Main Menu

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জানাজায় বাস্থ্যবিধি না মেনে হাজার হাজার মানুষের ঢল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাদঘুর জামিয়া সিরাজিয়া দারুল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষ শায়খুল হাদিস আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজী রবিবার (৯ আগস্ট) মারা গেছেন। তার জানাজায় নামে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাজার হাজার মানুষের ঢল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাজায় কম লোক অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এতে কান দেননি স্থানীয়রা। এসময় সড়কের ওপরে মানুষর ভিড়ের কারণে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সিরাজী (৯১) রবিবার দুপুরে পৌর এলাকার ভাদুঘরে নিজ বাসভবনে মারা যান। ‘বড় হুজুর’ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান সিরাজী হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আমির ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার জানাজায় ইমামতি করেন খালেদ সাইফুল্লাহ সিরাজী।

তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার জানাজার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসন করোনা পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে জানাজা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়াম, জেলা ঈদগাহ মাঠ বাদ দিয়ে ভাদুঘরের মাদরাসায় সীমিত পরিসরে জানাজা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রশাসনের আটকানোর চেষ্টা সত্ত্বেও বড় হুজুরের জানাজায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ

তবে প্রশাসনের সীমিত আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও সাধারণ মানুষের জানাজায় আসা থামানো যায়নি। আজ রবিবার বিকেলে ভাদঘুর জামিয়া সিরাজিয়া দারুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে মনিরুজ্জামান সিরাজীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে জেলা সদরসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন আসতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাদ আছর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও বেলা চারটা থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসতে শুরু করে। আগতদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এত লোক জড়ো না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। মাস্ক পরতে অনুরোধ করা হয়। তবে সাধারণ মানুষকে থামানো যায়নি। সন্ধ্যায় ছয়টায় জানাজায় শুরু হওয়ার সময় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিয়াল্লিশ এলাকা থেকে কাউতলী পর্যন্ত লোকজন জানাজার জন্য দাঁড়িয়ে পড়েন। যে কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর জানাজা শেষ হলেও মানুষের হাঁটাচলা ও অবস্থানের কারণে দুই ঘন্টারও বেশি সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জানাজায় অন্তত ২০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কারণে বেশি লোকের সমাগম হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলাখান জানান, আমরা চেষ্টা করেছিলাম লোক সমাগম যেন কম হয়। তবে জানাজায় পাঁচ হাজার লোক হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

.

 ‘বড় হুজুরের’ জানাজায় অন্তত ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। প্রশাসনের বাধা শোনেনি কেউ।

মহাসড়ক দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদ মৌসুম, যানবাহনের চাপ ছিল। তাই যানজট হয়েছে।

পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, জানাজার ব্যপারে আগে থেকে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়। তাই লোক সমাগম তেমন ঘটেনি। তবে মহাসড়কে বিপুল লোক সমাগমের কারণে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে খ্যাতিমান ইসলামি আলোচক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারী মারা গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জানাজাতেও লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিল। সে ঘটনায় করোনার সময়ে জানাজায় এত বেশি সংখ্যক মানুষ আসা থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে  সরাইল সার্কেল এর এএসপি মো. মাসুদ রানা, সরাইল  থানার ওসি (প্রশাসন) মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু ও একই থানার ওসি (তদন্ত) মা. নুরুল হককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।






Related News