Tuesday, September 15th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: September 15, 2020

‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ দেশের চিকিৎসা খাতে নতুন অধ্যায় : সেতুমন্ত্রী

ঢাকা, ১৫ সেপ্টম্বর, ২০২০ (বাসস) : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন অধ্যায়।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপটি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন অধ্যায়। অ্যাপটির মাধ্যমে রোগীরা চিকিৎসকদের সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’
ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে এ সব কথা বলেন। সংসদ ভবন এলাকার তার সরকারি বাসভবন থেকে তিনি এই আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা’ টেলিমেডিসিন অ্যাপ বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন অধ্যায়। ‘জয় বাংলা’ টেলিমেডিসিন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রোগীরা ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করবে। এই অ্যাপে রোগীদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে এই তথ্য পরবর্তীতে রোগ নিয়ন্ত্রনে গবেষণার কাজে ব্যাবহার করা যাবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ঘোষনা করে, ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী, রাপান্তরিত উৎপাদনব্যবস্থা, নতুন অর্থনীতি সব মিলিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নই দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্ন ২০২১ সালের আগেই বাস্তবে রুপান্তরিত হয়েছে।
‘দেশে দু’ধরনের রাজনীতি চলছে’। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি (ফখরুল ইসলাম) ঠিকই বলেছেন, চলমান রাজনীতির দ’ুটি ধারা একটি ’৭১ এর চেতনার রাজনীতি অপরটি ’৪৭ এর চেতনা। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের অগ্রযাত্রা অপরদিকে সাম্প্রদায়িক ভাবধারায় দেশকে পেছনের দিকে টেনে নেয়ার অপচেষ্টা। একটি ধারা উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পক্ষে অপরটি মিথ্যাচার আর নেতিবাচকতার বৃত্তে আবর্তিত । একটির উৎস জনগণ এবং জন আস্থা অপরটির উৎস্য বন্দুকের নল।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইইবি’র সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. রনক আহসান। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৗশলী ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। এছাড়া অ্যাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকৌশলী আবু হাসান মাসুদ।
আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের শুরুতে ডাক্তাররা যখন তখন টেলিমেডিসিন সেবাই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিল। এর পরই’জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। এই অ্যাপটি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হল। ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপে’র মাধ্যমে রোগীরা চিকিৎকদের সাথে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।বাসস।

image_print
Posted by: | Posted on: September 15, 2020

সর্বোচ্চ ভোটে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ৩টি অঙ্গ সংস্থার নির্বাহি বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ৩টি অঙ্গ সংস্থা ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, ইউএনওপিএস এর নির্বাহি বোর্ডে সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১-২০২৩ মেয়াদের জন্য গঠিত কমিটির নির্বাচনে বাংলাদেশ ৫৪ ভোটের মধ্যে ৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনে একটি মাত্র সদস্য দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পহেলা জানুয়ারি ২০২১ থেকে নব-নির্বাচিত এই নির্বাহি বোর্ড কাজ শুরু করবে।
৫৪ সদস্য বিশিষ্ট জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল (ইকোসক) এর ৮টি অঙ্গ সংস্থার এই নির্বাচন জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রা এবং জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ ও তার কার্যনির্বাহি বোর্ডসমূহের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার কারণে বাংলাদেশ সুদৃঢ় উত্তরাধিকার, বিশ্বাস ও আস্থার যে সম্পর্ক অর্জন করেছে এ বিজয় তারই বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানেও ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেন এর নির্বাহি বোর্ডের সদস্য। এছাড়া জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বর্তমানে ইউনিসেফ নির্বাহি বোর্ডের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।বাসস।

image_print
Posted by: | Posted on: September 15, 2020

পরবর্তী মহামারির জন্যে বিশ্ব বিপদজনকভাবে অপ্রস্তুত

জেনেভা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ (প্রেসওয়াচ ডেস্ক) : বর্তমান বিশ্ব করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে আশংকা করা হচ্ছে বিশ্বে আরো ভয়ংকর মহামারি আসতে পারে। কিন্তু তার জন্যে প্রস্তুতি খুবই সামান্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা সোমবার সতর্ক করে এ কথা বলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব ব্যাংকের সৃষ্ট একটি স্বাধীন সংস্থা গ্লোবাল প্রিপার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি)এর নতুন একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে এ ধরণের বিপর্যকর অবস্থা মোকাবেলার জন্যে বিশ্ব কতোটা কম প্রস্তুত। যদিও বারবার বলা হচ্ছে বড়ো ধরণের মহামারি আসন্ন।
এতে আরো বলা হয়, কোভিড- ১৯ মহামারি বিশে^র প্রস্তুতির জন্যে একটি কঠোর পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গত বছর কোভিড- ১৯ মহামারি শুরুর আগে প্রাথমিক যে রিপোর্ট দেয়া হয়েছিল তার প্রেক্ষিতে বিশ্ব খুব সামান্যই প্রস্তুতি নেয়।
রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়, কোভিড -১৯ থেকে শিক্ষা নেয়া কিংবা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও অঙ্গীকার গ্রহণের ব্যর্থতার মানে পরবর্তী মহামারি যা অবশ্যই বিশ্বে হানা দেবে তা অনেক বেশি ভয়ংকর হবে।
সোমবার রিপোর্টটি ভার্চুয়ালি উত্থাপনকালে জিপিএমবি’র কো চেয়ার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান গ্রো হারলেম ব্রুন্ডল্যান্ড জোর দিয়ে বলেন, মহামারির জন্যে খুব কম প্রস্তুতির বিষয়ে এক বছর আগেই এই বোর্ড থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। আজ আমরা আমাদের আশংকারই প্রতিফলন দেখছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ধারণার চেয়েও কোভিড- ১৯ এর প্রভাব ভয়ংকর হয়েছে। কিন্তু আমাদের আহ্বান সত্ত্বেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে নূন্যতম।
বিশে^ করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছার প্রেক্ষাপটে রিপোর্টটি প্রকাশ করা
হয়েছে।
রিপোর্টে জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ব স্বাস্থ্য বিষয়ে বৈঠকে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে,যাতে জরুরি প্রস্তুতি ও মোকাবেলার জন্যে আন্তর্জাতিক কাঠামোর বিষয়ে একমত হওয়া যায়।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান প্রধান টেডরস আধানম গেব্রিয়াসিস বলেছেন, স্বাস্থ্য ও প্রস্তুতির বিষয়ে বিনিয়োগ কোন দান নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যতের জন্যে বিনিয়োগ।
তিনি আরো বলেন, এটিই শেষ মহামারি নয়। আরো মহামারি আসবে। তবে কখন তা আমরা জানি না। কিন্তু অবশ্যই আসবে এবং আমাদেরকে তার জন্যে প্রস্তুত থাকতেই হবে।

image_print
Posted by: | Posted on: September 15, 2020

করোনায় টেলিমেডিসিন সেবায় কার্যত বিপ্লব ঘটেছে: কাদের

করোনা দুর্যোগে টেলিমেডিসিন সেবা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দেশে টেলিমেডিসিন সেবায় কার্যত বিপ্লব ঘটেছে।’ প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন। সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই অ্যাপ উদ্বোধন করেন কাদের।  আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে এই অ্যাপটি চালু হয়।

জয় বাংলা টেলিমেডিসিন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রোগী ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশি অভিজ্ঞ হলেও করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের তেমন ছিল না। কারণ নিকট অতীতে বাংলাদেশ এ ধরনের ভয়াবহ মহামারির মুখোমুখি হয়নি। মার্স, সার্স ও ইবোলার মতো মহামারির আঁচ বাংলাদেশে তেমন লাগেনি। করোনা পুরো বিশ্বের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। সমৃদ্ধ দেশগুলোও করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব টালমাটাল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। চিকিৎসকরা নিজের ও রোগীর কথা বিবেচনা করে এই মহামারি থেকে বাঁচতে চেম্বারে রোগী দেখা অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই অবস্থায় সময়ের প্রয়োজনে চিকিৎসাসেবায় নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছে–যেটা হলো, টেলিমেডিসিন সেবা। করোনাই মূলত এই পথ দেখিয়েছে। এ সময় টেলিমেডিসিন সেবায় কার্যত বিপ্লব ঘটেছে।’ওবায়দুল কাদের

করোনায় সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও দুর্যোগ বা মহামারির ভয়াবহতা কীরকম হতে পারে তা অনুমান করা সম্ভব নয়। আমরা কয়েকটা ঘূর্ণিঝড় থেকে এটি দেখেছি। করোনার ক্ষেত্রেও এটা সত্য। মহামারি বা দুর্যোগ মোকাবিলায় দরকার হোক বা না হোক সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি না থাকায় বিশ্ব ট্রায়াল অ্যান্ড এরর মেথডের পথে হাঁটছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।’

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা। অন্যথায় এই সেবা প্রদান করা সম্ভব হতো না। এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা এবং এর পরবর্তী নানামুখী কল্যাণকামী কর্মকাণ্ডের ফলে আজ আমাদের তরুণরা তথ্যপ্রযুক্তির প্রায় সব খাতেই নিজেদের সংযুক্তি বৃদ্ধি করেছে।’

জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন অধ্যায় উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘এই টেলিমেডিসিন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রোগী ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করবে। এই অ্যাপে রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ থাকবে, ফলে এই তথ্য পরবর্তী সময়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কাজে ব্যবহার করা যাবে।’

জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইলে ঘরে বসেই দূর-দূরান্তের রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

কাদের এ সময়ে জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস সংস্কার করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমি চাই বিস্তৃতি ঘটুক এই অ্যাপ্লিকেশনের। জনমানুষ উপকৃত হোক এ সেবার মাধ্যমে। পাশাপাশি এই অ্যাপ ব্যবহার করে রোগীদের কোনও অভিযোগ থাকলে তা জানার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রাখা দরকার বলে মনে করি।’ টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে যেসব চিকিৎসক সার্বক্ষণিক সেবা দেবেন তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন দেশে দুই ধারার রাজনীতি চলছে। তিনি ঠিকই বলেছেন। দেশে চলমান রাজনীতির দুটি ধারা– একটি একাত্তরের চেতনার রাজনীতি, অপরটি ’৪৭-এর চেতনার। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রযাত্রা, অপরদিকে সাম্প্রদায়িক ভাবধারায় দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা। একটি ধারা উন্নত উন্নয়ন ও অগ্রগতির অগ্রযাত্রার পক্ষে, অপরটি মিথ্যাচার আর নেতিবাচক বৃত্তে আবর্তিত। একটির উৎস জনগণ এবং জনআস্থা, অপরটির উৎস বন্দুকের নল।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন– আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর।

মো. আবদুস সবুর বলেন, ‘মহামারি করোনাভাইরাসের শুরুতে ডাক্তাররা যখন চেম্বারে সরাসরি রোগীদের সেবা প্রদান করতে পারছিলেন না, তখন টেলিমেডিসিন সেবাই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিল। এর পরই জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ নিয়ে কাজ শুরু করা হয়।’

Posted by: | Posted on: September 15, 2020

পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা যেভাবে নিষ্পত্তি হয়

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এ বাহিনীর সদর দফতরে করা অভিযোগের নিষ্পত্তি  হয় মূলত বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব আইন (পিআরবি) অনুযায়ী। অভ্যন্তরীণ কিংবা বাইরের কারও কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ফরমে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এরপর বিভিন্ন পদ্ধতি ও পর্যায় অতিক্রম শেষে শাস্তির আদেশ কিংবা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়।

পুলিশ সদর দফতরের একাধিক সূত্রে জানা যায়, ইন্সপেক্টর, এসআই (সাব ইন্সপেক্টর), সার্জেন্ট, এএসআই (এসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর), হাবিলদার, নায়েক ও কনস্টেবলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে ১৯৪৩ সালের পিআরবিতে (পুলিশ রেজুলেশনস, বেঙ্গল) বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৭৬ সালের পুলিশ অফিসার্স (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ অনুযায়ীও বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালাটিও প্রযোজ্য হয় বিভাগীয় মামলার ক্ষেত্রে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (অধঃস্তন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও আপিল) ২০০৬ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে তদুর্ধ্ব পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হয় সরকারি চাকরি আইনের (শৃঙ্খলা ও আপিল) নিয়ম অনুযায়ী। কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে। তবে অভিযোগ আসার পরপরই অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জায়গা থেকে প্রথমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই নিয়ম এএসপি থেকে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও মানা হয়। যদিও তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। তখন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, অভিযোগ ওঠার পর যে কেউ সাময়িক বরখাস্ত হতে পারেন। তবে আপিলে যদি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য অভিযোগ খণ্ডন করতে পারনে, তাহলে আবারও তাকে চাকরিতে নিয়মিত করা হয়। অন্যথায় চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে তাকে বরখাস্ত, কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রেও কেউ কেউ সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা পেয়ে থাকেন। আবার কাউকে চাকরি জীবনের সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই বাড়ি চলে যেতে হয়। আর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সাজা ভোগ করতে হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হলে বাংলাদেশ পুলিশের (বিপি) নির্দিষ্ট ফরমে কার্যবিবরণী গ্রহণ করতে হবে— এছাড়া সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তি নেওয়া যাবে না।

বিভাগীয় মামলার আগে যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়

অভিযোগের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর ব্যক্তিগত শুনানি করতে হয়। লিখিত ও শুনানিতে জবাব সন্তোষজনক না হলে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হয়। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার চূড়ান্ত মতামত পাওয়ার পর আবারও ব্যক্তিগত শুনানি করতে হয়। অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে শাস্তির অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে কেন শাস্তি আরোপ করা হবে না তার কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রসিডিং সংক্রান্ত সব কাগজপত্র সরবরাহ করতে হবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে। এই কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব পাওয়ার পর সন্তোষজনক মনে না হলে শাস্তির চূড়ান্ত আদেশ জারি করবে— পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। শাস্তির চূড়ান্ত আদেশ হাতে পাওয়ার ৩৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে আপিল করার সুযোগ পাবেন অভিযুক্ত সদস্য।

কী ধরনের অভিযোগ বেশি

আইজিপি কমপ্লেইন সেলে সাধারণত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে পারিবারিকভাবে যেসব অভিযোগ বেশি আসে সেগুলো হচ্ছে— বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ পোষন না দেওয়া, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করা। এছাড়া ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায়, অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ মাদক ও ডাকাতির মামলায় আসামি করে দেওয়ার হুমকি, পুরানো মামলায় অজ্ঞাত আসামির তালিকায় নাম দিয়ে চালান করে দেওয়ার হুমকি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ঘুষ, নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ। ভুক্তভোগীর মামলা না নেওয়া কিংবা মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া। মামলার সঠিকভাবে তদন্ত না করা ও তদন্তে নানা ত্রুটি- বিচ্যুতি, আদালত থেকে আদেশ পেলেও  আসামি গ্রেফতার না করা এবং মামলার জমিজমা-সংক্রান্তসহ নানা অভিযোগ। এসব অভিযোগেই সাধারণত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিভাগীয় মামলায় যেসব শাস্তি দেওয়া হয়

পিআরবি (পুলিশ আইন) অনুযায়ী, কোনও পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কাজে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু ও গুরু) বিধান আছে। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতনবৃদ্ধি  স্থগিত ও চাকরিকালীন সুযোগ-সুবিধা রহিত করা হয়। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত করা হয়। গুরুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইনস বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। বিসিএস ক্যাডারের পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এএসপি থেকে তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগে একটি সেল রয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া বিভাগীয় মামলা কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয় জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি চাকরি আইনের শৃঙ্খলা ও আপিল রুলস অনুযায়ী অভিযোগ নিষ্পত্তি ও শাস্তি দেওয়া হয়। কারণ,আইনে সবই সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে।