চীনের মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব পড়বে সারাবিশ্বে

প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ

চীনের মুদ্রাস্ফীতি দিন দিন আরও বেশি খারাপ হচ্ছে। গত মাসে চীনের কারখানাগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং ক্রমবর্ধমানভাবে গ্রাহকদের ওপরও এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়।

বুধবার (১০ নভেম্বর) চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবর মাসে উৎপাদক মূল্য সূচক ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসেই বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

ইকন রিফিনিটিভের সূত্র মতে, ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে চীনের সরকার এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা শুরু করেছে। এ সময়ের মধ্যে গত মাসেই এ সূচক ইতোমধ্যে দ্রুততম গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত এক বছরের তুলনায় অক্টোবর মাসে চীনের ভোক্তা মূল্য সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি বৃদ্ধির হার আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের থেকে দ্রুততম।

হংকং-ভিত্তিক পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ঝিওয়েই ঝাং বলেছেন, আমরা উৎপাদক মূল্য থেকে ভোক্তা মূল্যের পাসথ্রু নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ আগে ফার্মগুলো তাদের গ্রাহকদের উচ্চতর খরচ এড়িয়ে যেতে বাফার হিসেবে তাদের ইনভেন্টরির ইনপুটগুলো ব্যবহার করত, তবে বর্তমানে তাদের ইনভেন্টরিগুলো হ্রাস পেয়েছে।

বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে অক্টোবর মাসেই প্রথমবারের মতো ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটির হার গত মে মাস থেকে ধীরে ধীরে হ্রাস পেয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি বিল এবং খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

গত সপ্তাহে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি নোটিশ জারি করেছে যাতে স্থানীয় সরকারকে বলা হয়েছে, খারাপ আবহাওয়া, বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং করোনার বিধিনিষেধের কারণে সরবারহ ব্যাহত হতে পারে, এক্ষেত্রে যেন পরিবারগুলোকে খাদ্য এবং অন্যান্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত করতে উৎসাহিত করা হয়। এ আকস্মিক সতর্কতার কারণে জনসাধারণের মধ্যে পেনিক কেনাকাটা এবং উন্মত্ত অনলাইন জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য সবজি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছে।

এনবিএর একজন সিনিয়র পরিসংখ্যানবিদ ডং লিজুয়ান জানিয়েছেন, প্রধানত ভারী বৃষ্টিপাত এবং ক্রমবর্ধমান পরিবহন খরচের কারণে অক্টোবরে সবজির দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছে। চরম আবহাওয়া ফসলের ক্ষতিসাধন করেছে। এবং সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে যে করোনার বিধিনিষেধের কারণে অঞ্চল জুড়ে ট্রানজিটিংয়ের খরচ বাড়তে পারে। পেট্রল এবং ডিজেলের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কয়লা খনির এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় একটি চলমান শক্তির সংকটও উৎপাদকের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ।

জ্বালানি সমস্যা, শিপিং বিঘ্ন এবং গভীর সম্পত্তি সংকটের কারণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ইতিমধ্যে এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চীনের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। মিজুহো ব্যাংকের প্রধান এশীয় বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ কেন চেউং বলেছেন, বিশ্বের কারখানা হিসেবে চীনের ভূমিকা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে এর গুরুত্ব বিবেচনা করে, ক্রমবর্ধমান উৎপাদক মুদ্রাস্ফীতি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।

সূত্র: সিএনএন