Main Menu

বন্ধ হচ্ছে নামি-দামি স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য!

প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে সব শিক্ষার্থী ভর্তির পদক্ষেপ দিয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে লটারিতে শিক্ষার্থী বাছাই সঠিকভাবে মনিটরিং করা গেলেই রাজধানীর নামি-দামি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘করোনার কারণে বাধ্য হয়ে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে।’ শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘যাতে সাম্য নিশ্চিত হয়, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরাও যাতে ভালো প্রতিষ্ঠানে আসতে পারে। সে জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’

সরকারের এই পদক্ষেপে রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সহসভাপতি রবিউল হাসান ইমন বলেন, ‘লটারিতে ভর্তির পর গোপনে ভর্তি করা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা গেলে এবং আবেদন বাছাইয়ে স্বচ্ছতা থাকলে ভিকারুননিসাসহ যেসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য চলে সেগুলো বন্ধ হবে। এই পদক্ষেপের জন্য সরকারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ সুজন বলেন, ‘আমরা চাই আবেদন বাছাই এবং লটারিতে শিক্ষার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতা আনতে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম গঠন করে ঠিকমত কাজ করলে ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা কমে যাবে।’

তবে করোনার পর স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নামি-দামি প্রতিষ্ঠানে সব শ্রেণিতে লটারিতে শিক্ষার্থী ভর্তির করার পরিকল্পনার বিষয়ে অনেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

সদ্য বিদায়ী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘এতে ভালো মন্দ দুটো দিকই রয়েছে। করোনকালীন এই সিদ্ধান্তটি যথাপযুক্ত।  ভালো বিদ্যালয়গুলো শুধু ভালো শিক্ষার্থী বাছাই করে নিয়ে পড়াবে তা না হয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বলদেরও ভালো করাবে এটা ভালো দিক। অন্যদিকে ভালো শিক্ষার্থীর জন্য ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন। আর ন্যূনতম পরীক্ষা বা মূল্যায়ন প্রয়োজনও রয়েছে ভর্তির ক্ষেত্রে।’

ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ভালো-মন্দ দুটিই হয়েছে এই পদ্ধতিতে।  তবে করোনার সময়ের জন্য অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত এর বিকল্প আমাদের হাতে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কী সিদ্ধান্ত আসবে সেটা জানি না। তবে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের লটারি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হতে পারে। আর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য নেই। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়টি আলাদা। ‘

অনেক শিক্ষক নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, করোনার পরও লটারিতে ভর্তির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভালো শিক্ষার্থীদের ওপর অবিচার করা হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া উচিত।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির বিষয়ে যুক্ত তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের পাঠ্যক্রম পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসছে, তাতে কোনও স্কুলে পড়ছি তা নিয়ে খুব বেশি একটা তফাৎ থাকবে না।  যে স্কুলেই পড়ুক না কেন টেলিভিশনে যে ক্লাসগুলো হচ্ছে তা সবার জন্য সমান মানের। ২০২২ সালে যে শিক্ষাক্রম আসছে, কোন স্কুল কতটা নামি, আর বাকি শিক্ষার্থীরা কতটা মেধাবী, সেটার চেয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজে নিজে দলগতভাবে, কমিউনিটির সঙ্গে হাতে-কলমে কীভাবে কাজ করবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নামি স্কুলগুলো সর্বোচ্চ মেধাবী বাছাই করে নিচ্ছে। কিন্তু সবার ফল কী ভালো হচ্ছে? তাতো না, সেখানেও হেরফের হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়গুলো যদি এতই ভালো হয়, তাহলে তাদের নিজস্বতা কোথায়। তারা তো নিচ্ছেই ভালোগুলো।  যদি তারা সব রকমের শিক্ষার্থী নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ফল ভালো করতে পারে, তাহলে বলবো এই বিদ্যালয়গুলোর কৃতিত্ব রয়েছে। তারা অনেক ভালো করে শেখাতে পারছে।’






Related News