Main Menu

পূরাণ পারেননি, বেয়ারস্টো-ওয়ার্নারেরই জয়

ওয়ার্নার-বেয়ারস্টো জুটির সৌজন্যেই জিতেছে হায়দরাবাদ     -ছবি: টুইটার

গত মৌসুমে দলের ষাট শতাংশ রানই করেছিলেন ওয়ার্নার-বেয়ারস্টো ওপেনিং জুটি।  ১৬৪ স্ট্রাইকে রেটে তিনটি ফিফটির সঙ্গে ছিল চারটি শত রানের জুটি। আর এবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পাঁচ ম্যাচে একটি মাত্র পঞ্চাশ রানের জুটি তাদের। কমপক্ষে চারটি ইনিংস খেলেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বাজে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে বেয়ারস্টো (১০৫) ও ওয়ার্নার (১১১) দ্বিতীয় ও তৃতীয়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুনীল নারাইনের (৮৭)। এই বাজে পরিসংখ্যান থেকে বেরোতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে বেছে নিলেন ওয়ার্নার ও বেয়ারস্টো। ১৬০ রানের ওপেনিং জুটি গড়েই তারা পাঞ্জাবকে হারিয়ে দিলেন ৬৯ রানে।

পরের দিকে  উইকেট মন্থর হয়ে পড়ছে, এ জন্য টস জিতে কোনও অধিনায়ক ফিল্ডিং নিতে চাইছেন না আর। বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিং নেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। ক্রিজে গিয়েই হয়তো তার মনে পড়ে গিয়েছিল পাঞ্জাবের সঙ্গে সর্বশেষ ৮ ম্যাচেই ফিফটি করেছেন। একটু রয়ে-সয়ে জুটি জমিয়ে তুললেন জেনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে। এমনই যে, উঠে গেল ১৬০ রান। অজি-অ্যাংলো জুটিকে তখন ভাঙে সাধ্য কি লোকেশ রাহুলের বোলারদের!  তরুণ লেগস্পিনার রবি বিষ্ণোই অবশেষে ভাঙলেন। ১৫.১ ওভারে ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৪০ বল থেকে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৫২ করে যান ওয়ার্নার। তিন বল পরে বেয়ারস্টো এলবিডব্লিউ, ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি ম্যান অব দ্য ম্যাচ। সাত চার ও ৬ ছক্কায় ৫৫ বল থেকে ৯৭ রান করেছেন ইংলিশ ওপেনার ও উইকেটকিপার।

হাতে ৯ উইকেট ও ২৯ বল। এখান থেকে যেকোনও ফিল্ডিং সাইড প্রতিপক্ষকে ২৪০ রানের নিচে আটকাতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান ভাবে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে হায়দরাবাদ ২০১ রানের বেশি যেতে পারেনি। তাও ১০ বলে ২০ রান করেছেন কেন উইলিয়ামসন, অভিষেক শর্মা ৬ বলে ১২। বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে বাঁহাতি পেসার আরশদীপ সিং ও মোহাম্মদ শামি মিলেই আটকে দেন ওদের।

রান তাড়ায় পঞ্চম ওভারের মধ্যে ৩১ রান তুলতে দুই উইকেট খোয়ানো পাঞ্জাবকে পাত্তা দেয়নি হায়দরাবাদ। কিন্তু এরপরই দিতে বাধ্য হয়েছে নিকোলাস পূরাণের কারণে। শুধু হায়দরাবাদ কেন, দুবাই স্টেডিয়াম দেখেছে পূরাণ-শো। শুধু দুবাই কেন, টিভি পর্দায় চোখ রাখা গোটা ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে ছোটখাটো শরীরের ক্যারিবিয়ানের ব্যাটিং। ওয়ার্নারদের শিরদাঁড়ায় ভয়ের শীতল স্রোত বইয়ে বল বাউন্ডারি ছাড়া করছিলেন পূরাণ। আইপিএলে নিজের ফিফটিটিকে বানিয়েছেন দ্রুততম ফিফটি। আবদুল সামাদের করা নবম ওভারে ৪ ছক্কা ও ১ চারে নিয়েছেন ২৮ রান। ১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্যপ্রান্ত থেকে উইকেট পড়ছে, কিন্তু পূরাণ হাঁকিয়েই যাচ্ছিলেন। যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, মনেই হয়নি যে ২০২ রানের লক্ষ্য ছুঁতে পারবে না পাঞ্জাব। কিন্তু ওদিকেও তো আছেন এক ঘূর্ণি বলের জাদুকর। লেগস্পিনের সেই আফগান জাদুকর রশিদ খানের কাছেই পরাস্ত পূরাণ। কভার পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে যাওয়ার আগে ৩৭ বলে ৭৭ করে গেছেন  ৫ চার ও  ৭ ছক্কায়। ১৪.৫ ওভারে পূরাণ আউট হওয়ার পর আর দুই ওভার টিকতে পেরেছে পাঞ্জাব। ১৩২ রানের অলআউট হয়ে হেরেছে ৬৯ রানে। ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন রশিদ, খলিল আহমেদ ও নটরাজন দুজনই ২৪ রান করে দিয়ে উইকেটও নিয়েছেন ২টি করে।

ছয় ম্যাচে তৃতীয় জয়ে হায়দরাবাদ উঠে দাঁড়ালো তৃতীয় স্থানে, আর ক্রমশই পাতালমুখী পাঞ্জাব। আট দলের পয়েন্ট তালিকার আটে থাকা পাঞ্জাব টানা চতুর্থ পরাজয়ে হাতে রাখতে পেরেছে মাত্র দুই পয়েন্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ২০১/৬ (বেয়ারস্টো ৯৭, ওয়ার্নার ৫২, উইলিয়ামসন ২০*, বিষ্ণোই ৩/২৯,  আরশদীপ ২/৩৩, শামি ১/৪০) ও পাঞ্জাব: ১৬.৫ ওভারে ১৩২ (পূরাণ ৭৭, রাহুল ১১, সিমরান ১১, রশিদ ৩/১২, খলিল ২/২৪, নটরাজন ২/২৪)।






Related News