Main Menu

সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জাপার

শাহ সুলতান নবীন,প্রেসওয়াচ  রিপোর্টঃ

বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের পৈশাচিক হামলা বন্ধ এবং  রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি  বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির সুরক্ষা এবং কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।’

জিএম কাদের বলেন, ‘দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে বর্বরতা হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। একজন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক তথ্য সংগ্রহ করবেন এতে অপরাধের কিছু নেই। অনুসন্ধানী প্রতিবেদকদের জন্যই আমরা জানতে পারি বিভিন্ন দফতরের লুটপাটের খবর।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারমান আরও বলেন, ‘অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট হচ্ছে— মেয়াদোত্তীর্ণ কালো আইন। ১৯২৩ সালে বৃটিশ সরকার তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে নিবর্তনমূলক এই আইনটি পাস করে। স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন কালো আইন জনস্বার্থ বিরোধী।’

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বর্বর হামলার সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের জীবন বাঁচাতে সেদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘের নেতৃত্বে শক্তি প্রয়োগ করে নিবৃত করতে হবে ইসরায়েলকে। আলোচনার ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের উদ্যোগ নিতে হবে।’

কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র কো চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, ‘সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাথে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। সাংবাদিক রোজিনাকে মুক্তি দিলেই হবে না, তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। যারা সাংবাদিক রোজিনার সঙ্গে  দুর্ব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এরশাদ সরকারের সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেখতে চাই। পশ্চিমা যেসব রাষ্ট্র সবসময় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই এখন ইসলাইলকে সমর্থন দিচ্ছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ভেটো দিচ্ছে আমেরিকাসহ তার মিত্ররা, এটা সভ্য সমাজে বেমানান।’

দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘রোজিনা ইসলামকে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থী। ১৯৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু আজ দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে, মানুষ কথা বলতে পারছে না। গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য প্রকাশ করতে পারছেন না, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমের যেসকল কর্মী সত্য প্রকাশে এগিয়ে আসছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবর্ণনীয় নির্যাতন নেমে আসছে। রোজিনা ইসলামের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায় না।’

কর্মসূচিতে জাপার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।






Related News