প্রেসওয়াচ রিপোর্টঃ

নৌকা পেয়েও ছেড়ে দিলেন এই প্রার্থী!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আব্দুল মতিন নৌকা প্রতীক পাওয়ার পরও তার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আব্দুল মতিন (বামে) এবং জালাল আহমেদ (ডানে)
আব্দুল মতিন (বামে) এবং জালাল আহমেদ (ডানে)

আগামী ২৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি দুটি ইউনিয়নের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় ওই দুই ইউনিয়ন পরিষদে পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১টি ইউনিয়নের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় প্রার্থীদের নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন। তবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রোববার (৭ নভেম্বর) মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিনেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন নৌকা প্রতীক পাওয়া আব্দুল মতিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, গত ২১ অক্টোবর তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমে তারা দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসনের সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ অনুসারী বলে পরিচিত।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল আহমেদ পেয়েছিলেন ৩৩২ ভোট। অন্যদিকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন মহির অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আবদুল মতিন পেয়েছিল ১১৭ ভোট। তৃণমূলের ভোটে প্রথম হন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল আহমেদ। কিন্তু কেন্দ্র থেকে প্রথম হওয়া জালাল আহমেদকে না দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. আবদুল মতিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এরপর থেকে ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ নাখোশ হন আবদুল মতিনের উপর। এর পর থেকে চাপের মুখে পড়েন আব্দুল মতিন।

এরই অংশ হিসেবে রোববার মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনে তিনি নিজের অসুস্থতা দেখিয়ে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেনে।


এ ব্যাপারে নৌকা প্রতীক পেয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ, এর বেশি আর কথা বলতে পারবোনা।’ এ বলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
 

এ ব্যাপারে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আওয়ামীলীগের তৃণমূলের ভোটে প্রথম হওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী জালাল আহমেদ জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে দিনে রোববার দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমি নির্বাচিত হতে চলেছি। এ জন্য আমি সকলের দোয়া এবং সহযোগিতা চাচ্ছি।

খোশ মেজাজে জালাল আহমেদ বলেন, নৌকার প্রতীক পেয়ে মতিন ভাই কেন প্রত্যাহার করলেন এ বিষয়টি আমার জানা নেই।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবু তৌহিদ জানান, মোট তিনজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে লড়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। দুই প্রার্থী আব্দুল মতিন ও হোসেন মিয়া রোববার তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর ফলে বাকি থাকা এক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জালাল মিয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তিনি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।
Share: