ভারত কমানোর পরও তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় ৪৪ টাকা বেশি

প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। এরই সূত্র ধরে, বাংলাদেশে বুধবার রাত ১২টা থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে দাম বাড়া সত্ত্বেও উৎপাদন শুল্ক কমিয়ে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম ৫ ও ১০ রুপি করে কমিয়েছে ভারত সরকার।

তবে, ভারতের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কথা বলা হলেও এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৪৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত ৩ নভেম্বর কোলকাতায় ডিজেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০১ দশমিক ১৫ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৪ টাকা। এতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের লিটার প্রতি দামের পার্থক্য দাঁড়ায় ৫৯ টাকা। আর এতেই দেশ থেকে তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় বাড়ানো হয় ডিজেলের দাম।

শুধু বর্তমানেই দাম বেশি নয়, ২০১৩ সালে দেশে ডিজেলের মূল্য ছিল প্রতি লিটার ৬৮ টাকা। পরে ২০১৬ সালে ৩ টাকা কমিয়ে লিটার প্রতি ৬৫ টাকা দাম পুন:নির্ধারণ করে বিপিসি। এরপর গত সাড়ে ৫ বছরে দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য ছিল অপরিবর্তিত। অথচ তখনও ভারতে প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৫৪.১৭ রুপি অর্থাৎ ৬২.৫৮ টাকায়।

এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডিজেল-কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অথচ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে তেলের দাম ৫ টাকা করে কমিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুধু বিএনপির এই নেতাই নন, আরও অনেক রাজনৈতিক দলের নেতারা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করলেও তারা এই বিষয়টি সামনে আনছেন না। তারা শুধু বলে যাচ্ছেন, ভারতে দাম কমালেও বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র যে ভিন্ন, ভারতে তেলের দাম কমানো হলেও যে বাংলাদেশের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সেটি বলছেন না।

গত সাড়ে পাঁচ বছরে প্রায় প্রতিদিনই ভারতে সমন্বয় করা হয় ডিজেলের দাম। সবশেষে চলতি নভেম্বরের তিন তারিখে কোলকাতায় ডিজেলের মূল্য ১০১.৫৩ রুপি নির্ধারণ করে সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ভারতে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১২৪ টাকায়। দেশে আগের দামের সঙ্গে পাশ্ববর্তী দেশের দামের পার্থক্য দাঁড়ায় ৫৯ টাকা। আর এতেই বিপুল বৈদেশিক অর্থ দিয়ে কেনা তেল বাংলাদেশ থেকে কম দামে কিনে ভারতে পাচারের আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় ৫ বছর পর তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের তেলের দামের চেয়ে, ভারতে তেলের দাম বেশি হওয়ায় প্রচুর পরিমাণ তেল সে দেশে চোরাচালানে যাওয়া শুরু হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়েছি এডজাস্টমেন্ট করার জন্য। আমরা আশা করছি যে এটা বেশি থাকবে না। তারা যদি দাম কন্টিনিউ করে, তাহলে আমাদেরও কন্টিনিউ করতে হবে। তবে কৃষকের ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে, তাদের জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করবে।

বর্তমানে দেশে ১৫ টাকা দাম বাড়িয়ে প্রতিলিটার ৮০ টাকায় বিক্রির পরও ভারতে ৪৪ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকাল এই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় মালিক শ্রমিকরা। তাদের দাবি, তেলের দাম কমাতে হবে, নয়তো পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। আর সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখবেন তারা।

Share: