Saturday, November 14th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: November 14, 2020

কুয়েত মৈত্রী, কুর্মিটোলা, মুগদাতে ফাঁকা নেই আইসিইউ বেড

করোনায় আক্রান্ত হয়ে জটিল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানী ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর শূন্য আইসিইউ বেডের সংখ্যা কমছে। শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, করোনা রোগীদের শতকরা ৮০ শতাংশের মধ্যে মৃদু লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের হাসপাতালে যেতে হয় না। বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশের উপসর্গ তীব্র হয় এবং হাসপাতালে যেতে হয়। বাকি ৫ শতাংশের অবস্থা থাকে জটিল, তাদের আইসিইউ বেডের পাশাপাশি দরকার হয় ভেন্টিলেটর।

দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম তিন জন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই রোগী শনাক্তের হার চলে যায় ২০ শতাংশের ওপরে। এ অবস্থা চলতে থাকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে থাক। প্রায় এক মাসের বেশি সময় থেকেই শনাক্তের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে গত ২ নভেম্বর রোগী শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশে।

সংক্রমণের মাঝের সময় জুন-জুলাইয়ের দিকে আইসিইউ না পেয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও গণমাধ্যমে এসেছে। তারপর থেকে সংক্রমণের হার কমার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা এবং সাধারণ শয্যা ফাঁকা হতে শুরু করে। শয্যা ফাঁকা থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল কমিয়ে আনে।

তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

আইসিইউতে রোগী কেন বাড়ছে জানতে চাইলে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদ হোসেন মাসুম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভাইরাস আগের চেয়ে আরও বেশি তীব্রতা নিয়ে আক্রমণ করছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আবার ঢাকার বাইরে থেকেও জটিল রোগীদের এখানে রেফার করা হচ্ছে। কারণ, ঢাকার বাইরে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা তত উন্নত না, যোগ করেন তিনি।

ঢাকার সরকারি আইসিইউ শয্যাগুলোর অধিকাংশই ভর্তি থাকে জানিয়ে ডা. শাহজাদ হোসেন বলেন, আবার বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সবার পক্ষে এফোর্ট করাও সম্ভব হয় না।

অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি জানাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে যথাক্রম ১৬, ১০ এবং ১৪টি। এই তিন হাসপাতালের একটি বেডও বর্তমানে ফাঁকা নেই।

অপরদিকে, আরেক বড় হাসপাতাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবন করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। ওই ভবনে আইসিইউ বেড রয়েছে ২১টি, ফাঁকা আছে মাত্র তিনটি। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে থাকা ১৫টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী রয়েছে ৮টিতে, ফাঁকা রয়েছে ৭টি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আইসিইউ বেডে রোগী রয়েছেন ১০ বেডে, ফাঁকা রয়েছে ৬টি। ২৫০ শয্যার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে ১৬টি, রোগী আছেন চারটিতে, ফাঁকা রয়েছে ১২টি।

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০টি বেডের মধ্যে রোগী আছেন ৫টিতে, ফাঁকা রয়েছে বাকি ৫টি। সরকারি কর্মচারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে ৬টি, রোগী আছেন পাঁচ জন, ফাঁকা রয়েছে একটি। আসগর আলী হাসপাতালে থাকা ৩৬টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী আছেন ২৫টিতে, বাকি ১১টি ফাঁকা। স্কয়ার হাসপাতালে বেড রয়েছে ২৫টি, রোগী আছেন আট জন, ফাঁকা রয়েছে ১৭টি। ইবনে সিনা হাসপাতালে থাকা ছয়টি বেডের সবগুলোতে রোগী ভর্তি আছেন। ইউনাইটেড হাসপাতালের ২২ বেডে রোগী আছেন ১৫ জন, বাকি সাতটি বেড এখনও শূন্য রয়েছে। এভার কেয়ার হাসপাতালে রয়েছে ২০টি আইসিইউ বেড, রোগী আছেন ১৮ জন, শূন্য আছে দুটি। ইম্পালস হাসপাতালে আইসিইউ বেড রয়েছে ৫৬টি, রোগী আছেন ১০ জন, ফাঁকা রয়েছে ৪৬টি। এ এম জেড হাসপাতালে ১০টি বেডের মধ্যে রোগী আছেন সাত জন, বাকি তিনটি ফাঁকা। আর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ১২টি বেডের সবগুলোতে রোগী ভর্তি আছেন।

অর্থাৎ রাজধানী ঢাকার ৩১৪টি আইসিইউ বেডের মধ্যে রোগী আছেন ১৯৪ জন আর ফাঁকা রয়েছে ১২০টি। তবে কিছু দিন আগেও রোগীর তুলনায় শূন্য বেডের সংখ্যাই বেশি ছিল।

চট্টগ্রামে করোনার জন্য ডেডিকেটেড থাকা ১০টি হাসপাতালে এখনও শূন্য বেডের সংখ্যাই বেশি। সেখানে আইসিইউ বেড রয়েছে ৩৯টি, রোগী আছেন ১১ জন। ফাঁকা রয়েছে ২৮টি । সারাদেশে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ রয়েছে ৫৬৪টি। রোগী ভর্তি আছেন ২৭৪ জন, আর ফাঁকা রয়েছে ২৯০টি।

Posted by: | Posted on: November 14, 2020

হঠাৎ গরম রাজনৈতিক পরিস্থিতি

হঠাৎ করেই গরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) কাছাকাছি সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে ৯টি বাসে অগ্নিসংযোগের সূত্র ধরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ঘটনার পরপরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার জের ধরে বিএনপির আটক করা নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে দুইদিনের প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৮ এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিনে রাজধানীর কয়েকটি স্পটে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নির্বাচনে এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। তার ভোট বর্জনের ঘোষণার আগে-পরে এসব বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করে। এর পর পরই দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে বিএনপি অফিসের উত্তর পাশে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে একে একে মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে, রমনা হোটেলের সামনে, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে, সচিবালয়ের উত্তর পাশে, নয়াবাজার এলাকায়, পল্টন থানাধীন পার্কলিং মতিঝিল থানার পূবালী পেট্রোল পাম্পের কাছে এবং ভাটারা থানার কোকাকোলা মোড়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ঘটনার জের ধরে পুলিশ ৪৪৬ জনকে আসামি করে রাজধানীর ৬টি থানায় ৯টি মামলা দায়ের করেছে। এতে গত দুই দিনে বিএনপির ২৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিার গাড়িতে আগুনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। ওই সভায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে বলা হয়- উপনির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপি ও জামায়াত পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য চালিয়েছে। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করা হয়।

অগ্নিসংযোগের ঘটনার জের ধরে শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

ওবায়দুল কাদের করোনা সংক্রমনের গত সাত মাসে এই প্রথম দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এর আগে অবশ্য তিনি ভিডিওবার্তায় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে আসছিলেন। দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কাদের ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বলেন, পুরনো আগুন সন্ত্রাসের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি, এটা তারা আগের মতো শুরু করেছে। এর মধ্যে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে, পুলিশের কাছে আছে, এখানে বিএনপি কর্মীদের উপস্থিতি চেহারা দেখলে বোঝা যায়। তারা বাসের ভেতরে যাত্রী সেজে বসে থেকে আগুন লাগানোর সময় আগুন আগুন বলে যাত্রী সেজে পিছনের দরজা দিয়ে বেড়িয়ে যায়। এ সময় কাদের ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে ব্যাপক নাশকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবারের নাশকতা প্রমাণ করেছে, বিএনপি তাদের চিরাচরিত সন্ত্রাসী পথ পরিহার করতে পারেনি। তাদের নীলনকশা অনুযায়ী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং রাজধানীতে এই নাশকতা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ‌’দাঁত ভাঙা’ জবাব দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

অপরদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের পেছনে ‘সরকারের এজেন্টরা’ রয়েছে বলে দাবি করে বলেন, কাল যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা ন্যক্কারজনক। এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সাহায্য করে না, ক্ষতিগ্রস্ত করে।  ছাত্রলীগের এক ছেলেকে গতকালের ঘটনায় গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাকে নাকি পয়সা-টয়সা দিয়ে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগের লোকেরা।

এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের যে অভিজ্ঞতা আপনারাও জানেন, দেখা যায় যে, সরকারের কিছু কিছু অংশ যারা বিভিন্নভাবে কাজ করে, কেউ কেউ স্যাবোটাজ করার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, বিএনপি এই রাজনীতি করে না।

শুক্রবার বিকালে গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের জরুরি সংবাদ সম্মেলন মির্জা ফখরুল ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন বতিল এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা‘ প্রত্যাহারের দাবিতে শনি ও রবিবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। শনিবার সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে এবং রবিবার সারা দেশে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

Posted by: | Posted on: November 14, 2020

হেফাজতের সম্মেলন ঘিরে অস্থিরতা: শফীপন্থীদের বিকল্প চিন্তা

হেফাজতকে নিয়ে  লিফলেট

আগামী রবিবার (১৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় বসছে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন, সেখানেই নির্ধারণ হবে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব। চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুতে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের এই সংগঠনটির শীর্ষপদ শূন্য হয়। আসন্ন এই কাউন্সিলে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব নির্ধারণকে কেন্দ্র ইতোমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে কওমি অঙ্গন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আলেমদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা অস্বস্তি। একটি পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই সম্মেলন না মানার ঘোষণা এসেছে, আরেকটি পক্ষ নীরবে নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর। এরইমধ্যে আহমদ শফীর স্বাক্ষরিত হেফাজতের নতুন একটি কমিটির কাগজপত্র ছড়িয়ে পড়েছে আলেমদের মাঝে। সর্বশেষ শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) চট্টগ্রামে রবিবারের সম্মেলনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে এবং লিফলেট প্রচারণাও চালিয়েছে আলেমদের একটি পক্ষ।

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা ও চট্টগ্রামের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের এই সংগঠনটি এখন অনেকটাই ভাঙনের মুখে পড়েছে। রবিবার যে সম্মেলন ডাকা হয়েছে, ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাননি হেফাজতের তিনটি অংশের নেতারা। এই তিনটি অংশ হলো— জমিয়ত (মুফতি ওয়াক্কাছ অংশ), ইসলামী ঐক্যজোট ও আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাদানী গ্রুপ। এছাড়া, আমন্ত্রণ না পাওয়াদের মধ্যে মধুপুরের পীরও রয়েছেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (মুফতি ওয়াক্কাস-নায়েবে আমির হেফাজত) সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা কোনও আমন্ত্রণ পাননি।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি মঈনুদ্দিন রুহিও আমন্ত্রণ পাননি। তারা দুজনেই হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন।

আহমদ শফীর পক্ষাবলম্বনকারী নেতারা জানিয়েছেন, রবিবার হেফাজতের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দেখেই তারা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।

শুক্রবার বিকালে হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনাস মাদানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্মেলনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি আমন্ত্রণ পাইনি। এগুলোকে তারা গুনতেছে না। এককালে আমাদের প্রয়োজন ছিল। হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সময় এমন অবস্থা ছিল, যে তাদের ডাকে কেউ সাড়া দিতো না। ওলামা সম্মেলন বলেন বা তারপর কমিটিগুলো করতে আলেমদের দাওয়াতের বিষয় আসলে তখন আমাদের প্রয়োজন ছিল। তাদের কোনও পরিচয় ছিল না, তাদের ডাকে কেউ সাড়া দিতো না।’

আনাস মাদানীর অভিযোগ— ‘হেফাজতকে ভাঙনের উদ্দেশ্যেই তাদের আমন্ত্রণ না দেওয়া হতে পারে। সংগঠন অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্য থাকলে তাদের উদারতা দেখানোর দরকার ছিল।’

হেফাজতের নেতৃত্বে বাবুনগরী-কাসেমী?

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত কওমি মাদ্রাসার আলেম ও বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হেফাজতের আসন্ন নতুন সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (কাসেমী) মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা ভূমিকা রাখছেন। এক্ষেত্রে এই তিন অংশের নেতাদের সঙ্গে সরকারের একটি পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে নিয়মিত, এমন দাবি করেছেন একাধিক আলেম। সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে আমির হিসেবে জুনায়েদ বাবুনগরী, সিনিয়র নায়েবে আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বা চট্টগ্রাম হেফাজতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম থাকতে পারেন। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হকের নাম থাকতে পারে বলে জানান হেফাজতের একাধিক নেতা। তাদের দাবি, মূল কমিটি অনেকটাই প্রস্তুত হয়ে গেছে। এ নিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসায় বাবুনগরীর বিরুদ্ধে চার পৃষ্ঠার লিফলেট ও মামুনুল হকের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ হয়েছে  শুক্রবার।

.

” onclick=”return false;” href=”https://cdn.banglatribune.com/contents/cache/images/800x0x1/uploads/media/2020/11/13/3ca570a224c2e93c91654e49b6250afe-5faeb3f1a3ff0.jpg” title=”” id=”media_1″ class=”jw_media_holder media_image jwMediaContent aligncenter”>বাবুনগরীকে নিয়ে লিফলেটের প্রথম পৃষ্ঠা

হেফাজতের একটি অংশের নেতারা জানান, হাটহাজারী মাদ্রাসায় নিজের প্রভাব অটুট রাখায় হেফাজতের আমির পদটিতে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে দেখা যাবে। মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে তার অনুসারী বেশি হওয়ায় সম্মেলনেও বিষয়টি প্রভাব ফেলবে, এমন ধারণা করছেন কোনও কোনও আলেম। এছাড়া কওমি মাদ্রাসায় ‘মানহাজি’ নামে নতুন একটি কট্টরপন্থীগোষ্ঠী বাবুনগরীকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হচ্ছে, যাদের প্রভাব প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিক্ষোভে। ওই বিক্ষোভে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দিন রুহিকে পিটিয়ে শরীরে জুতো প্রদর্শনের ঘটনায় এই ‘মানহাজি’ কট্টরপন্থীদের ভূমিকা ছিল বলে জানান কয়েকজন আলেম। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে মুফতি ওয়াক্কাছকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ওই কমিটি কোনও কার্যক্রম পরিচালনা করেনি।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দিন রুহিকে পিটিয়ে  আহত করা হয়

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পর্যালোচনা কমিটির সদস্য বেফাকের দায়িত্বশীল মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফী যেহেতু বেফাকের সভাপতি ছিলেন, সে কারণে তার মাদ্রাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভের বিষয়ে বেফাকের পক্ষ থেকে একটি পর্যালোচনা কমিটি করা হয়েছিল মুফতি ওয়াক্কাছ সাহেবের নেতৃত্বে। এই কমিটিতে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জিও আছেন। এখন পর্যন্ত আহ্বায়কের পক্ষ থেকে কোনও বৈঠক ডাকা হয়নি।’

কমিটির আরেকটি সূত্রের দাবি, হাটহাজারী মাদ্রাসার বিক্ষোভের ঘটনাটি রহস্যজনক। এক্ষেত্রে অনেক লোকজন আছেন— যারা মনে করে তদন্ত হলে সমস্যা। তাই হয়তো এটা নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই।

জানতে চাইলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুর রব ইউসূফী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি শ্রেণি তো জনগণের কাছে ধিকৃত আছে। ধিকৃত লোকেরা তো নানা কথা বলতেই পারে। মাওলানা বাবুনগরী শাপলা চত্বরের পর জেলে যাওয়া, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চিকিৎসার অফার আসা, পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়া, পরবর্তী সময়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার সমস্যার ক্ষেত্রে তিনি তার নীতিতে অটল ছিলেন। নতজানু হননি। কাজেই তাকে ব্যবহার করার বাস্তবতা নেই। সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো ও নেওয়ার মতো যোগ্যতা তার আছে। হাটহাজারীতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে তার সংযোগ ছিল বলে আমি মনে করি না।’ তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস তো বুঝতে হবে, হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রশিক্ষক, স্টাফ তার প্রতি অনুগত। ফলে তার বিষয়ে অবমূল্যায়ন না করাই উচিত।’

হেফাজতের ঢাকা কমিটিকে কেন্দ্র করে শীর্ষ আলেমদের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে আমির ও মাওলানা মামুনুল হককে মহাসচিব করার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত হলেও নতুন করে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জি আমির হতে চাইছেন বলে দাবি করেছে হেফাজতের দায়িত্বশীল সূত্র। এ কারণে মাওলানা আতাউল্লাহ সম্প্রতি মাওলানা বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে।

হেফাজতের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, নতুন কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব, সহকারী মহাসচিব পদে কয়েকজন ইসলামি বক্তাকে দেখা যেতে পারে।

 

মৃত্যুর আগে হেফাজতের কমিটি করেছিলেন আল্লামা শফী

মারা যাওয়ার আগে গত ১৩ আগস্ট আহমদ শফীকে আমির, মাওলানা দিদার কাসেমীকে সিনিয়র নায়েবে আমির ও জুনায়েদ বাবুনগরীকে মহাসচিব পদে রেখে হেফাজতের নতুন কমিটি করেন আহমদ শফী। তার স্বাক্ষরিত ছয় পৃষ্ঠার ওই কমিটির কাগজপত্র তার কক্ষেই পাওয়া যায় বলে দাবি করেছেন তার অনুসারী এক যুগ্ম মহাসচিব।

 

লিফলেট

হেফাজতের সম্মেলনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মিছিল-লিফলেট

রবিবার হেফাজতে ইসলামের আসন্ন প্রতিনিধি সম্মেলনের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কয়েকজন ছাত্র-শিক্ষক। স্থানীয় একজন সাংবাদিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম জামালখান এলাকায় ইসলামী ঐক্যজোটের ছাত্র সংগঠন ছাত্র খেলাফত হেফাজতের কাউন্সিলের বিরুদ্ধে ঝটিকা মিছিল করেছে। ছাত্র খেলাফতের সভাপতি, সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলে ‘প্রহসনের কাউন্সিল মানি না। দালালমুক্ত হেফাজত চাই’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।

হাটহাজারী মাদ্রাসার একাধিক ছাত্র-শিক্ষক জানান, বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) ও  শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) হেফাজতের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে লিফলেট প্রচার করেছেন হেফাজতের একটি অংশের নেতাকর্মীরা। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও  হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা সদস্যদের উদ্দেশে লেখা চার পৃষ্ঠার লিফলেটে বাবুনগরীর বিরুদ্ধে নানা রকম বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে হেফাজতের বিক্ষোভ

রবিবারের সম্মেলন দেখে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে শফীপন্থীরা

হেফাজতের প্রয়াত আমির আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারীরা বলছেন, রবিবার বাবুনগরী-নির্ভর সম্মেলনের পরিস্থিতি দেখেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন তারা। এক্ষেত্রে তারা এখনও প্রত্যাশা করছেন, সম্মেলনে আমন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত তারা পাবেন। যদিও কোনও কোনও নেতা পরিষ্কার করেই জানিয়েছেন— রবিবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণের কোনও সুযোগ আর নেই। আল্লামা শফীপন্থীদের বিরুদ্ধে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে, তাতে উভয়পক্ষের এক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে আহমদ শফীর ছেলে ও হেফাজত নেতা মাওলানা আনাস মাদানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম আমিরনির্ভর আধ্যাত্মিক সংগঠন। এটাই সংগঠনের সৌন্দর্য। এখন আমির পদে কেউ নেই, সিনিয়র নায়েবে আমির পদে কেউ নেই, তাহলে কীভাবে মহাসচিব সম্মেলন আহ্বান করেন? তারা যাদের মাইনাস করবেন, মাইনাস তারা করে ফেলুক। এরপর চিন্তা করবো। আমরা আগে মজলুম আছি, মজলুম থেকেই কোনও কিছু করতে পারি কিনা। জালেম বনতে (হতে) চাই না।’

নেজামে ইসলামী পার্টির বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একেএম আশরাফুল হক বলেন, ‘দেশের ইসলামি অঙ্গনের সবার সমন্বিত হওয়ার কারণেই হেফাজতে ইসলাম দেশের বৃহত্তম অরাজনৈতিক দ্বীনী সংগঠনে রূপ লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। এখনও যদি আগামী ১৫ তারিখের কাউন্সিলে দল ও মতের সমন্বয় না করা হয়, তাহলে সেটা খণ্ডিত হেফাজত হবে। সরকারের উচ্চ মহলের এবং আন্তর্জাতিক ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশে ও তাদের সমর্থনে চিহ্নিত একটি গ্রুপ হেফাজতকে ধ্বংস করার জন্য সংগঠনটিকে ব্যাপক করার পরিবর্তে সংকুচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও সময় আছে। সবাইকেই দাওয়াত দেওয়া হবে। দাওয়াত শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে। আস্তে আস্তে সবাই দাওয়াত পাবেন। প্রতিনিধি সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিনশ’ প্রতিনিধি আশা করা হচ্ছে উপস্থিত থাকবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আজিজুল হক বলেন, ‘কিছুদিন আগেই হেফাজতের দুইটি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন। যারা বিভক্তির কথা বলছেন, তারা নিশ্চয়ই এটা বুঝবেন।’

Posted by: | Posted on: November 14, 2020

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন বন্ধের আহ্বান মামুনুল হকের

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক। শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে তিনি এ দাবি জানান।

মামুনুল হক বলেন, ‘ধোলাইখালে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সু-সন্তান হতে পারে না। এর মাধ্যমে মসজিদের শহরকে মূর্তির শহরে পরিণত করার অপচেষ্টা চলছে। এ মূর্তি স্থাপন বন্ধ করুন। যদি আমাদের আবেদন মানা না হয়, আবারও তওহিদি জনতা নিয়ে শাপলা চত্ত্বর কায়েম হবে।’

মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফের সঞ্চালনায় এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, ইসলামী যুব খেলাফত বাংলাদেশের সভাপতি মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা কুরবান আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামেল যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ আরমান, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী প্রমুখ।

Posted by: | Posted on: November 14, 2020

নেইমারকে ছাড়াই আর্জেন্টিনাকে সরিয়ে শীর্ষে ব্রাজিল

ব্রাজিলের গোল উদযাপন

চোটে ছিটকে গেছেন নেইমার। ফিলিপে কুতিনিয়োও নেই একই কারণে। ওদিকে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত কাসেমিরো। দলের মূল খেলোয়াড়েরা না থাকলেও লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জয়রথ থামেনি ব্রাজিলের। রবের্তো ফিরমিনোর গোলে ভেনেজুয়েলাকে ১-০ গোলে হারিয়ে পেয়েছে টানা তৃতীয় জয়। আর এই জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে সরিয়ে বসেছে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

আজ (শনিবার) সকালে ঘরের মাঠ সাও পাওলোতে জিততে অবশ্য ঘাম ঝরাতে হয়েছে সেলেসাওদের। গত মাসে পেরুর বিপক্ষে পাওয়া ৪-২ গোলে জেতা ম্যাচের একাদশ থেকে চারটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ তিতে। নেইমার, কাসেমিরো, কুতিনিয়ো ও ওয়েভার্টনের জায়গায় একাদশে জায়গা পান গ্যাব্রিয়েল জেসুস, অ্যালান, এভারটন ও এদেরসন। ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী রক্ষণভেদ করা কঠিন হয়ে উঠলেও ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন ফিরমিনো। এই জয়ে ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বসেছে ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা।

গত বছরের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছিল ভেনেজুয়েলা গোলশূন্য ড্রতে। সেলেসাওরা তাই ভালো করতেই জানতো কঠিন পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছে তারা। এর ওপর আবার চোটের কারণে আগেই হারিয়েছে নেইমারকে। প্যারিস সেন্ত জার্মেই ফরোয়ার্ড না থাকায় আক্রমণভাগে বরবার আটকে যাচ্ছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সাত মিনিটের মধ্যেই অবশ্য একবার বল জালে জড়িয়েছিল স্বাগতিকরা, যদিও রিচার্লিসনের গোলের পরপরই ওঠে লাইন্সম্যানের পতাকা।

কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা বল পজেশন নিয়ন্ত্রণে রাখলেও নিশ্চিত কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। ম্যাচ ঘড়ির কাঁটা আধঘণ্টা পেরোনোর পর ফাঁকায় থাকা জেসুস সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন, এরপর রিচার্লিসনের একটি চেষ্টা চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। সফরকারী ভেনেজুয়েলা প্রথমার্ধে একবারই কেবল ভয় ছড়িয়েছিল ব্রাজিলের রক্ষণে।

ভেনেজুয়েলার রক্ষণ ভেঙে অবশেষে জালের দেখা পায় ব্রাজিল ৬৭ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে এভারটনের ক্রস প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের হেড হয়ে আসে ফিরমিনোর সামনে। একেবারে গোলমুখে ফাঁকায় থাকা লিভারপুল স্ট্রাইকার সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি। ডান পায়ে বল ঠেলে জড়িয়ে দেন জালে। তার ওই গোলটাই ব্রাজিলকে জয়ের সঙ্গে বসিয়েছে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

এই অঞ্চলের ২০২০ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বড় জয় পেয়েছে উরুগুয়ে। লুইস সুয়ারেজ ও এদিনসন কাভানির লক্ষ্যভেদে কলম্বিয়াকে তাদেরই মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়ে এসেছে। পঞ্চম মিনিটেই উরুগুয়ে এগিয়ে যায় কাভানির গোলে। দ্বিতীয়ার্ধের ৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সুয়ারেজ করেন দ্বিতীয় গোল। আর ৭৩ ‍মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান দারউইন নুনেজ। অন্যদিকে আর্তুরো ভিদালের জোড়া গোলে পেরুকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে চিলি।