Friday, October 9th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: October 9, 2020

ইস্কাটনে এক হাজার ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দুই

রাজধানীর রমনা এলাকায় এক হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মনিরুজ্জামান ও মোহাম্মদ আলী। তাদের কাছ থেকে ফেনসিডিল বহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রমনা থানাধীন ইস্কাটন রোডের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে অভিযান পরিচালনা করে ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল সংগ্রহ করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Posted by: | Posted on: October 9, 2020

বিশ্ব ডিম দিবস আজ

দিবসটি উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর (ডিএলএস), বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এবং ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠন, সর্বোপরি ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে এ দিনটি বিশ্বজুড়ে একযোগে পালিত হয়ে আসছে।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার প্রথম বিশ্ব ডিম দিবসের আয়োজন করা হয়। ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে বর্তমানে বিশ্বের ৪০টি দেশে পালিত হয় দিবসটি।

পুষ্টিবিদরা জানান, ডিমে সুলভমূল্যে উচ্চমাত্রার প্রোটিন পাওয়া যায়। পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ডিমের বিকল্প নেই। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনের খাদ্য হিসেবে ডিমের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা প্রচার করা হয় এই দিনে।

বাংলাদেশের মানুষ বছরে ডিম খায় গড়ে মাত্র ৪৫-৫০টি। অথচ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বছরে একজন মানুষের ন্যূনতম ১০৪টি ডিম খাওয়া উচিত।

Posted by: | Posted on: October 9, 2020

বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় ভারত : বিক্রম দোরাইস্বামী

বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় ভারত এবং এটি কখনোই হ্রাস পাবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ভারতীয় দূতাবাসে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

হাইকমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র উপস্থাপনের পরপরই আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আমার জন্য সম্মান এবং সৌভাগ্যের।

তিনি বলেন, প্রথমত, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ সবসময় ভারতের অত্যন্ত বিশেষ অংশীদার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের বন্ধুত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনেক ঊর্ধ্বে। কারণ এ বন্ধুত্ব রচিত হয়েছে অভিন্ন ত্যাগ, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মীয়তার অনন্য সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশকে ভারত সর্বোচ্চ স্তরের গুরুত্ব দেয় এবং এটি কখনোই হ্রাস পাবে না।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, আমাদের অংশীদারিত্বের উৎস পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ঐতিহাসিক জনযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি জাতিকে রূপদানকারী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের চেতনার প্রতি আমরা গভীরভাবে প্রশংসা ও সম্মান জানাই। আপনারা অসংখ্য মৃত্যু ও মা-বোনদের প্রতি বর্বর নির্যাতন উপেক্ষা করে অনন্য সাহস এবং বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের ওপর হওয়া অত্যাচার ও কঠোরতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

বিক্রম বলেন, আপনাদের মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের সহায়তা করতে পারা আমাদের জন্য সবসময়ই সম্মানের হয়ে থাকবে যেমনভাবে, প্রায় ৫০ বছর পরও আপনাদের সাহসের প্রতি ভারতে আজও আমরা সম্মান জানাই। সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য বাংলাদেশ আজ সমানভাবে সম্মানিত।

তিনি বলেন, এই চেতনায় এবং মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকীর স্মরণীয় বছরগুলোর স্বীকৃতি হিসেবে আমি মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অংশীদারিত্বের জন্য সেবা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই আমি আখাউড়া স্থলসীমান্ত থেকে সরাসরি ধানমন্ডিতে তার স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘর পরিদর্শন করে বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বল নেতৃত্বের প্রতি বিনীত ও আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আমি আগামীকাল সাভারে যাচ্ছি বাংলাদেশের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

হাইকমিশনার বলেন, আমি স্বীকার করি নিকটতম সম্পর্কেরও পরিচর্যা করা প্রয়োজন। ভারত সরকার আমাকে ঠিক তাই করার নির্দেশ দিয়েছে। আমি এবং আমার সহকর্মীরা এই অংশীদারিত্বকে সর্বস্তরে প্রচার করতে কোনো সুযোগই ছাড়ব না। আমরা উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট সব মাধ্যমে এই অংশীদারিত্বের পক্ষে সর্বোচ্চ সমর্থন জানাব।

তিনি বলেন, এ কারণেই করোনা মহামারির মধ্যেও আমাদের পররাষ্ট্র সচিব বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্থগিতের পরে বাংলাদেশকে তার প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আমরা শিগগিরই বিমান চলাচল শুরুর জন্য একটি বিশেষ ‘এয়ার বাবল’ ব্যবস্থা চালু করব। আমরা কোভিড মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, আমরা যতই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আমাদের নেতারা আমাদের সম্পর্কের জন্য তাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবেন। আমাদের এই প্রচেষ্টায় গণমাধ্যমের বন্ধুদের সবসময় সহায়তা কামনা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রত্যাশা পূরণে আমি এবং আমার সহকর্মীরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।

Posted by: | Posted on: October 9, 2020

নারী নির্যাতন বিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপচেষ্টা চলছে : তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২০  : তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘নারী নির্যাতন বিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপচেষ্টা করছে’।
তিনি বলেন, ‘নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে কেউ কেউ সরকারের পদত্যাগ দাবি করছেন, তাদের উদ্দেশ্য অপরাধীদের শাস্তি দেয়া নয়, এই ইস্যুর আড়ালে স্বার্থ চরিতার্থ করা।’
তথ্যমন্ত্রী আজ দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন আহমেদের কাছ থেকে কাউন্সিলের বার্ষিক প্রতিবেদন গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে কেউ কেউ সরকারের পদত্যাগ দাবি করছে- এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একথা বলেন।
তথ্যসচিব কামরুন নাহার ও প্রেস কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল মজিদ, নূরে জান্নাত আকতার সীমা ও কাউন্সিল সচিব শাহ আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ইদানিংকালে যে সমস্ত অনভিপ্রেত ঘটনা বিশেষ করে নারী ও শিশুনির্যাতন ঘটেছে, সেগুলোর অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, প্রতিবাদ হবে, সেটা স্বাভাবিক এবং প্রতিবাদ হলে সরকারের পক্ষে ব্যবস্থা নেয়াও সহজ হয়।’
‘কিন্তু এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে যারা সেখানে সরকারের পদত্যাগ চায় কিংবা প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মন্তব্য করে, তখন বুঝতে হবে এদের উদ্দেশ্য নারী এবং শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি দেয়া নয়, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই ইস্যুর আড়ালে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করা এবং এটি বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি অপচেষ্টা’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এবিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তথ্য মন্ত্রণালয় এবিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না -এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘তথা মন্ত্রণালয় এধরনের বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বহু আগে থেকেই প্রচার কাজ চালিয়ে আসছে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এক্ষেত্রে কাজ করছে। আজকের প্রেক্ষাপটে এবিষয়ে প্রচার কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। একইসাথে ওটিটি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে যাতে দেশের আর্থ-সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির পরিপন্থী কিছু আপলোড করা না হয়, সেজন্যও আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের সবার সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।’
ড. হাছান মাহমুদ এসময় প্রতিবেদন উপস্থাপন ও সম্পাদিত কার্যাবলীর জন্য প্রেস কাউন্সিলকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, প্রেস কাউন্সিলের বার্ষিক প্রতিবেদনটি তিনি প্রথানুযায়ী জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে গঠিত প্রেস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুমাত্রিক ন্যায়ভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেও কাজ করছে সরকার।বাসস ।

Posted by: | Posted on: October 9, 2020

ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়কটিকে রাষ্ট্রপতির উপহার হিসেবে বর্ণনা প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২০: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়কটিকে মুজিববর্ষে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক উদ্বোধন শেষে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে বলেন, ‘আমরা মুজিববর্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এটি উপহার হিসেবে দিয়েছি।’
এ সময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে এমন মহাসড়ক তৈরির উদ্যোগ নেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাঁর (রাষ্ট্রপতির) অনুপ্রেরণা ও উদ্যোগের কারণে রাস্তাটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’
এ অঞ্চলে এই জাতীয় মহাসড়ক নির্মিত হতে পারে এটা কল্পনার বাইরে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় এই মহাসড়কটি নির্মাণের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়ে যাবে।’
এ অঞ্চলের মানুষ এখন নাসিরনগর বা ভৈরব হয়ে দ্রুত ঢাকা যেতে পারবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই মহাসড়ক নির্মাণ করে একটি দুর্দান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।’
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার মধ্যে সারা বছর চলাচলের জন্য নির্মিত হয়েছে হাওরের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮৭৪ দশমিক ০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কটি নির্মাণ করেছে।
২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
হাওরের বুক চিরে চলে যাওয়া ২৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অলওয়েদার সড়কে ৫৯০ দশমিক ৪৭ মিটার দীর্ঘ তিনটি পিসি গার্ডার, ১৯০ মিটার দীর্ঘ ৬২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ২৬৯ দশমিক ৬৮ মিটার দীর্ঘ ১১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
এরমধ্যে ২৬১ দশমিক ৮১ মিটার দীর্ঘ ভাতশালা সেতু, ১৭১ দশমিক ৯৬৪ মিটার ঢাকী সেতু ও ১৫৬ দশমিক ৭২ মিটার দীর্ঘ ছিলনী সেতু মহাসড়কের সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্ষায় ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় ৭ দশমিক ৬০ লাখ বর্গমিটার সিসি ব্লক দিয়ে স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম প্রকল্পের পর একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মহাসড়কটির ওপর একটি ভিডিও চিত্র ও প্রদর্শিত হয়।
ভিডিওতে হাওরের বিস্ময় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের ভিডিও চিত্র দেখে হাওর ও সড়কটির সৌন্দর্যে অভিভূতি হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘ইশ! কবে যে যাব। এ সড়কে (দেখতে) কবে যে যাব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনটা পড়ে থাকলো। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে করে যাব। রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই। আমি যাব, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাবো।’
দেশের কোনো অঞ্চলের মানুষ আর অনুন্নত থাকবে না উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো হবে। হাওর এলাকায় কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা ও গড়ে তুলতে চায় সরকার।’

যেখানে যে পণ্যটা উৎপন্ন হয় সেখানেই সে শিল্প গড়ে তোলার দিকে সরকার নজর দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু হাওরে একটা বিশাল মৎস ভান্ডার রয়েছে তাই এই মৎস উত্তোলন, লালন-পালন ও মৎস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণের সুবিধা হয় সেই লক্ষ্যেই আমরা এই অঞ্চলে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, কৃষি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল অঞ্চলগুলোতে গড়ে তুলবো খাদ্য এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। কারণ, শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল থাকলেই হবে না। পণ্য উৎপাদন, বাজারজাত এবং বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের অর্জন করতে হবে-সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আরো অনেক কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। রাস্তা তৈরি হয়ে যাওয়ায় অষ্টগ্রামের বিখ্যাত পনির এখন কেবল ঢাকা শহরেই নয় বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব হবে অর্থাৎ অর্থনৈতিক ভাবে এই অঞ্চলের মানুষ যেন আরো সমৃদ্ধশালী হয় সেটাই আমরা করতে চাচ্ছি-বলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী পরে উপকারভোগী, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মত বিনিময় করেন।
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি। শুকনো মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, যেখানে সবুজ আর সোনালি রং মিলেমিশে একাকার। হাওরের বুকে বিশাল খোলা আকাশের রূপে মুগ্ধ ভ্রমণ পিপাসুরা। কখনো ঝকঝকে নীল আকাশ, কখনো আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। ভোরের সূর্য আর গোধূলীতে ভিন্ন রূপে সাজে হাওরের আকাশ।
বর্ষায় মাইলের পর মাইল বিস্তির্ণ জলরাশি, বর্ষা শেষে জলকাদা আর শুকনো মৌসুমে ফসলি জমি। বর্ষায় নৌকা আর অন্য ঋতুতে পায়ে হাঁটা ছাড়া চলাচলের উপায় ছিল না হাওরবাসীর।
নতুন সড়ক নির্মিত হওয়ায় হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সমাগম হচ্ছে। স্থানীয়দের কথায়, দৃষ্টিনন্দন রাস্তাটির সুবাদে জীববৈচিত্রে পরিপূর্ণ হাওরের সৌন্দর্য বেড়েছে।বাসস