Main Menu

রবীন্দ্রনাথের জুতা আবিষ্কার ও জঙ্গি নির্মুলের সহজ ফর্মূলা

সেদিন বন্ধু বান্ধবদের আড্ডায় সাম্প্রতিক সময়ের জঙ্গিবাদের সৃষ্টি , উত্থান এবং পরিণতি নিয়ে আলাপ হচ্ছিল । আমার এক বন্ধু পিতৃহীন তার এক ছেলে এক মেয়েকে সমাজের বিপরীত স্রোতকে প্রাণপণে ঠেলে বুকে আগলে মানুষ করছে। সে জানাল ২০১৪ সালের ৩ মাসের বিএনপি জামাতের জ্বালাও পোড়ওয়ের সময় তার ছেলে মসজিদ থেকে আছরের নামাজ পড়ে বেরিয়েছে তখন তার সমবয়সী একটি ছেলে এসে তাকে প্রস্তাব দিল তাদের সাথে যোগ দেবার জন্য । তারা তিন জন হয়ে গেছে আর একজন দরকার । ব্যাপারটা খুবই সোজা । তার এক বড় ভাই কয়েকটি বোতল দিয়েছে । সেগুলি কমলাপুরের যে কোন বাসে ছুড়ে মারতে হবে। ব্যাস , কয়েক মিনিটের ব্যাপার । আর এই সামান্য কাজের শেষে দশ হাজার টাকা পাওয়া যাবে যা তারা চার জনে ভাগ করে নিবে।
বিএনপি ইদানীং জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্য করার জন্য রথী মহারথীদের ডাকছে । আর ইনারাও মানে এই সুশীল প্রাণীরাও যারা অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে থাকেন কিন্তু যখন দেখেন জল ঘোলা হয়েছে , মাছ ধরার একটি সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তখনি তারা মাঠে নামেন, জ্ঞানুগর্ভ বক্তৃতা দেন, নানা উপদেশ খয়রাত করেন। আর তাদের এই উচ্চমার্গীয় কৌশল দেখে আমার রবীন্দ্রনাথের জুতা আবিষ্কার কবিতাটির কথা মনে পড়ে গেল।
হবু চন্দ্র রাজা একদিন আক্ষেপ করে তার মন্ত্রী গবু চন্দ্রকে ডেকে বলল পৃথিবীতে পা ফেলা মাত্র কেন পায়ে ধুলাবালি লাগবে ? তোমরা শুধু শুধু বেতন নাও , রাজার কাজে তোমাদের মন নাই

তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি,

রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।

আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি,

রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!

শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার,
নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।’

মন্ত্রী গবু তখন সেকালের সুশীল প্রাণীদের ডাকলেন। তারা নানা রকম ফন্দি ফরমায়েশ করলেন। তাদের পরামর্শ মোতাবেক সাড়ে সতেরো লক্ষ ঝাড়ু কিনে রাজ্য জুড়ে ঝাড়ু দিতে লাগলেন। এতে করে রাজ্যের আকাশ গেল ধুলায় ছেয়ে।

কহিল রাজা, `করিতে ধুলা দূর,

জগত্ হল ধুলায় ভরপুর!’

তখন আবার সুশীল প্রাণীদের পরামর্শে একুশ লাখ ভিস্তি অর্থাৎ পানিবাহী দিয়ে পানি দিতে লাগলেন। তখন চারিদিকে সৃষ্টি হল অবর্নীয় কাদা।

কহিল রাজা, `এমনি সব গাধা

ধুলারে মারি করিয়া দিল কাদা!’

তখন আবার সেই সুশীলদের ডাকা হল । এবার তারা পরামর্শ দিল পৃথিবীকে চামড়া দিয়ে ডেকে দাও তাহলে আর রাজার পায়ে ধুলাবালি লাগবে না । সে জন্য মুচিদের ডাকা হল । বৃদ্ব মুচি সর্দার এসে বললেন ,

নিজের দুটি চরণ ঢাকো, তবে

ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে।’

এই লেখা যখন লিখছি তখনও দেখছি টেলিভিশনে সাদা চুলের কয়েক টকার টকশো তে জঙ্গি নির্মুলের নানা ফর্মুলা দিচ্ছে । কবিতার রুপকে আমার মতামত হল এই রথী মহারথীদের জ্ঞানগর্ভ গবেষণার প্রয়োজন নেই । শুধু জামাত বিএনপিকে লাইনে আনুন , ব্যস জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। It is very simple and easy.

রবীন্দ্রনাথের জুতা আবিষ্কার ও জঙ্গি নির্মুলের সহজ ফর্মূলা






Related News