Wednesday, July 22nd, 2020

now browsing by day

 
Posted by: | Posted on: July 22, 2020

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাভার্ডভ্যান ও লেগুনা গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে।

পঞ্চগড়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

 

বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান চকরিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।

তবে নিহত ও আহতরা লেগুনা গাড়ীর যাত্রী বলে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হাবিবুর বলেন, সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার হারবাং এলাকায় চট্টগ্রামমুখি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রী একটি লেগুনা গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে লেগুনা গাড়ীটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছে।

ওসি বলেন, “ ঘটনার পরপরই হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্য ২ জনের অবস্থাও আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ”

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার প্রত্যয় বড়ুয়া বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ৯ জনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত অন্য ২ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে নিহতদের লাশ এখনো চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে জানান ওসি হাবিবুর রহমান।

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

ঘুমের মধ্যে বোবায় কেন এবং কাকে ধরে, প্রতিকার

ঘুমের মধ্যে হঠাত শরীর অবশ হয়ে যাওয়া। এরপর কোন নড়াচড়া করা যায় না, এক পর্যায়ে মনে হয় কে যেন শরীরে ভর করেছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় স্লিপ প্যারালাইসিস, বা ঘুমের মধ্যে পক্ষাঘাত। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামান্থা আফরিনের মতে, বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস হল গভীর ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি একটি স্নায়ুজনিত সমস্যা।

ঘুমের ওই পর্যায়টিকে বলা হয় র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট-রেম। রেম হল ঘুমের এমন একটি পর্যায় যখন মস্তিষ্ক খুব সক্রিয় থাকে এবং এই পর্যায়ে মানুষ স্বপ্ন দেখে থাকে। কিন্তু সে সময় শরীরের আর কোন পেশী কোন কাজ করেনা। এ কারণে এসময় মস্তিষ্ক সচল থাকলেও শরীরকে অসাড় মনে হয়।

বোবায় ধরা কাদের হয়, কেন হয়?
স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই। এই পরিস্থিতি যে কারও সঙ্গে যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা বা এনএইএস-এর তথ্য মতে তরুণ-তরুণী এবং কিশোর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। স্লিপ প্যারালাইসিস হওয়ার পেছনে কিছু কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

১. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা ছেড়ে ছেড়ে ঘুম হওয়া। অসময়ে ঘুমানো। অনেক সময় কাজের সময় নির্দিষ্ট না হলে, অথবা দূরে কোথাও ভ্রমণে গেলে এমন ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

২. মাদকাসক্ত হলে অথবা নিয়মিত ধূমপান ও মদপান করলে।

৩. পরিবারে কারও স্লিপ প্যারালাইসিস হয়ে থাকলে।

৪. সোশ্যাল অ্যাঙ্কজাইটি বা প্যানিক ডিসঅর্ডার বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যা থাকলে।

বোবায় ধরার লক্ষণ:
ডা. সামান্থা আফরিনের মতে এবং ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী স্লিপ পারালাইসিসের সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে। সেগুলো হল:

১. বড় করে নিশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়। মনে হবে যেন বুকের মধ্যে কিছু চাপ দিয়ে আছে। দম বেরোচ্ছেনা।

২. অনেকের চোখ খুলতে এমনকি চোখ নাড়াচাড়া করতেও সমস্যা হয়।

৩. অনেকের মনে হয় যে কোন ব্যক্তি বা বস্তু তাদের আশেপাশে আছে, যারা তার বড় ধরণের ক্ষতি করতে চায়।

৪. ভীষণ ভয় হয়। শরীর ঘেমে যায়।

৫. হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। অনেকের রক্তচাপও বাড়তে পারে।

৬. পুরো বিষয়টা কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রভাবটি কেটে গেলে আগের মতো কথা বলা বা নড়াচড়া করায় কোন সমস্যা থাকেনা। তারপরও অনেকে অস্থির বোধ করেন এবং পুনরায় ঘুমাতে যেতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

চিকিৎসা কী:

স্লিপ প্যারালাইসিস আসলে গুরুতর কোনও রোগ নয়। মাঝে মাঝে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। মনকে চাপমুক্ত রাখার পাশাপাশি ঘুমানোর অভ্যাসে ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

১. রাতে অন্তত ৬ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা। এবং সেই ঘুম যেন গভীর হয়।

২. প্রতিদিন রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠার অভ্যাস করা। এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও।

৩. ঘুমের জন্য শোবার ঘরটিতে আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে। যেন সেই ঘরে কোলাহল না থাকে, ঘরটি অন্ধকার থাকে এবং তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় থাকে, খুব বেশি না আবার কমও না। সম্ভব হলে ঘরে ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধি ছিটিয়ে দেয়া যেতে পারে।

৪. ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ভারী খাবার সেইসঙ্গে ধূমপান, মদ পান এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা-কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫. ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত চার ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করার চেষ্টা করা।

৬. ঘুমের সময় হাতের কাছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ অর্থাৎ ঘুমের বাঁধা হতে পারে এমন কোন বস্তু রাখা যাবেনা।

৭. দিনের বেলা দীর্ঘসময় ঘুম থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮. স্লিপ প্যারালাইসিস হলে নিজের মনকে প্রবোধ দিতে হবে যে ভয়ের কিছু নেই, এই পরিস্থিতি সাময়িক, কিছুক্ষণ পর এমনই সব ঠিক হয়ে যাবে। এই সময়ে শরীর নাড়াচাড়া করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:
এসব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি কারও বাড়াবাড়ি রকমের স্লিপ প্যারালাইসিস হয় অর্থাৎ আপনার ঘুমে নিয়মিতভাবে ব্যাঘাত ঘটে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কেননা স্লিপ প্যারালাইসিস ঘন ঘন হলে উদ্বিগ্নতার কারণে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বা কমে যায়, যা বড় ধরণের স্বাস্থ্য-ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। চিকিৎসক রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় তারা কম থেকে বেশি মাত্রার অ্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন।

চিকিৎসা পদ্ধতি:
নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা মূলত ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে তারা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাম-ইএমজি পরীক্ষা করে থাকেন। এখানে মূলত মাংসপেশির ইলেকট্রিকাল অ্যাকটিভিটির মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। যেটা কিনা স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় অনেক কমে যায়। রাতে ঘুম না হওয়ার কারণে স্লিপ প্যারালাইসিসে আক্রান্তদের অনেকেরই দিনের বেলায় ঘুম ঘুম ভাব হয়।

সেসময় চিকিৎসকরা রোগীর এই দিনের বেলার ঘুম পরীক্ষা করে থাকেন। যাকে বলা হয় ডে-টাইম ন্যাপ স্টাডি এবং এর পরীক্ষাটিকে বলা হয় মাল্টিপল স্লিপ ল্যাটেন্সি টেস্ট। স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় মস্তিষ্ক জেগে উঠলেও শরীর তখনও শিথিল থাকে। এর কারণ হিসেবে কানাডার দুই গবেষক জানিয়েছেন যে মস্তিষ্কে দুই ধরণের রাসায়নিক বা অ্যামাইনো অ্যাসিডের নি:সরণের কারণে মাংসপেশি অসাড় হয়ে পড়ে।

রাসায়নিক দুটি হল, গ্লাইসিন এবং গামা অ্যামাইনোবিউটিরিক অ্যাসিড-গ্যাবা। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী প্যাট্রিসিয়া এল ব্রুকস এবং জন এইচ পিভার, পিএইচডি একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে নিউরোট্রান্সমিটার গ্যাবা এবং গ্লাইসিন মস্তিষ্কে পেশী সক্রিয় রাখার কোষগুলোকে ‘সুইচ অফ’ করে দেয়।

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

লিকুইড ডিশ ওয়াশ ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ

খাওয়ার আগে বা পরে বাসন তো মাজতেই হয়। বিজ্ঞাপনী চটকে আজকাল প্রায় সব শহুরে বাড়িতেই বাসন মাজতে ব্যবহার করা হয় লিকুইড ডিশ ওয়াশ। 

তেল চিটচিটে বাসন কিংবা পুড়ে যাওয়া কড়াইয়ের দাগ তুলতে প্রায় সবারই পছন্দ বাসন মাজার লিকুইড এই সাবান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপদ এখানেই। লিকুইড ডিশ ওয়াশের কেমিক্যাল ডেকে আনছে বড়সড় ক্ষতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসন মাজার তরল সাবানে থাকে প্রচুর ক্ষতিকর রাসায়নিক। এই সাবানে ধোয়া বাসনে দীর্ঘদিন খেতে থাকলে বিপদ। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি এবং র‍্যাশের সমস্যা আছে, তা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

অনেক রাসায়নিক চামড়ায় মিশে যায়। সেখান থেকে সরাসরি চলে যায় রক্তে। এভাবে আস্তে আস্তে শরীরে জমতে থাকে দূষিত পদার্থ। এ থেকে চামড়ার অসুখ, ঘুম ঘুম ভাব, মাথার যন্ত্রণা, ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

এছাড়া হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের সংক্রমণ, চোখের সমস্যাও হতে পারে লিকুইড ডিশ ওয়াশ সাবান থেকে।

এ বিপদ থেকে বাঁচতে সাবানের বার ব্যবহার করা এবং যে সাবানই ব্যবহার করুন না কেন ভাল করে বাসন ধুতে হবে।

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

ফেসবুকের ‘রুম’ ব্যবহারের নিয়ম

ভিডিও কলের নতুন ফিচার নিয়ে আসলো ফেসবুক। ম্যাসেঞ্জার রুম নামের এই প্ল্যাটফর্ম দিয়ে মোবাইল ও কম্পিউটার থেকে যুক্ত হওয়া যাবে গ্রুপ ভিডিও কলে। করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের সময় ভিডিও কলের ফিচার জুম, গুগল মিট, স্কাইপ এবং এমএস টিমসের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। মানুষ একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। প্রাতিষ্ঠানিক মিটিং এবং অনলাইন ক্লাস হচ্ছে এখন ভিডিও চ্যাটিংয়ের এসব ফিচারের বদলোতে।

প্রাথমিক অবস্থায় এই ফিচারটিতে সর্বোচ্চ ৫০ জন যুক্ত হতে পারেন একটি ম্যাসেঞ্জার রুমে। এই ফিচারটি ফেসবুক মেসেঞ্জার এবং ফেসবুককে আবার জনপ্রিয় করে তুলেছে। এখানে মিটিংয়ের জন্য কোনো নিদ্দিষ্ট সময় সীমা নির্ধারণ করা নেই। যতক্ষণ প্রয়োজন এই মিটিং চালিয়ে নেয়া সম্ভব।

মেসেঞ্জারের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্ট্যান চেরনোভস্কি এক ব্লগ পোস্টে বলেন, ফেসবুক নিউজ ফিড, গ্রুপ ও ইভেন্টসে রুম শেয়ার ও শুরু করা যাবে। এতে যেকোনো জায়গা থেকে সহজে আমন্ত্রণ জানানো যাবে। কারা কারা যুক্ত হতে পারবেন, তা ঠিক করতে পারবেন রুম ব্যবহারকারী।

কিভাবে তৈরি করবেন ফেসবুক রুম?

আপনার প্রথমে প্রয়োজন হবে ফেসবুক এবং ম্যাসেঞ্জারের সর্বশেষ ভার্সন। যদি সেটি না থাকে তবে গুগল প্লে-স্টোর থেকে নামিয়ে নিন। এবার কিছু সহজ প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন:

১. আপনার মেসেঞ্জারে যান

২.  People tab বাটনে ক্লিক করুন। এটি স্ক্রিনের নীচে ডানে রয়েছে।

৩.  Create a Room অপশনে ক্লিক করুন। এবং আপনার পছন্দের বন্ধুদের যুক্ত করুন।

৪. এখন যদি আপনি এটি অন্যদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করতে চান যাদের ফেসবুক একাউন্ট নেই তাহলে তাদের আপনি ই-মেইল বা অন্য কোনো মাধ্যমে আপনার ম্যাসেঞ্জার রুমের লিংক পাঠিয়ে দিন।

এখন ব্যবহারকারী লিংক পাওয়া ব্যক্তি আপনার সঙ্গে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে যুক্ত হতে পারবেন। ফেসবুক ভিডিও কলের এই অ্যাপসটি WhatsApp এবং Instagram এ যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে।

Posted by: | Posted on: July 22, 2020

রাজধানীতে বসবে ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট

আগামী ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদুল আজহা। সে হিসাবে ঈদের ১০ দিন আগে রাজধানীবাসীর জন্য কোরবানির পশু কেনার সুযোগ করে দিতে পশুর হাট চূড়ান্ত করেছে দুই সিটি করপোরেশন। দুই সিটি মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় পাঁচটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এর পাশাপাশি দুই সিটির স্থায়ী দুই পশুর হাটেও (গাবতলী ও সারুলিয়া) বিক্রি হবে কোরবানির পশু।করোনাভাইরাস সংক্রামণের ঝুঁকির মধ্যেও এ বছর কোরবানির পশুর হাটের জন্য রাজধানী ঢাকায় দুইটি স্থায়ী হাট ছাড়াও ২৪টি অস্থায়ী হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু ডিএনসিসির ১০টি এবং ডিএসসিসির ১৪টি হাটের ইজারার জন্য দুই দফা দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত দর মেলেনি। ফলে সব হাট ইজারা দিতে পারেনি সিটি করপোরেশন দুইটি। শেষ পর্যন্ত ডিএনসিসি গত ১৩ জুলাই যে পাঁচটি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছিল, সেই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটি গত ৮ জুলাই দ্বিতীয় দফাতেও পাঁচটির বেশি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯ জুলাই পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো দরপত্র জমা নেয় সংস্থাটি। তৃতীয় দফার দরপত্র খুলে ৯টি হাটের বিপরীতে ২০টি দর পাওয়া যায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এর মধ্য থেকে ছয়টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি তিনটি হাট জনস্বার্থ বিবেচনায় বাতিল ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। অর্থাৎ ডিএসসিসিতে এবার মোট ১১টি পশুর হাট বসবে।

ডিএনসিসি’তে চূড়ান্ত ৫ হাট

ডিএনসিসির ইজারা চূড়ান্ত হওয়া হাটগুলো হলো— কাওলা-শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, সম্পূর্ণ নতুন হিসেবে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজসংলগ্ন মস্তুল ডুমনি বাজারমুখী রাস্তার উভয়পাশের খালি জায়গা, ভাটারা সাঈদনগর ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বেঁড়িবাধ সংলগ্ন মৈয়নারটেক শহীদনগর এলাকা।


এর আগে, ১৮ জুন ডিএনসিসি এলাকায় ১০টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। যে পাঁচটি হাট ইজারা দেওয়া যায়নি, সেগুলো হলো— উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমের অংশ ও ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের ফাঁকা জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাব নগর) ব্লক-ই সেকশন ৩-এর খালি জায়গা, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইন ও মিরপুর সেকশন ৬ ওয়ার্ড ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)।
করোনার ঝুঁকি এড়াতে ও কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমের অংশ এবং ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের ফাঁকা জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হাটগুলো বাতিল করে গত দুই জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএনসিসি।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজ্জাম্মেল হক সারাবাংলাকে বলেন, আমরা আগেই তিনটি হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছিলাম। করোনার ঝুঁকি বিবেচনায় আর কোনো হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আজ (সোমবার ১৩ জুলাই) জনস্বার্থে হাট বাড়ানোর বৈঠকে আরও দু’টি হাট (ভাটারা ও মৈয়নারটেক) ইজারার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব হাটের জন্য কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি। তবু জনস্বার্থে এসব এলাকায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ ভাটারা এলাকার আশপাশে আর কোনো হাট না থাকায় সে এলাকার বাসিন্দাদের পশু কিনতে উত্তরা যেতে হতো। তাই এ সিদ্ধান্ত।
ডিএসসিসি’তে চূড়ান্ত ৫ হাটএদিকে, দক্ষিণ সিটিতে ৮ জুলাই দ্বিতীয় দফায় লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোড, আফতাবনগর ব্লক-ই, এফ, জি এর সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকা, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা এবং পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গাসহ মোট পাঁচটি হাট ইজারার জন্য চূড়ান্ত করা হয়।
বাকি হাটগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়ে তৃতীয় দফায় আহ্বান করা হয়। এই দফায় ৯টি হাটের বিপরীতে ২০টি দরপত্র জমা পড়েছিল। ২১ জুলাই মূল্যায়ন কমিটি এসব হাটের মধ্যে ছয়টি হাট ইজারার জন্য চূড়ান্ত ঘোষণা করেছে। বাকি তিনটি হাট বাতিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ডিএসসিসির ইজারা চূড়ান্ত হওয়া নতুন ছয় হাট হলো— মেরাদিয়া বাজার, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ধূপখোলা মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল, আমুলিয়া মডেল টাউন ও লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ।
যে তিনটি হাট বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো হলো— কামরাঙ্গীর চরের ইসলাম চেয়ারম্যানবাড়ির মোড় থেকে বুড়িগঙ্গার বাঁধ, শ্যামপুর বালুর মাঠ ও আরমানিটোলা মাঠ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের পাঁটি হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছিল আগেই। বাকি ৯টি হাটের মধ্যে ছয়টির ইজারা আজ (মঙ্গলবার) চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে হিসাবে দক্ষিণ সিটিতে এবারে ১১টি হাটে পশু বেচাকেনা চলবে।