Tuesday, October 27th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: October 27, 2020

‘আলোর মুখ না দেখা’ ও মুক্তির অপেক্ষায় থাকা অনুদানের চলচ্চিত্র

 

ঢাকা: চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান নিয়ে সময়মতো কাজ শেষ না করায় ‘সরকারি সম্পত্তি তছরুপ (নষ্ট)’ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় কবি ও নির্মাতা টোকন ঠাকুরকে। পরে ২ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন আদালত। বাংলাদেশে সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রে এই ঘটনা প্রথম নয়, এর আগেও এরকম ঘটনার বহু নজির রয়েছে। যারা টোকন ঠাকুরেরও আগে থেকে সরকারি অনুদান নিয়ে কাজ শেষ করতে পারেননি। বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখেছেন নির্মাণ কাজ। দুই দশক পর জমা দিয়েছেন এমন রেকর্ডও আছে। আবার অনেকেই অনুদানের অর্থ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয় বলে ফেরতও দিয়েছেন।

সৃজনশীল নির্মাতা ও প্রযোজকদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছর থেকে চলচ্চিত্রে অনুদান দেওয়া শুরু করে সরকার। অনুদানের সে অর্থ আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে বর্তমানে ৭০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী অনুদানের প্রথম অর্থ প্রাপ্তির ৯ মাসের মধ্যে ছবি নির্মাণ করতে হবে। কোনো কারণে নির্মাণে দেরি হলে প্রযোজক লিখিত আবেদন করে সময় বাড়াতে পারবেন।

তবে অনেকেই এই সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র জমা না দেওয়ায় কঠোর হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সাল থেকে অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে। কাউকে মৌখিকভাবে, কাউকে লিখিতভাবে বারবার নোটিশ করেছে। তবুও সন্ধান মেলেনি বেশ কিছু অনুদানের চলচ্চিত্রের।

দীর্ঘ সময় পর মুক্তি পাওয়া অনুদানের চলচ্চিত্র: 

১৯৭৬-৭৭ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানে নির্মিত কবির আনোয়ারের ‘তোলপাড়’ চলচ্চিত্র মুক্তি নেওয়া হয় ১০ বছর পর।

পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির ‘পদ্মা আমার জীবন’ ছবির জন্য ১১ লাখ টাকা অনুদান পান ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরে। তিনি ছবিটি মুক্তি দেন ১৩ বছর পর, ২০০৮ সালে। এছাড়া শাহজাহান চৌধুরীর ‘উত্তরের খেপ’ মুক্তি পায় পাঁচ বছর পর, ২০০০ সালে।

মাসুম আজিজ ‘সনাতন গল্প’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম কিস্তিতে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পান ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে। দীর্ঘদিন তিনি ছবিটি নির্মাণ না করায় তথ্য মন্ত্রণালয় তাকে অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তিনি তখন অনুরোধ করে দ্বিতীয় কিস্তিতে সাড়ে ৪ লাখ পান। তখন মন্ত্রণালয় তাকে ২০১৫ সালের ২২ জুনের মধ্যে ছবি শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের অক্টোবরে ২২ বছর পর ছবিটি মুক্তি দেন।

এখনো মুক্তি না পাওয়া অনুদানের চলচ্চিত্র:

সারাবাংলা প্রতিবেদকের হাতে আসা তথ্য মন্ত্রণালয়ের নথি থেকে জানা গেছে, সরকারি অনুদান নিয়ে নির্মিত অনেক চলচ্চিত্রই নির্দিষ্ট সময় মুক্তি পায়নি। অনেকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় সময় বাড়িয়ে নিয়েছে, অনেকে কাজই শেষ করেননি। যেমন-১৯৭৬-৭৭ অর্থ বছরে প্রখ্যাত নির্মাতা বেবি ইসলাম ‘মেহের জান’ ছবির জন্য আড়াই লাখ টাকা অনুদান পান। তবে তার নির্মিত ছবিটি সেন্সরে জমা দেওয়া হয়নি এবং কোথাও মুক্তি পায়নি।

১৯৮২-৮৩ অর্থ বছরে ‘ডাক দিয়ে যাই’, ‘ফুলমতি’, ‘পেনশন’ ও ‘উদয় তারা’ ১ লাখ টাকা করে অনুদান পায়। পরিচালক ইসমাইল মোহাম্মদের মৃত্যুর পর ‘ডাক দিয়ে যাই’ ও মাসুদ করিমের মৃত্যুর পর ‘ফুলমতি’ চলচ্চিত্র নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়।

নায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল ‘উদয় তারা’র জন্য ১ লাখ টাকা অনুদান পেলেও ছবি জমা দেননি, টাকাও ফেরত দেননি। এছাড়া রফিকুল বারী চৌধুরীর ‘পেনশন’ মুক্তির পর ১৯৮৪ সালে ছবিটিকে নিষিদ্ধ করে সরকার।

এনামুল করিম নির্ঝর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ১৬ লাখ টাকা অনুদান পান ‘নমুনা’র জন্য। যথাসময়ে নির্মাণ করে ছবি জমা দিলেও সেন্সর বোর্ড ছবিটি আটকে দেয়।

২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে জুনায়েদ আহমেদ হালিম ১৬ লাখ টাকা অনুদান পান ‘স্বপ্ন দুঃস্বপ্নের কাল’ ছবির জন্য। কিন্তু তিনি নির্মাণ শেষ করতে না পারায় তথ্য মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

২০০৯-১০ অর্থ বছরে ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান পান পরিচালক আখতারুজ্জামান ‘সূচনারেখার দিকে’ ছবির জন্য। তবে তিনি ২০১১ সালের আগস্টে মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সালে ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পেলেও এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি চলচ্চিত্রটি।

২০১০-১১ অর্থবছরে ২৪ লাখ টাকা করে অনুদান পাওয়া ফারুক হোসেনের ‘কাকতাড়ুয়া’ এখনো মুক্তি পায়নি। পরিচালকের দাবি ছবির কাজ শেষ, খুব শিগগিরই এটি মুক্তি পাবে।

মারুফ হাসান আরমান ‘নেকড়ে অরণ্য’ জন্য ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৩৫ লাখ টাকা পান। কিন্তু ছবি নির্মাণ না করায় তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় মামলা করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথম কিস্তির টাকা গ্রহণ করেছেন এবং সে টাকায় জমি কিনেছেন।

অন্যদিকে শিশুতোষ ছবি ‘একা একা’ ছবির জন্য ৩৫ লাখ টাকা পেলেও শারীরিক সমস্যার কারণে নির্মাণে অপারগতা জানান সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি। পরে মন্ত্রণালয় তাকে স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মাণের পরামর্শ দেন।

২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩৫ লাখ টাকা অনুদান পান নার্গিস আকতার। তার বিরুদ্ধেও মামলা করেছে মন্ত্রণালয়। তবে তিনি জানিয়েছেন, ‘যৈবতি কন্যার মন’ ছবির কাজ মোটামুটি শেষ করে এনেছেন। মন্ত্রণালয়কে তিনি তা জানিয়েছেনও। খুব শিগগিরই ছবিটি মুক্তি দেবেন।

২০১২-১৩ অর্থবছরে ‘কাগজের ফুল’ ছবির জন্য ৩৫ লাখ টাকা অনুদান পান তারেক মাসুদ। কিন্তু ২০১৩ সালের ২২ মে প্রথম কিস্তির পান।পরবর্তীতে তার সহধর্মিনী ক্যাথরিন মাসুদ অর্থ ফেরত দিতে চাইলে ছবিটি শেষ করার অনুরোধ করে মন্ত্রণালয়। এখনো ছবিটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

অন্যদিকে একই বছর ‘কাঁটা’র জন্য অনুদান পান টোকন ঠাকুর। সময়মত ছবি নির্মাণ করতে না পারায় মন্ত্রণালয়ের মামলায় ২৫ অক্টোবর গ্রেফতার হন তিনি। যদিও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার দাবি তিনি মাত্র ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। কিন্তু ছবি নির্মাণে ইতোমধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অল্প কিছু টাকা পেলে তিনি পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ করতে পারবেন।

‘আলোর মুখ না দেখা’ ও মুক্তির অপেক্ষায় থাকা অনুদানের চলচ্চিত্র

২০১৩-১৪ অর্থবছর ৩৫ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া ড্যানি সিডাক পরিচালিত ‘কাসার থালায় রূপালি চাঁদ’ এখনো মুক্তি পায়নি।

এন রাশেদ চৌধুরী ২০১৪-১৫ সালে ‘চন্দ্রাবতী কথা’ ছবির জন্য অনুদান পেয়েছেন। ছবি শেষ হলেও মুক্তি দিতে পারেননি। অন্যদিকে একই বছর অনুদান পাওয়া ‘বিউটি সার্কাস’-এর শুটিং শেষ করতে পারেননি । একই বছরের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছবির বর্তমানে শুটিং চলছে। নরুল আলম আতিকের পরিচালনায় ছবিটির প্রযোজক মতিয়া বানু শুকু।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা করে অনুদান পাওয়া কামার আহমেদ সাইমনের ‘শিকলবাহা (প্রথমে নাম ছিল ‘শঙ্খধ্বনি’)’ এখন শুটিং শেষ হয়ে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। একই বছরে পান্থ প্রসাদ পরিচালিত ‘সাবিত্রী’ ও স্বপন চৌধুরী পরিচালিত ‘বৃদ্ধাশ্রম’ ছবি দুটি শেষ হলেও মুক্তি পায়নি।

এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনুদান পাওয়া অধিকাংশ ছবিই এখনো পর্যন্ত মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

পর্যাপ্ত না হওয়ায় অনুদানের টাকা ফেরত:

১৯৮৪-৮৫ অর্থ বছরে ‘অচেনা বন্দর’ চলচ্চিত্রকে অনুদান দেওয়া হয়। অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ টাকা। এই টাকা ছবি নির্মাণের জন্য অপ্রতুল জানিয়ে অর্থ ফেরত দেন পরিচালক শমশের আহমেদ।

এরপর ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে ‘পথ বেঁধে দিল’ ছবির জন্য মোস্তাফিজুর রহমান সাড়ে ১১ লাখ টাকা অনুদান পান। কিন্তু তিনি ছবি না বানিয়ে টাকা ফেরত দেন।

লেখক-জাঁ-নেসার ওসমান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সমাজচিন্তাবিদ ।

১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে ইসমাইল হোসেন ‘চোখের মনি’ ছবির জন্য পাওয়া অর্থও পর্যাপ্ত না হওয়ায় গ্রহণই করেননি।

১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে ১৫ লাখ টাকা করে অনুদান পাওয়া তিনটি ছবির মধ্যে জাঁ নেসার ওসমান ‘জননী’ এবং নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ‘নিষিদ্ধ লোবান’ ছবির জন্য পাওয়া অর্থ গ্রহণ করেননি। পরে অবশ্য ‘গেরিলা’ নামে একই কাহিনিতে বাচ্চু ছবি বানান। যেটি ২০০৯-১০ অর্থবছরে অনুদান পায়।

২০০০-০১ অর্থবছরে ‘তাহাদের কথা’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য রেজানুর রহমান সাড়ে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পান। তিনি প্রথম কিস্তির ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার চেকও পান।  কিন্তু ১৪ বছরেও ছবি নির্মাণ করতে না পারায় ২০১৫ সালের নভেম্বরে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দেন।

Posted by: | Posted on: October 27, 2020

নুর-রাশেদদের গণচাঁদার হিসাব প্রকাশ

গণমানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলে নতুন রাজনৈতিক দলের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে গণচাঁদা চেয়েছিলেন নুর-রাশেদরা।

গত ১৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতা রাশেদ খান ও ফারুক হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গণচাঁদা চেয়ে একটি স্ট্যাটাস ও লিফলেট প্রকাশ করেছিলেন।

সে সূত্র ধরেই এবার কত টাকা গণচাঁদা উঠেছে সে হিসাব প্রকাশ করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান।

মাত্র নয় দিনে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪০ টাকা সাহায্য পেয়েছে তারা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে হিসাব প্রকাশ করেন রাশেদ খান।

এসময় ফেসবুক লাইভে মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করে নতুন করে আবারও গণ অনুদান প্রদানের আহ্বান জানান ছাত্র অধিকার পরিষদের এই নেতা।

হিসাব প্রকাশকালে রাশেদ জানান, ৮টি মোবাইল ব্যাংকিং নাম্বার ও ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪০ টাকা অনুদান এসেছে।

এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪০ টাকা। ব্যালেন্স হিসাবে অবশিষ্ট রয়েছে ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

রাশেদ বলেন, আমরা গণ মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করছি। এজন্য অতীতেও আমাদের সাহায্য প্রয়োজন ছিল এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হবে।

Posted by: | Posted on: October 27, 2020

অনুমোদনের অপেক্ষায় যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বাদ পড়েছেন বিতর্কিতরা

অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও যুবলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পেলে যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। দীর্ঘ সময় পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি চূড়ান্ত করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি পেশাজীবীদের স্থান দেয়া হয়েছে। যারা প্রত্যেকে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ছিলেন। কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বিগত কমিটির অর্ধশতাধিকেরও বেশি নেতা। যাদের মধ্যে নানা কারণে বিতর্কিত রয়েছেন অনেকেই। বেশ কয়েকজন ইচ্ছাপোষণ না করায় কমিটিতে রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫১ থেকে বাড়িয়ে ১৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি জমা দেয়া হয়েছে। প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ বাড়ানো হয়েছে।

বেশ কয়েকটি সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয় পদ বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটি সম্পর্কে ইতোমধ্যে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা অবগত আছেন এবং তিনি সিগন্যাল দিলেই দপ্তর থেকে অনুমোদন করা হবে।

শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর গত বছরের ৬, ৯, ১৬ , ২৩ ও ২৯ নভেম্বর যথাক্রমে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের মধ্যদিয়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ও বিতর্কিতমুক্ত সংগঠন গঠনের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত সপ্তাহে কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। যুবলীগ ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ চেয়ারম্যান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর বিতর্কমুক্ত যুবলীগ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এ শীর্ষ দুই নেতা। যুবলীগকে মানুষের কল্যাণে মানবিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছেন তারা।

সূত্র মতে, কমিটি গঠনে দীর্ঘ সময় নেয়ার কারণ হিসেবে কংগ্রেসের পর সিটি নির্বাচন, বেশ কয়েকটি উপনির্বাচন, সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতির কথা বলা হলেও এমনটা নয়। পদপ্রত্যাশীদের অধিকতর যাচাই-বাছাই করতে সময় নিয়েছেন দুই শীর্ষ নেতা।

এবার কমিটিতে আসতে প্রায় ১৬ শতাধিক পদপ্রত্যাশীর আবেদন জমা পড়ে। কয়েকটি ধাপে জীবনবৃক্তান্ত যাচাই-বাছাই করা হয়। সর্বশেষ প্রায় তিন শতাধিক পদপ্রত্যাশীর তথ্য সংগ্রহ করা হয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে।

পদপ্রত্যাশী এবং পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় খতিয়ে দেখা হয়, বিশেষ করে দলের দুঃসময়ের ভূমিকা। পরিবারের সকল সদস্যের আয়ের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। এরপর কয়েক দফা হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, এবারের যুবলীগের কমিটিতে থাকছে ভিন্নতা বা চমক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ বিভিন্ন পেশাজীবীদের (আইনজীবী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী) ঠাঁই দেয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের শীর্ষপদে ছিলেন এমন বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে। বিগত কমিটিতে পদবঞ্চিত হয়েছেন এমন বেশ কয়েকজন পরিচিত যুব নেতাকে স্থান দেয়া হয়েছে।

জেলাপর্যায়ের কয়েকজনকে আনা হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে। এবার সিসি (সেন্ট্রাল কমিটি) কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। সেখানেও সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, বিতর্কমুক্ত রাখতে কমিটি গঠনে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত। নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদন দেয়া হবে।

Posted by: | Posted on: October 27, 2020

মধ্য আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের একটি বিশেষায়িত দল। এতে এক সেনা সদস্য নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেশটির কাগা বন্দর থেকে রাজধানী বাঙ্গুই যাওয়ার পথে ডেলে নামক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক পিচ্ছিল এবং কর্দমাক্ত থাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে পড়ে যায়। পার্শ্ববর্তী ২০-২৫ ফুট গভীর খাদে পতিত হয় এটি।

দুর্ঘটনায় ল্যান্স করপোরাল (ড্রাইভার) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন সার্জেন্ট মো. আব্দুস সামাদ (৩৫) এবং সৈনিক মোকলেছুর রহমান (৩১) নামে দুজন।

আহতরা বাঙ্গুইতে অবস্থিত জাতিসংঘের লেভেল-২ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। দ্রুত তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উগান্ডায় পাঠানো হবে।

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে নিয়োজিত অন্যান্য বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন বলে জানায় আইএসপিআর।

Posted by: | Posted on: October 27, 2020

ধ্বংসের ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উঠে এসেছে বাংলাদেশ: মার্ক টালির রায়

রঞ্জন বসু, দিল্লি

বাংলাদেশের মাথাপিছু বা পার ক্যাপিটা জিডিপি অচিরেই ভারতের ফিগারকে টপকে যাবে, আইএমএফ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে’ এই পূর্বাভাস করার পর তা নিয়ে ভারতে বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না।

খানিকটা পরোক্ষভাবে এবার এই বিতর্কে ঢুকে পড়লেন কিংবদন্তি ভাষ্যকার ও বিবিসির সাবেক সাংবাদিক মার্ক টালি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যার আত্মীয়তা নিবিড়। হাজারো প্রতিকূলতা সামলে বিগত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটাকে ‘ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির উঠে দাঁড়ানো’র সঙ্গে তুলনা টেনে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।

দিল্লির প্রথম সারির দৈনিক ‘দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে’ গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখে তার এই মতামত জানান স্যার মার্ক। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে অর্থনীতির ধারা কোথায় আর কীভাবে ভিন্ন খাতে বইছে, সেখানে তার নিজস্ব ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

বিবিসির হয়ে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ কভার করার সুবাদে মার্ক টালি বাংলাদেশের ঘরে ঘরে একটি সুপরিচিত নাম।

তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একাত্তরে যেভাবে সেখানে গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল, অর্ধশতাব্দী পর সেই ভস্ম থেকে থেকে উঠে দাঁড়ানো কম কথা নয়।’ যুদ্ধ কভার করতে গিয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে তিনি নিজের চোখে দেখেছিলেন সেই ধ্বংসলীলার ছবি, আর সেখান থেকে আজ বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো তাকে তাই আরও বেশি মুগ্ধ করে।

স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। তারপর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, সেনা কর্মকর্তারা জড়িয়ে পড়েন ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে। সেই পর্বেই তদানীন্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তুলনা করেছিলেন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র সঙ্গে।

সেই প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেই মার্ক টালি লিখেছেন, ‘‘তার পরেও কিন্তু গত ২০ বছর ধরে বাংলাদেশে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে নিয়মিত হারে এবং বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানই ‘বাংলাদেশ মডেল’কে উন্নয়নের একটি প্রতিষ্ঠিত ধারা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন।’’

বাংলাদেশ যে তার আজকের জায়গায় এসে পৌঁছেছে, এর পেছনে প্রধানত দুটো ফ্যাক্টর কাজ করেছে বলে মার্ক টালির অভিমত। আর এই দুটো জায়গাতেই তারা ভারতের চেয়ে ভিন্ন পথে হেঁটেছে।

প্রথমত, দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ একটা সময় কার্যত বাধ্য হয়েছে দাতা দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ মেনে নিতে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদিও একটা তীব্র সমাজতান্ত্রিক ধারা ছিল এবং বেসরকারিকরণকে ‘জনবিরোধী’ বলে ভাবা হতো— তারপরেও রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে সে দেশের সব সরকারই আন্তর্জাতিক দাতাদের উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়েছে। অথচ প্রতিবেশী ভারতে কিন্তু বেসরকারিকরণ নিয়ে সব সময়ই একটা দ্বিধা কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি-রয়টার্সদ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের উন্নয়নে এনজিও বা বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সব সময়ই একটা বড় ভূমিকা পালনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে,  যেটা ভারতে কখনোই হয়নি। যেমন, দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ‘বাংলাদেশের ব্র্যাক এখন বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিও। তাদের কর্মসূচি বাংলাদেশকে চরম দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে সাহায্য করেছে এবং বিশ্বের অন্তত ৪৫টি দেশের এনজিওগুলো এখন ব্র্যাকের সেই পথ অনুসরণ করছে।’

মার্ক টালি আরও লিখেছেন, ‘‘এই অর্থনৈতিক উন্নয়নই কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেই রাজনৈতিক পুঁজিটা দিয়েছে, যার জোরে তিনি ‘ভারতের কাছে দেশটা বেচে দেওয়া হচ্ছে’ এই সমালোচনা অগ্রাহ্য করতে পেরেছেন এবং পেরেছেন মনমোহন সিং ও নরেন্দ্র মোদি, পরপর ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে। এই সুসম্পর্কের সুবাদেই স্থল সীমান্ত চুক্তির মতো বহু বছরের অমীমাংসিত ইস্যুও নিষ্পত্তি হতে পেরেছে।’’

মার্ক টালির মায়ের জন্মস্থান ছিল আখাউড়ায়। সেই আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের কাজ চলছে জোর কদমে। তা সম্পূর্ণ হলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের বাণিজ্য ও সংযোগ আলাদা মাত্রা পাবে বলেও তিনি ওই নিবন্ধে মন্তব্য করেছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারণা এবং ‘বাংলাদেশের জন্য অমর্যাদাসূচক’ নাগরিকত্ব আইনের বাস্তবায়ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।

বাংলাদেশের জিডিপি বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্যিই ভারতকে টপকে যাচ্ছে কিনা, তা নিয়ে এ দেশে বিতর্ক চলছে গত বেশ কিছু দিন ধরেই। নামি ভারতীয় অর্থনীতিবিদরা অনেকেই মন্তব্য করেছেন, আইএমএফ যে মাপকাঠিতে এই পূর্বাভাস করেছে সেটা ঠিক নয়। বরং অন্য উপযুক্ত মাপকাঠিতে ভারতই নাকি অনেক এগিয়ে আছে!

প্রবীণ বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার মার্ক টালি কিন্তু পরিষ্কার ভাষায় তার মত জানিয়ে দিয়েছেন–‘বাংলাদেশ যেভাবে ধ্বংসের ছাই থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে, পারলে ভারতের সেটা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।’