Wednesday, August 12th, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: August 12, 2020

৭১ এ পদার্পণ করলেন জীবন্ত কিংবদন্তি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

জীবন্ত কিংবদন্তি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার আজ ৭১ বছরে পা দিলেন

দিপু সিদ্দিকীঃ আজ ১২ আগস্ট। বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারের  জন্মদিন। [৪]

জন্মদিনে বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শ্রদ্ধাঞ্জলি,আশীর্বাদ ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন  বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার।

শিশু প্রেমিক মন্ত্রি মোস্তাফা জব্বার এর জন্মদিনে শাদাব হাসিন সিদ্দিকীর শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ভালোবাসা নিবেদন করেছে লাখো শিশু। তাদেরই একজন শাদাব হাসিন সিদ্দিকী। হাসিন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারের ‘২০১৯ সালের প্রথম বন্ধু’। যা তিনি তার প্রোফাইল পিকচারে উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে ২ জানুয়ারী অমর কথাশিল্পী শওকত ওসমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মাননীয় ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই প্রশ্রয় ও ভালোবাসায় আপ্লুত হয় শাদাব হাসিন। মঞ্চে সংরক্ষিত ভিআইপি আসনে আসীন হয় শাদাব হাসিন। দু’জনা কিছুক্ষণের জন্যে হারিয়ে যান শিশুবিশ্বের এক অন্যজগতে, মুহূর্তেই মেতে ওঠেন নানা গল্পে খুনসুটিতে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা উপভোগ করেন একজন শিশুর সঙ্গে একজন মন্ত্রির অনবদ্য আড্ডার কৌশল, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি স্নেহ মমতার নিদর্শন। সে স্মৃতি শিশু শাদাব হাসিনের মনে স্থায়ী রেখাপাত করেছে। টিভি নিউজে মন্ত্রিকে দেখা মাত্রই আনন্দিত হয়। দাদাবন্ধু বলে অঙ্গুলি হেলায়। সুখস্মৃতি রোমন্থন করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে আজও সে চিনে ফেলে আজকের দিনে জন্মগ্রহণকারী জীবন্ত কিংবদন্তিকে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানায় হৃদয়ের গহীন নিলয় থেকে।

হে নতুন

দেখা দিক আর-বার

জন্মের প্রথম শুভক্ষণ!

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিজের জন্মদিন সর্ম্পকে এই উক্তি করেছেন, এই উক্তি দিয়েই যে কোনো গুণী মানুষকেই তাঁর জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো যেতে পারে। আজ ১২ আগস্ট। ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারের ৭১তম জন্ম দিন। মোস্তাফা জব্বার ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামের নানার বাড়ীতে তার জন্ম। মোস্তাফা জব্বারের বাবা আব্দুল জব্বার তালুকদার পাটের ব্যবসায়ী ও সম্পন্ন কৃষক ছিলেন। তার দাদা আলিমুদ্দিন মুন্সি ছিলেন বিশাল ভূ সম্পত্তির মালিক যার উপাধি ছিলো তালুকদার। তার মা রাবেয়া খাতুন সমগ্র জীবন গৃহিনী হিসেবেই জীবন যাপন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন, ভাটি বাংলার প্রবাদপুরুষ, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি মাধ্যমে গুণগত পরিবর্তন করে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক মানসম্মত যুগোপযোগী শিক্ষা এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, অন্যদিকে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ, সততা, নিষ্ঠা, জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ দেশপ্রেমিক হিসেবে উদ্বুদ্ধ করে এক নতুন আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন।

বাংলার প্রবাদপুরুষ, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী  মোস্তাফা জব্বার শিখিয়েছেন, কোনো সমস্যাই দুস্তর, অলঙ্ঘ্য নয়। তিনি তাঁর জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তা হলো, বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের  তার অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। তিনি একজন বৃহৎ স্বপ্নদ্রষ্টা, তাঁর স্বপ্নগুলো নব নব উদ্ভাবনে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিবর্গকে যুগ যুগ ধরে প্রভাবিত করে যাবে।তি নি যে সাহস, সহমর্মিতা ও সহানুভূতির সঞ্চার করছেন তাকে উপজীব্য করেই আমরা পথ চলব এবং আরও উন্নত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাব।

পরিশেষে বলতে চাই- ‘নাম মানুষকে বড় করে না, কর্ম মানুষকে বড় করে তোলে’। এই মহান উক্তিটি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী  মোস্তাফা জব্বার এর ক্ষেত্রে স্বার্থকতা পেয়েছে। প্রগতিশীলতা ও মানবতা, দেশপ্রেম ও আন্তর্জাতিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে তাঁর চিন্তা, কর্মে ও সৃজনে। জন্মদিনে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

প্রিয় মানুষ, প্রিয় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী  মোস্তাফা জব্বার  ৭১তম জন্মদিনে  ডেইলি প্রেসওয়াচ পরিবারেরও শ্রদ্ধা ও লালসালাম। দীর্ঘতর হোক তাঁর জীবন, পূর্ণতর হোক তাঁর সাধনা।

লেখক – দিপু সিদ্দিকীঃ সম্পাদক-ডেইলি প্রেসওয়াচ ও বিভাগীয় প্রধান,শিক্ষা বিভাগ,রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা ।

 

সপাদকঃ দৈনিক আজকালের খবর

সিনিয়র সাংবাদিক ফারুক তালুকদার ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী  মোস্তাফা জব্বার  ৭১তম জন্মদিনে  শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় পিতৃব্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন, ভাটি বাংলার প্রবাদপুরুষ, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মােস্তাফা জব্বার। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী  মোস্তাফা জব্বার  ৭১তম জন্মদিনে  শ্রদ্ধাঞ্জলিঃ

 

Ahmed Tepantor শুভজন্মদিন স্বপ্ন সারথী

Shamim Siddiqui

Mohosinul Karim শুভ জন্মদিন, প্রিয় আইটি ব্যক্তিত্ব…

Dipu Siddiqui শুভ জন্মদিন, প্রিয় ব্যক্তিত্ব..

Ahmed Kamal জন্মদিন শুভ হোক যুগ থেকে যুগান্তরে।
অভিনন্দন সহ শুভ কামনা রইলো।

সহ অনেকে ।

মোস্তাফা জব্বার (জন্ম: ১২ই আগস্ট, ১৯৪৯) একজন বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও চলমান শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।[১] তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সাবেক সভাপতি।[২] তার প্রতিষ্ঠানের বিজয় বাংলা কিবোর্ড ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় যা ইউনিকোড ভিত্তিক অভ্র কী-বোর্ড আসার পূর্বপর্যন্ত বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাধারণ বিষয়ের ওপর অনেকগুলো বইয়ের লেখক তিনি। তথ্যপ্রযুক্তি জগতে বাংলা ভাষা জনপ্রিয়করণে জব্বার একজন পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত হন।[৩]

পরিবার

মোস্তাফা জব্বারের পৈতৃক নিবাস নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। ১৯৪৯ সালের ১২ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামের নানার বাড়ীতে তার জন্ম। মোস্তাফা জব্বারের বাবা আব্দুল জব্বার তালুকদার পাটের ব্যবসায়ী ও সম্পন্ন কৃষক ছিলেন। তার দাদা আলিমুদ্দিন মুন্সি ছিলেন বিশাল ভূ সম্পত্তির মালিক যার উপাধি ছিলো তালুকদার। তার মা রাবেয়া খাতুন সমগ্র জীবন গৃহিনী হিসেবেই জীবন যাপন করেছেন। [৪]

শিক্ষাজীবন

১৯৬০ সালে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার অধীনস্থ) আজমিরীগঞ্জ এমালগামেটেড বীরচরণ(এ.বি.সি.) সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,বিরাট নামক একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হবিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে মানবিক শাখায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন এবং মানবিক শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই পরীক্ষাটি ১৯৭১ সালে হবার কথা ছিলো তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষা হলেও মুক্তিযুদ্ধের কারণে পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালের পরীক্ষা ১৯৭৪ সালে সম্পন্ন করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।[৫]

মুক্তিযুদ্ধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে মোস্তাফা জব্বার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুজিব বাহিনীর খালিয়াজুরি থানার সহ অধিনায়ক ছিলেন। তার বাড়ীর পাশের সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১৬১ জন রাজাকার যুদ্ধোত্তরকালে তার কাছে আত্মসমর্পণ করে যার মধ্যে ১০৮ জনকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করে।[৫]

কর্মজীবন

ছাত্র থাকাকালেই মোস্তাফা জব্বারের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে। সেই সময়ে তিনি সাপ্তাহিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে কাজে যোগ দেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ পত্রিকাটি দৈনিকে পরিণত হয়। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গণকণ্ঠ পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হতো এবং সেই সময়ে প্রকাশিত পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা পর্যন্ত তিনি তাতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। গণকণ্ঠ বন্ধ হয়ে যাবার পর তিনি ট্রাভেল এজেন্সি, মুদ্রণালয়, সংবাদপত্র ইত্যাদি ব্যবসায় যুক্ত হন। তিনি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাব (এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ)- এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৮৭ সালের ২৮শে এপ্রিল ব্যবসায় প্রবেশ করেন। সেই বছরের ১৬ মে তিনি কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা আনন্দপত্র প্রকাশ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি প্রকাশ করেন বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার। সেটি প্রথমে মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য প্রণয়ন করেন। পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ তিনি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ করেন। তিনি আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা। [৫] তিনি ইতিপূর্বে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাহী পরিষদের সদস্য, কোষাধ্যক্ষ ও সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস ( বেসিস ) এর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮-০৯ সময়কালে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০-১১ সালে তিনি তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২-মে-১৩ সময়কালে তিনি এই সমিতির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১ জুন ২০১৩ থেকে ৩১ মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত তিনি আবার চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে (২০১৪-১৫-১৬) তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির উপদেষ্টা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সসহ বিভিন্ন সংস্থায় যুক্ত আছেন। তিনি ২০১৪-১৫-১৬ সময়কালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নেত্রকোণা জেলা সমিতির উপদেষ্টা। তিনি নেত্রকোণা যুব সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।[৬] দেশে কম্পিউটারের শুল্ক ও ভ্যাট মুক্ত আন্দোলন ও শিক্ষায় কম্পিউটার প্রচলনের জন্য মোস্তাফা জব্বার এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক কমিটির সদস্য। তিনি কপিরাইট বোর্ড এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির সদস্য। ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা সম্পর্কে প্রথম নিবন্ধ লেখেন এবং তার দ্বারাই ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ হয়।

বাংলা ভাষা চর্চায় অবদান

বাংলায় কম্পিউটার ব্যবহার জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে মোস্তাফা জব্বারের ভূমিকা ঐতিহাসিক।[৩][৭] কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহার, হরফের উৎকর্ষশৈলী, প্রকাশনা শিল্পের যুগোপযোগী আধুনিকীকরণ, কম্পিউটার উপকরণের যুতসই ব্যবহারের প্রণোদনা দানে মোস্তাফা জব্বারের সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের ও ব্যবহারে জনসম্পৃক্তির মৌলিক আলোচনার এক গভীর যোগসূত্র আছে।[৩] বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সরকারি ও বেসরকারি দাপ্তরিক কাজে ইংরেজি ব্যবহারের তীব্র সমালোচক জব্বার।[৮] ইংরেজি হরফে বাংলা লেখারও সমালোচনা করেন তিনি।[৯] বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা তথা গবেষণাপত্র প্রকাশের গুরুত্বারোপ করেন তিনি।[৯] জব্বারের মতে, উচ্চ আদালতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলার বিজয় সম্পন্ন হবে না এবং একুশের চেতনা রক্ষা করা যাবে না।[৯][১০][১১][১২]

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭-এর বাস্তবায়নে পদক্ষেপ

মূল নিবন্ধ: বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭

  • সরকারি-বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে বাংলা ছাড়া অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।[১৩][১৪]
  • সকল প্রকার সাইনবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার বাংলা ভাষায় হবে। ঐচ্ছিক বিদেশি ভাষা বাংলার পরে থাকতে পারে ছোট হরফে।
  • বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত কোথাও বাংলা হরফ ছাড়া অন্য কোন হরফে বাংলা লেখা যাবে না।
  • উচ্চশিক্ষাসহ শিক্ষার সব স্তরে শিক্ষার বাহন হিসেবে বাংলা অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় কোর্স থাকতে পারবে কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যম হবে বাংলা।
  • বাংলাদেশের সব দূতাবাসে বিদেশিদের বাংলা শেখার জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলতে হবে।
  • ডিজিটাল যন্ত্রে ও ডিজিটাল রূপান্তরের নামে বাংলার বদলে অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করা যাবে না।
  • সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ খুলতে হবে। বস্তুত বাংলা বিভাগ ছাড়া কোন বিশ্ববিদ্যালয় থাকা উচিত নয়।
  • বাংলা লেখার সময় ইংরেজি হরফকে বাংলায় রূপান্তর করার পদ্ধতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং বাংলা ভাষার জন্য সরকারের প্রমিত মান সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে।
  • উচ্চ আদালতের রায় তথা অন্যান্য কার্যক্রম বাংলায় লিখতে হবে।
  • বাংলাদেশে পরিচালিত আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে বিদেশি দলিলের অনুবাদকৃত বাংলা সংস্করণ থাকতে হবে।
  • অবিলম্বে বিশিষ্ট বাংলা ভাষাবিদদের নিয়ে জাতীয় ভাষানীতি প্রণয়ন করতে হবে।[১৩][১৪]

বাংলায় কম্পিউটার বিজ্ঞান চর্চা

বাংলা ভাষায় তিনি কম্পিউটার বিষয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন এবং তিনি নবম ও দশম শ্রেণীর কম্পিউটার বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা বইটির লেখক। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি” বই-এর লেখক তিনি। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা, প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ছাড়াও তার লেখা কম্পিউটারে প্রকাশনা, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল ও তার সম্পাদিত কম্পিউটার অভিধান বিষয়ক বই ও রয়েছে। তার প্রথম উপন্যাস নক্ষত্রের অঙ্গার ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে। সুবর্ণে শেকড় নামে আরেকটি উপন্যাস তিনি লিখছেন। এছাড়াও কম্পিউটার কথকতা, ডিজিটাল বাংলা, একুশ শতকের বাংলা, বাঙ্গালী ও বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং একাত্তর ও আমার যুদ্ধ তার লেখা বইগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘ব্যবসায় তথ্যপ্রযুক্তি’, ‘কম্পিউটার’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ টক শো-এর মাধ্যমে এবং এটিএন বাংলার ‘কম্পিউটার প্রযুক্তি’ এবং চ্যানেল আই এর ‘একুশ শতক’ অনুষ্ঠানের সহায়তায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমেও তিনি কম্পিউটারকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেন।[৫]

রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড

মোস্তফা জব্বার বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। ছাত্রজীবনে মোস্তাফা জব্বার রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য চর্চা, সাংবাদিকতা, নাট্য আন্দোলনের সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার লেখা বাংলাদেশের প্রথম গণনাট্য ‘এক নদী রক্ত’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রে মঞ্চস্থ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠকালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম নেতা ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে নির্বাচন করে সূর্যসেন হলের নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার আগে তিনি সাপ্তাহিক জনতা পত্রিকায় লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন।[৫]

সামাজিক কর্মকান্ড

মোস্তাফা জব্বার তার নিজ গ্রামে বাবা প্রতিষ্ঠিত হাইস্কুলের সম্প্রসারণ করেছেন, বাবা-মার নামে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং গ্রামের হাজী আলী আকবর পাবলিক ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে কম্পিউটার শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন ও কম্পিউটার স্বাক্ষরতা প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন। দেশজুড়ে মাল্টিমিডিয়া প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা ছাড়াও তিনি বিজয় ডিজিটাল স্কুল এবং আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের সাহায্যে শিক্ষাব্যবস্থার নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করেছেন।

পুরস্কার

তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশেষ অবদান রাখা এবং বিজয় বাংলা কীবোর্ড তৈরীর জন্য দৈনিক উত্তরবাংলা পুরস্কার, পিআইবির সোহেল সামাদ পুরস্কার, সিটিআইটি আজীবন সম্মাননা ও আইটি এ্যাওয়ার্ড, বেসিস আজীবন সম্মাননা পুরস্কার, বেস্টওয়ে ভাষা-সংস্কৃতি পুরস্কার, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমন্বয় পরিষদ সম্মাননা, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি ও সিলেট শাখার সম্মাননা বিশ্বমেধাসম্পদ সংস্থার আবিষ্কারক-উদ্যোক্তার স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থার নেত্রকোণার গুনীজন সম্মাননা (প্রযুক্তিবিদ হিসেবে)[১৫][১৬][১৭] এবং এসোসিও ৩০ বছর পূর্তি সম্মাননাসহ ২০টি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তার রয়েছে অসংখ্য শুভেচ্ছা সম্মাননা।[৫][১৮]

অভ্র-বিজয় বিতর্ক

কম্পিউটারে বাংলা লেখার বাণিজ্যিক অন্মুক্ত উৎসের সফটওয়্যার ‘বিজয়’-এর স্বত্বাধিকারী এবং ‘আনন্দ কম্পিউটার্স’-এর প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার ৪ এপ্রিল ২০১০ তারিখে দৈনিক জনকন্ঠের একটি নিবন্ধে অভ্রর দিকে ইঙ্গিত করে দাবী করেন যে- হ্যাকাররা তার ‘বিজয়’ সফটওয়্যারটি চুরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি অভ্র কীবোর্ডকে পাইরেটেড সফটওয়্যার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ইউএনডিপি হ্যাকারদের সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ইউএনডিপি-র প্ররোচনাতেই জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির কাজে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অভ্র কীবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। মেহেদী হাসান খান জানান যে অন্মুক্ত উৎসের প্রোগ্রাম হ্যাক করা সম্ভব নয় বিধায় বিজয়ের সিস্টেম হ্যাক করা সম্ভব নয়।[১৯] অপরদিকে, অভ্র’র পক্ষ থেকে মেহদী হাসান খান সকল নালিশ অস্বীকার করেন এবং অভিযোগ করেন যে, জব্বার বিভিন্ন পর্যায়ে ও গণমাধ্যমে তাদেরকে চোর বলেন এবং তাদের প্রতিবাদ সেখানে উপেক্ষিত হয়। কম্পিউটারে বাংলা নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য উকিল নোটিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে আক্রমণের হুমকি উপেক্ষা করে কাজ করা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। তিনি আরো বলেন যে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্পে বাণিজ্যিক বিজয় এর পরিবর্তে বিনামূল্যের অভ্র ব্যবহার করাতে প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হওয়ায় জব্বার এমন অভিযোগ করেছেন। [২০]

অভ্র ৪.৫.১ সফটওয়্যারের সাথে ইউনিবিজয় নামে একটি কীবোর্ড লেয়াউট সরবরাহ করা হয়। এই ইউনিবজয় কীবোর্ড লেয়াউট প্যাটেন্টকৃত বিজয় কীবোর্ড লেয়াউটের নকল দাবী করে মোস্তফা জব্বার কপিরাইট অফিসে কপিরাইট আইন ভঙ্গের জন্য মেহেদী হাসান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে কপিরাইট অফিস খানকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠায়। পরবর্তিতে মেহেদী হাসান খানের আবেদনের প্রেক্ষিতে এর সময়সীমা ২৩ মে ২০১০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।[২১]

১৬ জুন ২০১০ তারিখে ঢাকার আগারগাঁও এ অবস্থিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অফিসে অনেক তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মেহদী হাসান খান ও মোস্তফা জব্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয় এই মর্মে, ২০ আগস্ট, ২০১০ এর মধ্যে, অভ্র কীবোর্ড সফটওয়্যার থেকে ইউনিবিজয় লেআউট সরিয়ে নেওয়া হবে এবং কপিরাইট অফিস থেকে মেহদী হাসান খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কপিরাইট লংঘনের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।[২২] সেই চুক্তি অনুযায়ী, অভ্রর ৪.৫.৩ সংস্করণ থেকে ইউনিবিজয় কীবোর্ড বাদ দেওয়া হয়। তিনি অভ্র কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।[২৩]

বিজয়-রিদ্মিক বিতর্ক

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখে গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করা হয় বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ। এরপর এই অ্যাপটি নিয়ে তার ফেসবুক দেয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন মোস্তাফা জব্বার। সেই স্ট্যাটাসে এই জাতীয় অ্যাপগুলোর বিরুদ্ধে বিজয় বাংলা কি-বোর্ড লেআউট অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ করেন।[২৪]

পরবর্তীতে গুগলের পক্ষ থেকে রিদ্মিক এবং ইউনিবিজয় কীবোর্ডের ডেভেলপারের কাছে পৃথকভাবে ইমেইল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, মোস্তাফা জব্বার অ্যাপ দুটির বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছেন গুগলের কাছে। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই গুগল যুক্তরাষ্ট্রের DMCA আইন অনুসারে অ্যাপ দুটি অপসারণ করেছে।[২৪]

পরে নতুন লে আউট করে প্লেস্টোরে আবারও রিদ্মিক কিবোর্ড প্রকাশ করা হয়। [২৫]

তথ্যসূত্র

Posted by: | Posted on: August 12, 2020

ঢাকা-৯ এর বন্যা কবলিত মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রান সামগ্রী বিতরণ।

মাহবুব বাশারঃ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-৯ নির্বাচনী এলাকার বন্যা কবলিত নিম্নাঞ্চল মুগদা থানাধীন মান্ডা ৭১ ও ৭২নং ওয়ার্ড এবং সবুজবাগ থানাধীন রাজারবাগ, কদমতলা, আহম্মদবাগ, দক্ষিণগাঁও, মানিকদিয়া, বেগুনবাড়ী, ভাইগদিয়া, নন্দীপাড়া, নেওয়াজবাগ এলাকার বন্যা দূর্গত ১ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের মাধ্যমে) বিতরন করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব চিত্ত রঞ্জন দাস, মুগদা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোশারফ হোসেন বাহার, ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব সিরাজুল ইসলাম, ৭১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব খাইরুজ্জামান খাইরুল, ৭২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব শফিকুল আলম শামীম, ৭৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব শফিকুল ইসলাম, ৭৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব আজিজুল হক, মহিলা কাউন্সিলর মিসেস মাকসুদা সমশের, মিসেস নাসরীন আহমেদ ও মিসেস সেলিনা খান, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব গোলাম কিবরীয়া খান রাজা, ৭৪ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জনাব আবুল কালাম আজাদ সহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

Posted by: | Posted on: August 12, 2020

বান্দরবানে সব পর্যটনকেন্দ্র ও আবাসিক হোটেল-মোটেল খুলছে ১৭ আগস্ট থেকে

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৭ আগস্ট থেকে বান্দরবানে সরকারি-বেসরকারি সব পর্যটনকেন্দ্র ও আবাসিক হোটেল-মোটেল খুলে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। হোটেল-মোটেল খুলে দেয়ায় খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পর্যটন খুলে দেয়ার আগাম সংবাদে হোটেল মোটেলে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জেলা শহর ও উপজেলাগুলোতে প্রায় ৬০টি আবাসিক হোটেল-মোটেলে পর্যটন মৌসুমে দৈনিক পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটক আসেন। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি থেকে পর্যটন কেন্দ্র ও হোটেল মোটেল বন্ধ থাকায় পর্যটকের আগমন বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন ব্যবসায়ীরা। কর্মহীন হয়ে পড়েন অনেকে।

বান্দরবান আবাসিক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রায় পাঁচ মাস হোটেল-মোটেল ও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পর্যটন খুলে দেয়ার সংবাদে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম হোসেন জানান, ১৭ আগস্ট থেকে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কড়া নজর থাকবে।

Posted by: | Posted on: August 12, 2020

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা এবং লেখালেখি

॥ জাফর ওয়াজেদ ॥
ঢাকা,(বাসস) : বাঙালির জীবনের সবচেয়ে বড়ো অধ্যায় বঙ্গবন্ধু। পঁচাত্তর-পরবর্তী সামরিক জান্তা ও নির্বাচিত শাসকরা তাঁর নামোচ্চারণ নিষিদ্ধ করেছিল। ইতিহাসসহ সব স্থাপনা থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল তাঁর নাম। কিন্তু তা বেশি দিন সম্ভব হয়নি। স্বমহিমায় সব দুর্ভেদ্য অন্ধকার ভেদ করে তিনি আলোকিত হয়ে উঠছেন ক্রমাগত। কেউ তাঁকে দাবায়ে রাখতে পারেনি। তিনি জেগে উঠছেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পথ ধরে।
বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে দিয়েছেন বিশালত্ব; কিন্তু বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন গুলি আর রক্ত। তারপরও মৃত্যুহীন প্রাণ হয়ে তিনি জেগে আছেন বাঙালির হৃদয় ও মনে। তাঁর কর্ম ও কীর্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের পরিণতি এবং আগামী জীবনের অনন্ত সময়ের বিবর্তন। অথচ আগামী প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার মৌলিক দায়িত্ব পালন করছেন না কেউ।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যতটুকু কাজ হচ্ছে তা গোছানো নয় এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এ কাজে এগিয়ে আসেনি। তারা নিজ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো কাজে আগ্রহী হয়নি। যদিও বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে চেয়ার স্থাপন করা হয়েছে, ছাত্রাবাসের নামকরণ হয়েছে। এমনকি দেশে বহু স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। বঙ্গবন্ধু কেবলই সেতু, ছাত্রাবাস, সড়ক, ভবন, বিশ্ববিদ্যালয়, জাদুঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছেন। কিন্তু এসব ছাপিয়ে তিনি তো পুরো বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটি ইঞ্চির প্রতিটি ধূলিকণার মাঝে তিনি মিশে আছেন। বাংলাদেশের পতাকায় ভেসে আসে তাঁর মুখ। মানচিত্রজুড়েও তিনি। তাঁকে কোনো কিছুতেই সীমাবদ্ধ করে রাখা যায় না।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা এবং লেখালেখি- মহাপরিচালক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন আজও হয়নি। যেমন হয়নি বঙ্গবন্ধুর সামগ্রিক জীবন ও কর্মধারা, তাঁর দর্শন, মতবাদ, দেশ শাসন নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ বা গবেষণা। তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়ে বহু সমালোচনা হলেও এর অর্থনৈতিক, সামাজিক কর্মসূচি নিয়ে ন্যূনতম আলোচনা বা সমালোচনা কোনোটাই হয়নি। তাঁর এই দর্শন অনালোচিতই রয়ে গেল। তাঁর সহকর্মী, অনুসারী- কেউই এ বিষয়ে আলোকপাত করতে এগিয়ে আসেননি। বরং বিরুদ্ধবাদীদের সমালোচনার শিকার হতে পারেন- এই ভয়ে নীরবই রয়ে গেছেন। দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি নিয়ে কোনো গুরুত্ববহ গবেষণা হয়নি। কেবল বঙ্গবন্ধুর এক আত্মীয় ডক্টর সেলিমুজ্জামান বাকশাল নিয়ে পিএইচডি করেছেন বিদেশি এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেই গবেষণাও এদেশে অপ্রকাশিত থেকে গেছে।
বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে বাজারে বহু বই পাওয়া যায়। অধিকাংশ লেখকই অজ্ঞাতকুলশীল। সেসব লেখায় বঙ্গবন্ধুকে পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায়, তা চর্বিত চর্বণ। মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ কিছুই নেই। এক বই থেকে যেন শত বই লেখা হয়েছে। সন, তারিখ, কর্মসূচি অভ্রান্ত নয়। এসব গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুকে পাওয়া যায় না। অনেক বই পাঠে মনে হয়েছে, এগুলো বাতিল করা উচিত। যারা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহচর, তারা স্মৃতিচারণ লিখতেও এগিয়ে আসেননি। তাঁর হাতে গড়া রাজনীতিকরাও এক্ষেত্রে কৃপণতাই দেখিয়ে এসেছেন। যদি লিখতেন তারা, তবে বঙ্গবন্ধু ও সমকালীন ইতিহাসের অনেক তথ্যই পাওয়া যেত। আর তা যায়নি বলেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যাচার, নিন্দামন্দ বেশি হয়েছে। অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন তিনি সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে তিনি বেরিয়ে এসেছেন আলোকিত মানুষ হিসেবেই।
বঙ্গবন্ধুর জীবন ও তাঁর কর্মময় ঘটনাবলির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পেতে হলে আগামী দিনে আশ্রয় নিতে হবে অশেষ কষ্টকর গবেষণার ওপর। তাতেও হয়তো পরিপূর্ণতা অর্জন করা যাবে না এ বিষয়ে। কারণ তত দিনে তথ্য ও সূত্রের অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলবে তার অবিকল অবয়ব। যেমন হারিয়ে গেছেন তাঁর সহকর্মী, সহযোগীরা। যথাসময়ে কাজ করা গেলে অনেক উজ্জ্বল দিক পাওয়া যেত। যারা তাঁর সাহচর্য পেয়েছেন সেই অনুসারীরাও নির্বিকার।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা-পূর্বাপর সময়ে তাঁর সহকর্মী, জেলা নেতা, ভক্ত, অনুরাগীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের কাছে চিঠি লিখতেন। সেসব চিঠিপত্র উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপও নেয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নামে সহস্র সংগঠন রয়েছে, যারা জন্ম ও শোক দিবস পালনেই নিজেদের সীমিত রেখেছে। এর বাইরে অন্য কোনো কাজে তারা সম্পৃক্ত নন। ‘ওরাল হিস্ট্রির’ যুগে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে যারা এসেছিলেন, তাদের ভাষ্য গ্রহণেও কারও পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। অথচ গণমানুষের ভাষ্য নিয়ে ইতিহাস লেখা হলে বাঙালি পেত তাদের মুক্তিদাতার বিশালত্বকে, যা অনুপ্রাণিত করত আগামীর পথযাত্রায়। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের সঠিক সংরক্ষণের প্রচেষ্টা আজও অনুপস্থিত। তার সহকর্মী, সংগঠন, ব্যক্তির পক্ষ থেকে তেমন উদ্যোগ গ্রহণ সুদূরপরাহত। ফলে, তাঁকে কেন্দ্র করে বায়বীয় ও কল্পনামিশ্রিত উপন্যাসও লেখা হয়েছে। যাতে শেখ মুজিব যথাযথভাবে উঠে আসেননি। বঙ্গবন্ধু রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং প্রকাশিতব্য আরও কয়েকটি গ্রন্থে দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা মানবকে পাওয়া যাবে। কিন্তু তাঁর সময়কাল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিকতার স্বার্থে গবেষণা যে জরুরি, তা কারও উপলব্ধিতে আসে না। বরং বঙ্গবন্ধুর ছবি ক্ষুদ্রাকারে বিলবোর্ডে ছাপিয়ে নিজেকে জাহির করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বঙ্গবন্ধুর ওপর অসম্পূর্ণ বা বৈরী আলোচনা ও মিথ্যাচারে ভরা সমালোচনাপূর্ণ প্রকাশনা দিয়ে ব্যবসায়িক ফন্দিফিকির আজও চলছে। তেমনি তাঁর নামে ধান্দাবাজির অজস্র সংগঠনও গড়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু তাঁর জীবন ও কর্মের সঠিক উপস্থাপনার কাজটি কেউ করছেন না। ব্যক্তি উদ্যোগে তাঁর কর্মময় জীবনের ঘটনাবলিও বিভিন্ন কর্মকা-ে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহও প্রায় অসম্ভব।
শেখ মুজিব সম্পর্কিত বিদ্বজ্জনদের অপপ্রচারের বিপরীতে কিছুই লেখা হয়নি। অথচ এসব অপপ্রচার জনমানসে গ্রোথিত করা হয়েছে এমনভাবে যে, অনেক বাঙালি মনে করে, শেখ মুজিব পাকিস্তান নামের ইসলামি রাষ্ট্রটি ভেঙেছেন জাতীয় অসত্য কথা। শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নন, নন কোনো ছাত্রাবাস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তিনি মূলত সমগ্র বাংলাদেশ। এই বাঙালির আদর্শ আসলে কী, তা জানা না গেলে সবই ধুলায় হবে লীন। বাঙালি হারাবে তার স্বাধীনতার সুফল।
তবে, আশার কথা হলো, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এ নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে। জাতীয় এই কমিটির কর্মকা-ে শ্রেষ্ঠ বাঙালির জীবন ও কর্মের প্রকৃত চিত্র নানা আঙ্গিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করা যায়, এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একজন আদর্শিক বাঙালি ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ে গড়ে ওঠার পাথেয় খুঁজে পাবে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের আলোকে এগিয়ে যাবে দেশ, তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হবে আগামী প্রজন্ম। এর কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: মহাপরিচালক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক। ১১ আগস্ট, ২০২০ ।

Posted by: | Posted on: August 12, 2020

অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্য দিয়েই গড়ে তুলতে হবে সমৃদ্ধির সোপান : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্য দিয়েই গড়ে তুলতে হবে এদেশের সমৃদ্ধির সোপান।
আজ মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আজ উৎসবের দিন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। ধর্মের নামে আজকাল কিছু বিভ্রান্ত মানুষের অপকর্ম আমাদের ব্যথিত করে। শেখ হাসিনা সরকার কথায় এবং কাজে একথা বিশ্বাস করে। আর তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনা দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে চাই এদেশের সমৃদ্ধির সোপান।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা এদেশে পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস ও ধর্ম চর্চা করে আসছে। সমকালীন বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন বাংলাদেশ। এখানে মসজিদ এবং পূজামন্ডপ পাশাপাশি, এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। বিপদে-আপদে সহযোগী আর সহমর্মী হয়। আবহমানকাল থেকেই এ চর্চা হয়ে আসছে এই বদ্বীপ জনপদে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ধার্মিক মানেই পরমতসহিষ্ণুতা, কথায় এবং আচরণে বিন¤্র এবং উদার। ধর্মানুশীলন মানুষের মনের জানালা খুলে দেয়। জগতকে চেনার সুযোগ করে দেয়। অথচ ধর্মের নামে আজকাল কিছু বিভ্রান্ত মানুষের অপকর্ম আমাদের ব্যথিত করে।’
তিনি বলেন, ‘অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িকতার স্থান পৃথিবীর কোনো ধর্মই নেই, ধর্মের নামে যারা অধর্ম চর্চা করে, ধর্মকে স্বার্থসিদ্ধির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় এসব তাদের হাতিয়ার। যারা সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ কিংবা উগ্রতা চর্চা করে প্রকৃতপক্ষে তারা ধর্মের মূল শিক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে যেমনি প্রয়োজন আভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা, তেমনি প্রয়োজন প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশই প্রতিবেশীর সাথে খারাপ সম্পর্ক রেখে এগুতে পারে না। এ বাস্তবতায়, বাংলাদেশ ভারত তথা শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি সরকারের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। দু’দেশের সম্পর্ক একাত্তরের রক্তের রাখি বন্ধনে আবদ্ধ। বর্তমানে এ বন্ধুত্ব ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রতিবেশীর সাথে ভালো বোঝাপড়া থাকলে অনেক অমীমাংসিত ইস্যু সহজে সমাধান সম্ভব, যার প্রমাণ বাংলাদেশ ও ভারত। দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যা, শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময় সমাধান দু’দেশের পারস্পরিক আস্থাকে বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশের সমুদ্র জয়ের মামলায় ভারত আপিল না করে বন্ধুসুলভ যে আচরণ করেছে তা সম্পর্কের সূত্রকে করেছে আরো সুদৃঢ়। আস্থা ও বিশ্বাসের যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে তার মাধ্যমে তিস্তা সমস্যা ও অন্যান্য নদীর পানি বন্টনের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সকলের সমান সুযোগ এবং অধিকার রয়েছে। আপনারা নিজেদের মাইনোরিটি ভাববেন না। এ শব্দটি আপনাদের মানসিকভাবে পিছিয়ে রাখবে। আপনারা দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে। নাগরিক হিসেবে একজন মুসলমানের রাষ্ট্রের প্রতি যে অধিকার আপনার সমান অধিকার। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার কথায় এবং কাজে এ কথা বিশ্বাস করে। আর তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনা দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে চাই এদেশের সমৃদ্ধির সোপান। মাঝে-মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে অশুভ চক্র একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যে আঘাত হানার অপচেষ্টা করে। ভাবি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই শেখ হাসিনা যতদিন আছেন আপনাদের কোন ভয় নেই।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা এই দেশের উন্নয়নের অংশীদার। আমরা একই আকাশের নিচে বাস করি। অভিন্ন বাতাসে শ্বাস গ্রহণ করি। অভিন্ন মেঘমালা থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টিতে আমরা ফসল ফলাই। তাই বলব, বিভেদের কৃত্রিম প্রাচীর যারা গড়তে অপচেষ্টা করে তারা সফল হবে না কোনদিন। এদেশ সৌহার্দের দেশ, এদেশে প্রতিবেশীর মাঝে সহযোগিতার যে সম্পর্ক তা সামাজিক বন্ধন থেকে উৎসারিত। আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র হচ্ছে সামাজিক সখ্য এবং ঐক্য। আমরা এ একতা ধরে রেখেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই। গড়ে তুলতে চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর কি নির্যাতন নেমে এসেছিল তা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। যে নির্যাতন একাত্তরে পাক-হানাদারদের নির্যাতনকেই মনে করিয়ে দেয়। শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলো। সুযোগ পেলেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আঘাত হানে নানা কৌশলে। তাদের অপচেষ্টা এখনো চলছে, তারা এখনো সক্রিয়। বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। থাকতে হবে সচেতন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এদেশে যারা হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সূচনা করেছে ও লালন করেছে, সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে বড় করে তুলেছে তারাই হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের জীবন এবং সম্পদের ওপর বার বার আঘাত হেনেছে। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরম বন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে। উন্নয়ন, মানবিকতা ও সম্প্রীতির শত্রু সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে আসুন, শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি।
ঢাকেশ্বরী প্রান্তে অনুুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রনজন মজুমদার।১১ আগস্ট, ২০২০ (বাসস)