Main Menu

বেরোবি পরিবারে নবসৃষ্টির উদ্দীপক উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং আমাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি- পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত

‘বেরোবি পরিবারে নবসৃষ্টির উদ্দীপক উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং আমাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি- পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত

– সাকিনা আক্তার

বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর -এর চতুর্থ উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার। তিনি একাধিক পরিচয়ে পরিচিত একজন ব্যক্তি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের (গ্রেড-১) প্রফেসর, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ) এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালস (বিইউপি) এর সাবেক উপ-উপাচার্য । এছাড়াও দেশে-বিদেশে তথা বিশ্বব্যাপী রয়েছে তাঁর বিস্তর পরিধি। সম্প্রতি তিনি “দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্র : নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশন” নামে একটি বই সম্পাদনা করেছেন যেটি এই দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে নির্বাচন বিষয়ক বই প্রকাশনায় একটি পথিকৃৎ। তাঁর প্রতিটি স্বপ্ন ঘিরে থাকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরকে নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিভিন্ন পরিসরে সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এখানে কর্মরত প্রতিটি মানুষের মনে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছেন।

আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে কর্মরত একজন কর্মকর্তা। এখানে যোগদানের পূর্বে এই মানুষটিকে আমি দেখেছি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টকশোতে, যেখানে তিনি তাঁর অভিনব চিন্তাধারা গুলো তুলে ধরেছেন। বললে ভুল হবে না যে, আজকে যে পরিচিতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর পেয়েছে তা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের ভাইস-চ্যান্সেলর স্যারের বিশ্বব্যাপী সমাদৃত খ্যাতির সাথে। যে মানুষটি একাধিক পরিমন্ডলে সাফল্যের ছাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন, তিনি তাঁর নতুন আরেকটি গণ্ডিতে কোন অভিনব চিন্তার ব্যপ্তি ঘটাবেন না, তা কি কখনো হয়! তাঁর একটি অন্যতম আধুনিক যুগোপযোগী চিন্তাধারার ফল হচ্ছে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য চালুকৃত ‘ফাউন্ডেশন ট্রেইনিং কোর্স’ এবং কর্মচারীদের জন্য ‘ইন্ডাকশন ট্রেইনিং কোর্স’- যেটি বাংলাদেশের আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে করানো হয় না। নবনিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে কোর্সটি চালু করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণটির সময়সীমা হচ্ছে- শিক্ষকদের জন্য ছয় মাস, কর্মকর্তাদের জন্য চার মাস এবং কর্মচারীদের জন্য দুই মাস। এই বিষয়টি যাদের কাছে সমালোচনার বস্তু তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, একজন নবনিযুক্ত শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীকে যোগদানের পর দিনই যদি তার কর্মক্ষেত্রে পাঠানো হয় আর সে যদি তার কর্ম-পরিসর সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত না থাকে তাহলে সে কি তার সর্বোচ্চ ভালো টুকু দিতে পারবে? এক্ষেত্রে তার ব্যর্থতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই চরম বিপদ বয়ে আনবে। বর্তমানে, শিক্ষকদের ৪র্থ, কর্মকর্তাদের ৩য় ও কর্মচারীদের ৪র্থ ব্যাচ প্রশিক্ষণরত আছে। বিশেষ করে, আমি এখানে বলতে চাই, কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের কথা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে পরিচিতির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নিয়ম-শৃঙ্খলা তথা নৈতিকতা সম্পর্কেও অবগত করানো হয়। দেশের এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতেও আমাদের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের দীর্ঘ দুই মাস ধরে দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে অনলাইন ক্লাস করানো হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে। স্যারের এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যেখানে ইংরেজি ভাষাটি বেশিরভাগ মানুষের কাছেই ভয় বা দুর্বলতার জায়গা, সেখানে কর্মচারীদের ইংরেজিতে পারদর্শী করার স্বপ্ন যেন সত্যিই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমান দেয়। তাঁর এই নিরবিচ্ছিন্ন স্পৃহা আজ কর্মচারীদের মনে নতুন স্বপ্নের উন্মেষ ঘটিয়েছে। তিনি এই আপদকালীন অবস্থাতেও তার কর্মচাঞ্চল্যের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে স্বপ্ন দেখতে শেখান। তাঁর অনুপ্রেরণা আমাদের মনে বিশ্বাস যোগায়, আমরা পারি, আমরা পারবো- করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে নতুনভাবে সব শুরু করতে। যা কিছু পুরনো, যা কিছু জীর্ণ, তার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে নতুনকে আলিঙ্গন করা, নতুন কিছু করার আরেক নাম-ই হচ্ছেন তিনি। যারা এই পুরনোর বেড়াজাল থেকে বের হতে পারে না তারাই শুধু সমালোচনার নামে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে নিজেদেরকে সন্তুষ্ট রাখে। তাই বলবো, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে তিনি যেমন আমাদের চোখ ভরিয়ে রেখেছেন নতুন নতুন স্বপ্ন দিয়ে তেমনি তাঁর আশীর্বাদে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও যেন নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ইট, কাঠ, সিমেন্ট, বালি আর পাথরের অট্টালিকা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই মহান মানুষটিকে আঁকড়ে ধরে। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়টি একদিন পৌঁছে যাবে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে এই শিক্ষানুরাগী, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী চিন্তায় পারদর্শী মানুষটির হাত ধরে। আমি তাঁর দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা কামনা করছি।

লেখক – সাকিনা আক্তার সীমা
সেকশন অফিসার
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।






Related News