Main Menu

বড়ইতলা গণহত্যা দিবস: সেদিনের কথা ভেবে এখনও শিউরে ওঠেন প্রবীণরা

বিজয় রায় খোকা, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বড়ইতলা গ্রামে ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর ঘটেছিলো নৃশংস এক গণহত্যা। সেই দিন পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় হত্যা করে কয়েকশ’ নিরীহ বাঙালিকে। যশোদল ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামে সেদিন পাকিস্তানি বাহিনীর বুলেটে প্রাণ হারায় ৩৬৫ জন সাধারণ মানুষ। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি গ্রাম। ৪৯ বছর আগের দিনটির কথা মনে হলে আজও শিউরে উঠেন এলাকার প্রবীণরা। কিন্তু এই গণহত্যার বিচার পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। জোটেনি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা কিংবা মর্যাদায়ও।

স্থানীয়রা জানান, সেদিন পাকিস্তানি সেনাদের বহনকারী একটি ট্রেন সকালে এসে থামে বড়ইতলা গ্রামের কাছে। তারপর তারা ট্রেন থেকে নেমে স্থানীয় রাজাকারদের নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে একটি সমাবেশ করার চেষ্টা চালায় তারা। এ সময় এক সেনা সদস্য দলছুট হয়ে পড়ায় রাজাকাররা গুজব রটিয়ে দেয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপরই হিংস্র পশুর মতো নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বড়ইতলা, চিকনিরচর ও দামপাড়াসহ আশপাশের এলাকার পাঁচ শতাধিক লোককে ধরে এনে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেল লাইনের পাশে জড়ো করে তারা। এক পর্যায়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় ৩৬৫ জনকে। এ সময় আহত হয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি।

 ওই দিন বেঁচে যাওয়া মোমতাজ উদ্দিন ঘটনার বর্ণনায়  বলেন, হানাদার বাহিনীর সদস্যরা আমাকে ও আমার ভাইকে রাস্তা থেকে ধরে বড়ইতলা নিয়ে যায়। হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে একজন সেনা সদস্য আমাকে বেয়নেট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে আমি গুরুতর আহত হই। জ্ঞান হারিয়ে অচেতন অবস্থায় মাটিতে লাশের স্তুপের মধ্যে পড়ে যাই। সেনা সদস্যরা ভেবে নেয় আমি মারা গেছি। তাই তারা আমাকে লাশের স্তুপেই ফেলে রেখে যায়। পুরো একদিন আমি লাশের স্তুপের মধ্যে পড়েছিলাম। পরদিন একজন মহিলা আমাকে লাশের স্তুপ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেদিন এলাকাটি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে কারবালা হয়েছিলো। কয়েকশ’ মানুষকে হত্যা করে উল্লাস করেছিল হানাদাররা।

বর্তমান হত্যাযজ্ঞের স্থানে স্মৃতিসৌধটি যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেটি দান করেছিলেন বড়ইতলার মো. মর্ত্তুজ আলী। তিনি অভিযোগ করেন বলেন, ১৩ অক্টোবর ছাড়া স্মৃতিসৌধটির খোঁজ কেউ রাখে না বা নিতেও আসে না। তবে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা কেটেছে। বর্তমান উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্মৃতিসৌধটির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবির প্রতিফলন। আশা করবো, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এ স্মৃতিসৌধ ও বড়ইতলা গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরতে অবিলম্বে একটি পাঠাগারও নির্মাণ করা হবে।

 কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাদির মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্মৃতিসৌধটির সংস্কার কাজ করা হয়েছে। আরও কিছু সংস্কার এখনও চলছে। ১৯৭১ সালে এ গ্রামে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ইতিহাস সবার জানা উচিত। ইতিহাসের এমন অনেক ঘটনা নতুন প্রজন্ম জানেন না। আর সেই লক্ষ্যে স্মৃতিসৌধে একটি পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এর কাজ সম্পন্ন হবে।

এলাকাবাসী শহীদদের মর্যাদা, স্থানীয় রাজকারদের বিচার ও দিনটি সরকারিভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের দাবি জানিয়েছে।

 সুত্র-বাংলা ট্রিবিউন






Related News