Main Menu

পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে ‘নবাব’ নির্মাতা

প্রথমবার শাকিব খানের কোনও ছবি সরাসরি মুক্তি পেলো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। এটা নিশ্চিত বড় খবর। খবরটা দেয়াল ভাঙারও, সিনেমা হল ও ডিসট্রিবিউশন সিস্টেমের মাধ্যমে যে দেয়াল তৈরি হয়েছে ৫০ বছর ধরে।

সেই দেয়ালের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিজয় দিবসে আই থিয়েটার অ্যাপে ‘নবাব এলএল.বি’ নামের বিশেষ ছবিটি উন্মুক্ত হয়। যা টাকার বিনিময়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা।
স্বাভাবিক নিয়মেই ছবিটিকে ঘিরে শুরু থেকে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। যার মধ্যে বড় সমালোচনা হয়েছে ছবির মূল নায়কের অদ্ভুত নীরবতা এবং দর্শকদের পক্ষ থেকে অর্ধেক ছবি দেখানোর অভিযোগ!
তবে এসব ছাপিয়ে ছবিটির নির্মাতা মুখোমুখি হলেন আরও বড় চ্যালেঞ্জের। সেটি হলো, পাইরেসি। খবর মিলেছে, আই থিয়েটারের টিকিট কেটে অসংখ্য দর্শক যেমন ছবিটি দেখেছেন তেমনি কিছু অসাধু চক্র ছবিটি পাইরেট করে ছেড়ে দিয়েছে অন্তর্জালে। যেমনটা সম্প্রতি ঘটেছে শিহাব শাহীনের তুমুল আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘আগষ্ট ১৪’-এর বেলাতেও।
জানা গেছে, ‘নবাব এলএল.বি’ মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মাথায় সেটি পাইরেসি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে অন্তর্জালে। বিপরীতে ছবির প্রযোজক-পরিচালক পড়ে বড় অংকের লোকসানের মুখে।
নির্মাতা-প্রযোজক অনন্য মামুন জানান, ১৫টির ওপরে বিভিন্ন সাইটে এই ছবি এখনও চলছে পাইরেসি হয়ে। যা তিনি একা ও তার ডিজিটাল টিম মিলেও কনট্রোল করতে পারছিলেন না গত ৪ দিন ধরে। অবশেষে বাধ্য হয়েই সাহায্য চাইলেন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কাছে।
রবিবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম ইউনিটের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার নাজমুল ইসলামের কাছে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দেন অনন্য মামুন। জানান, ‘নবাব এলএল.বি’ পাইরেসি করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ওয়েবসাইটের তথ্য।.সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নাজমুল ইসলামের (মাঝে) অফিসে অনন্য মামুন (ডানে)
মামুন বলেন, ‘ছবি হাফ নাকি ফুল, সেটা নিয়ে হাজার তর্ক ও যুক্তি দেখছি। কিন্তু ছবিটা পাইরেসি করে যে আমাদের সব সম্ভাবনা-স্বপ্ন শেষ করে দিলো, এটা নিয়ে কেউ তো কিছু বললো না। অথচ আমি যা করেছি এবং সামনে করবো- সেটা সিনেমার ভালোর জন্যই।’
মামুন আরও বলেন, ‘ছবিটির পাইরেসি রোধে আজ সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ করলাম। আমরা বিশ্বাস করি, সুদক্ষ এই টিম সাইবার পাইরেসি রোধ করে দেশীয় সংস্কৃতি সুরক্ষায় ভূমিকা পালন করবে। যেমনটা তারা আগেও করেছেন।’
১৬ ডিসেম্বর রাত ৮টায় মুক্তি পাওয়া ‘নবাব এলএল.বি’র গল্প কিংবা মান নিয়ে যতটা আলোচনা হচ্ছে, তার চেয়ে মুখর—কেন ছবিটি দেখতে বসে অর্ধেকেই ইতি টানা হলো! কেন ছবিতে নবাব আছে, এলএলবি বা আইনজীবী চরিত্রটি নেই?
এসব প্রশ্ন ওঠার কারণ, সেলিব্রেটি প্রোডাকশনের ব্যানারে আই থিয়েটার অ্যাপে মুক্তি পাওয়া এ ছবিটি কোনও ঘোষণা ছাড়াই এদিন ‘অর্ধেক’ দেখানো হয়েছে, যা অনেকে প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন।
জানা গেছে, ছবির বাকি অংশ দেখা যাবে ১ জানুয়ারি! যা একই থিয়েটারে পূর্বের টিকিটেই দেখতে পারবেন দর্শকরা। এটিকেও অনেকে দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।
আসলে বিষয়টি কী ঘটেছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সিনেমাটির পরিচালক ও আই থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্য মামুনের কাছে।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘‘প্রথমত বলতে চাই, ছবিটি শুধু ‘অর্ধেক’ বললে ভুল হবে। এটি একই গল্পের দুটি ভাগ। যেমনটি আমরা ‘বাহুবলী’ ছবিতে দেখেছিলাম। ‘বাহুবলী-১’ দেখার আগে কেউই জানতো না ছবিটির দ্বিতীয় খণ্ড আসবে। প্রথম খণ্ডে একটি গল্প দেখানো হয়। সেই গল্প ধরেই দ্বিতীয়টিতে ছবিটির এন্ডিং টানা হয়েছে। ঠিক তেমনি আমার ‘নবাব’ ছবি। এর প্রথম খণ্ডে শাকিব খান একজন ভবঘুরে ফোরটোয়েন্টি। দ্বিতীয় কিস্তিতে আসবেন আইনজীবী হিসেবে। এখন আমি আমার ব্যবসায়িক পলিসি কি আগে জানিয়ে দেবো? মোটেই নয়। আমরা একই টিকিটে ছবির সিক্যুয়েলও দেখাচ্ছি। যদি সিক্যুয়েলের জন্য আলাদা চার্জ করা হতো তাহলে সেটা প্রতারণা হতো।’’

ছবিটির আলোচিত ট্রেলার:

অনন্য মামুনের মতে, ছবিটির সমালোচনা হচ্ছে আক্ষেপ থেকে। দ্বিতীয় খণ্ড দেখার আক্ষেপ। এটাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বরং এর মাধ্যমে দর্শক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দু’পক্ষই উপকৃত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
‘আরেকটি বিষয়, ছবির দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন ঘণ্টা। দেশের ইতিহাসে এত বড় ছবি কি অনলাইনে আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে? আমার মনে হয় না। গল্প ও ছবির দৈর্ঘ্য- এ দুটো কারণে এটিকে দুই কিস্তিতে ভাগ করা হয়েছে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ছবি একটানা বসে দেখাটা দর্শকের জন্যও সহজ নয়। আর আমাদের যেহেতু গল্পের দুটি ভাগ, তাই এটি দুই কিস্তি করাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত’—যোগ করলেন নির্মাতা অনন্য।
তবে এই বিষয়ে কিংবা এই ছবিটিকে ঘিরে শাকিব খানের সাম্প্রতিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন নিজের নামে খোলা ইউটিউব চ্যানেলের প্রমোশন ও ব্র্যান্ডিং নিয়ে। অথচ পরিচালক মামুন বলছেন, ছবিটি অ্যাপে মুক্তি দেওয়া হবে- এই শর্তে ১৫ লাখ টাকা বেশি সম্মানী দেওয়া হয়েছে নায়ককে।
সিনেমাটিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি ও অর্চিতা স্পর্শিয়া। এছাড়া অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী, এল আর খান সীমান্ত, রাশেদ অপু, আনোয়ারসহ অনেকেই।






Related News