Tuesday, August 4th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: August 4, 2020

টিকটক লাইকি কিশোর গ্যাং ও সমাজ সংস্কৃতির কদর্যতা – নজরুল ইসলাম,কবি ও কলামিস্ট

বিগত কয়েক দশক ধরে সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক অবক্ষয়,নতুন প্রজন্ম ধাবিত হচ্ছে অধঃপতনের দিকে। তাই আমরা যদি এখন থেকেই সচেতন না হই, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না গ্রহণ করি তাহলে তরুণ প্রজন্মের ধ্বংস অনিবার্য। যা সমগ্র জাতির জন্য এক মহা সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ ক্ষয়প্রাপ্তি। সামাজিক মূল্যবোধ তথা সততা, উদারতা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, নিয়মানুবর্তিতা, কল্যাণবোধ, নান্দনিক সৃজনশীলতা ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলী লোপ পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলে সামাজিক অবক্ষয়। আর এই অবক্ষয়ের মূলে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, অসহিষ্ণুতা ও সর্বগ্রাসী অশ্লীলতার মতো আরো কিছু বিষয়।এদেরই একজন নোয়াখালীর অপু(অফু ভাই)।সামাজিক অবক্ষয় খণ্ডচিত্র কিম্ভূতকিমাকার পোষাক পড়া অপু এবং তার কিশোর গ্যাং ।এই কিশোর গ্যাং কালচারের মারাত্নক পরিণতির সাম্প্রতিক উদাহরণ। এই সমাজ অবক্ষয়ের আর এক ভয়ংকর অনুষঙ্গ নেশা।কিশোর গ্যাং টিকটক অপুর সাম্প্রতিক কদর্যতা ভাবিত করেছে আমাদের।ভেবেছেন কবি ও কলামিস্ট নজরুল ইসলাম।টিকটক লাইকি কিশোর গ্যাং ও সমাজ সংস্কৃতির কদর্যতা নিয়ে লেখকের ভাবনা ডেইলি প্রেসওয়াচ এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল –

 টিকটিক লাইকি হল একধরনের মোবাইল এপসের সাহায্যে শর্ট ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জনপ্রিয় মাধ্যম। চীন এবং সিঙাপুর ভিত্তিক এপস হলেও সারাবিশ্বে নানা ধরনের টুইস্ট, শিক্ষামূলক মজার মজার ভিডিওর জন্য বেশ জনপ্রিয় মাধ্যম। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিরাও এই এপস দুইটি ব্যবহার করে থাকে বাংলাদেশেও টিনএজ ছেলেমেয়েদের কাছে এপস দুইটি বেশ জনপ্রিয়। তারা বাহারী রঙের নানারকম হেয়ারস্টাইল করে কিম্ভূতকিমাকার পোষাক পড়ে নানারকম ভিডিও আপলোড দিয়ে থাকে।এই সমস্ত ভিডিও দিয়ে এই টিকটক লাইকি জগতে অনেকে আবার সেলিব্রিটি বনে গেছে।তাদের কারও কারও নাকি লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার সাবস্ক্রাইবারও রয়েছে। এদেরই একজন নোয়াখালীর অপু(অফু ভাই)।

টিকটক লাইকি কিশোর গ্যাং ও সমাজ সংস্কৃতির কদর্যতা -কবি ও কলামিস্ট নজরুল ইসলাম

গত ৩রা জুলাই এই সেলিব্রিটি টিকটকার অপু উত্তরা ৮ নং সেক্টরে তার কয়েক শ ফলোয়ার নিয়ে রাস্তাজুড়ে আড্ডা দিচ্ছিল বা টিকটক ভিডিও বানাচ্ছিল।তখন রাস্তায় চলমান এক প্রাইভেট কার থেকে সাইড চেয়ে হর্ণ বাজানো হয়।এই ছিল তাদের অপরাধ।সেজন্য গাড়ীর যাত্রীদের বের করে বেদম মারধর করে।পরে স্থানীয় জনতা তাদেরকে ঘেরাও করে কয়েকজনকে পাকড়াও করে উত্তম মাধ্যম দিতে থাকলে পুলিশ এসে তাদের উদ্বার করে এবং কথিত টিকটক সেলিব্রিটি অপুকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাহারী রংধনু রঙে রাঙা চুল আর অদ্ভূত জামা পড়ে এরা জটলা পাকিয়ে এই সমস্ত ভিডিও চর্চা করে,অদ্ভূত এক বিকৃত ভাষায় কথা বলে, নানা কুরুচিপূর্ণ অঙভঙি করে পথচারীদের বিব্রত করে।

এই সমস্ত কালচারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা সমাজ কদর্যতার আর এক ভয়ংকর চিত্র কিশোর গ্যাং।এই গ্যাং গ্রুপগুলোর আবার সিনেমা স্টাইলে নাইন স্টার, ডিসকো বয়েজ ইত্যাদি চটকদার নাম রয়েছে।দাদাগীরী,সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ,স্ব স্ব মহল্লায় নিজস্ব লিডারশীপ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়াস তাছাড়া পার্শ্ববর্তী মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে হরহামেশাই নানা অপ্রীতিকর ঘটনায় এরা প্রায়ই জড়িয়ে পড়ে। এমনকি খুন খারাবি পর্যন্ত গড়াচ্ছে।উত্তরায় আদনান কবির হত্যা,বরিশালে মিন্নি হত্যা এই কিশোর গ্যাং কালচারের মারাত্নক পরিণতির সাম্প্রতিক উদাহরণ। এই সমাজ অবক্ষয়ের আর এক ভয়ংকর অনুষঙ্গ নেশা।এই সমস্ত গ্রুপগুলো যারা অধিকাংশই টিনএজ, যাদের এখন উন্নত জীবনের সোপান বিনির্মাণের জন্য ব্যপৃত থাকার কথা তারা মাদকের করাল থাবায় হারিয়ে যাচ্ছে ; পঙু হয়ে যাচ্ছে সুন্দর স্বচ্ছল উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্র সেনানীরা। এই সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য সরকার বা ব্যক্তিবিশেষকে দায়ী না করে আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। মুক্তবুদ্ধির চর্চা,সারাক্ষণ মোবাইলে চ্যাট আর গেম না খেলে উন্মুক্ত খেলাধুলা,শুদ্ব সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে আমারা এই মারাত্মক পরিনতি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।আর সকল অভিভাবকদের উচিত তাদের স্ব স্ব সন্তানের আচরণ বিধির প্রতি যৌক্তিক নজরদারী করা।

আমাদের মূল্যবোধে অবক্ষয় এ সমাজকে প্রবলভাবে গ্রাস করেছে। আর সামাজিক শিক্ষা কিংবা পারিবারিক শিক্ষা থেকে আমাদের মূল্যবোধ গড়ে ওঠার কথা। কিন্তু এ সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবারেই আমরা নানা ধরনের সমস্যা লক্ষ্য করি। এখন আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো আগের মতো নেই। নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে। এটিই পারে সামজিক অবক্ষয় বন্ধ করতে।

Posted by: | Posted on: August 4, 2020

শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী বুধবার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী বুধবার। ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে পিতা মুজিব ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মানবতার ঘৃণ্য শত্রুদের নির্মম-নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন শেখ কামাল।

দিনটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন এবার প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে।

শহীদ শেখ কামাল  ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান ও ’৭১-এর  মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে আক্রমণ করার আগ মুহূর্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বহুমাত্রিক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি এ অনার্স পাস করেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের শিক্ষার অন্যতম উৎসমুখ ‘ছায়ানটে’ সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় প্রচণ্ড উৎসাহ ছিল তার।

স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন এবং শাহাদাত বরণের সময় তিনি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার মাত্র একমাস আগে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ খ্যাতিপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। খুকুও ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণ করেন।

কর্মসূচি: দিবসটি যথাযথভাবে পালনের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমন্ডিতে আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সোয়া ৯টায় বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। পরে অনুষ্ঠিত হবে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সহযোগী সংগঠনগুলো এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করবে।

শহীদ শেখ কামলের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আবাহনী লিমিটেড ক্লাব প্রাঙ্গণে সারাদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে সব অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শদ্ধা নিবেদন, দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের বর্ণাঢ্য কর্মবহুল জীবনের ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা ও স্মৃতি চারণ ও বাদ আছর ক্লাব ভবনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  ‍দুপুর ১২টায় গণভবনে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ধানমন্ডির আবহানী ক্লাবের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন।

এছাড়া শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ‘তারুণ্যের জেগে ওঠার নাম শেখ কামাল’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন-সিআরআই। ওয়েবিনারটি আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এছাড়া সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলসহ পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতি শহীদ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

Posted by: | Posted on: August 4, 2020

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৫০ জনের প্রাণ গেল

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫০ জন মারা গেছেন। করোনায় এ পর্যন্ত মোট মারা গেলেন ৩ হাজার ২৩৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৫৫ জন এবং এখন পর্যন্ত এক লাখ ৩৯ হাজার ৮৬০ জন সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ১১২টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯১৮ জন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

এ সময় অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩টি পরীক্ষাগারে আট হাজার ১২৩টি নমুনা সংগ্রহ এবং সাত হাজার ৭১২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হলো ১২ লাখ এক হাজার ২৫৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯১৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলেন দুই লাখ ৪৪ হাজার ২০ জন। শনাক্তের হার গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার এক দশমিক ৩৩ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৪৪ জন এবং নারী ছয় জন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন হাসপাতালে এবং পাঁচ জন বাড়িতে মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৫৪৯ জন পুরুষ এবং ৬৮৫ জন নারী মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।
এ পর্যন্ত বয়সভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা এবং শতকরা হার: শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, দশমিক ৫৬ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩২ জন, দশমিক ৯৯ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২১২ জন, ছয় দশমিক ৫৬ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৪৮ জন, ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯৩০ জন, ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি এক হাজার ৫০৭ জন, ৪৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।
২৪ ঘণ্টায় বিভাগ ভিত্তিক মৃত্যু হয়েছে: ঢাকায় ২৯ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে পাঁচ জন করে, খুলনা ও রংপুরে চার জন করে এবং বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে একজন করে।

Posted by: | Posted on: August 4, 2020

চীনের তৈরি করা ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক ব্যবহারে অনুমোদন দেওয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চীনের তৈরি করা ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক ব্যবহার করার জন্য অনুমোদন দেওয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া গেলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান।

তিনি জানান, চীনের একটি ওষুধ কোম্পানির তৈরি করা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর তা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশে আইসিডিডিআর,বি’র কাছে আবেদন করে। সেই আবেদন নিয়ে আইসিডিডিআর,বি প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান।

বৈঠক শেষে সচিব সাংবাদিকদের জানান, ‘চীনা কোম্পানির করা আবেদনপত্রটি আইসিডিডিআর,বি’র মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতর হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আমাদের করা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পর যদি এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়, এরপর এর ফলাফল পেতে ছয় মাস সময় লেগে যাবে। এরমধ্যে যদি বিশ্বের অন্য কোনও দেশে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে যায়, তবে আমরা সেটি পাওয়ার জন্যও যোগাযোগ রাখছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, চীনের সিনোফার্ম ওষুধ কোম্পানিটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি কোম্পানি। এর সঙ্গে চীনা সরকারের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। এই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ভ্যাকসিন ইতোপূর্বে চীনে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে নিরীক্ষা চালিয়ে সফল হয়েছে। সেটা বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যদি তা সন্তোষজনক হয় তবে আমাদের দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর প্রয়োগের জন্য আইসিডিডিআর,বি’র মাধ্যমে এ ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেওয়া হবে।’

এসময় আইসিডিডিআর,বি প্রতিনিধি দলের সদস্য, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Posted by: | Posted on: August 4, 2020

‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ গ্রাহকের ১৭ ধরনের সেবা নিশ্চিত করবে

 সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ গ্রাহকের ১৭ ধরনের সেবা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প এবং ১ হাজার ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। প্রকল্প দু’টি ইতোমধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭টি সেবা পাওয়া যাবে। এসব সেবা পেতে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। এ সফটওয়্যারের মাধ্যমেই মিলবে সেই। সেবাগুলো হচ্ছে- ই-মিউটেশন, রিভিউ ও আপিল মামলা ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা ব্যবস্থাপনা, মিউটেটেড খতিয়ান, ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড, মৌজা ম্যাপ ডেলিভারি সিস্টেম, মিস মামলা ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা, দেওয়ানি মামলা তথ্য ব্যবস্থাপনা, হাটবাজার ব্যবস্থাপনা, জলমহাল ব্যবস্থাপনা, বালু মহাল ব্যবস্থাপনা, চা-বাগান ব্যবস্থাপনা, ভিপি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ বাজেট ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।  ‘ল্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস ফ্রেমওয়ার্ক’ সিস্টেম সফটওয়্যার এর মাধ্যমে একই কাঠামোয় নিয়ে এসে আন্তঃপরিচালনযোগ্য  ডাটাবেজ তৈরি করে সরকারের অন্যান্য সব সেবার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এ প্রকল্পটি সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।

এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে স্যাটেলাইট ও ড্রোনের  মাধ্যমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ে, নির্ভুলভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করতে তিনটি পার্বত্য জেলা ছাড়া সারাদেশের ৪৭০টি উপজেলার মৌজা পর্যায়ে জিওডেটিক সার্ভের মাধ্যমে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১০টি জিও-রেফারেন্সিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে ও ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৮৮টি মৌজা ম্যাপের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হবে। এছাড়া, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় এসএ জরিপের পর আরএস জরিপ সম্পন্ন না হওয়ায় উক্ত দু’টি জেলার ১৪টি উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ সম্পন্ন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত জিও-রেফারেন্স করা মৌজা ম্যাপ উপর্যুক্ত ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্পে সরবরাহ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক শ্রেণির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, এটি এত সহজ কাজ নয়। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় জমি ব্যবস্থাপনায় অনেক সময় লেগেছে। সেখানে বাংলাদেশে ২/৪ বছরে এটি সম্ভব নয়।

অপরদিকে ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,  ভূমি জরিপ কার্যক্রমটি সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল বিষয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন করতে সময় লেগেছে ২০-২৫ বছর। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন এ সময়ে সম্পন্ন করা জটিল। কারণ ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার বিষয়টি একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে এ প্রকল্পটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। এ দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রত্যাশিত সেবাগ্রহীতা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসে মোবাইল বা ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে সেবা পাবেন। হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা প্রদানই প্রকল্প দু’টির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি জানিয়েছেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার বিষযটি বর্তমান সরকারের পুরনো অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। কাজটি যতই চ্যালেঞ্জিং হোক সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবেই।’

এদিকে সরকারের নীতি নির্ধারকরা মনে করেন, দেশে ফৌজদারি মামলার ৮০ শতাংশেরও বেশি মামলার সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দায়ী। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে মারামারি হানাহানির পেছনেও অন্যতম কারণ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে জমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সফটওয়্যার ক্রয় বা প্রণয়ন করা হবে। সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে দেশের ভূমি সংক্রান্ত ৫ হাজার ২৪৭টি অফিসের একসঙ্গে অনলাইন ও ইলকেট্রনিক ভূমি সেবা চালু করা সম্ভব হবে। উক্ত দফতর সমূহে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সরবরাহ করা হবে। ভূমি সংশ্লিষ্ট জনবলের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র আরও জানিয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ১২.৩.৪(ক) নং অনুচ্ছেদ এ ভূমি সংক্রান্ত সকল প্রকার রেকর্ড প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণের পদ্ধতি আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় ও রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং ভূমির রেকর্ডপত্রে জনগণের সহজ প্রবেশাধিকার প্রদান করা হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সঙ্গে ভূমির নামজারি, মালিকানা, রেকর্ড, খাজনা পরিশোধ, ভূমি জরিপ এর বিষয়সমূহ ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা সহজীকরণে সম্পত্তি নিবন্ধন সূচকের ইতিবাচক ও দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হবে।

সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ গ্রাহকের ১৭ ধরনের সেবা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প এবং ১ হাজার ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। প্রকল্প দু’টি ইতোমধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭টি সেবা পাওয়া যাবে। এসব সেবা পেতে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। এ সফটওয়্যারের মাধ্যমেই মিলবে সেই। সেবাগুলো হচ্ছে- ই-মিউটেশন, রিভিউ ও আপিল মামলা ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা ব্যবস্থাপনা, মিউটেটেড খতিয়ান, ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড, মৌজা ম্যাপ ডেলিভারি সিস্টেম, মিস মামলা ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা, দেওয়ানি মামলা তথ্য ব্যবস্থাপনা, হাটবাজার ব্যবস্থাপনা, জলমহাল ব্যবস্থাপনা, বালু মহাল ব্যবস্থাপনা, চা-বাগান ব্যবস্থাপনা, ভিপি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ বাজেট ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।  ‘ল্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস ফ্রেমওয়ার্ক’ সিস্টেম সফটওয়্যার এর মাধ্যমে একই কাঠামোয় নিয়ে এসে আন্তঃপরিচালনযোগ্য  ডাটাবেজ তৈরি করে সরকারের অন্যান্য সব সেবার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এ প্রকল্পটি সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে।

এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে স্যাটেলাইট ও ড্রোনের  মাধ্যমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ে, নির্ভুলভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করতে তিনটি পার্বত্য জেলা ছাড়া সারাদেশের ৪৭০টি উপজেলার মৌজা পর্যায়ে জিওডেটিক সার্ভের মাধ্যমে ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১০টি জিও-রেফারেন্সিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে ও ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৮৮টি মৌজা ম্যাপের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হবে। এছাড়া, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় এসএ জরিপের পর আরএস জরিপ সম্পন্ন না হওয়ায় উক্ত দু’টি জেলার ১৪টি উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ সম্পন্ন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত জিও-রেফারেন্স করা মৌজা ম্যাপ উপর্যুক্ত ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্পে সরবরাহ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক শ্রেণির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, এটি এত সহজ কাজ নয়। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় জমি ব্যবস্থাপনায় অনেক সময় লেগেছে। সেখানে বাংলাদেশে ২/৪ বছরে এটি সম্ভব নয়।

অপরদিকে ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,  ভূমি জরিপ কার্যক্রমটি সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল বিষয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন করতে সময় লেগেছে ২০-২৫ বছর। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন এ সময়ে সম্পন্ন করা জটিল। কারণ ভূমি তথ্য ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার বিষয়টি একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে এ প্রকল্পটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। এ দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রত্যাশিত সেবাগ্রহীতা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসে মোবাইল বা ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে সেবা পাবেন। হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা প্রদানই প্রকল্প দু’টির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি জানিয়েছেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার বিষযটি বর্তমান সরকারের পুরনো অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। কাজটি যতই চ্যালেঞ্জিং হোক সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবেই।’

এদিকে সরকারের নীতি নির্ধারকরা মনে করেন, দেশে ফৌজদারি মামলার ৮০ শতাংশেরও বেশি মামলার সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দায়ী। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে মারামারি হানাহানির পেছনেও অন্যতম কারণ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে জমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় সফটওয়্যার ক্রয় বা প্রণয়ন করা হবে। সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে দেশের ভূমি সংক্রান্ত ৫ হাজার ২৪৭টি অফিসের একসঙ্গে অনলাইন ও ইলকেট্রনিক ভূমি সেবা চালু করা সম্ভব হবে। উক্ত দফতর সমূহে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সরবরাহ করা হবে। ভূমি সংশ্লিষ্ট জনবলের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র আরও জানিয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ১২.৩.৪(ক) নং অনুচ্ছেদ এ ভূমি সংক্রান্ত সকল প্রকার রেকর্ড প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণের পদ্ধতি আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় ও রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং ভূমির রেকর্ডপত্রে জনগণের সহজ প্রবেশাধিকার প্রদান করা হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সঙ্গে ভূমির নামজারি, মালিকানা, রেকর্ড, খাজনা পরিশোধ, ভূমি জরিপ এর বিষয়সমূহ ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা সহজীকরণে সম্পত্তি নিবন্ধন সূচকের ইতিবাচক ও দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হবে।