Main Menu

বেরোবিতে নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের বিবৃতিতে সাংবাদিকদের ক্ষোভ

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কর্মরত চার সাংবাদিকের অপসারণ চেয়ে শিক্ষকদের সংগঠন নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের দেয়া এক বিবৃতি ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। তাদের বিবৃতিকে উদ্ভট দাবি করে পাল্টা বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

তাদের দাবি, শিক্ষকদের ওই বিবৃতিটি সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় শুধু হস্তক্ষেপ নয়, সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

শুক্রবার রাতে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক সুমাইয়া তাহসিন হামিদা এবং সদস্য সচিব মো. খালিদ হাসান রিয়েল তাদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয় বাংলানিউজ ২৪.কম এর ক্যাম্পাস সংবাদদাতা মাহফুজুল ইসলাম বকুল, যুগান্তরের রাব্বী হাসান সবুজ, মানবজমিনে ও ঢাকা টাইমসের ইভান চৌধুরী ও ইত্তেফাক এর ক্যাম্পাস সংবাদদাতা মোবাশ্বের আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংবাদ তাদের অফিসকে অবহিত করে না। তাদের কাছ থেকে কোন গঠনমূলক রিপোর্ট পাওয়া যায় না এবং তারা দায়িত্বের অপব্যবহার করছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ও নিজেদের ক্ষতি করছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মামলায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও তারা সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় অফিসে অবহিত করেনি। এমন অভিযোগ এনে বিবৃতিতে নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই চার সাংবাদিককে ক্যাম্পাস সংবাদদাতার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এমন বিবৃতি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই শিক্ষকদের বিবৃতিকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোবাশ্বের আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন পাল্টা বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দায়িত্ববান, কর্মদ্দোম, সাহসী ও নির্ভিক সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষকরা বিবৃতিতে বলেন, যে সন্দেহ পোষণ ও অভিযোগ করেছেন তা কল্পনাপ্রসূত, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর এবং বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক হয়ে তারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারেন না।

বিবৃতিতে ‘নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ’ এর শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাদের জানা উচিত সাংবাদিকতা কারো দ্বারা নির্দেশিত পেশা নয়। সাংবাদিকতা স্বাধীন, তথ্য নির্ভর ও নিরপেক্ষ পেশা। একজন সাংবাদিক কোন সংবাদ কভার করবে, কোনটা করবে না, কখন, কীভাবে অফিসকে অবহিত করবেন, সেসব সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের দেখার বিষয় শিক্ষকদের নয়। বেরোবিসাস মনে করে এই সংঠনের শিক্ষকরা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন না বরং সংবিধানকে অমান্য করতে চান।

বিবৃতিতে বেরোবিসাস দাবি করে, শিক্ষকদের অভিযোগগুলো শুধু ভিত্তিহীনই নয়, সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার উপর হুমকিও বটে। এটা তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, জবরদস্তিতার এবং হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করে বেরোবিসাস। বেরোবিসাস ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক নেতারাও পৃথক বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার সময় সংবাদকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমন বিবৃতি সত্যিই দুঃখজনক।

প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সবাই বাসায় অবস্থান করছেন। কোন একটি সংবাদ মিস হতেই পারে, তাই বলে শিক্ষকরা সাংবাদিকদের অপসারণ চেয়ে বিবৃতি দেবে এটা নিন্দনীয়।

এ বিষয়ে নব প্রজন্ম শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক সুমাইয়া তাহসিন হামিদার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।






Related News