Sunday, November 22nd, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: November 22, 2020

রাষ্ট্রপতির সাথে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ২১ নভেম্বর, ২০২০ : সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে তাঁরা সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানগণ করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিসহ তাদের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ তাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। করোনা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন আগামীতেও তাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।
পরে রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।(বাসস)

Posted by: | Posted on: November 22, 2020

কারাগারে মঞ্চায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, অভিনয়ে কারাবন্দীরা

কারাবন্দীদের মনস্তত্ত্বে ইতিবাচক উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে কারানাট্য। যার মাধ্যমে কারাগারে মঞ্চায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে নাটক। আর তাতে অভিনয়ও করবেন কারাবন্দীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীনের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হবে।
তিন বছরব্যাপী এই গবেষণাধর্মী কাজের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা অধিদফতর অনুমতি দিয়েছে। চলতি মাসের (নভেম্বর) শেষ সপ্তাহে এ প্রকল্পের কাজ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) দিয়ে শুরু হবে।
এরপর আগামী বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ৬৮টি কারাগারের অভ্যন্তরে কারাবন্দীদের অংশগ্রহণে মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকটি মঞ্চায়িত হবে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দীরা পর্যায়ক্রমে মঞ্চস্থ করবে বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ অবলম্বনে বিশেষ নাটক। এছাড়া জেল হত্যা দিবসে জাতীয় চার নেতার নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি কারাগারের অভ্যন্তরে কারাবন্দীদের দিয়ে পরিবেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড. ইসরাফিল শাহীনের সাথে এই কর্মকাণ্ডে দেশের বরেণ্য নাট্যশিক্ষক, নির্দেশক, নাট্যকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে এম.ফিল-পিএইচ.ডি গবেষকবৃন্দ, শিল্প, সাহিত্যিক এবং অঞ্চলভিত্তিক নির্বাচিত সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে ড. ইসরাফিল শাহীন বলেন, ‘নাটক মঞ্চায়ন, সংগীত পরিবেশন, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, গল্প বলা, খেলাধুলা ইত্যাদি পরিবেশনা বন্দীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কারামুক্তির পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। কারাগারের বদ্ধ পরিবেশে দলগতভাবে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একজন অপরাধীর মানবিক গুণাবলীসমূহ বিকশিত হবে বলে আমি মনে করি। যার ফলে আত্ম-প্রতিফলন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে কারাবন্দী ব্যক্তি অনুধাবন করতে পারবে যে, সে কী ভুল করেছে এবং কীভাবে নিজেকে শোধরাতে পারবে।’
আসছে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অথবা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এই গবেষণা প্রকল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান।

Posted by: | Posted on: November 22, 2020

আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষায় আমরা প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি মেনে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির পিতা প্রর্বতিত ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’, এই মূলমন্ত্র দ্বারা আমাদের বৈদেশিক নীতিমালা পরিচালিত। প্রতিবেশী সব রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে, যে কোনও আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সদা-প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪-এর আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন, উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষায়িত সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০ উপলক্ষে তিন বাহিনীর সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে যে সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম হয়েছিল, তা আজ মহীরুহ হয়ে বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা এক উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন প্রতিরক্ষা নীতি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সীমিত সম্পদ নিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালেই গড়ে তোলেন বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মস স্কুল এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোরের জন্য স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী লগ্নে জাতির পিতা প্রণীত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদক্ষতা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের যে কোনও ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ‘‘লক-ডাউন কার্যক্রম’’ বাস্তবায়ন করেছেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে মহামারি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিদেশ থেকে আগতদের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকার সমন্বিত করোনাভাইরাস চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। বিগত এক দশকে আমরা সশ্রস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র এবং উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই আমাদের সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনী যে পরিমাণ আধুনিকায়ন হয়েছে অতীতে কোনও সময়েই তা হয়নি।

তিনি বলেন, আর্থ-সামজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ একটি সুপরিচিত নাম। করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে অনেক উন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশ যখন ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে, তখনও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৫.২৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এসময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা এবং দেশ গড়ার কাজে আরও বেশি অবদান রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Posted by: | Posted on: November 22, 2020

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদীর জানাজায় লাখো মানুষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার ঐতিহ্যবাহী আড়াইবাড়ী দরবার শরিফের পীর ও ওয়াজের বক্তা মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। শনিবার (২১ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে (সাবেক অ্যাপেলো হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য জানা গেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। এদিকে, আড়াইবাড়ি দরবার শরিফে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় অংশ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশেপাশের জেলা-উপজেলা থেকে আসা লাখো মুসল্লি। জানাজায় অংশ নেন কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী জানাজায় অংশ নিয়ে স্মৃতিচারণ করা শুরু করলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই বিব্রত হয়ে তার বক্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি জানান।

এদিকে প্রিয় ধর্মীয় নেতা ও বক্তা হওয়ায় এ জানাজায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে স্থানীয়দের মধ্যে ভীষণ আবেগ কাজ করে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাক্কালে এমন জনসমাগম নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনেকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে গোলাম সোবহান সাঈদী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা আড়াইবাড়ী দরবার শরিফ এর পীরজাদা ও আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদীয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার সাঈদীর জানাজায় অংশ নেওয়া লাখো মুসল্লির একাংশ

জানাজার আগে মরহুম গোলাম সারোয়ার সাঈদীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য রাখেন কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, আমার মা-বাবা নেই, সাঈদী আমার কাছের ছোট ভাই। তাকে আমি ছোট ভাইয়ের মতো দেখতাম। তার অকাল মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। কারণ এই অসময়ে তার চলে যাওয়ার কথা নয়। তার ছেলে আজ জানাজা পড়াচ্ছেন। এটা যে কত কষ্টের যার বাবা নেই কেবল সেই বোঝে।
তিনি গোলাম সারোয়ার সাঈদীর পরিবারের সদস্যদেরকে ধৈর্য্য ধারণ করে মরহুমের বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল কাউছার ভূইয়া জীবন, কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল, মরহুমের তালুই বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ কামাল উদ্দিন জাফুরী।  এসময় কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী জানাজায় অংশ নিয়ে স্মৃতিচারণ করা শুরু করলে উপস্থিত মুসল্লিদের একাংশ তার বিরোধিতা করেন। এসময় জানাজায় হৈ-হট্টগোলও হয়। ফলে শামীম সাঈদী তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন।
এদিকে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে এ জানাজায় স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ-উল-আলম বলেন, মরহুম গোলাম সারোয়ার সাঈদীর অত্যন্ত জনপ্রিয় আলেম ছিলেন। আমরা আগে থেকে সচেতন ছিলাম। চেষ্টা করেছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছিল। মাননীয় আইনমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন। আমাদের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।
কসবা থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, লোকজনের ঢল ছিল। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। চেষ্টা করেছি স্বাস্থ্যবিধি যেন সবাই মানে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলের বক্তব্যের সময় হট্টগোল সম্পর্কে তিনি বলেন, মাননীয় আইনমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন। আরও অনেকে বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে তার বক্তব্য নিয়ে কী হয়েছে সঠিক বলতে পারবো না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন একরাম উল্লাহ জানান, আমাকে কেউ কিছু বলেনি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। না মেনে থাকলে কিছুটা ঝুঁকি তো থেকেই যায়।

বক্তা মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদী আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি প্রখ্যাত আলেম সৈয়দ আজগর আহাম্মদের দৌহিত্র ছিলেন। তার পিতা মরহুম পীর গোলাম হাক্কানির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন গোলাম সারোয়ার সাঈদী। দেশ-বিদেশে ওয়াজ-মাহফিলের বক্তা হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বেড়তলা গ্রামে জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

Posted by: | Posted on: November 22, 2020

১৪০ কোটি টাকার লোকসান পুষিয়েও লাভ করেছে ১৪ কোটি কেরু অ্যান্ড কোম্পানি

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি

সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পুরাতন লাল ইটের গাঁথুনির বেশ কয়েকটা বড় বড় স্থাপনা। বর্তমান বয়স ৮২ বছর। ভবনের মধ্যে রয়েছে বিরাট বিরাট মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি। একবার চালু করলে কয়েকবার মেরামত করা লাগে। এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে বছরের পর বছর। তবুও প্রতিবছরই দেশকে দিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা মুনাফা। করোনাকালে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করে সাড়া ফেলে। বলা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কথা। সারাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো একের পর এক লোকসান দিচ্ছে, সে সময়ও ১৪০ কোটি টাকা লোকসান পুষিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে কোম্পানিটি।

প্রতিবছর আখ মাড়াই মৌসুমে জোড়াতালি দিয়ে কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর থেকেই লাগাতার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এভাবেই  খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আখ মাড়াই মৌসুম শেষ করে চিনিকলটি। ২০১৮-১৯ রোপণ মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার ধারে-কাছেও পৌঁছুতে পারেনি কোম্পানির চিনি উৎপাদন বিভাগ। ৩ মাসে ৭ হাজার ৩৭৫ একর জমির আখ মাড়াই করে ৮০২৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম না হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে চিনি উৎপাদন বিভাগে লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কেরু অ‌্যান্ড কোম্পানিতে রয়েছে ৯টি খামার। খামারগুলোতে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে এই অর্থবছরে লোকসান গুনতে হয়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫টি বিভাগের মধ্যে চিনি উৎপাদন, সার কারখানা ও বাণিজ্যিক খামারে লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।কেরু অ্যান্ড কোম্পানি
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ও বায়োফার্টিলাইজার বিভাগ থেকে ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার প্রুফ লিটার দেশি ও বিদেশি মদ উৎপাদন করে মুনাফা অর্জন করেছে ১৫৩ কোটি টাকা। বায়োফার্টিলাইজারে ভিনেগার উৎপাদনে মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে ১ কোটি ২ লাখ টাকা লাভ করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব খাতে ভ্যাট ও শুল্ক খাতে জমা দিতে হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট মুনাফার ৮৮ কোটি ৩৯ লাখ ২৯ হাজার টাকার মধ্যে চিনি উৎপাদন বিভাগ, সার কারখানা ও বাণিজ্যিক খামারের লোকসান গুনতে হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি করা হ্যান্ড স্যানিটাইজার
সরকারের খাতায় রাজস্ব এবং তিনটি বিভাগের লোকসান মেটানোর পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি মুনাফা অর্জন করেছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ জানান, এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি কেরু অ‌্যান্ড কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে আখ চাষ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিনিয়ত চাষিদের আখ চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাগুলো নিরূপণ করে নিরসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ স্থানে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিলে কেরু কোম্পানিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।