২ ভারতীয় সেনার মৃতদেহ উদ্ধার, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯

প্রেস ওয়াচ ডেস্কঃ

জম্মু কাশ্মীরের পুঞ্চে এক জেসিওসহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির সেনারা। এ নিয়ে জম্মু কাশ্মীরে চলমান যুদ্ধে প্রাণ হারালেন ৯০ ভারতীয় সেনা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জম্মু কাশ্মীরের পুঞ্চ থেকে অভিযানের ৪৮ ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এর আগে সেনারা অত্র এলাকায় গহীন জঙ্গলে জঙ্গি নিধনে বড় রকমের অভিযানে নামে।


সূত্রের খবর, জেসিও এবং ওই সৈন্য সেনাদের ওপর ব্যাপক হামলার সময় বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হন। তাদের নাম সুবেদার অজয় সিং এবং নায়েক হরেন্দ্র সিং।
 
এর আগে রাইফেলম্যান ইয়োগাম্বার সিং এবং রাইফেলম্যান ভিক্রাম সিং নেগি নামের দুই সেনাসদস্য পুঞ্চ-রাজৌরি বনে তুমুল সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনার চারদিন পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হলো একই জায়গায়। মৃত জেসিওর ব্যাপারে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন তারা।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুঞ্চের মেন্ধার সাব ডিভিশনের নার খাস জঙ্গলে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মধ্যে ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যার সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময় হয়। এতে দুই সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।


নিহতদের মধ্যে একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) আছেন। এদিকে কাশ্মীরিদের ওপর আক্রমণ ও সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে আবারো পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


রোববার অধিকৃত জম্মু কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় সন্ত্রাসী হামলার পর এখনো সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
  

তল্লাশী অভিযান অব্যাহত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) অভিযানের সময়ই সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। এতে বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
পুঞ্চ জেলায় তল্লাশী অভিযানের পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে জম্মু-পুঞ্চ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টানা চারদিন ধরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে জঙ্গল এলাকা হওয়ায় সন্ত্রাসীদের খোঁজ পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

এদিকে, সাধারণ কাশ্মীরিদের ওপর আক্রমণ এবং সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে পাকিস্তানে আবারো সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার গোয়ার ধরবান্দোরায় একটি অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রয়াত মনোহর পর্রীকরের নেতৃত্বে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আমরা এই বার্তাটুকু দিতে পেরেছিলাম যে, আমাদের সীমান্ত এলাকায় কাউকে বরদাস্ত করা হবে না। অনেক সময় কথায় সমস্যা মেটে, কখনও প্রয়োজন হয় প্রত্যুত্তরের। প্রথম সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রমাণ করেছিল, আমরা এ সব বরদাস্ত করব না। এর থেকে শিক্ষা না নিলে এ রকম আরও হবে।

উরি, পঠানকোট এবং গুরুদাসপুরে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় ভারত।
 

Share: