Tuesday, October 13th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: October 13, 2020

পাশবিকতা নিয়ন্ত্রণেই সরকার ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদেণ্ডের বিধান করেছে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২০ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসিড সন্ত্রাসের মত ধর্ষণ নামের পাশবিকতা নিয়ন্ত্রণেই তাঁর সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদেণ্ডের বিধান সংযুক্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণ একটা পাশবিকতা, মানুষ পশু হয়ে যায়। যার ফলে, আমাদের মেয়েরা আজকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেইজন্য আমরা এই আইনটি সংশোধন করে ধর্ষণ করলে যাবজ্জীবনের সঙ্গে মৃত্যুদেণ্ডের বিধান রেখে কেবিনেটে সেই আইন পাশ করেছি।’
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘এসিড নিক্ষেপকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। কারণ, সেখানে আমরা আইন সংশোধন করেছিলাম।’
‘যেহেতু, পার্লামেন্ট সেশনে নাই, তাই, আমরা এক্ষেত্রে অধ্যাদেশ জারি করে দিচ্ছি। যে কোন একটা সমস্যা দেখা দিলে সেটাকে মোকাবেলা করা এবং দূর করাই আমাদের লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল (সোমবার) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদেণ্ডের বিধান রেখে ‘মহিলা ও শিশু নির্যাতন দমন প্রতিরোধ (সংশোধন) অধ্যাদেশ -২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
‘দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ আজকে সমগ্র বিশ্বে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে,’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করে আমরা মনে করি যেকোন অবস্থাতেই যেকোন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলা করতে আমরা পারবো এবং বাঙালি পারে।’ জাতির পিতার কন্যা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যে পারে সেটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি। জাতির পিতা আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথেই বাংলাদেশের মানুষকে আমরা দুর্যোগ থেকে মুক্ত করবো।’
কোভিড-১৯কে আরেকটি দুর্যোগ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তাঁদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে অনেক সময় মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগও মোকাবেলা করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এরআগে আপনারা দেখেছেন বিএনপি-জামায়াতের সেই অগ্নি সন্ত্রাস। জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেটাও কিন্তু আমরা মোকাবেলা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে জিজিটাল পদ্ধতিতে বিনামূল্যে ১৭ হাজার ৫টি দুর্যোগ সহনীয় গৃহ প্রদান এবং ১৮ হাজার ৫০৫ জন নারী কর্মী সম্বলিত ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’ এর নতুন একটি মহিলা ইউনিটও উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে তাঁর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৪২ জন পুরুষ এবং ৪২ জন নারীর মাঝে পদক ও বিতরণ করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো এনামুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
দুর্যোগ সহনীয় ঘর প্রাপ্ত উপকারভোগীদের পক্ষে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার বেদেনি নুরুন্নাহার এবং গাইবান্দার মো. রিয়াজুল হক এবং মহিলা সিপিপি কাশফিয়া তালুকদারও নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশী কূটনিতিক ও মিশন প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সরকার প্রধান বলেন, আমাদের দেশে বন্যা হবে, খরা হবে, ঘূর্ণিঝড় হবে, জলোচ্ছ্বাস হবে, অগ্নিকাণ্ড, সেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে আমাদের বাঁচতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া- সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় স্থাপনা নির্র্মাণের সময় জলাধার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাস্তাঘাট যা কিছু তৈরি করি না কেন সকলকে আমি এটাই অনুরোধ করবো, আমাদের জলাধার, নদীনালা, খালবিল-এগুলো যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করতে তাঁর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সারাদেশে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ফলে, দেশের মানুষ অনাহারে থাকেনি।
তিনি বলেন, বন্যার্ত মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে তাঁর সরকার।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা পৃথিবীর প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিগত কয়েক বছরে আমরা প্রথাগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে এসে দুর্যোগ ঝুঁঁকি-হ্রাস এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঝুঁঁকি সহনশীলতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে আসছি। আমরা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এনইওসি) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছি।

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাঁর সরকার সারাদেশে এবং বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত আসবে। এগুলো মোকাবেলা করেই আমাদের বাঁচতে হবে। সেই জন্য আমাদের প্রস্তুতিও আছে।’
বিভিন্ন সময়ে সাফল্যের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সতর্কতার ওপর গুরুত্বারোপ করে এ বিষয়ে আরো গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ছোট্ট ভূখণ্ড। এর মধ্য দিয়ে ৭ শ’র বেশি নদী প্রবাহিত। এই জায়গায় দুর্যোগ মোকাবেলা করে জান-মাল বাঁচানো, মানুষকে সতর্ক রাখাটাই বড় কাজ। আমাদের ৫৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছেন। এর মধ্যে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকরাও যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’
দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলে ব্যাপকহারে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা, দুর্যোগ সহনীয় ঘরবাড়ি তৈরি করার মতো কার্যক্রম তাঁর সরকার বাস্তবায়ন করছে। ড্রেজিং করে, খাল খননের মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তিনি বিরোধী দলে থাকার সময়ও বিভিন্ন সময় দেশে আসা ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের সময় তাঁর দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের উল্লেখ করেন এবং ’৯১ পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ে বিএনপি’র সরকারের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি সম্পর্কে অসচেতনতা এবং ত্রাণ নিয়ে সে সময়কার মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরে তাদের কঠোর সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এর সভায় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন দুর্যোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিশ্ব অভিযোজন কেন্দ্র- ঢাকা অফিস’ স্থাপনের ঘোষণা দেন। এ প্রেক্ষিতে গত মাসে গ্লোবাল অ্যাডাপটেশন সেন্টারের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
এবার বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরাম-সিভিএফ-এর নেতৃত্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটা সময় দেশে অনেক অবহেলিত, অনগ্রসর মানুষ ছিল। সমাজে যাঁদের কোনো স্থান ছিল না। বলতে গেলে তারা ছিল অপাঙক্তেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু তাদের স্বীকৃতি দিয়েছি। তাদের ঠিকানা হয়েছে। আমরা হিজড়া থেকে শুরু করে সবাইকে স্বীকৃতি দিয়েছি। সমাজে এখন তাদের একটা অবস্থান তৈরি হয়েছে।’
‘চা শ্রমিকদের অন্য দেশ থেকে আনা হয়েছিল। তাদের কোনো দেশ ছিল না, ঠিকানা ছিল না জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘কোভিড কালীন খাদ্য উৎপাদনে অধিক গুরুত্বারোপ করাতেই দেশে কোন খাদ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারেনি,’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময়ই ভেবেছি কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়। কারণ, ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি।’
তিনি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমরা লবণাক্ততা সহনশীল ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। এখন সারা বছরই নানা ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এটাও কিন্তু গবেষণার ফসল। সেইভাবে বিদেশি অনেক ফলও বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারছি। প্রচুর মাছ, বিশেষ করে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় কোভিডের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ২৪ লাখ মানুষকে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাই। কীভাবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়, বাংলাদেশ সে পথ দেখাচ্ছে।’
উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে টেকসই করা ও সম্পদের ঝুঁকি কমানোর জন্য দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসের বিষয়টি সকল উন্নয়ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার’ দৃঢ় প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন। বাসস।

Posted by: | Posted on: October 13, 2020

নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে অপপ্রচার বন্ধ না করলে ব্যবস্থা -স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে দেশ ও বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে এসব অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, জনমনে উদ্বেগ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এসব অপপ্রচারকারী ও তাদের সহযোগীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী অপরাধীর বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

এ অবস্থায় সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশ ও বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Posted by: | Posted on: October 13, 2020

আবরার হত্যা মামলা: আরেক ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য গ্রহণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামির জবানবন্দি গ্রহণকারী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী সাক্ষ্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য বিচারক ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি সাক্ষ্য প্রদান করেন। গত ৬ অক্টোবর বাদী আবরারের বাবা বরকত উল্লাহর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির ছয় জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

১৩ জানুয়ারি মামলাটি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। এরপর মহানগর দায়রা জজ আদালত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রের ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এর বাইরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও ৬ জনের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং এজাহারের বাইরে থাকা ৬ জনের মধ্যে ৫ জনসহ মোট ২২ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে ৩ জন। গ্রেফতার ২২ জনের মধ্যে আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এজাহারে থাকা আসামিরা হলো–মেহেদী হাসান রাসেল, অনীক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এএসএম  নাজমুস সাদাত, মোর্শেদুজ্জামান জিসান ও এহতেশামুল রাব্বি তানিম।

এজাহারবহির্ভূত ৬ জন হলো– ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, এসএম মাহমুদ সেতু ও মোস্তবা রাফিদ।

পলাতক ৩ আসামি হলো–মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। তাদের মধ্যে প্রথম দুই জন এজাহারভুক্ত আসামি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আলোচিত এ মামলাটির সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। বর্তমানে এ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

Posted by: | Posted on: October 13, 2020

‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ এর গেজেট প্রকাশ

গেজেটগেজেট

ধর্ষণের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গেজেটটি প্রকাশ করা হয়।

২০০৮ সালের আইনের ৭ ধারা, ৯ ধারা (উপধারা ১, ৪, ৫), ১৯, ২০ ধারাসহ কয়েকটি ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করলো। তবে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এই অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে হবে। আইনটি বলবৎ রাখতে চাইলে পরে বিল আকারে তা আনবে সরকার।

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি এতদিন ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। পাশাপাশি দুই ক্ষেত্রেই অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপধারায় আগে বলা ছিল, যদি কোনও পুরুষ কোনও নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাহলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আইনের ৯(১) উপধারার অধীন ধর্ষণের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড হবে।

Posted by: | Posted on: October 13, 2020

বড়ইতলা গণহত্যা দিবস: সেদিনের কথা ভেবে এখনও শিউরে ওঠেন প্রবীণরা

বিজয় রায় খোকা, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ইতলা গ্রামে ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর ঘটেছিলো নৃশংস এক গণহত্যা। সেই দিন পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় হত্যা করে কয়েকশ’ নিরীহ বাঙালিকে। যশোদল ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামে সেদিন পাকিস্তানি বাহিনীর বুলেটে প্রাণ হারায় ৩৬৫ জন সাধারণ মানুষ। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি গ্রাম। ৪৯ বছর আগের দিনটির কথা মনে হলে আজও শিউরে উঠেন এলাকার প্রবীণরা। কিন্তু এই গণহত্যার বিচার পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। জোটেনি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা কিংবা মর্যাদায়ও।

স্থানীয়রা জানান, সেদিন পাকিস্তানি সেনাদের বহনকারী একটি ট্রেন সকালে এসে থামে বড়ইতলা গ্রামের কাছে। তারপর তারা ট্রেন থেকে নেমে স্থানীয় রাজাকারদের নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে একটি সমাবেশ করার চেষ্টা চালায় তারা। এ সময় এক সেনা সদস্য দলছুট হয়ে পড়ায় রাজাকাররা গুজব রটিয়ে দেয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরই হিংস্র পশুর মতো নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বড়ইতলা, চিকনিরচর ও দামপাড়াসহ আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক লোককে ধরে এনে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেল লাইনের পাশে জড়ো করে তারা। এক পর্যায়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় ৩৬৫ জনকে। এ সময় আহত হয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি।

 ওই দিন বেঁচে যাওয়া মোমতাজ উদ্দিন ঘটনার বর্ণনায়  বলেন, হানাদার বাহিনীর সদস্যরা আমাকে ও আমার ভাইকে রাস্তা থেকে ধরে বড়ইতলা নিয়ে যায়। হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে একজন সেনা সদস্য আমাকে বেয়নেট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে আমি গুরুতর আহত হই। জ্ঞান হারিয়ে অচেতন অবস্থায় মাটিতে লাশের স্তুপের মধ্যে পড়ে যাই। সেনা সদস্যরা ভেবে নেয় আমি মারা গেছি। তাই তারা আমাকে লাশের স্তুপেই ফেলে রেখে যায়। পুরো একদিন আমি লাশের স্তুপের মধ্যে পড়েছিলাম। পরদিন একজন মহিলা আমাকে লাশের স্তুপ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেদিন এলাকাটি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে কারবালা হয়েছিলো। কয়েকশ’ মানুষকে হত্যা করে উল্লাস করেছিল হানাদাররা।

বর্তমান হত্যাযজ্ঞের স্থানে স্মৃতিসৌধটি যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেটি দান করেছিলেন বড়ইতলার মো. মর্ত্তুজ আলী। তিনি অভিযোগ করেন বলেন, ১৩ অক্টোবর ছাড়া স্মৃতিসৌধটির খোঁজ কেউ রাখে না বা নিতেও আসে না। তবে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা কেটেছে। বর্তমান উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্মৃতিসৌধটির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবির প্রতিফলন। আশা করবো, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এ স্মৃতিসৌধ ও বড়ইতলা গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরতে অবিলম্বে একটি পাঠাগারও নির্মাণ করা হবে।

 কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদির মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্মৃতিসৌধটির সংস্কার কাজ করা হয়েছে। আরও কিছু সংস্কার এখনও চলছে। ১৯৭১ সালে এ গ্রামে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ইতিহাস সবার জানা উচিত। ইতিহাসের এমন অনেক ঘটনা নতুন প্রজন্ম জানেন না। আর সেই লক্ষ্যে স্মৃতিসৌধে একটি পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এর কাজ সম্পন্ন হবে।

এলাকাবাসী শহীদদের মর্যাদা, স্থানীয় রাজকারদের বিচার ও দিনটি সরকারিভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের দাবি জানিয়েছে।

 সুত্র-বাংলা ট্রিবিউন