Main Menu

যে ১০টি অভ্যাস আপনার মনোবল দৃঢ় করবে

আপনি যদি খুব ভারি কোনো কাজ করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই শারীরিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। আপনার মেরুদণ্ড হতে হবে খুবই শক্তিশালী। থাকতে হবে কোমরের জোর। ঠিক একইভাবে আপনি যদি অনেক বেশি কাজের চাপ নিতে চান অনেক গভীর বিষয়ে চিন্তা করতে চান তাহলে একইভাবে আপনার প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল। এর বিকল্প কিছু নেই।

তাই মনোবল উন্নত করতে ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক মার্কিন বিখ্যাত সাময়িকী সাইকোলজি টুডে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের আলোকে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। সেখানে দেয়া হয়েছে জরুরি ১০টি পরামর্শ।

১. নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন:

ধরুন আপনার মধ্যে কোনো কাজ নিয়ে হীনমন্যতা রয়েছে। আপনার মনে হচ্ছে কাজটি আপনি পারবেন না। তার মানে কাজটি কারার আগেই আপনি হেরে গেলেন। এতে ওই কাজ করতে গিয়ে আপনার নিজের প্রতি আস্থা হারাবেন। এই আস্থাহীনতার দরুণ আপনার মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এটি দীর্ঘ মেয়াদে আপনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এভাবে চিন্তা না করে কাজটি আপনি ভালোভাবে চেষ্টা করলে পারবেন এই ধারণা পোষণ করুন। এতে করে কাজটি করাও যেমন সহজ হবে তেমনি আপনার মাসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। এটা মেনে নিতে হচ্ছে যে মানুষের জীবনে কখনো কখনো খারাপ সময় আসে। কিছু দিন থাকে যখন সব কিছুই অচেনা লাগে। তবে এই সময়গুলোতে নিজেকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করতে বলছে মনোবিজ্ঞানীরা।

২. লক্ষ্য নির্ধারণ করুন:

এটা কখনো কখনো মনে হতে পারে আপনি যে জিনিসটি পাওয়ার চিন্তা করছেন বা যে কাজটি করার চিন্তা করছেন সেটি অনেক উচ্চাকাঙ্খা। তবে এটা ভেবে সেই কাজ থেকে সরে যাওয়া মোটেও ঠিক হবে না। কারণ আপনার সামর্থ বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য বার বার পরিকল্পনা করুণ। লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সে লক্ষ্যে আপনি পৌঁছাতে পারবেন নিজের প্রতি এই বিশ্বাস বৃদ্ধি করতে হবে। এতে করে আপনার অন্য অনেক কাজ সহজ হয়ে যাবে এবং আপনি সেই কাজটি করতে না পারলেও কাজটি করতে গিয়ে আপনার অনেক কিছু শেখা হবে জানা হবে। এভাবেই নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে যেটি খুবই কার্যকর হবে আগামীর জন্য।

৩. সফলতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন:

সব সময় নিজেকে প্রস্তুত রাখুন সফলতার জন্য। যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় যেকোনো কাজে নিজেকে সহজে মানিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করুন। এতে করে যেকোনো কাজকে সহজ মনে হবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকবে এবং সব পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। আপনার সময়কে গুরুত্ব দিন। প্রতিটি মুহূর্তকে আলাদা করে গুরুত্ব দিন। যখন হাঁটতে বের হবেন তখন আপনার নাস্তার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। যেন সেটির কোনো ব্যতয় না ঘটে। খাদ্য তালিকা থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিন। আগামীর লড়াইয়ে আপনাকে ফিট থাকতে হবে। তাই নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হলে খাবারের বিষয়েও সচেতন হতে হবে।

৪. প্রতিদিন অন্তত একটি করে জটিল বিষয় নিয়ে ভাবুন:

উন্নতি কখনো হঠাৎ করে চলে আসে না। এটি দীর্ঘ চর্চার একটি বিষয়। বিভিন্ন উদ্দেশ্য হাসিলে নিজেকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করুন। আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী আপনি নিজেই। আর অবশ্যই নিজের সক্ষমতা যাচাই করুন। মনে রাখবেন প্রত্যেকটি মানুষের চিন্তা এবং পরিকল্পনা আলাদা। এমন একটি কাজ শুরু করুন যেটি আপনি পারবেন না বলে মনে হয়। এবং সেই কাজটি করার জন্য প্রতিদিন নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে যান। কাজটি সফল না হলেও আপনি অনেকগুলো কাজ শিখে ফেলবেন। কারন ব্যর্থতা থেকে আসে সফলতার নতুন নতুন চিন্তা। পরিচিত হওয়া যায় অনেক নতুন পথের সঙ্গে।

৫. বড় কাজের জন্য অস্বস্তি সহ্য করুন:

কখনো কখনো আপনার কারো সঙ্গে কথা বলতে বা কোন একটি কাজ করতে অস্বস্তি লাগতে পারে। তবে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন আপনার কাজটির গুরুত্ব কেমন। যদি সেটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় তবে আপনার কাজের স্বার্থে আপনি একটু অস্বস্তি সহ্য করুন। এতে বড় ফল পাওয়া গেলে মন্দ কি? এমন কাজ আপনাকে অনেক ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে মিশতে বা তাদের নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

৬. আপনার আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিন:

এমন অনেক বিষয় আছে আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সে বিষয়গুলোর দেখা যায় যৌক্তিক কোনো ভিত্তি নেই। এসব ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিন। এত আপনার সামাজিক অবস্থান এবং অন্যের কাছে গুরুত্ব বাড়বে। নিজের মনোবলও বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ। আপনার পরিকল্পনাগুলো লিখে রাখুন এতে ভুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

৭. লক্ষ্যে অটুট থাকুন:

এটা খুবই কঠিন যে বড় কোনো কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেটি চালিয়ে যাওয়া। অনেকেই মাঝ পথ থেকে ফিরে আসেন। এমন ঘটনা তখনই ঘটে যখন লক্ষ্য সম্পর্কে নিদ্দিষ্ট ধারণা থাকে না। আপনি একটি লিখিত পরিকল্পনা হাতে নিন। আপনি কি করতে চান তার সুস্পষ্ট ধারণা নিন। বার বার নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন আপনি কেন এই কাজটি করতে চান এবং এর পেছনে সফলতা কি? যখন আপনি একেকটি ধাপ অতিক্রম করবেন তখন ভাবতে থাকুন সফল হওয়ার পর পরিস্থিতি কি হবে সে সুখানুভূতির বিষয়েও। এতে করে লক্ষ্যে অটুট থাকাটা আপনার জন্য সহজ হবে।

৮. বিশদ ব্যখ্যা খুঁজুন, অজুহাত খুঁজবেন না:

আপনি যদি আপনার কাজে সফল হতে চান তবে নিজেকে পরীক্ষা করুন। একই সঙ্গে কাজটি নিয়ে ভালো ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করুন। এর খুঁতগুলো বের করুন। সমস্যার সমাধান করুন। পুরো কাজের দায়ভার গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করুন। কোনো অভিযোগ তোলার চিন্তা বাদ দিন। এতে করে সমস্যা বাড়বে। আপনার মানসিকতার উপর বাজে প্রভাব পড়বে। যখন নিজের কোনো ভুল ধরা পড়বে তখন সেটি সংশোধন করুন এবং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার চিন্তা করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

০৯. দশ মিনিটের এই নিয়মটি অনুসরণ করুন:

মানসিক শক্তি আপনাকে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করবে এটা ঠিক, তবে এটি সব সময় আপনার কাজ ঠিকভাবে করে দেবে এমনটিও নয়। ব্যর্থতা আসতেই পারে তবে ভেঙে পড়া যাবে না। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে অগ্রসর হন। এখানে দশ মিনিটের একটি প্রক্রিয়া বলেছেন গবেষকরা। আপনি যদি নিজেই নিজের সমস্যা বুঝতে পারেন এবং নিজেকে লিড দিতে পারেন তবে আপনি বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবেন। তাহলে আপনি ১০ মিনিট মোটিভেশান নিন কোনোভাবে।

১০. নিজের ভুল বের করুন:

প্রত্যেক মানুষের ভুল থাকবেই। এটাই প্রাকৃতিক বিষয়। তবে এই ভুল যদি নিজেই বের করতে পারেন তবে আপনার আগামী সহজ হয়ে যাবে। চেষ্টা করুন আগের দিনের চেয়ে আজকের দিনটি যেন আপনার ভালো কাটে। নতুন কোনো অভিজ্ঞতা বা সফলতা আপনার সঙ্গী হয়। আপনি নিজেকে যতটা সফল ভাবেন তারচেয়ে বেশি সক্ষমতা আপনার রয়েছে এটি নিজের মধ্যে ধারণ করুন। এবং আপনি আরও সফলতা অর্জনের যোগ্য, এটা মনে করুন। তাহলে মানসিকভাবে শক্তি পাবেন।






Related News