যুদ্ধবিরতির পর গাজার রাস্তায় উল্লাসে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা

Posted by: | Posted on: May 21, 2021
যুদ্ধবিরতির পর গাজার রাস্তায় উল্লাসে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা

দিলরুবা আক্তার,প্রেসওয়াচ ডেস্ক ॥ রমজান মাস শেষে বিশ্বজুড়ে ঈদ উদযাপিত হলেও গত সপ্তাহে সেই উৎসব ঠিকঠাক করতে না পারা গাজার অনেক বাসিন্দাকেই দেখা গেল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাস্তায় নেমে এসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে ১১ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে আসা যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় উল্লাস প্রকাশ করতে।

পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে উত্তেজনা থেকে গত ১০ মে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আল আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযানের জেরে হামাস রকেট ছোড়া শুরু করলে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গত কয়েক দিনের সংঘাতে নারী ও শিশুসহ ২৩২ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে গাজা থেকে রকেটে ইসরায়েলের ১২ নাগরিকের নিহত হয়েছে।

শুক্রবার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এটা উন্নতির চরম সুযোগ সামনে এনেছে। এর আগে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা জানায় তারা যুদ্ধবিরতির সুপারিশ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ বলেছেন গাজায় হামলার মাধ্যমে অভূতপূর্ব সামরিক অর্জন হয়েছে।

অন্যদিকে হামাসের এক কর্মকর্তা বলেছেন ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য বিজয় এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য পরাজয়।

শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর দুইটায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি গাজার রাস্তায় নেমে আসেন। মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করা হয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বিজয় অর্জিত হয়েছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি টিকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন হামাসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলের কর্মকর্তা বাসিম নাইম। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়বিচার ছাড়া, ইসরায়েলের আগ্রাসন ছাড়া আর জেরুজালেমে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সহিংসতা বাদে এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে।’

কেবল গাজা-ই নয়, উল্লাস দেখা গেছে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা শহর রামাল্লাতেও। শুক্রবার রাতে শহরটির সড়কে নেমে আসা কয়েকশ মানুষ স্লোগানে বলেছেন, “মনেপ্রাণে আমরা তোমার সঙ্গেই আছি, গাজা।”

আতশবাজির ঝলক দেখা গেছে পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারা এলাকায়ও। এখানে বসবাসরত কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের উচ্ছেদ ঠেকাতে ইসরায়েলের আদালতে যে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলছে তা নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে রমজান মাসে জেরুজালেমজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামাস রকেট ছুড়লে বেধে যায় সংঘর্ষ; যে সংঘর্ষ থামাতে বিভিন্ন দেশের একের পর এক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হালে পানি না পেলেও শেষ পর্যন্ত মিশরের মধ্যস্থতায় আসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবুল ফাত্তাহ সিসিকে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষ মানছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য মিশরীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন যাচ্ছেন।

মিশরের পাশাপাশি কাতার এবং জাতিসংঘও দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর ভূমিকায় ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।