কর্নেল তাহেরের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাসদের শ্রদ্ধা

মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার এক মামলার বিচারে ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। তবে ফাঁসির পর থেকেই তার পরিবারসহ বিভিন্ন মহল থেকে এ বিচারকে ‘প্রহসনের বিচার’ এবং তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

জাসদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন এ মামলার বিচারের রায় বাতিল, মামলার সব দলিলপত্র প্রকাশ এবং কর্নেল তাহেরের রাষ্ট্রীয় সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিল। পরে ২০১১ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা এবং তাকে মরণোত্তর দেশপ্রেমিকের মর্যাদাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দিনটিকে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ‘তাহের দিবস’ হিসেবে পালন করবে।

করোনা সংকটের কারণে দিনটি উপলক্ষে এবার সীমিত পরিসরে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কাজলা গ্রামে কর্নেল তাহেরের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, প্রয়াত নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন, প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবে। জাসদের আয়োজনে ভার্চুয়াল আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও কর্নেল তাহের সংসদও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।

সভাপতির দেয়া এক ভাষণে সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও মৃত্যুঞ্জয়ী বীর, জাসদ নেতা, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী, ৭৫ এর সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থানের মহানায়ক কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমকে আজ থেকে ৪৪ বছর আগে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান মিথ্যা সাজানো মামলায় প্রহসনমূলক বিচারে ফাঁসি দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছিল।

তিনি বলেন, গণবিরোধী রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করে সামজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কর্নেল তাহের জাসদে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, কর্নেল তাহের যেমন মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজী রেখে লড়াই করেছেন ঠিক তেমনই ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জাতির সংকটকালে সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থানের মাধ্যমে গণবিরোধী রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের বিপ্লবী প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। জাসদ আজও সেই লক্ষ্যেই রাজনীতি করছে।

Share: