসম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে চলবেন।’
সরকারের ডিজিটাল কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনডিসি বাংলাদেশে প্রথম উচ্চ প্রশিক্ষণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘এডুকেশন ফোর পয়েন্ট জিরো’ প্রবর্তন করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের মত বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে সমগ্র বিশ্ব যখন প্রায় স্থবির, এ সময় এনডিসি ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে লেকচার এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করে কোর্সসমূহ সফলভাবে সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
নানা প্রতিকূলতার মাঝেও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এনডিসি ও এএফডব্লি¬উসি কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন এবং পরিচালনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কমান্ড্যান্ট এনডিসিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং পাশাপাশি, অন্যান্য সকল ফ্যাকাল্টি সদস্য, রিসোর্স পারসন এবং স্টাফ অফিসারদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং আগামী দিনে জাতীয় গর্ব এ প্রতিষ্ঠানের জন্য সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ন্যাশনাল ডিফে›স কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যা দেশ ও বিদেশের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাদের মাঝে উচুস্তরের জ্ঞানশৈলীর বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে। ন্যাশনাল ডিফে›স কলেজ তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
আজ শুধু সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরেই নয়, এনডিসি জাতীয় পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসামরিক পরিম-লেও সমাদৃত হচ্ছে। সরকারি উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন, বলেন তিনি।
অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সম্প্রীতি গড়ে তুলতে এনডিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৩৭টি বন্ধুপ্রতীম দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যগণ এনডিসিতে উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের নিজ নিজ দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এনডিসিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আপনারা রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োগ নিঃসন্দেহে নিজ দেশের জাতীয় অগ্রগতির ধারাবাহিতকতাকে বেগবান করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আপনারা অবশ্যই কোর্সে অমূল্য জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশী সহযোগীদের সাথে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং পেশাদার সম্পর্কের বাইরে সামাজিক বন্ধন এবং বন্ধুত্ব অবশ্যই গড়ে উঠেছে।’
তিনি আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীরা এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে তাদের হৃদয়ে বাংলাদেশ এবং এর জনগণের প্রতি যে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা হৃদয়ে ধারণ করেছেন তা নিয়ে স্ব-স্ব কর্মস্থলে গিয়েও এই দেশের জন্য শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করবেন। বাসস।

Posted by: | Posted on: December 13, 2020

বৈশ্বিক সংহতির প্রতিশ্রুতি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা

প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা অনুমোদিত ও পরীক্ষিত করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিনটি যখন এই সপ্তাহে ৯০ বছর বয়সী মার্গারেট কিনান গ্রহণ করেন তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন মহামারি হয়তো নাগালের মধ্যে এসে যাবে। রেকর্ড দ্রুত সময়ে প্রথম ভ্যাকসিনটি অনুমোদন পাওয়া এবং অন্য আরও কয়েকটি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকার বাস্তবতা ধনী দেশগুলোর জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের শঙ্কা ভ্যাকসিন পাওয়া এই প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত অর্থ থাকা ও না থাকায় গিয়ে পৌঁছাবে। বৈষম্যের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই মনে করছেন বৈশ্বিক সংহতির প্রতিশ্রুতি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও মুখ থুবড়ে পড়বে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন- এর এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

ধনী দেশগুলো বিগত কয়েক মাস ধরেই পাগলের মতো করে ভ্যাকসিন কিনছে। ডিউক গ্লোবাল হেলথ ইনোভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী সম্ভাবনায় ভ্যাকসিন কিনতে বেশ কিছু দেশ শত শত কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আরও বেশ কিছু দেশ এবং আঞ্চলিক জোট তাদের মোট জনসংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি ডোজ ভ্যাকসিনের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছে। আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন তদারকি সংস্থা পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে ধনী দেশগুলো তাদের সব মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে প্রয়োজনের চেয়ে তিন গুণ বেশি ডোজ ভ্যাকসিন কিনে নিয়েছে।

কানাডার সরকার একাই তাদের মোট জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি ভ্যাকসিন কিনে নিয়েছে। এমনকি তাদের আগাম আদেশ দেওয়া সব ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমতি নাও পেতে পারে।

পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স’র তথ্য অনুযায়ী ধনী দেশগুলো বেশি পরিমাণ ভ্যাকসিন কিনে নেওয়ায় প্রায় ৭০টি দরিদ্র দেশ ২০২১ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রতি দশ জনের এক জনকে ভ্যাকসিন দিতে পারবে।

কেপ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গ্রেগরি হাসি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সমতার প্রতিশ্রুতি থাকার পরও ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদকে সর্বাত্মক হয়ে উঠতে দেখা হতাশাজনক।’

আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর প্রধান জন নাকেনগাসং বলেন, দরিদ্র দেশগুলোর ভ্যাকসিন না পাওয়ার অক্ষমতা বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে বৈশ্বিক সংহতি এবং সহযোগিতার কথা বলে এসেছি তার লিটমাস টেস্টের (এসিড শনাক্তের বিশেষ পরীক্ষা) সময় এখন।’

নাকেনগাসং বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু দেশ অতিরিক্ত ডোজ ভ্যাকসিন কিনে নেবে আর বিশ্বের অন্য এলাকার মানুষ মোটেই ভ্যাকসিন পাবে না- এটা কোনও নৈতিক আচরণ হতে পারে না।’

সংহতি, কেবল তত্ত্বে

বছরের শুরুতে যখন বিভিন্ন দেশে করোনার সংক্রমণ তীব্র হতে শুরু করে আর হাসপাতালগুলো পূর্ণ হতে থাকে তখন সবার জন্য ভ্যাকসিন চালু করতে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোভ্যাক্স নামের এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছে ভ্যাকসিন জোট জাভি। দুইটি পথে পরিচালিত হয়েছে এই উদ্যোগ। ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সবার কাছে পৌঁছাতে উচ্চ ও মধ্য আয়ের দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। দরিদ্র, বিশেষ করে আফ্রিকা ‍উপমহাদেশের দেশগুলোর ভ্যাকসিন পাওয়া নিশ্চিত করতে  আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব দেশের ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা অর্থায়ন করে।

এখন পর্যন্ত এই দুটি উদ্যোগে শামিল হয়েছে ১৮৯টি দেশ। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়নিযুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি নিজের ব্যক্তিগত অভিমত জানিয়ে বলেছিলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ন্যায্যভাবে বিতরণ নিশ্চিত করার নৈতিক দায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

সমতার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন বিতরণের প্রয়োজন কেবল আর্থিক ইস্যু নয়। জাভির এক মুখপাত্র জানান, দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ভ্যাকসিন কিনতে জোটটি দুইশ’ কোটি ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে। আর আগামী বছরের মধ্যে এজন্য প্রয়োজন হবে আরও পাঁচশ’ কোটি ডলার।

তবে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে অর্থ দিয়েও তা কেনা যাবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডার মতো কোভ্যাক্স-এর মূল দাতা দেশগুলো নিজেরাই বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে রেখেছে। পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স বলছে, এসব চুক্তি কোভ্যাক্স চুক্তিকে উপেক্ষা করতে পারে।

তিক্ত অভিজ্ঞতা

এইচআইভি/এইডস- এর জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাওয়া নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করছেন আফ্রিকার জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা। পশ্চিমা দুনিয়ায় ওষুধটি বাজারে পাওয়া গেলেও তা পেতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অতি সম্প্রতি একই ধরনের সংহতির কথা বলার পরও এইচ১এন১ ফ্লু ভ্যাকসিনও মহাদেশটিতে পৌঁছায় মহামারি চূড়ান্ত অবস্থায় যাওয়ার বেশ কয়েক মাস পর।

অধ্যাপক গ্রেগরি হাসি মনে করেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিতর্ক ওইসব তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাই মনে করিয়ে দেবে। তিনি বলেন, ‘এটা নতুন কোনও অবস্থা নয়। অতীতেও বহুবার একই ঘটনা ঘটেছে।’

আফ্রিকার কর্মকর্তাদের আশা, সংহতির বার্তা যদি নৈতিক যুক্তির ওপরে উঠতে না পারে তাহলে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত যুক্তি হয়তো সেটা পারবে। কোভিড-১৯ মহামারির অবসান ঘটাতে হলে সব জায়গা থেকে এটি নির্মূল করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আফ্রিকা অঞ্চলের ভ্যাকসিন উন্নয়ন সমন্বয়ক ড. রিচার্ড মিশিনগো বলেন, ‘যতক্ষণ না সবাই সুরক্ষিত হচ্ছে ততক্ষণ কেউই সুরক্ষিত থাকতে পারবে না। আমরা একটি সমন্বিত দুনিয়ায় বসবাস করছি, যদি ওইসব দেশ নিজেদের সুরক্ষিত করে ফেলেও তাহলে তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে বাস করতে হবে। আমাদের এমন একটি দুনিয়ার দরকার যেখানে আমরা সবাই মিথস্ক্রিয়া করতে পারি। কেবল সামাজিকভাবে নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবেও।’

Posted by: | Posted on: December 13, 2020

আজ ১৩ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস

প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ আজ ১৩ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ৪৯ বছর আগে এই দিন পাকিস্তান সেনা সদস্য ও তাদের দোসররা মানিকগঞ্জ থেকে পালিয়ে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করে। হানাদারমুক্ত এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। দিনটিকে স্মরণীয় এবং নতুন প্রজন্মকে জাগ্রত করতে প্রতি বছর উৎসবমুখর পরিবেশে ১৫ দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়ে এলেও করোনা মহামারির কারণ এবার থাকছে না কোনও আয়োজন।

জেলার বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধাদের বয়ানে এবং ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মানিকগঞ্জের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়। মুক্তিকামী মানুষ সরকারি মালখানা থেকে ছিনিয়ে নেয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ। ভারত থেকে অস্ত্র চালনা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধারা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতিরোধ শুরু করেন। পাকবাহিনী, আল-বদর, আল-শামস, রাজাকারদের আক্রমণ, ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে মানিকগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা ২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে যুদ্ধে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য মানিকগঞ্জে অ্যাডভোকেট খন্দকার চান মিয়াকে চেয়ারম্যান করে মো. মোসলেম উদ্দিন খান হাবুমিয়া, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হালিম চৌধুরী, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী,মীর আবুল খায়ের ঘটু,মফিজুল ইসলাম খান কামাল এই সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এদের নেতৃত্বে মানিকগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা হয়। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন যুদ্ধে ৫৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ৯ জন মুক্তিসেনা পঙ্গু হয়ে যান। ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পান।

মানিকগঞ্জ সিএন্ডবি’র ডাকবাংলো ছিল পাক হানাদার বাহিনীর সদর দফতর। এখান থেকেই হানাদার এবং তাদের দোসররা নিধনযজ্ঞ পরিচালনা করতো। আর মূল ব্যারাক ছিল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পিটিআইয়ের মূল ভবনে।

মানিকগঞ্জে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ বলে খ্যাত গোলাইডাঙ্গা যুদ্ধ। সিংগাইর থানার এ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন তোবারক হোসেন লুডু। গোলাইডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প দখলের জন্য ৩ শতাধিক পাকবাহিনী ১০/১২টি নৌকা নিয়ে সেখানে আসে। এই খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেয় এবং তাদের আয়ত্তের মধ্যে আসার পর দ্বিমুখী আক্রমণে একজন কর্নেলসহ ৮১জন পাকবাহিনী মারা যায়।

১৩ ডিসেম্বর বিজয়ী বেশে মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে সমবেত হন। আওয়ামী লীগ নেতা মাজহারুল হক চাঁন মিয়ার সভাপতিত্বে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন যুদ্ধে ৫৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ৯ জন মুক্তিসেনা পঙ্গু হয়ে যান। ৪জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পান।

খেতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম (বীর প্রতীক), ইব্রাহীম খান (বীর প্রতীক), শহীদ মাহফুজুর রহমান (বীর প্রতিক) এবং মোহাম্মদ আতাহার আলী খান (বীর প্রতীক)।