Main Menu

সোয়েটারের বিলের দেড় লাখ ডলার পরিশোধে অস্বীকৃতি, তিন বায়ার হাজতে

নরসিংদীতে প্রতারণার অভিযোগে তিন বায়ারকে গ্রেফতারের পর আনা হচ্ছে আদালতে।

নরসিংদীর বিভিন্ন বস্ত্র কারখানা থেকে রফতানি করা পোশাকের টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার অভিযোগে ৩ বায়ারকে (বিদেশি ক্রেতাদের মনোনীত প্রতিনিধি) জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে ওই তিন বায়ারকে নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলো- এম এম.এস সোর্সিং এর ম্যানেজিং পার্টনার মতিউর রহমান (৪৫), এম.এম.এস সোর্সিং এর মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার হাফিজ উদ্দিন মিজি (৪২) এবং কোয়ান্টাম লজিস্টিক লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হুদা তুহিন (৪৫)। মামলার অপর আসামি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মুনাজতপুর গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে ও কোয়ান্টাম লজিস্টিক লিমিটেড  এর কর্মকর্তা জি এম আরিফুর রহমান (৩২) পলাতক।

পুলিশ ও মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, গত ৩ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীস্থ জজ ভূঞা গ্রুপের রফতানিমুখী বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফে-ম্যাক্স সোয়েটার কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজন বায়ারের বিরুদ্ধে নরসিংদীর আদালতে প্রতারণার অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাধবদী থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলা গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে মাধবদী থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে তোলা হলে দুজনকে তিনদিনের রিমান্ড ও কোয়ান্টাম লজিস্টিক লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হুদা তুহিনকে (৪৫) জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আবার তাদের নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রকিবুল ইসলামের আদালতে তোলা হয়।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, কোয়ান্টাম লজিস্টিক লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নরসিংদীর মাধবদী এলাকার ফে-ম্যাক্স সোয়েটার কম্পোজিট লিমিটেড চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৮৮ হাজার ৮৬০ পিস বিভিন্ন সাইজের লেডিস সোয়েটার রফতানির অর্ডার পায়। পরে অর্ডার অনুযায়ী সব পোশাক রফতানি করা হয়। এসব পোশাকের মোট মূল্য মূল্য ৪ লাখ ৩৯ হাজার ২৬০ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কয়েক ধাপে ওই প্রতিষ্ঠান পোশাকের মূল্য বাবদ ২ লাখ ৯১ হাজার ৪১৫ মার্কিন ডলার পরিশোধ করলেও ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৫ মার্কিন ডলার বকেয়া থেকে যায়। পরে বকেয়া ডলার পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে কোয়ান্টাম লজিস্টিক লিমিটেড নামের বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানটি। এক পর্যায়ে পাওনা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায় কোয়ান্টাম লজিস্টিক লিমিটেড। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই চারজন বায়ারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ফে-ম্যাক্স সোয়েটার কম্পোজিট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ জানান, মামলার আসামিরা বায়ার অর্থাৎ বিদেশি ক্রেতার মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গার ৩২টি বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২২ কোটি টাকার পোশাক নিয়ে টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নরসিংদীতে প্রতারণার অভিযোগে তিন বায়ারকে গ্রেফতারের পর আদালতে আনা হচ্ছে।

ফে-ম্যাক্স সোয়েটার কম্পোজিট লিমিটেডের জিএম শরিফুল ইসলাম জানান, কোয়ান্টাম লজিস্টিক লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি মালমাল বুঝে পাওয়ার পরই আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওনা টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা। কিন্তু ওই টাকা আমাদেরকে না দিয়ে তারা নিজেরাই আত্মসাৎ করে। তারা বায়িং হাউজ হয়েও সহযোগিতার পরিবর্তে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এমন আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা প্রতারণা করে যাচ্ছে। আমরা এমন প্রতারণার প্রতিকার চাই।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে মাধবদী থানার পুলিশ। পরে তাদের আদালতে তোলা হলে দুইজনের তিন দিনের করে রিমান্ড ও একজনকে জেলহাজতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পাই আমরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ দুপুরে আবার আদালতে তোলা হলে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।






Related News