Main Menu

শেখ কামাল বেঁচে থাকলে আমরা বিশ্ব পর্যায়ে খেলতাম: কাজী সালাউদ্দিন

কাজী সালাউদ্দিন

স্বাধীন বাংলাদেশে নতুন এক ক্লাবের জন্ম হলো। ১৯৭২ সালে দেশের প্রথম সেই আধুনিক ক্লাবের নাম হলো আবাহনী ক্রীড়া চক্র। যার প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামাল। তার হাত ধরেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বলতে গেলে বিপ্লব ঘটেছে এরপর। মাত্র চার বছরে আবাহনী ক্লাব জায়গা করে নেয় দেশের সমর্থকদের হৃদয়ে!
এর রেশ ছিল জাতীয় পর্যায়েও। তখন বিশেষ করে ফুটবল ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কীভাবে ফুটবলে আধুনিকতার ছোঁয়া আনা যায়, সেই ভাবনা থেকে দেশের ক্লাব ফুটবলে প্রথম বিদেশি কোচ আসে আবাহনীতে। আইরিশ কোচ বিল হার্টের কোচিংয়ে ছন্দময় ফুটবলে আবাহনীর তখন ঈর্ষণীয় সাফল্য।


শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকীতে এসে বন্ধু বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এখনও তাই আক্ষেপ করেন। একদল নরপশু ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত না হলে দেশের ফুটবলের চেহারাই যে পাল্টে যেতো। কারণ, শেখ কামাল তখন একটি কথাই বলতেন, যা আজও মনে আছে তার বন্ধু কাজী সালাউদ্দিনের, ‘আমরা সবাই মিলে দেশের ফুটবলকে একসময় এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাবো।’ ১৯৭৪ সালের ৮ আগস্ট। মালয়েশিয়ায় মারদেকা কাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার আগে ঢাকা বিমানবন্দরে সতীর্থদের শুভেচ্ছা জানাতে এসে শেখ কামালের সঙ্গে তার এটাই ছিল শেষ কথোপকথন।
সেই সফরে যাওয়ার কথা ছিল শেখ কামালেরও। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান থাকায় তিনি যেতে পারেননি। দল যেন ভালো করে, তার চাওয়া ছিল সেটাই। সালাউদ্দিনকে বিমানবন্দরে শেখ কামাল আরও বলছিলেন, ‘এরপর যত দিন খেলবে, তুমি থাকবে জাতীয় দলের অধিনায়ক। আমি টিম লিডার। আমরা একসময় এশিয়ার শীর্ষ দল হয়ে ছাড়বোই।’শেখ কামালের সাংগঠনিক দক্ষতা দেখে তখন অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন সবাই। সালাউদ্দিন তাই বলছিলেন, ‘শেখ কামাল বেঁচে থাকলে আজকে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের চেহারাই বদলে যেতো। সে ছিল ভিশনারি ব্যক্তি। আধুনিক ধ্যান-ধারণার সবকিছুই ছিল তার মধ্যে। আমরা ফুটবলে একপর্যায়ে এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে যেতে পারতাম। সেখান থেকে স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে বিশ্ব পর্যায়ে খেলার সুযোগ হতো। আমাদের ফুটবলও ভালো জায়গায় থাকতো।’

এর সপক্ষে আরও একটি উদাহরণ দিলেন সালাউদ্দিন। এককভাবে বর্তমানে ফুটবলের মাঠ নেই। এক বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামই ভরসা। তাও সেখানে অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন সময়ে নানান কর্মসূচি থাকে। সালাউদ্দিন তাই আফসোস করেই বলেছেন, ‘শেখ কামাল বেঁচে থাকলে ফিফার সব নিয়ম মেনে এতদিনে আলাদা স্টেডিয়াম হয়ে যেতো। ওর মধ্যে সাংগঠনিক সেই গুণগুলো ছিল। ও বিষয়গুলো সঠিকভাবে দেখতে পারতো। এতে করে দেশের খেলাধুলা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতো। ৭৫ পরবর্তীতে কামাল না থাকায় আমরাও পিছিয়ে পড়তে থাকি।’

১৯৭২ সালে আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠার পর, একই বছর ফুটবলে ভালো দল গঠনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সালাউদ্দিন-গোলাম সারওয়ার টিপুরা তখন জনপ্রিয় ক্লাব মোহামেডানে খেলতেন। শেখ কামাল নতুন ক্লাব গড়েছেন। এটা জানতেন তারা। এছাড়া ধানমন্ডিতে একই জায়গায় বাসা হওয়ায় সালাউদ্দিনের সঙ্গে শেখ কামালের পরিচয় ছিল আগে থেকেই। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে সালাউদ্দিন স্মৃতি রোমন্থন করলেন এভাবে, ‘শেখ কামালের সঙ্গে আমার ছোটবেলা থেকেই সম্পর্ক। একই স্কুলে পড়তাম। যদিও ও ছিল আমার তিন ক্লাস সিনিয়র। এছাড়া কামাল থাকতো ৩২ নম্বরে, আমি ২৫ নম্বরে। পায়ে হাঁটা দূরত্ব। তখন আবাহনীতে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছি, কিন্তু নতুন ক্লাব, বন্ধুর অনুরোধ ছিল। এছাড়া আবাহনী ভালো দল গড়েছিল। কামালের দক্ষতার কারণে অন্য ভালো খেলোয়াড়রাও এসেছিল। তাই আবাহনীতেই নাম লেখাই। আসলে শেখ কামালের মধ্যে তখন বড় স্বপ্ন ছিল। তার মধ্যে সেই ভিশন থাকায় আমরাও নতুন কিছু জয়ের লক্ষ্যে খেলেছিলাম।’

শুধু যে ফুটবলের দিকে মনোযোগ ছিল তা কিন্তু নয়। সালাউদ্দিন বলছিলেন, ‘সব খেলার সঙ্গেই সে থাকতো। ফুটবলকে অন্যভাবে দেখতো, প্যাশন ছিল ওর আলাদা। এছাড়া সংস্কৃতির প্রতিও ঝোঁক ছিল। গান-বাজনা করতো।’

সেই শেখ কামালের হাতে গড়া আবাহনীই এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আইডল হয়ে আছে। সৃষ্টির ৪৮ বছরের মাথায় ক্লাবটি এখন একটি ইনস্টিটিউশনে দাঁড়িয়েছে। আর তা সম্ভব হয়েছে শেখ কামালের দেখানো পথ ধরেই।






Related News