Main Menu

আইন বাস্তবায়নে জ্ঞান ও সহিষ্ণুতার: একটি পর্যবেক্ষণ -দিপু সিদ্দিকী

চেতনা- চিকিৎসক হেনস্থার ঘটনায় যারা বলছেন
“They were just doing their job”
যারা বুঝতে পারছেন না যে সেই পুলিশ ইনস্পেকটর বা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কি ভুল ছিলো, তা একটু বুঝিয়ে বলি৷ পয়েন্ট আকারে, ওয়ান বাই ওয়ান৷
১/ উনার গাড়ির সামনে বড় করে সার্টিফিকেট লাগানো যে এটি জরুরি চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত৷ এমন গাড়িতে এটা লাগানোর মানে প্রশাসন এই গাড়ি চলাচলে সাহায্য করবে৷ তা না করে প্রশাসনই যদি এই গাড়ি আটকায় তাহলে ব্যপারটা দুঃখজনক৷
২/ আচ্ছা, আমি ধরে নিলাম ভুলে আটকে ফেলেছেন৷ আটকানোর পর সেই চিকিৎসক যখন গাড়ির কাঁচ নামিয়ে পরিচয় দিলেন যে উনি একজন সহযোগী অধ্যাপক, জয়েন্ট সেক্রেটারি ইকুইভ্যালেন্ট আফিসার৷ তখন আপনাদের সাথে সাথে তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল৷ কিন্তু না আপনারা তার সাথে বাজে ব্যবহার করলেন৷ গাড়ি সাইডে পার্ক করতে বললেন৷ এটা বেয়াদবি ছাড়া আর কিছু না৷
৩/ গাড়ি থামালেন তো থামালেন৷ আপনারা তাকে গাড়ি থেকে নামতে বললেন! একজন ম্যাজিস্ট্রেট বা ইন্সপেক্টর যদি একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি ইকুইভ্যালেন্ট অফিসারকে রাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে হয়রানি করেন, তবে এটা চরম বেয়াদবী৷
৪/ গাড়ি থেকে নেমেই ম্যাডাম তার গাড়ির সামনে লাগানো প্রত্যয়ন পত্র দেখালেন, কিন্তু এতে আপনারা ক্ষ্যান্ত হলেন না৷ আপনারা তার কাছে চাইলেন “আপনার মুভমেন্ট পাস কই??”
মানে আপনারা কি পাগল!! একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন ইন্সপেক্টর হয়ে এতটুকু জানেন না যে চিকিৎসকদের মুভমেন্ট পাস লাগে না৷ এটা জানানো আপনার চাকরি, সেখানে আপনারাই এই ধরনের গন্ডগোলের সূত্রপাত করছেন!!
৫/ উনি যখন বললেন, উনি আইডি কার্ড দেখাতে পারছেন না৷ এর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনারা এতো বেয়াদবি করে ফেলেছেন, আমার ধারনা কোন আত্মমর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই তাতে বিগড়ে যেতেন৷
৬/ মেজাজ বিগড়ে যাবার পর ম্যাডাম যা বলেছেন, আমি সেটার পক্ষে না৷ কিন্তু আপনারা তাকে হয়রানি করতে করতে কোথায় নিয়ে গেছেন যে একজন সিনিয়র চিকিৎসক গালিগালাজ করতে বাধ্য হন৷ চাকরি, বয়স, যোগ্যতা, জ্ঞান সবদিক থেকে উনি আপনাদের অনেক অনেক সিনিয়র এটা একবারও আপনাদের মাথায় আসলো না!
৭/ উনি যখন এতোক্ষণ নিজের পরিচয় দিচ্ছিলেন, ততক্ষণ আপনারা তার একটি কথাও শুনলেন না৷ অথচ যেই তিনি মন্ত্রী মহোদয়কে ফোন দিলেন, ততক্ষণে আপনাদের টনক নড়লো৷ এটা কখনোই প্রফেশনালিজম হতে পারে না৷
৮/ প্রশাসনে চাকরি করে যদি আপনি এতটুকুই না বোঝেন যে কে চোর আর কে রাষ্ট্রের সম্মানিত ব্যক্তি তবে আপনার মেধা -প্রজ্ঞা প্রশ্নবিদ্ধ ।
৯/ এই সমাজে জোর যার, মুল্লুক তার৷ ম্যাডামের জোর আছে দেখে উনি শক্তি প্রদর্শন করে বের হতে পেরেছেন৷ অথচ প্রতিদিন কতো চিকিৎসককে জনগণের সেবা দিতে গিয়ে পুলিশি হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে এই খবরটা কি আপনারা রাখেন?
১০/ লক ডাউনে আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে যারা রাষ্ট্রের জরুরি সেবায় নিয়োজিত তাদের মুভমেন্টে সাহায্য করা, তাদের কাজ স্মুথ করা৷ কিন্তু আপনারাই যদি তাদের পথের কাঁটা হন, তাহলে তারা কাজ করবে কিভাবে!!
সব কথার শেষ কথা, ম্যাডাম যেই ভাষা ব্যবহার করেছেন আমি কোনভাবেই সেটার পক্ষে বলছি না৷ কিন্তু আপনারা চিকিৎসকদের সাথে যেই ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। লেখক-বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মজ ।





Related News