Monday, December 21st, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: December 21, 2020

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ হতে যাচ্ছে আরও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক যুদ্ধবিমান : প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি প্রেসওয়াচ রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে আরও আধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়টি সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিমান বাহিনীকে উন্নত ও আধুনিকায়নে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধ বিমান ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি, যশোরে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ – ২০২০ (শীতকালীন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাহিনীতে শিগগিরই যুক্ত হবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেল সিস্টেম, মোবাইল গ্যাপ ফিলার রাডার এবং সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স রাডার।’
‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান জানান, বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তাঁর সরকার বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় আধুনিক উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিমান, হেলিকপ্টার, র‌্যাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং মুখ্য যন্ত্রপাতি সংযোজন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যাধুনিক পাঁচটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে, যার তিনটি বিমান ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। বৈমানিকদের উন্নততর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে আরও ৭টি অত্যাধুনিক কে-৮ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান সংযোজন করা হয়েছে এবং অচিরেই যুক্ত হতে যাচ্ছে পিটি-৬ সিমুলেটর।
তিনি বলেন, ‘এখন হয়তো কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছিনা। তবে, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে বিমান বাহিনীকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের উদ্যোগে লালমনিরহাটে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এ বিশ^বিদ্যালয়ে বিমান চলাচল, বিমান নির্মাণ, গবেষণা, মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এর মাধ্যমে একদিন হয়তো বাংলাদেশে যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান এবং হেলিকপ্টারও তৈরি করতে সক্ষম হবে, ইনশাল্লাহ।’
তাছাড়া মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে একদিন মহাকাশে যাওয়াও সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট উপভোগ করেন। এসময় তাঁকে মনোজ্ঞ কুচকওয়াজের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়।
এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭৭ তম বাফা কোর্স এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২০ কোর্স সম্পন্নকারীদের মাঝে ফ্লাইং ব্যাজ, ট্রফি এবং অন্যান্য পুরস্কার বিতরণ করেন।
স্কোয়াড্রন জুনিয়র অফিসার শাকিল আহমেদ শ্রেষ্ঠ চৌকষ ক্যাডেট হিসেবে অনুষ্ঠানে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন।
‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন,’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, দেশের মানুষের কল্যাণ করা এবং সার্বিক উন্নতি করাটাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কাজেই আমাদের বিমান বাহিনীর প্রতিটি সদস্য এবং বিশেষ করে নবীন ক্যাডেট যারা, তাদের সবাইকে আমি বলবো- আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ ও জাতি। সে কথা মনে রেখেই বুকে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশে^র দরবারে চলতে হবে। আর নিজেদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি এ সময় বিশ^ শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যজনক অংশগ্রহণের প্রসঙ্গের উল্লেখ করে বলেন, ‘সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কোন কিছুতেই বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই যে ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দরকার আমরা তা করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাডেটদের বলবো বিমান বাহিনীর অনন্য প্রশিক্ষণের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তোমরা নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে আমাদের এই বাংলাদেশ তোমাদের মত তরুণদের কাছে যেটা প্রত্যাশা করে সেটা তোমরা পূরণে সক্ষম হও।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা হেলিকপ্টার সিমুলেটর ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং এয়ারম্যান ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন করেছি।’
তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু শিক্ষা নয়, শিক্ষার সাথে প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের সংমিশ্রণে শিল্প নির্ভর জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশে বিমান বাহিনীর ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।
‘এর মাধ্যমে রূপকল্প ২০৪১ এর জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিমান বাহিনী আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এবং এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে সরকার সব সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাশে থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে একটি বিধ্বস্থ অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে সে সময়েই জাতির পিতা তাঁর দূরদর্শী চিন্তাশক্তির আলোকে আধুনিক বিমান বাহিনী গড়ে তোলার যে প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন, তাঁর দৃষ্টান্তও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জাতির পিতা সে লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি। ১৯৭৩ সালে সে সময়ের অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান এবং এয়ার ডিফেন্স রাডারসহ নতুন নতুন সরঞ্জামাদি বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেন।
এর মাধ্যমে এদেশে একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর যাত্রা শুরু হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, একুশ বছর পর ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এসেই তৎকালীন সবচেয়ে আধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয় করে।
করোনা মহামারিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন দুর্যোগে বিমান বাহিনীর সদস্যদের কার্যকর ভূমিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ ও জাতির প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবেলায় আপনাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাসমূহ অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের গ-ি পেরিয়ে আপনারা চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিয়ে এসেছেন বিপুল পরিমাণে চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম।’
শুধু তাই নয়, মানবিক সাহায্যসহ বিমান বাহিনী বাংলাদেশ সরকারের বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে মালদ্বীপ, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে। করোনাকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের পরম মমতায় দেশের মাটিতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে বলে উলেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য আমি এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানাই। তাছাড়া করোনা রোগীদেও দ্রুত ঢাকায় নিয়ে এসে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা-সেটাও বিমান বাহিনী করেছে।’
তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর মাধ্যমে বন বিভাগের সহায়তায় নিঝুম দ্বীপ ও ডোমার চরে ও ভবিষ্যতে দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় উন্নতমানের গাছের বীজ বপনের মাধ্যমে যে সবুজ বিপ্লব সূচিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে।

’৯৬ সালে সরকারে আসার পরই বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে পাহাড়ি এলাকায় বীজ ছাড়ানোর যে কাজ আওয়ামী লীগ সরকার শুরু করে গিয়েছিল তা অব্যাহত রাখায় তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি এ সময় হিমছড়িতে আটকে পড়া চার শিক্ষার্থীকে সফলভাবে উদ্ধার করায় বিমান বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দুর্গম সেই এলাকায় হেলকপ্টার নামানো সম্ভব না হলেও খুব দক্ষতার সঙ্গে বিমান বাহিনী সেই ছাত্রদের উদ্ধার করে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
আইএসপিআর সূত্র জানায়, শনিবার হিমছড়ির দরিয়ানগর পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেললে চার শিক্ষার্থী ’৯৯৯ (ন্যাশনাল ইমাজেন্সী সার্ভিস) কল করেন। পরে বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে একটি এডব্লিউ-১৩৯ হেলিকপ্টারের সাহায্যে ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ অপরারেশন’ চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ এবং ফ্লাইপাষ্টের জন্য তিনি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কুচকাওয়াজে নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজে মহিলা ক্যাডেটদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। কিছুদিন আগেই মহিলা বিমান সেনাদের প্রথম দলটি তাদের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ নারীর অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।’
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ যে সকল প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ সফলভাবে সম্পন্ন হল, তাদের সকলকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘মানসম্মত ও কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে তোমাদের যে কর্মময় জীবন আজ শুরু হলো তোমরা তাতে সফল হও- আমি এই কামনা করি।’
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শে উজ্জ্বীবিত হয়ে তোমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মাতৃভূমি রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’সুত্র-বাসস।

Posted by: | Posted on: December 21, 2020

নির্বাচন কমিশন নিয়ে ৪২ জনের বিবৃতির খসড়া বিএনপি’র তৈরি : তথ্যমন্ত্রী

ডেইলি প্রেসওয়াচ রিপোর্ট: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে ৪২ জনের বিবৃতির খসড়া বিএনপি’র তৈরি।
মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রগতিশীল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-প্রগতিশীল ন্যাপ (ভাসানী) আয়োজিত মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে একথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে আওয়ামী মুসলিম লীগের (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মওলানা ভাসানী কখনো ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন নাই, আজীবন দেশ ও মানুষের সেবায় রাজনীতির মহান ব্রত পালন করেছেন।’
মন্ত্রী এসময় বলেন, ‘শনিবার দেখলাম যে দেশের ৪২জন বিশিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে একটা বিবৃতি দিয়েছেন।এই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সবাইর প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারা সবাই বিএনপি ঘরানার হিসেবে পরিচিত। তাদের কেউ কেউ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদেও আছেন এবং তারা প্রতিনিয়ত নানাভাবে সরকারের বিরুদ্ধে বলে আসছেন। ব্যতিক্রমটা হচ্ছে গতকাল ৪২ জন একসাথে হয়েছেন। অবশ্য বিবৃতিটা বিএনপি অফিস থেকে ড্রাফট করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তারা বিএনপিরই প্রতিধ্বনি করেছেন।’
নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই সেটি নিয়ে আলোচনা হতেই পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু যে ভাষায় তারা বিবৃতি দিয়েছেন এবং মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে নেবার চেষ্টা চালিয়েছেন, সেটি বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিদীপ্ত মনে হয়নি বরং বিএনপির ড্রাফট করা বিবৃতিই দিয়েছেন তারা।’ আজকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা একটি বহুমাত্রিক সমাজে বসবাস করি, এখানে বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে, কিন্তু বিতর্ক-সমালোচনা এমন হওয়া উচিত যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেন ড. হাছান। তিনি বলেন, “অবশ্যই দায়িত্বে থাকলে সমালোচনা হবে। সরকার যেহেতু দায়িত্বে, সেখানে সরকারের সমালোচনা হতেই পারে, হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু যেভাবে অন্ধের মতো সমালোচনা বিএনপি করছে, সেটা যদি বেশি বেশি শিক্ষিত মানুষগুলোও করেন, তাহলে মানুষ মনে করতে পারে এই শিক্ষিত মানুষগুলো হঠাৎ অশিক্ষিতের মতো কথা কেন বলছেন! সেই প্রশ্ন মানুষের মনে থেকে যায়।”
বিএনপি’র শনিবারের সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরোটা শুনলাম এবং এপ্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবসহ বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো যে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে নিজের ঘরটা একটু সামলান। যারা নিজের নেতাদের সম্মান করতে পারেনা, নিজের ঘরটাই সামলাতে পারেনা, তারা দেশ সামলাবে কিভাবে!’
প্রগতিশীল ন্যাপ (ভাসানী)’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক পরশ ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ সরওয়ার হোসাইন বক্তব্য রাখেন। শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে প্রগতিশীল ন্যাপ (ভাসানী) এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী কিসমত, মোহাম্মদ বাবুল আহম্মেদ, মনিরুল হাসান মনির, মোসুমী রহমান মিনু, সাইফুল ইসলাম লিটন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ বক্তব্য দেন।সুত্র-বাসস।

Posted by: | Posted on: December 21, 2020

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের সাথে গোপনসখ্যতা রাখায় বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে : ওবায়দুল কাদের

ডেইলি প্রেসওয়াচ রিপোর্ট: মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের সাথে গোপনসখ্যতা রাখায় বিএনপি ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের সাথে গোপন সখ্যতা রাখায় বিএনপি ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’
ওবায়দুল কাদের আজ রোববার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধাকে সত্য বলার অপরাধে শোকজ করা দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আপাদমস্তক অগণতান্ত্রিক। যাদের দলের অভ্যন্তরে গনতন্ত্রের চর্চা নেই তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে পারবে বলে জনগণ বিশ্বাস করে না। নেতিবাচক রাজনীতির কারনে বিএনপি এখন জনবিচ্ছিন্ন এবং তাদের নেতৃত্ব বহুধাবিভক্ত।
মেজর হাফিজকে ঈঙ্গিত করা দলের ভেতরের মহলটি বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকারীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়েছে, দলীয়ভাবে তারা ভাস্কর্যের অবমাননাসহ দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে এবং অপকর্মের ইন্ধন জোগাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান যখন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি – বাণিজ্য এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ আনে তখন সে দলের কর্মি ও জনগণের কাছে দলীয় নেতৃত্বের কোন গ্রহনযোগ্যতা থাকেনা।
সুযোগ পেলেই বিএনপি তাদের যে কোন নেতাকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলতে পারে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনঠাসা করে রাখার জন্য একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় রয়েছে। শাক দিয়ে যেমনি মাছ ঢাকা যায় না, তেমনি বিএনপিও তাদের অপরাজনীতি এখন আর ঢেকে রাখতে পারছে না।

SHARE

Facebook
Twitter

Posted by: | Posted on: December 21, 2020

কিশোরগঞ্জে আ.লীগে ২ বিদ্রোহী প্রার্থী, বিএনপিতে একজন

ডেইলি প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ

আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভায় মোট ৯ জন প্রার্থী মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় সাতজন ও কুলিয়ারচরে দুজন প্রার্থী রয়েছেন।

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বিকেল পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদেও প্রার্থীরা সমর্থকদের নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. পারভেজ মিয়া, স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল গনি ঢালী, স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর একেএম নজরুল ইসলাম ভূঞা জুয়েল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেষের দুজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসরাইল মিয়া ও দলীয় বিদ্রোহী হয়ে সাবেক মেয়র আলহাজ মো. আবু তাহের মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নজরুল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. স্বপন মিয়া।

এদিকে কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত নুরুল মিল্লাত ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ হাসান সারওয়ার মহসিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ২২জন ও কাউন্সিলর পদে ৬১জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর কুলিয়ারচর পৌরসভায় সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২জন, কাউন্সিলর পদে ৪২জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল আলম জানান, ২২ ডিসেম্বর প্রার্থিতা যাচাইবাছাই, ৩০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ ও ১৬ জানুয়ারি এ দু পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Posted by: | Posted on: December 21, 2020

গুজব ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা সফল হবে না: আইএসপিআর

ডেইলি প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র বাহিনীর শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। রবিবার (২০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে বাহিনীর শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করছে একটি চক্র। তবে সেনাবাহিনী আগের চেয়ে এখন আরও বেশি শৃঙ্খল ও দক্ষ। তাই শৃঙ্খলা নষ্টের কোনও চেষ্টা সম্ভব হবে না। তারপরও বাহিনীর সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।