Main Menu

বেরোবি’কে উত্তরের জনগোষ্ঠীর বাতিঘরে পরিণত করলেন উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ

নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুর অন্যতম। অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া উত্তরের জনগোষ্ঠীর অনেক আশা ভরসার প্রতীক এ বিশ্ববিদ্যালয়। হাঁটিহাঁটি পা পা করে এক যুগে পা দিতে যাচ্ছে আগামী মাসে। শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঝে মধ্যেই স্থবির হয়ে পড়া এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমদিকে মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্ব নেন প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার। গতানুগতিক ধারায় না হেঁটে শুরু থেকেই বেরোবি, রংপুর-কে নিয়ে নতুন পরিকল্পনার ছক এঁকে নেন তিনি। পাশাপাশি নিজের মেয়াদের মধ্যবর্তী উন্নয়নে চোখ সীমাবদ্ধ না রেখে বেরোবি’র দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে মনোযোগ দেন, হাতে নেন নানাবিধ উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি প্রথমে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার জন্য ভাচুর্য়াল ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন প্রতিটি বিভাগে। সেই সাথে কম্পিউটার ল্যাব, ক্যাম্পাসে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু করেন, যা আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করছে প্রতিনিয়ত। এ সবের মধ্যে প্রতিনিয়ত দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতাস্মারক ও স্বাক্ষর করছেন তিনি। যার ফলে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসে নিয়মিত বিভিন্ন বিভাগে সভা, সেমিনারের আয়োজনও করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক ধারার বাইরে জানতে ও বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করছে।

অন্যদিকে উপাচার্য স্যারের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানাবিধ জটিলতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ক্যাফেটেরিয়াটি চালু হয়েছে। বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট কার্যক্রম ও নিয়মিত খেলাধুলা আয়োজন করার ফলে ক্যাম্পাসে প্রাণস্পন্দন ও গতিশীলতা এসেছে। অন্যতম জনপ্রিয় ফেন্সিং খেলা এবং ফেন্সিং ক্লাব গঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের মাধ্যমে নতুনত্ব যুক্ত হয়েছে। খেলাধুলায় নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিতকল্পে প্রমীলা ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ও অন্যান্য খেলা চালু করা হয়েছে। এমনকি প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের নিকট হতে মেয়েদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। স্থবির হয়ে থাকা শেখ হাসিনা হলের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং উত্তরের জনপদের মানুষের গবেষণায় গতি আনার লক্ষ্যে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ এন্ড ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট এর নির্মাণ কাজ দ্রুততার সাথে সমাপ্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। প্রশাসনিক ভবনের বর্তমান অফিসগুলো আধুনিকায়ন করার চেষ্টাও চলমান রয়েছে।

উপাচার্য মহোদয় দেশে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়োগকৃত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। কেননা তিনি বিশ্বাস করেন, দক্ষ জনশক্তি যে কোন প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রতিষ্ঠানের সুফল এনে দেয়। এছাড়াও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্য আইসিটি সেলগঠন, স্টোর ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার স্থাপন, সিসি ক্যামেরা, ই-ফাইলিং, ই-টেন্ডারিং, যানবাহনের গ্যারেজ স্থাপন, ভেইকেল ট্র্যাকিং, আনসারকর্মীদের জন্য আবাসস্থল নির্মাণ, বিভিন্ন স্থাপনার সংযোগ সড়ক পাকাকরণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে বেরোবি, রংপুর বর্তমানে সকল স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন আলোর দিশারী হয়ে উঠছে।

ফাহিমুল কাদের সিদ্দিকী
প্রভাষক, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগ;
নির্বাহী সদস্য, নবপ্রজন্ম শিক্ষক পরিষদ;
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।






Related News