Main Menu

সরল বিশ্বাসের দৃশ্য ও সোশ্যাল মিডিয়ার কাণ্ড – নজরুল ইসলাম

এপাড় থেকে মারলাম তীর লাগলো কলা গাছে,

হাঁটু বেয়ে রক্ত ঝড়ে চোখ গেলরে বাবা।

এই গ্রাম্য প্রবাদটি লক্ষ্য বস্ততে নিস্ফল আক্রমণ বা আক্রমণের অসাড়তা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।কিংবা মনে করা যাক চার্লি চ্যাপলিনের বিখ্যাত একটি ছবি The great dictator এর যুদ্বের একটি দৃশ্যের কথা।ঘটা করে ছোঁড়া কামানের প্রথম গোলাটি বিরোধী শিবিরের টয়লেট কে গুড়িয়ে দেয়।আর দ্বিতীয় গোলাটি লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত না করে নিজেদেররই সামনে পড়ে।সেটাকে পরীক্ষা করার জন্য চ্যার্লি চ্যাপলিন কে যখন পাঠানো হল তখন সে গোলা সে যেদিকে যায় সেদিকেই ঘুরে।সে এক প্রাণান্ত কিন্তু হাস্যকর অবস্থা।

মানুষ যখন ডুবতে থাকে তখন সে সামনে যা পায় তাই আঁকড়ে ধরে – সেটা মরা লাশ না কলা গাছ তাতে বাছ বিচার নাই।জামাত বিএনপির এখন সেই অবস্থা।

গত দুইদিন যাবত দেখছি তাদের মধ্যে আনন্দের হিল্লোল।ইউরেকা ইউরেকা,পেয়ে গেছি পেয়ে গেছি ভাব।

গত দুইদিন যাবত দেখছি একটা ভিডিও তারা বেশ আনন্দে গদগদ হয়ে শেয়ার করছে,ঈদ ঈদ ভাব।ভাবখানা এমন যেন এবার আর সরকার যাবে কোথায়? পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তো ব্যাপারটা কি? একটা ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক কভিড ১৯ এর টিকা নেবার পরিষ্কার অভিনয় করছেন।ব্যাস আর যায় কোথায়? পেয়ে গেছেন ব্রক্ষ্রাস্ত্র।খালে বিলে কামান দাগা শুরু করেছেন।

সংক্ষেপে ব্যাপারটা হল এই, এটিএন বাংলার সাংবাদিক দেরীতে পৌঁছায় সত্যিকারের টিকা নেবার দৃশ্যটি ধারণ করতে না পারায় মন্ত্রীকে মক টিকা গ্রহণ করতে বলেন।মন্ত্রী মোজাম্মেল হক একদিকে যেমন সরল নিপাট ভদ্রলোক, তাই তিনি সানন্দে অনুরোধ রক্ষা করেছেন অন্যদিকে তিনি মুক্তিযুদ্ব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেব এই ব্যাপারে তিনি কঠোর, আপোষহীন।আর সম্প্রতি তিনি রাজাকারের তালিকা প্রণয়নের ব্যাপারে বেশ শক্ত অবস্থানে,তাদের খড়গের নীচে।আর যায় কোথায়? রাজাকার, তস্য রাজাকার আর তাদের ছানাপোনারা এমন একটা গরম মাশাল্লা (তারা মনে করে) হাতে পেয়ে মহা উল্লসিত।ইদানীং প্রায় বেকার বাঁশের কেল্লার খোঁয়াড়ের প্রাণীকুল তো বটেই ইউরোপ আমেরিকায় বসবাসরত ইলিয়াস, খলিল, তুহিন মালিক গংরাও নিরাপদ দূরত্বে বসে আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছেন।সেটা লাগসই হল কিনা তাতে কিছু আসে যায়না। উপরোক্ত মহারথীদের বচন তাদের কাছে অমৃত সম,মৃত সঞ্জীবনী সুধা, ক্লান্ত বিপর্যস্ত তৃষ্ণার্থ মরুভূমির মুসাফিরের কাছে এক আজলা বরফ শীতল জল।যাই লিখেন না কেন? আহা মরি মরি!লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের বন্যা বইয়ে দেন।

আমি নিজেও দেখেছি অনেক অনুস্ঠানে সাংবাদিকদের অনুরোধে প্রধান অতিথি কে ডায়াসে এসে বক্তৃতার অভিনয় করতে, কারণ টিভি ক্যামেরা পরে এসেছে বা সংবাদ ধরার জন্য টিভি ক্যামেরা চলে যাবে বলে।ব্যাপারটা খাপছাড়া, কিন্ত বাংলাদেশে এটা প্রচলিত চর্চা।স্বয়ং বক্তৃতারত জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুস্ঠানেও দেখেছি ডানে দাঁড়ানো সাংবাদিক অনুরোধ করছেন,আপা একটু ডানে ঘুরে বলেন।

তবে এই ঘটনা কয়েকটি ব্যাপার সামনে নিয়ে আসছে।ডিজিটাল এক্ট আইন নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক চলছে।এই অপকর্ম এই আইনের প্রাসঙ্গিকতার পক্ষে যায়।মন্ত্রী মহোদয়ের সরল বিশ্বাসের এই দৃশ্য কে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া এক ধরনের ব্লাকমেইলিংয়ের পর্যায়ে পড়ে।এটা কারা করেছে বের করাটা কঠিন কিছু নয়।এই অনৈতিক কাজটি যারা করেছে তাদের বের করে যথাযথ শাস্তি বিধান করা উচিত।

লেখক-কবি ও রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম।

 






Related News