অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমান নিজের সুরে গাইলেন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর জন্য

Posted by: | Posted on: August 30, 2021

প্রেস ওয়াচ রিপোর্টঃ বাংলা ত্রিবিউন কে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারটি প্রেস ওয়াচ পাঠক দের জন্য তুলে ধরা হল ।

অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমান নিজের সুরে গাইলেন বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর জন্য। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেই গান বেজেছে। সেটি ছিল হিন্দি ভাষার গান। এবার এই সংগীত কিংবদন্তি সুর করে গাইলেন আরেকটি গান, এটি বাংলায়। বাংলাদেশের জন্য গাওয়া তার প্রথম গান। যা প্রকাশ পাচ্ছে শিগগিরই। বলা বাহুল্য, দুটো গানেরই রচয়িতা বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি জুলফিকার রাসেল। এই দুটি বিশেষ গান তৈরির প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভাষা নিয়ে কথা বলেছেন এই কিংবদন্তি —

 মঞ্চে এ আর রাহমান প্রশ্ন: বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের থিম সং কম্পোজ করেছেন। এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি যদি জানাতেন।

এ আর রাহমান: এ কাজের জন্য আপনারা ভারতে এসেছেন, আমার কথা ভেবেছেন, এটা আমার জন্য সত্যিই বেশ সম্মানের। ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে ভালো একটা সম্পর্ক সব সময়ই আছে। আমরা বাংলা ভাষাটাও শেয়ার করি, এক ধরনের বন্ধন ও সংস্কৃতিও শেয়ার করি।

প্রশ্ন: হিন্দি ভাষায় তৈরি গানটি কম্পোজের সময় কোন বিষয়টিতে বেশি জোর দিয়েছিলেন?

এ আর রাহমান: এ কাজে আমার ফোকাসটা বেশি ছিল কোন বাদ্যযন্ত্রগুলো ব্যবহার করছি, কোন মেলোডিটা যুক্ত করছি- এসবের ওপর।

 রেকর্ডিংয়ের ফাঁকে এ আর রাহমান ও জুলফিকার রাসেল প্রশ্ন: গীতিকবি জুলফিকার রাসেলের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন কেমন করে?

এ আর রাহমান: জুলফিকার চেন্নাই এসেছিলেন। এখানে ছিলেন সপ্তাহখানেক। আমরা দেখা করি এবং খুব চমৎকার বিষয় ছিল, চেন্নাইয়ের রেকর্ডিংয়ের সময়ও তিনি সাথে ছিলেন। তিনি সঙ্গে থাকায় গানটি নিয়ে আমাদের অনেক কিছু শেয়ার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন: প্রথম গানটি হিন্দিতে হলেও পরের গানটি করেছেন বাংলা ভাষায়। গাইলেন নিজেই। এ জন্য ভাষাগত দিক দিয়ে আপনাকে কী ধরনের কাজ করতে হয়েছিল?

এ আর রাহমান: বাংলা ভাষার গানটি যখন গাইলাম, সেখানে উচ্চারণ নিয়ে বারবার চর্চা করতে হয়েছে। জুলফিকার রাসেলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা বারবার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, যেন ভাষাগুলো নির্ভুল হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ ও ভাষা নিয়ে আপনার মন্তব্য বা অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

এ আর রাহমান: ইতিহাস ঘাঁটলে দেখি, আমাদের অনেক চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী বঙ্গ অঞ্চল থেকে এসেছিলেন। ইসলাম নিয়ে পড়াশোনার সময় তাদের অনেকের কথা আমি জানতে পারি। তাছাড়া সংস্কৃতির মধ্যেও আমরা এক ধরনের বন্ধন শেয়ার করি। বাংলায় গান গাওয়া প্রসঙ্গে যা বলতে পারি, আমার মনে হয়, এই ভাষা বেশ মিষ্টি। লোকে তো এ ভাষাকে ‘ভারতীয় ফরাসি’ বলে। কারণ, ফরাসি ভাষা বেশ শ্রুতিমধুর। বাংলায়ও তেমন একটা মধুর আস্বাদ আছে। এ ভাষায় যেকোনও গান আরও মধুর শোনায়। বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে আমি যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি তাতে কৃতজ্ঞ। এর বিনিময়ে আমার পক্ষে যা করা সম্ভব, তা হলো এমন একটি গান উপহার দেওয়া, যা তারা হৃদয়ে লালন করতে পারবেন। আশা করি, হিন্দি গানটির মতো বাংলা ভাষার গানটিও তারা সবাই পছন্দ করবেন।

দিসি /প্রেসওয়াচ