Main Menu

“নন্দলাল ও পঙ্গপাল” —-জাঁ-নেসার ওসমান

“নন্দলাল ও পঙ্গপাল”
—-জাঁ-নেসার ওসমান
“ নন্দলাল একদা করিলো ভীষণ পণ,স্বদেশের ত্বরে যা করেই হোক রাখিবেই সে জীবন”
আহা কি মহৎ পণ দেশ ও জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করা সে কি চাট্টিখানি কথা।
নন্দলাল জানতেন জীবন যদি চলে যায় তাহলে দেশ ও দশের উপকার, করার সুযোগ থাকে না।
কারণ মৃত ব্যাক্তি বাংলাদেশে, বাংলাদেশে কেন ভারত-পাকিস্তান কোনো দেশেই মৃতরা কোনো কাজ করতে পারে না।


এটাতো আর যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকার মত উন্নত দেশ নয় যে জর্জ ফ্লয়েডের মতো, মৃত দেহ পর্যন্ত চীৎকার করে প্রতিবাদ করতে পারে। শাসকের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে!
আমাদের দেশ সৎ সুন্দর ভদ্র লোকের দেশ, এখানে জীবিত মৃত কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না, কারণ অহিংসা পরম ধর্ম।
হিংসা কেবল আরো হিংসাকেই জাগ্রত করে, ভায়োলেন্স কেবল ভায়োলেন্সকেই ডেকে আনে,
এতে দেশ ও জাতির কোনোই লাভ হয় না, কেবল ধ্বংস ছাড়া।
যেমন দেখেন যে সব এলাকায় মানুষ ফেস বুকের পোষ্ট দেখে ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দেয়, তারা কি করলেন, হিং¯্রতাকেই আহŸান করলেন। হিং¯্রতা ডেকে আনার জন্য তো এই জীবন নয়।
এ জীবন আশ্রাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির সেরা জীব। এ জীবন দেশের জন্য উৎসর্গীত।
এ জীবন দেশের জন্য সমাজের উন্নতির জন্য কোরবান করা চলে, হিংসার জন্য এ জীবনের জনম হয় নাই রে ভাই, হিং¯্রতার জন্য আমরা জন্মাই নাই।
তাই দেশের মঙ্গলের জন্য যে কোরেই হোক রাখিবো এ জীবন।
জীবন রক্ষার জন্য ভালো খাবার খাবো, প্রতিটি পাঁউরুটির ¯øাইস তিন হাজার টাকায়, প্রতিটি আন্ডা,
মোরোগ মুরগী যারই হোক বার’শ টাকায় কিনে ভক্ষণ করিলে, জীবন আরো পুষ্টিতে ভরপুর হইয়া উঠিবে। অতঃপর পাঁচ হাজার টাকায় বালিশ কিনিয়া শুখে নিদ্রা দিবো, শরীলডা মানে জীবনটা তো ভালো রাখতে হবে না কি??
শরীর মানে জীবন না বাঁচলে দেশের কোন কাজে আসবো বলুন।
আমাদের তো প্রবাদই আছে “আপনি বাঁচলে বাপের নাম।”
তাই বুঝলেন না, ছ’ত্রিশ হাজার টাকায় পর্দা কিনে ঘরটায় পর্দা করি আর কি?
চোখের পর্দা না থাকুক ছ’ত্রিশ হাজার টাকার ঘরের পর্দা তো থাকা উচিৎ!!
ভালো ভাবে না বাঁচলে দেশের উন্নয়নে আমি কি অবদান রাখবো!!
জানেনই তো দেশে এন্টারটেইনমেন্টের কোন ভালো ব্যাবস্থা নাই, তাই নিজেদের প্রচেষ্টায় ইকটু আর্ন্তজাতিক মানের লুডু খেলছিলাম, আপনাদের সহ্য হলো না, ক্যাসিনো ম্যাসিনো বৈলে আমাদের লুডু খেলার বারটা বাজালেন।


আর আমি খালি আঙুল চুষছিলেন বলাতে আমারও বারটা বাজিয়ে দিলেন!
কেন রে ভাই, পরের ভালো সহ্য হয় না!!
আর আমিতো নন্দলালের মতো দেশের ভালোর জন্যই জীবন যাপন করছিলাম।
আমি তো বেঁচেই আছি দেশের মঙ্গলের জন্য,তা ও কি আপনাদের সইবে না!
আমরা কি নিজের দেশের উপকারও করতে পারবো না?
নিজেরাতো দেশের মঙ্গল নিয়ে চিন্তা করেন না, অন্যে করলেও চোখ টাটায়!!
ধিক ধিক আপনাদের মঙ্গল বোধের।
এই যে ভুতুড়ে ইলেক্ট্রিক বিল নিয়ে যারা মাথা ঘামাচ্ছেন, তাদের যদি ধরে ধরে ইলেক্ট্রিক শক্ দিয়ে মারে, তাহলে দেশের জন্য কাজ করার কোনো লোক থাকবে??
তুমি কি বুয়েটের ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার? উত্তর, না।
তুমি মাইকেল ফ্যারাডের নাম শুনছো? উত্তর, না।
মাইকেল ফ্যারাডে, ১৭৯১ সালে ইংল্যান্ডে জন্মায়ছে, বৈজ্ঞানিক। তোমার জন্মের দুই’শ বছর আগে, ফ্যারাডের ল’স অব্ ইলেক্ট্রোলাইসিস,বিজ্ঞানে যুক্ত হচ্ছে…তুমি কি বলবা, হ..হ..হুনছি হুনছি, ইলেক্ট্রিক সিসটেম লস।
যে হেতু এই বিষয় তুমার না, তুমি এই বিষয় বুঝো না, তাই বলি তুমি অযথা এর মইধ্যে যাইও না।
তুমি ঘরে থাকো, দেশের জইন্যে বাঁইচ্চা থাকো।
বুঝো না ,স্বদেশের ত্বরে যা করেই হোক রাখিবে এই জীবন।
জীবনডা দেশের জন্য উৎসর্গ করো। খামাখা ডেসার পিছনে লাই¹ো না।
করোনায় কে গøাভস খাইলো, কে মাস্ক খাইলো, কে ২০ কোটি টাকার নাস্তা খাইলো এই সব বিষয়ে তোমারে
মাথা ঘামাইতে হইবো না। এ জন্য তিন মেম্বার তদন্ত কমিটি আছে তারা দেখবো।
তুমি খালি দেশের জন্য নন্দলালের মতো বাঁইচ্চা থাকো ব্যাস।
কারণ তুমার জীবনের দাম আছে, জাতি তোমারে চায়।
তুমি না বাঁচলে দেশের উনন্নয়ন কার জন্যে রে বাবা।
কার মা’র করোনা টেষ্ট করতে যায়া কোন পোলা আনসারের মার খাইলো, এ সব নিয়া তোমার মাথা-ব্যাথা কি??
তুমি দেশের উপকারের জন্য ঘরে বইস্যা থাকো এইডাই জাতি তোমার কাছে আশা করে।
তুমি অযথা মিছিল মিটিং কইরা দেশের শান্তি নষ্ট কইরা হিংসা ডাইক্কা আইন্নো না।
মহান নেতা মাউনন্দুলালরে মতো পণ করো,“,স্বদেশের ত্বরে যে করেই হোক রাখিবো এ জীবন”
ব্যাস সবাই দলে দলে পঙ্গপালের মতো জড়ো হও আর নন্দলালের মতো প্রতিজ্ঞা করো,
দেশে হিংসা-দ্বেষ,রেপ-নিষ্ঠুরতা, বর্জন করবো আর দেশের জন্যে যে কোরেই হোক খায়া না খায়া জীবন বাঁচায়া রাখবো। এবার কোরাশে গেয়ে ওঠো:
“জান বাঁচলে আমি খাইমু , আমি খাইলে পালা, পোলা খাইলে দেশ বাঁচবো, পাবলিকে খাইবো কলা।”






Related News