Main Menu

স্পেশাল অলিম্পিকে সর্বোচ্চ গোল্ড মেডেলের প্রত্যাশা করছে “বোচি”

মেহেদী মাসুদঃ


আর মাত্র ২৪দিন পর অর্থ্যাৎ আগামী ১৪ মার্চ থেকে গুরু হবে স্পেশাল অলিম্পিক ওয়ার্ল্ড গেমস ২০১৯. বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি ক্রীড়াবিদদের নিয়েই এই আয়োজন।  আবু দাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম দৃষ্টি নন্দিত শেখ জায়েদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশ্বের ১৯০টি দেশের ৭৫০০ক্রীড়াবিদ ২৪টি ডিসিপ্লিনে নিজ নিজ শ্রেষ্ট্রত্বের লড়াইয়ে অংশ নিবে। বৃহৎ এই ক্রীড়া আসরটি শেষ হবে ২২ মার্চ।


বাংলাদেশ থেকে ০৯টি ডিসিপ্লিনে ১০৪জন ক্রীড়াবিদ ৩০জন অফিশিয়ালসহ কোট ১৩৫ জনের একটি দল আগামী ৮মার্চ সকালে স্পেশাল অলিম্পিক ওয়ার্ল্ড গেমস ২০১৯-এ অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।

ডিসিপ্লিনগুলো হচ্ছেঃ অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বোচি, হ্যান্ডবল ( ছেলে এবং মেয়ে), ভলিবল, বাস্কেটবল, সকার ( ছেলে এবং মেয়ে), সুইমিং

বাংলাদেশ যে ডিসিপ্লিনগুলোতে নিশ্চিত গোল্ড মেডেল পাবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বোচি। ৮ সদস্যের একটি বোচি দল অংশগ্রহণ করবে। যার মধ্যে ৩জন ছেলে , ৩ জন মেয়ে খেলোয়াড় ১জন হেড কোচ(পুরুষ) এবং ১জন সহকারী কোচ(মহিলা) থাকবে। গত এক মাস যাবৎ বোচি দলটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থিত প্রয়াস স্কুলে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এই ডিসিপ্লিনটির প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খেলাটির প্র্যাকটিস ,  ইতিহাস ও আসন্ন গেমসে পদকের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে  কথা হয় দলের হেড কোচ আব্দুস সেলিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্পেশাল অলিম্পিকের ইতিহাসে বোচিতেই সবচাইতে বেশি গোল্ড মেডেল এসেছে। এবারও আমরা সব কয়টি ইভেন্টে গোল্ড মেডেল পাবো ইনশাল্লাহ। টিম ইভেন্ট, মিক্স ডাবল, সিঙ্গেলস এ অংশগ্রহণকারী প্রতিটি খেলোয়াড় কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ৪জন স্পেশাল খেলোয়াড় এবং দুই জন ইউনিফাইড খেলোয়াড়দিয়ে দলটি গঠিত হয়েছে।

২০০৩ সাল থেকে বোচি বাংলাদেশে এর যাত্রা শুরু করে। আমি সেই বছর কোচেস ট্রেনিং নিয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করি। আমি বর্তমানে বাংলাদেশে একমাত্র সার্টিফাইড কোচ জাতীয় কোচ হিসেবে দায়ত্ব পালন করে আসছি।

২০০৫ সালে প্রথম এশিয়া প্যাসিফিক অনুষ্ঠিত হয় ব্রুনাইতে। ব্রুনায়ের সুলতান এটির আয়োজন করেন। আমাদের বোচি স্পেশাল টিমটি ৬টি গোল্ড মেডেল অর্জন করে দারুণ সাফল্য দেখায়। এর পর থেকেই স্পেশাল খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত বাংলাদেশের বোচি খেলাটি বিশ্ব ক্রীড়াংনে দারুণ আধিপত্ব্য বিস্তার করে চলছে।

তার পর আমরা তিনবার এশিয়া প্যাসিফিকে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করি।

২০১৫ সালে লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত স্পেশাল অলিম্পিক ওয়ার্ল্ড গেমসে দুটি ইভেন্টে ৪টি গোল্ড মেডেল পাই।  আমার প্রত্যাশা এবারও আমরা আশা করছি পূর্বের ন্যায় সাফল্য বয়ে আনবো। আমাদের দলে একজন পুরাতন খেলোয়াড় রয়েছে। বাকী সবাই নতুন। তাই ক্যাম্পটি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে হচ্ছে।


খেলোয়াড় বাছাই পদ্ধতিটি কি ভাবে হয় এর এক প্রশ্নের জবাবে কোচ সেলিম জানান, বিভাগীয় ভাবে টেলেন্ট হান্ট হয় সারা বাংলাদেশ জুড়ে। গ্রামের ছেলে মেয়েরাই বেশি মেধাবী এবং এবিলিটিটাই তাদের বেশি। কারণ খেলার মাঠ গ্রামেই বেশি। শহরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিদের জন্য কোনো আলাদা খেলার মাঠ নেই। কোচ সেলিম বলেন, যেহেতু এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিরা বিদেশ থেকে স্বর্ন পদক অর্জন করে দেশ ও জাতির ভাব মুর্তি উজ্জ্বল করে চলছে। তাই আমি মনে করি তাদের জন্য আলাদা মাঠ থাকাটা বাঞ্চনিয়। স্পেশাল অলিম্পিক বাংলাদেশ পরিচালিত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিদের জন্য আলাদা খেলার মাঠের জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানান তিনি।

বিকেএসপি অথবা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে এই ক্যাম্পটি চলে। তারপর প্রয়োজনের চেয়ে ডাবল খেলোয়াড়দিয়ে ১৫দিনের ফাইনাল ক্যাম্প শুরু করি। সারা দেশে প্রায় দু’শতাদিক বোচি খেলোয়াড় রয়েছে।

সহকারী কোচ শাহানাজ আহম্মেদও ভালো করার প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন।  তিনি বলেন ২০১৫ সালে লস এঞ্জেলেস স্পেশাল অলিম্পিকে আমি অংশগ্রহন করেছিলাম খেলোয়াড় হিসেবে। এবারই প্রথম আমি কোচ হিসেবে অংশ নিচ্ছি। প্র্যাকটিস ভালো হয়েছে। বিশেষ করে টেকনিকগুলো তারা বেশ ভালো ভাবেই রপ্ত করেছে। সেই ক্ষেত্রে প্রত্যাশার মাত্রাটাও বেশি।

অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়ঃ সজিব হোসেন(ইউনিফাইড পার্টনার),সাদিয়া জামান ( মহিলা ইউনিফাইড পার্টনার) , সাদিয়া আক্তার উর্মি, মিস পুতুল, নাইম ও ফয়সাল।

মাঠের মাপ ও খেলার নিয়মঃ

মাঠের দৈর্ঘ্য ৬০ফুট এবং প্রস্থ্য ১২ফিট। ১০ফিটে একটি মার্ক থাকে যেখান থেকে খেলোয়াড়েরা পেলিনা এবং বোচি বল ছুড়ে মারেন। টার্গেট বলকে বলা হয়ে থাকে পেলিনা ।

একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ চারটি বল থ্রো করতে পারেন তাই একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট অর্জন করতে পারে। দলগতভাবে দুটি করে একজন খেলোয়াড় বল মারতে পারবে। পেলিনার কাছাকাছি যার বা যাদের বোচি বলটি থাকবে তারাই পয়েন্ট পাবে। পেলিনা বলের ওজন ২৫০গ্রাম আর বোচি বলের ওজন ৯৫০ গ্রাম।

এই খেলাটি দুই ধরনের হয়ে থাকে। পয়েন্টে অথবা নিদিষ্ট টাইম।  সিঙ্গেলসে যে খেলোয়াড় ১২ পয়েন্ট পাবেন তিনিই জয়ী হবেন। ডাবলসে ১৬ পয়েন্টে খেলা হয়।  সময়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারি দল বা ব্যাক্তি জয়ী বলে ঘোষিত হয়।

এবার স্পেশাল অলিম্পিক গেমসে নিদিষ্ট সময়ে খেলাটি হবে। সিঙ্গেলের এবং ডাবলসের জন্য ৩০ মিনিট আর টিম ইভেন্টের জন্য ৪০মিনিট সময় নিদিষ্ট করা হয়েছে।

দক্ষিন এশিয়াতে ভারত বড় দল নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে থাকে কিন্তু রেশিও অনুযায়ী আমাদের দলটি ভালো ফলাফল করে থাকে। অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত একটি টুর্নামেন্টে ভারত ১০০জনের টিম নিয়ে গোল্ড পায় ১৬টি আর পক্ষান্তরে আমরা ৮জনের দল নিয়ে গোল্ড পেয়েছি ৮টি। তাই এবারও বোচি হবে বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম ডিসিপ্লিন বলেন, দলের হেড কোচ সেলিম।

বাংলাদেশ দলের স্পেশাল খেলোয়াড়দের জন্য রইল শুভেচ্ছা। পূর্বের ন্যায় এবারও তারা তাদের নিজ নিজ ডিসিপ্লিনে সর্বোচ্চ সাফল্য বয়ে আনবে এটাই থাকলো আমাদের প্রত্যাশা।






Related News