Main Menu

৬ মাস প্রতিনিধি পাচ্ছে না সংসদের শূন্য আসনের জনগণ

সংসদীয় শূন্য আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে ৯০ দিনের স্থলে ১৮০ দিন সময় নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সাংবিধানের সর্বোচ্চ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে ছয় মাস ধরে জনপ্রতিনিধি হতে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে করোনাকালে মৃত্যুবরণকারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকার জনগণকে।

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কোনও আসন শূন্য হলে, শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দৈব দুর্বিপাকে আরও ৯০ দিন সময় নিতে পারেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় বলা হয়েছে— ‘সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনও কারণে সংসদের কোনও সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোন দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী ৯০-দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

সাধারণত মৃত্যুজনিত বা অন্য কোনও কারণে চলমান সংসদের কোনও আসন শূন্য হলে দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৯০ দিনের সময় থাকলেও অন্য কোনও জটিলতা না থাকলে, কমিশন আগেভাগেই ভোট শেষ করে। এতে শূন্য আসনের জনগণ দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যেই তাদের নতুন জনপ্রতিনিধি পেয়ে যান। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে ছন্দপতন ঘটেছে। এ কারণে শূন্য হওয়া বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি বরং পরবর্তী ৯০ দিন, অর্থাৎ শূন্য হওয়ার ১৮০ দিনের একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে ভোট হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে কোনও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ৯০ দিনের মধ্যেও ভোট এড়ানো যায় কিনা, তাও খুঁজছিল কমিশন। এ বিষয়ে মতামত চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে সাংবিধানিকভাবে সেই সুযোগ না থাকায় ইসিকে বাধ্য হয়ে শেষ প্রান্তে এসে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন করতে হয়েছে।

জানা গেছে, ওই দুটি আসনের ধারাবাহিকতায়  মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া পাবনা-৪, ঢাকা-৫, সিরাজগঞ্জ-১ এবং ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন পরবর্তী ৯০ দিনের (শূন্য হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে) শেষ প্রান্তে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২০ জুলাই) কমিশন সভায় আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে পাবনা -৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সময় তফসিল হলে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ৯০ দিনের সময়সীমা যথাক্রমে ২৮ সেপ্টেম্বর ও ১ নভেম্বর শেষ হবে।

এদিকে সদ্য শূন্য হওয়া সিরাজগঞ্জ-১ এবং ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে ৯০ দিন পার হতে ইসির হাতে এখনও সময় থাকলেও তারা পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর এবং ঢাকা-১৮ আসনের জন্য ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় পাবে ইসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে কমিশন এভাবে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনাভাইরাস জনিত কারণে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ১৮০ দিনের মধ্যেও  না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনে সুযোগ থাকার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে আরও সময় নেওয়ার সুযোগ থাকলে কমিশন জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও সেটা করতো।’ এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে মতামত চাওয়া প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।






Related News