৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু

অভিভাবকহীন চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদে নিয়োগ দেয়া হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

উপাচার্য ছাড়াই চলছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তার মধ্যে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিদায় নিয়েছেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ। গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন তার দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ করেছেন গত ২৮ আগস্ট।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) এক বছর ধরে উপাচার্য নেই। কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের মেয়াদ শেষে বিদায় নেয়ায় এ দুটি পদও শূন্য রয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহম্মদের চার বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমও গত মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে।

শেকৃবির উপাচার্য পদে নিয়োগে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ (দ্বিতীয় মেয়াদে), সদ্য সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলী, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া এবং সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. অলক কুমার পাল। তাদের মধ্যে যিনি উপাচার্য পদে নিয়োগ পাবেন, তার বাইরে থাকা তিনজনের মধ্যে দুজনকে উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ তিন পদে এ সপ্তাহেই নিয়োগ দেয়া হতে পারে।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) টানা দুই মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের মেয়াদ গত ২৭ আগস্ট শেষ হয়। ২৮ আগস্ট থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যাদের নাম নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন- ডুয়েটের সাবেক ছাত্রকল্যাণ পরিচালক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. গণেশ চন্দ্র সাহা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহীন হাসান চৌধুরী। তাদের মধ্যে ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

টানা ১০ দিন উপাচার্য ছাড়াই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। ভিসি নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক ও অর্থ-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবি করেছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।

গত ২০ আগস্ট এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশীদ আসকারী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম ত্বোহার মেয়াদ শেষ হয়। তারা দুজনই ২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট এ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। অধ্যাপক আসকারীই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য, যিনি তার চার বছরের মেয়াদ পুরোপুরি শেষ করতে পেরেছেন। তার আগের উপাচার্যদের সবাইকেই আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

অধ্যাপক ড. হারুন উর রশীদ আসকারী এ পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পেতে চান। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। এ পদের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- ইবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সদ্য সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম ত্বোহা, বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামও ইবিতে উপাচার্য পদে নিয়োগ পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন। এর দেড় মাস পর ওই বছরের ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু গত এক বছরেও কাউকে পূর্ণকালীন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় উইং থেকে জানা গেছে, শিগগিরই বশেমুরবিপ্রবিতে উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হবে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যাদের নাম বিভিন্ন সূত্র থেকে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান। এ পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ডুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক শেখ আবু নাঈমের ব্যাপারেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা ভাবছেন বলে জানা গেছে।

Share: