Thursday, December 3rd, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: December 3, 2020

সুন্দরবনকে দুস্যমুক্ত করতে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে: কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক

আইরিন নাহারঃ মুজিব বর্ষ উপলক্ষে জেলেদের মধ্যে শীতবস্ত্র ও সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার (২ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আশরাফুল হক এসব উপকরণ বিতরণ করেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের সুরক্ষা ও দুস্যমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের জীবন-জীবিকা নিরাপদ করতে কোস্ট গার্ড সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছে, আগামীতেও এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন ও কালিগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইয়াছিন আলী।

অনুষ্ঠানে উপকূলীয় এলাকার তিনশ দুস্থের মধ্যে কম্বল ও একশ জেলের মধ্যে রেডিও, টর্চলাইট, লাইফ জ্যাকেট, রেইন কোট ও সাবান বিতরণ করা হয়।

Posted by: | Posted on: December 3, 2020

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: অভিযোগপত্র দাখিল আজ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করবে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা রয়েছে। বিষয়টি  নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি তদন্ত ইন্দ্রনীল। পুলিশ ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরই দ্রুত অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে।

কয়জনকে অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এরআগে, গত কয়েকদিন পূর্বে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পেয়েছে পুলিশ। রিপোর্টে চার জনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। অন্যরা ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্টে জানা যায় সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার আট জন আসামিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা। জবানবন্দিতে প্রধান আসামি সাইফুর, তারেক, শাহ মাহবুবুর ও অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। এছাড়া রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তা করার কথা আদালতে স্বীকার করে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হন। জোরপূর্বক তাকে ছাত্রাবাসের ভেতরে প্রাইভেটকারে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় তার স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

Posted by: | Posted on: December 3, 2020

সৈয়দপুর পৌরসভার ভোট ১৬ জানুয়ারি

. নীলফামারী সৈয়দপুর পৌরসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। বুধবার (২ ডিসেম্বর) বিকালে দ্বিতীয় ধাপে ৬১টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে জেলার সৈয়দপুর পৌরসভাসহ ২৯টিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। বাকি ৩২টি পৌরসভায় ভোট হবে ব্যালটের মাধ্যমে। জেলায় পৌরসভা নির্বাচনে এবারেই প্রথম ইভিএম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এসব পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২০ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ডিসেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ম্যাব এর সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘পাঁচ বছর পর সৈয়দপুর পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের বর্তমান মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার সৈয়দপুর পৌরসভার তেমন কোনও উন্নয়ন করতে পারেনি। যেহেতু ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে আমরা চাই জনগণ নিজের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে সঠিক প্রার্থী নির্বাচিত করুক।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম জানান, ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে সৈয়দপুর পৌরসভা গঠিত। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আমজাদ হোসেন সরকার জয়ী হন (ধানের শীষ)।

Posted by: | Posted on: December 3, 2020

বিনামূল্যে করোনা টিকা পাবেন জাপানিরা

জাপানে দেশটির সব বাসিন্দাকে বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান করা হবে। বুধবার এই বিষয়ে দেশটির পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। করোনাভাইরাস বিষয়ে জাপান ‘সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়’ রয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এমন ঘোষণা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পর এ বিল পাস করা হলো। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এখবর জানিয়েছে।

জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিলটি পাস হওয়ার পর উচ্চ কক্ষেও এটি অনুমোদন পেয়েছে। এ বিলে বলা হয়েছে, জাপানের ১২ কোটি ৬০ লাখ বাসিন্দার জন্য করোনা টিকার সব ব্যয় বহন করবে সরকার।

জাপান বৃহৎ ওষুধ কোম্পানি ফাইজারের কাছ থেকে ৬ কোটি মানুষের জন্য কোভিড-১৯ টিকা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, তারা বায়োটেক কোম্পানি মডার্নার নিকট থেকে আরও ২ কোটি ৫০ মানুষের জন্য করোনা টিকা কিনছে।

জাপান সরকার জানিয়েছে, তারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১২ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনবে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য মার্কিন ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকাকে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

জাপানে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ২ হাজার ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে হারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সে তুলনায় জাপানে আক্রান্ত ও মৃতের এ সংখ্যা অনেক কম।

Posted by: | Posted on: December 3, 2020

ভ্যাকসিন নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত

ভ্যাকসিন দেশে এলে সেটি কীভাবে, কাদের, কখন দেওয়া হবে; তা নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় তাহলে নিশ্চয়ই বাকিরাও পাবে। তবে সেটা হয়তো একসঙ্গে হবে না, ধাপে ধাপে পাবে। সেই সময় পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, একসঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়ার মতো সক্ষমতা শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর কোনও দেশেরই নেই। কাজেই যাদের আগে দেওয়া দরকার তাদেরই দেওয়া হবে।’

গত ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, অক্সফোর্ড থেকে তিন কোটি টিকা কিনবে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় এসব টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নীতিমালা অনুযায়ী জনগণের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের টিকা এলে সেটা পর্যায়ক্রমে সবাই পাবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মানুষই যাতে দ্রুত ভ্যাক্সিন পায় সেই উদ্যোগই নিচ্ছে সরকার।

এদিকে, খুব তাড়াতাড়িই বাংলাদেশ করোনার ভ্যাকসিন পাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘সেটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি অথবা তারও আগে হতে পারে।’

ভ্যাকসিন বিতরণের জন্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট টাস্কফোর্স কমিটি, বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতর গঠন করেছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটি।

কোর কমিটির এই পরিকল্পনাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে কাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে, কাজের সমন্বয়, আইনগত প্রস্তুতি, যোগাযোগ ও জনসচেতনা সৃষ্টি, কোল্ড চেইন সক্ষমতা, টিকার নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, পরিবহন এবং ওভার অল রিকোয়ার্ড বাজেট—সবকিছুই পরিকল্পনাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক।

তিনি জানান, যেভাবে ভ্যাকসিন কোভ্যাক্সের সুবিধার আওতায় আসার ‍সুযোগ রয়েছে—প্রথমে আসবে তিন শতাংশ, এরপর সাত শতাংশ, তারপর আসবে ১১ থেকে ২০ শতাংশ।

ডা. শামসুল হক বলেন, ‘২০ শতাংশের পর ২১ থেকে ৪০ এবং ৪১ থেকে ৮০ শতাংশ করা হয়েছে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, একবারেই ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান আমরা করে রেখেছি। যাতে আমাদের এই কাজটা আবার দ্বিতীয়বার না করতে হয়।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর জানান, প্রথম ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন সব দেশ পেয়ে যাওয়ার পরও যদি কোনও দেশ মনে করে তাদের আরও জনগোষ্ঠীকে তারা দিতে চায়, তাহলে বাকি ২১ শতাংশ থেকে দিতে পারবে। এইভাবে যদি ৮০ শতাংশ মানুষ পর্যন্ত ভ্যাকসিন দেওয়া যায় তাহলে প্রায় ১৩ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে; কিন্তু ২০ শতাংশ হারে প্রথম হিসেবে ৩৪ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট-জিএভিআই বা গ্যাভির কাছে জাতীয় ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান দিতে হবে, কিন্তু তার আগেই সরকারের কাছে এটা জমা দিতে হবে আমাদের। এই প্ল্যান রিভিউ করবে গ্যাভি, সেটা হবে ডিসেম্বর থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে এখানে কথা হচ্ছে, যারা আগে এই প্ল্যান জমা দেবে, তারাই আগে ভ্যাকসিন পাবে। আর আমরা চেষ্টা করছি, সাত ডিসেম্বর প্রথম দিকেই গ্যাভির কাছে সাবমিট করার জন্য। আমরা পেছনে থাকতে চাই না। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। গ্যাভি জানিয়েছে, তাদের ভ্যাকসিনের প্রথম শিপমেন্ট হবে ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে। এর মধ্যে আমরা এ সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবো, যাতে ভ্যাকসিন সময়মতো পেতে পারি। আর গ্যাভি ছাড়াও একইতালে ভ্যাকসিন কেনার জন্য ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান করে যাচ্ছি—যেন যেটা আগে পাই, সেটা দিয়েই শুরু করতে পারি।’

এখানে পাওয়া যাবে তিন কোটি ডোজ, কিন্তু প্রতিমাসে তারা ৫০ লাখ করে সাপ্লাই দেবে বলে জানান ডা. শামসুল হক।

গত ২২ নভেম্বর কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি তাদের ২২তম সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল চুক্তি করেছে এবং এ জন্য অর্থ বরাদ্দও হয়েছে।

কমিটি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়ে মতামত দিয়ে বলেছে, প্ল্যানটি সম্পূর্ণ ও যথাযথ। একইসঙ্গে সভায় মতামত দেওয়া হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাকসিন বিতরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আর এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডা. মো শামসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ গ্যাভি-কোভ্যাক্স থেকে ৬৮ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮০ লাখ (প্রতিজন দুই ডোজ) ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ। মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ শতাংশ হারে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এই ভ্যাকসিন পাবে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।’

ডা. শামসুল হক বলেন, ‘গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত মিটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম সর্ম্পকে জানতে চেয়েছিলেন, আমরা এ সংক্রান্ত সবকিছু তাকে অবহিত করেছি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন ছাড়া দেশে কোনও ভ্যাকসিন আমরা নিতে পারবো না, যখনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দেবে, তখনই দেশে ভ্যাকসিন আসবে।’

অপরদিকে, গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। সে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন কিনবে চার ডলার করে, আর এর সঙ্গে পরিবহনবাবদ যোগ হবে এক ডলার।

তিনি জানান, সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে তিন কোটি ভ্যাকসিন পাবে। এর জন্য সরকারের ব্যয় হবে এক হাজার পাঁচশ’ উননব্বই কোটি তেতাল্লিশ লাখ টাকা। অর্থাৎ ভ্যাকসিন কেনা থেকে শুরু করে মানুষের শরীরে দেওয়া পর্যন্ত এই টাকা প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় অর্ধেক পরিমাণ প্রায় ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড় করেছে।

‘তবে এই ভ্যাকসিন অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রিকোয়ালিফায়েড হতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকতে হবে। জনগণের সেফটির (নিরাপত্তা) কথা চিন্তা করে সবকিছু করা হবে; যদিও চুক্তি করা হয়েছে।

‘এ দুটি ভ্যাকসিনের সোর্স ছাড়াও সিনোভ্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, রাশিয়ার স্পুৎনিক এগিয়ে আসছে, তাদের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ রয়েছে’।—বলেন ডা. শামসুল হক।

ন্যাশনাল ভ্যাক্সিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটি হয়েছে, যাদের কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে এবং তাদের কাজ মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। কমিটির চেয়ার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত, তবে সেটা এখনও জমা দেয়নি। গত ২৬ নভেম্বর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে মিটিং হয়েছে, আমাদের পরিকল্পনা সেখানে শেয়ার করেছি। অন্যান্য যারা অংশীদার রয়েছেন সেখানে তারা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন, যদিও পরিকল্পনাটা সবাই এপ্রিশিয়েট করেছে। সেখানে “মেজর চেঞ্জ” খুব বেশি কিছু নেই। শেষ পর্যায়ে আমরা কাজের “ফাইন টিউনিং” করছি।’

অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘এখন আসলে যেগুলো কাজ হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে ফাইন টিউনিং বা আরেকটু বেশি দেখা। প্রক্রিউরমেন্ট কীভাবে হবে—সেগুলোর চূড়ান্ত করা, এ রকম কিছু কিছু জিনিস চলছে। মোটামুটি এটা চূড়ান্ত পর্যায়ে।’

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে কাজ হয়ে গেছে, সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত। এখন কেবল মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অপেক্ষা।’