Main Menu

ব্যাংকের টাকাও আত্মসাৎ করেন শাহেদ

এনআরবি  ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ করিমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগে বলা হয়, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে এ অর্থ আত্মসাৎ করেন শাহেদ। ট্যাক্সের নথিতেও এ অর্থের কথা উল্লেখ নেই। গত ১৩ জুলাই মোহাম্মদ শাহেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করে দুদক

এনআরবি ছাড়াও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ডাচ বাংলা ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকসহ ৮টি ব্যাংকে নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি।

ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিগুলোতে শাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়, মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ, বহুমাত্রিক জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

শাহেদসহ চার জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল, এসই ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সোহানুর রহমান ও এনআরবি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট  ওয়াহিদ বিন আহমেদ।

অভিযোগ করা হয়, ব্যবসায় মো. শাহেদের কী ধরনের বিনিয়োগ বা লেনদেন ছিল, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। ঋণের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত জামানত গ্রহণ করা হয়নি। ঋণ বিতরণের পূর্বে বা পরে যথাযথ তদারকি করা হয়নি। গ্রাহকের ব্যবসায়িক সুনাম, ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা যাচাই করা হয়নি। এবং ঋণের কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি শাহেদ।

গত ৬ জুলাই করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে র‍্যাব উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়। এরপর রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। ৭ জুলাই করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে র‌্যাব।

মামলায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এজাহারে। এরপর থেকেই পালিয়ে ছিলেন শাহেদ। ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার সীমান্তের দেবহাটা থানার সাকড় বাজারের পাশে অবস্থিত লবঙ্গপতি এলাকা থেকে রিজেন্ট হাসপাতালের শাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে সেখানে থেকে তাৎক্ষণিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। এরপরে ১৬ জুলাই শাহেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।