বাংলাদেশের লজ্জার হার

দিপু সিদ্দিকী/প্রেস ওয়াচ ডেস্ক

ম্যাচের একদিন আগে স্কটল্যান্ডের দেওয়া হুঙ্কার যে নিছক কথার কথা ছিল না, সেটি মাঠের লড়াইয়ে প্রমাণ করলো তারা। রোববার (১৭ আগস্ট) বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ রানে হারিয়ে দিয়েছে স্কটিশরা। এ নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই দেখায় দুবারই জয় তুলে নিল তারা।

স্কটিশদের দেওয়া ১৪১ রান তাড়া করতে নেমে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। একে একে ফিরে গেছেন সৌম্য-লিটন।  প্রথম ওভারে বল বাউন্ডারি পার করে ঝড় তোলার বার্তা দিয়েছিলেন সৌম্য। তবে পরের ওভারেই ক্যাচ তুলে দিলেন। জশ ডেভিকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে জর্জ মানসির হাতে ধরা পড়েছেন বাংলাদেশ ওপেনার। ৫ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।


সৌম্যর আগের ওভারের ওই শটের পর লেগসাইডে বাউন্ডারিতে দুজন ফিল্ডারকে রেখেছিলেন কাইল কোয়েটজার, সৌম্য ধরা পড়লেন সে ফাঁদেই। ধারাভাষ্যে থাকা অ্যালান উইলকিনসের মতে, সে ক্যাচ ধরার জন্য মানসি এমনভাবে অপেক্ষা করছিলেন, ট্রেন ধরতে কেউ যেমন করেন।

সৌম্যর ব্যর্থতার দিনে একই বৃত্তে বন্দি লিটন কুমার দাসও।  ব্র্যাড হুইলের বলে জোরের ওপর খেলতে গিয়েছিলেন, তবে মিড-অফে ধরা পড়লেন সরাসরি। সাজঘরে ফেরার আগে করেছেন ৭ বলে ৫ রান।

তবে তারপরই দলের হাল ধরেছিলেন অভিজ্ঞ দুই টাইগার সদস্য সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম। তাদের ব্যাটে ভর করে চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ইনিংসের নবম ওভারে যখন রান-রেট আর চাপ বাড়ছিল ঠিক তখনই মুশফিক পরপর দুই ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ অনেকটাই কমিয়েছিলেন। এক ওভারে ১৮ রান তোলেন তিনি।


আশা জাগিয়েও শেষপর্যন্ত টিকলো না সাকিব-মুশফিক জুটি। ধীরগতির ব্যাটিংয়ের খোলস ছেড়ে যখন হাত খুলে খেলবেন ঠিক তখনই কাটা পড়লেন সাকিব। ২৮ বলে ২০ রান করে ফিরে গেছেন তিনি। আগের বলে রান-আউটের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন সাকিব। তবে জীবন পেয়ে বেশিদূর এগোনো হলো না তার। ক্রিস গ্রিভসের প্রথম বলটা ছিল লং-হপ। সাকিব তুলে মারতে গিয়েছিলেন, সীমানার ওপর ডানদিকে ছোটা ক্যালাম ম্যাকলাউডের হাতে ধরা পড়েছেন।

সাকিরেবর পর সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিক। ৩৬ বলে ৩৮ করে ফিরে গেছেন তিনিও। এদিকে, স্বপ্নের মতো দিন গেল স্কটিশ অলরাউন্ডার ক্রিস গ্রিভসের। প্রথমে ব্যাট হাতে করেছেন ২৮ বলে ৪৫ রান। এরপর বল হাতে টাইগার শিবিরের দুই প্রধান অস্ত্র সাকিব-মুশফিককে শিকারে পরিণত করেছেন। আর কি চাই!

সাকিব-মুশফিকের পর জ্বলে উঠার বার্তা দিয়ে ফিরে গেলেন আফিফও। মার্ক ওয়াটকে স্লগ করতে গিয়ে মিডউইকেটে সরাসরি ক্যাচ দিলেন তিনি, ধরা পড়লেন জশ ডেভির হাতে। ১২ বলে ১৮ করেছেন তিনি। আফিফের পর ব্যাট করতে নামা দলের শেষ ভরসা নুরুল হাসান সোহানও বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়লেন।

সোহানের পর দলীয় কাপ্তান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আউটের পর নিভু নিভু করে জ্বলা বাংলাদেশের জয়ের শেষ আশাটুকুও নিভে গেছে।

এর আগে ইনিংসের প্রথম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই সাফল্য প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তার এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন স্কটিশ ব্যাটার জর্জ মানসি। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। রিভিউও করেনি বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে আসেন মুস্তাফিজুর রহমান। এলবিডব্লুর আবেদন হয়েছিল তার বলেও, তবে তাতেও সাড়া মেলেনি।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সাফল্য এনে দিলেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই সাফল্য পান তিনি। চাপটা ছিল প্রথম ওভার থেকেই। তাসকিন-মুস্তাফিজের পর সাইফউদ্দিনের ওপর ভরসা রাখেন মাহমুদউল্লাহ। চতুর্থ বলেই সফল হলেন সাইফউদ্দিন। তার দারুণ ইয়র্কারের জবাব ছিল না কাইল কোয়েটজারের, ৭ বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরে গেছেন স্কটিশ অধিনায়ক।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বল করতে এসে বেশ খরুচে ছিলেন মুস্তাফিজ। তার করা ওভারের দ্বিতীয় বলে চার, পঞ্চম বলে ছয় হাঁকান মানসি। পাওয়ার প্লে শেষে স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেট হারিয়ে ৩৯।