Main Menu

ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলা ডিবিতে

আদালতে ইরফান সেলিম

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের বিষয়টি  নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি মডেল থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া।

তিনি জানান, ‘মামলাটির তদন্তভার ডিবির তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করার আদেশ হয়েছে। মামলার নথিপত্র যা আমাদের কাছে আছে, তা এখনও হস্তান্তর করিনি। সেটা নিয়েই কাজ করছি।’

এদিকে সরকারি ওই কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির মামলায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইরফান সেলিম ও জাহিদুলকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পুলিশ জানায়, ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লা ও প্রটোকল কর্মকর্তা এবি সিদ্দিক দিপু এখনও ধানমন্ডি থানা হেফাজতে রয়েছেন।

অন্যদিকে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায়ও ইরফান ও জাহিদুলকে সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হাজি সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান। মামলার আসামিরা হলেন, এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজি সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

ওয়াসিফ আহমেদ এজাহারে অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে  মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে চলে আসে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো। এই বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।’

সোমবার করা মামলায় ওইদিন দুপুরে র‌্যাব পুরান ঢাকার চকবাজারে হাজি সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ইরফান সেলিম ও জাহিদকে র‌্যাব তাদের হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুই জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন।






Related News