Main Menu

মাথায় পলিথিনের ব্যাগ পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় সুজনকে

পিবিআইয়ের হেফাজতে গ্রেফতার ইভা ও তার দুই ভাই

রাজধানীর সবুজবাগে সুজন হত্যার প্রায় ৯ বছর পর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। এই হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতারের পর পিবিআই জানতে পারে, সুজনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার লাশ খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গণি  এ তথ্য জানান।

আসামি কুটি (মাঝ খানে)

পিবিআই কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গণি  বলেন, ‘সুজনের সাবেক স্ত্রীর ভাই আরিফ এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত পাঁচ জনের মধ্যে চার জনকেই আমরা গ্রেফতার করেছি। একজন পলাতক রয়েছেন। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

যেভাবে হত্যা করা হয় সুজনকে

গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, ২০০৮ সালে ভিকটিম সুজনের সঙ্গে ইভার বিয়ে হয় এবং ২০০৯ সালে ইভা সুজনকে ডিভোর্স দেন। কিন্তু ইভাকে খুবই ভালোবাসতেন সুজন। তালাক দেওয়ার পরও সুজন প্রায় সময় ইভাকে দেখার জন্য তাদের এলাকায় যাওয়া-আসা করতেন। এদিকে ইভার সঙ্গে সুজনের বিয়ে হওয়ার আগে থেকেই ফাইজুল নামে স্থানীয় এক তরুণ ইভাকে পছন্দ করতেন। ইভার বড় ভাই আরিফের সঙ্গে ফাইজুল বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন। ফাইজুল বিভিন্ন সময় ইভাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো। এটা নিয়ে ফাইজুল ও ইভার বড় ভাই আরিফের সঙ্গে সুজনের বিভিন্ন সময় তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। সুজন তখন ইভার ভাই আরিফকে চড়-থাপ্পড় দেন। এর ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের ৭/৮ দিন আগে সুজনকে মারধর করেন ফাইজুল। ২০১১ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যার পর আরিফুল হক ও ফাইজুল তাদের বন্ধু কুটি ও কালা বাবুকে নিয়ে বাসার সামনের মাঠে বসে সুজনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই বছরের ১৪ মার্চ সন্ধ্যা সাতটার সময় আরিফ তাদের বাসার পাশের চায়ের দোকান থেকে একটি সাদা পলিথিন ব্যাগ নেন। ফাইজুল ও আরিফ লাঠি নিয়ে খালপাড় বালুর মাঠের দিকে যেতে থাকেন। এরইমধ্যে কুটিও চলে আসেন। তারা তিন জন একসঙ্গে খালপাড় বালুর মাঠে অপেক্ষার কিছুক্ষণের মধ্যেই কালা বাবুও চলে আসেন। রাত আনুমানিক ৮টায় কুটির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিকটিম সুজন খালপাড় বালুর মাঠে আসেন। বিভিন্ন কথাবার্তার একপর্যায়ে ফাইজুল পেছন থেকে সুজনের দুই হাত চেপে ধরেন। আরিফ পকেট থেকে পলিথিন বের করে কুটিকে দেন। কুটি পলিথিনের ব্যাগটি সুজনের মাথার ওপর থেকে গলা পর্যন্ত নামিয়ে পেঁচিয়ে গিট দিয়ে ফেলেন। একই সময়ে আরিফ লাঠি দিয়ে সুজনকে পেটাতে থাকেন। পরে কালা বাবু আরিফের হাত থেকে লাঠি নিয়ে সুজনকে পেটাতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই সুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সুজন মারা গেছেন নিশ্চিত হয়ে তারা ধরাধরি করে লাশ পাশের খালে ফেলে দেন। কুটি ও কালা বাবু খালে নেমে সুজনের লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেন। পরে তারা সবাই এলাকায় চলে আসেন।

সৌদি আরবে পালিয়ে যায় ইভা

সুজনকে হত্যার পর ইভা পালিয়ে শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে কুমিল্লার লাকসামের এক ছেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তারা বিয়েও করেন। ইভা তার স্বামীর বাড়ি লাকসামে থাকা শুরু করেন। পিবিআই লাকসাম থেকে ইভাকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর তার বাবা পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস শুরু করেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে মামলার অন্যতম দুই আসামি ইভার ভাই বাবু ও আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় ফাইজুল, আলমগীর ওরফে কালা বাবু ওরফে কিলার বাবু ও কুটিকে গ্রেফতার করেছিল ডিবি। তাদের মধ্যে কুটি ও কালা বাবু জামিন নিয়ে সে সময় পালিয়ে যান। পিবিআই কুটিকে গ্রেফতার করতে পারলেও কালা বাবু এখনও পলাতক। তবে ইভার প্রেমিক ফাইজুল এ মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিতেন।






Related News