Main Menu

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত সংলাপ:শেখ হাসিনা কারামুক্ত না হলে আজকের বাংলাদেশ পেতাম না

শেখ হাসিনা কারামুক্ত না হলে আজকের বাংলাদেশ পেতাম না #ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হলে ভবিষ্যতে কেউ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সাহস পাবে না: মহিউদ্দিন খান আলমগীর। #মাইনাস টু ফর্মূলার আড়ালে প্রকৃতপক্ষে শুধু শেখ হাসিনাকেই মাইনাস করতে চেয়েছিল: আব্দুর রহমান। #শেখ হাসিনা আমাদের কাছে সূর্য, তার আলোতেই অন্যরা আলোকিত হচ্ছে: শ ম রেজাউল করিম। #গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সেদিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা: সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। #ড. কামাল হোসেন এবং ড. ইউনুস পেছন থেকে ষড়যন্ত্রের কাজ করছিলেন: নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। #শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা: দেলোয়ার হোসেন।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাসমর্থিত সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার আপোসহীন মনোভাব আর দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের কারণে গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল। শেখ হাসিনা মুক্তি না পেলে আমরা আজকের উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ পেতাম না বলে মনে করেন আলোচকরা।
দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।
সঞ্চালক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতির পিতার আদর্শ, আত্মত্যাগ এবং রাজনৈতিক আদর্শকে বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রি শেখ হাসিনা অসীম সাহস, ধৈর্য্য, সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এদেশের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি করোনা সহ সকল দুর্যোগের ভরসার প্রতীক, আস্থার প্রতীক, আশ্রয়স্থল।  আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি আজকের এই দিনে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু কন্যা, গণতন্ত্রের কাণ্ডারি আওয়ামী লীগ সভাপতি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে, মিথ্যা মামলা দিয়ে ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসা থেকে অতি ভোঁরে ফজরের নামাজের পরপরই তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। 
তিনি আরও বলেন, এই গ্রেফতার ছিল সম্পূর্ণ প্রাহসনিক ও নীল নকশা বাস্তবায়নের এবং জাতীকে বিভ্রান্ত করার জন্য এক কঠিন ষড়যন্ত্র তারা এঁকেছিল। এই অন্যায়, অত্যাচার ও মিথ্যা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নেতাকর্মী সহ দেশের অপামার জনগণ তখন গর্জে উঠে। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই  ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ও ভয়াবহ একটি দিন কারণ  মিথ্যা মামলায় অযুক্তিক ভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল যার মদদদাতা ছিল জামায়াত ও বিএনপি। কিন্তু সেই অগণতান্ত্রিক চক্র তাকে আটকিয়ে রাখতে পারিনি। নেতাকর্মীরা ও দেশের অপামার জনগণ তাকে মুক্ত করে নিয়ে এসছে ও ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে ধারাবাহিক ভাবে তিনবারের মত প্রধানমন্ত্রী হয়ে এদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
মহিউদ্দিন খান আলগমীর বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করেছিল সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার। তখন সারা জাতি বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সাহস ও নির্ভীকতার প্রতীক হিসাবে মনে করা হতো। সেই সাহস ও নির্ভীকতা নিয়ে কারাগারে থেকেও আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে গণতন্ত্রকে রুখতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা পারেনি। আমরা তখন জেলে ছিলাম। এরপর ২০০৮ সালে ১৬ অক্টোবর তাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেয়া হয় শেখ হাসিনাকে। এরপর থেকেই তিনি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের অস্থায়ী সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে পরিপূর্ণ মুক্তি না দিলে কোনো নির্বাচন হবে না। তখন সাবেক পূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারারফ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম লোটাস কামালসহ অনেকেই জেলে ছিলাম। কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আমাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা সংবিধান লংঘন করে আমাদের কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। এখন তাদের বিচার করতে হবে। একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে তখন কার কি ভূমিকা ছিল, সেটাও বের করতে হবে। তাদের বিচার হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সাহস পাবে না। 
তিনি আরো বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি গণতন্ত্রণকে সমুন্নত রাখার জন্য। এই গণতন্ত্রের মাধ্যমে জাতির সকল মানুষের যেন উন্নয়ন হয় সেদিকে আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। 
আব্দুর রহমান বলেন, এই দিবসটি আমাদের কাছে কালো দিবস। এই দিনেই গণতন্ত্রকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে ১৬ জুলাই শুধু একটিমাত্র কারণেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, ৭৫ এর পরাজিত শক্তিরা বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য শক্তিরা ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই মহলটি সেদিনই বুঝে গিয়েছিল, তিনি যেহেতু নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাই রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিচার করবেন শেখ হাসিনা। এই ভয় থেকেই তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা ভেবেছিল, শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই ষড়যন্ত্র সফল হবে। কিন্তু তারা ১১ মাসের বেশি আটকে রাখতে পারেনি। গ্রেপ্তারের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী অসুস্থ ছিলেন। তার কোনো খবর নিতে পারেননি। গ্রেপ্তারের সময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি বাংলার মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করছি। আমার জন্য চিন্তা করি না, আমি মৃত্যুতে ভয় করি না। 
তিনি আরো বলেন, সেদিন মাইনাস টু ফর্মূলার আড়ালে প্রকৃতপক্ষে মাইনাস ওয়ান ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছিল তা কখনোই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘ এই সময়ে নিজের জীবনকে বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন গণতন্ত্রের জন্য। মৃত্যুর দুয়ার থেকে বারবার ফিরে আসা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে তাকে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করেনি সেনাসমর্থিত জান্তা সরকার। আওয়ামী লীগের তৎকালীন তৃণমূলের নেতারা বর্ধিত সভায় সবাই একসাথে বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে ছাড়া এদেশে কোনো প্রহসনের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। সেদিন গ্রাম বাংলার মানুষ জায়নামাজে বসে শেখ হাসিনার জন্য কেঁদেছিল। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা এদেশে ফিরেছিলেন। তিনি সেদিন বলেছিলেন, আমার পরিণতি যদি পিতার মতো হয়, তবুও আমি বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যেতে চাই। সেই থেকে লড়াই সংগ্রাম করে আজকের বাংলাদেশ পুরো পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছেন। 
শ ম রেজাউল করিম বলেন, যদি ১৬ অক্টোবর ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার মুক্তি না হতো, তাহলে আমাদের স্বপ্নভঙ্গ হতো। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা ফিরে আসার পর দেশবাসী সাহস পেয়েছিল। শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিল। তখন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক তিন বিচারপতিকে বাদ দিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান হয়ে যান। এরপর আমরা সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার কপিগুলোও আমরা পাচ্ছিলাম না। এরপর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানকে সাথে নিয়ে ধানমন্ডির সুধাসদনে গিয়েছিলাম। তখন সেখানে পুলিশ পাহারায় নেত্রীর সাথে দেখা করার পর তিনি বলেছিলেন, কিভাবে ঢুকতে পারলে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তারের পর আমরা তার সাথে দেখা করার জন্য চারজনের তালিকা সরকারকে দিয়েছিলাম। আমাদের দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। এরপর আমরা শেরে-বাংলা নগরে মামলা চলার সময় নিয়মিত যাওয়া শুরু করি। কিন্তু যাদের বিচারক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তারা ছিল আজ্ঞাবহ দাস। 
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের কাছে সূর্য। তার আলোতেই অন্যান্য নক্ষত্র আলোকিত হয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এবং এন্টি আওয়ামী লীগ দুইটা ধারা রয়েছে। তিনি মানবতার মা। তিনি সেরা পরিশ্রমী ও সৎ প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যত মামলা রয়েছে, সবই আমার মাথায় আছে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, শেখ হাসিনার কোনো মামলাই সরকারিভাবে প্রত্যাহার করা হয়নি। আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমেই সব কয়টা মামলায় খালাস পেয়েছেন। এছাড়া লন্ডনে হাউস অব কমন্সে শেখ হাসিনার মামলা নিয়ে ডিবেট করে সফল হয়েছিলাম ব্রিটিশদের বুঝাতে, যে শেখ হাসিানর বিরুদ্ধে কোন প্রেক্ষাপটে মামলা হয়েছিল। আমি মন্ত্রী হয়েছি, কিন্তু কোনো দিন শেখ হাসিনার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো তদবির করা হয়নি। কারণ তারা রাজনীতি করেন আত্মোৎসর্গ করার জন্য।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ১৬ জুলাই ২০০৭ সালে খুব ভোরে আমার বাসার কাজের লোক ঘরের দরজায় নক করছিল। তারপর আমি বললাম, কি হয়েছে। সে বললো, নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি লাফ দিয়ে উঠে টিভি ছাড়লাম। তখন আমি নেত্রীর মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। তখন নেত্রীকে দেখছিলাম তিনি মানসিকভাবে খুবই শক্তিশালী আছেন। ওই দিনটি ছিল আমাদের সবার জন্য, গণতন্ত্রের কালো দিন। আমি আব্দুর রহমান ভাইয়ের সাথে একমত হয়ে বলতে চাই, মাইনাস টু ফূর্মলা ছিল একটি টেকনিক্যাল ফর্মূলা। মূলত শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতেই এসব করেছিল। সেনাসমর্থিত সরকারের একটা উদ্দেশ্য ছিল। আমি তখন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ছিলাম। আমি তখন ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে সেনাবাহিনীর অনেকের সাথে দেখা হয়েছে। তারা চেয়েছিল শেখ হাসিনার রাজনীতিকে হত্যা করতে, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে। কিন্তু তারা পারেনি। তারা বিএনপিকে সেইভাবে গুণতো না। কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের সাথে কোনো আপোস করেননি। বিদেশ থেকে ফিরতে দিতে চায়নি শেখ হাসিনাকে। এয়ারপোর্ট থেকে তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল। তিনি সেখানে সংবাদ সম্মেলন করার পরদিন দেশে ফিরে আসেন। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সেদিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দেশে ফিরে আসেন। তারপর থেকেই ২০০৯ তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দেখুন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে কিভাবে ভূমিকা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। এই করোনার সময় প্রধানমন্ত্রী একাই লড়াই করে যাচ্ছেন। অনেক পণ্ডিত বলেছিলেন, লকডাউন তুলে দিলে ভয়ংকর অবস্থা হবে। কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থা আরো ভালো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা মেনে চললে অচিরেই আমরা করোনামুক্ত বাংলাদেশ পাবো। এই করোনার সময়ও আমাদের রেমিটেন্স বেড়েছে। আমার অর্থনীতির সকল সূচকই এগুচ্ছে। আল্লাহর রহমতে আমাদরে নেত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি। 
নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, নবম সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ফখরুদ্দিন, মইনুদ্দিন এবং ড. ইউনুস কক্সবাজারে সময় কাটিয়ে ছিলেন। তখন তারা ৬ থেকে ১০ বছরের জন্য দেশ শাসন করতে চেয়েছিল। তারা প্রথমে ৩ মাসের জায়গায় দুই বছর এরপর আরো ৮ বছর ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। ওই সময় তিনজনের হাতেই ক্ষমতা ছিল। পেছন থেকে ড. কামাল হোসেন এবং ড. ইউনুস কাজ করছিলেন। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক এ্যাডমিনস্ট্রেশন বিভাগের একটি খেলা আয়োজন করেছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে সেনা ছাউনির কাছেই খেলার আয়োজন করেছিলাম স্ফুলিঙ্গ হিসাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে। সেখানে বেধরক মারধর করেছিল আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর। মাত্র তিনদিনের মধ্যেই সারাদেশ ফুঁসে উঠেছিল। তৎকালীন দুদকের চেয়ারম্যান জেনারেল মওশুদ ক্ষমতা গ্রহণের পরই পাকিস্তানে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মেজর ডালিমের সাথে বৈঠক করেছিলেন। এরপর জাতির জনকের কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনোভাবে কারো কাছে মাথা নত করেননি। সেই মাথা নত না করার ফল এখন জাতি ভোগ করছে। এই কারণেই কোথায় আজ জেনারেল বারী, জেলারেল মইনুদ্দিন, ফখরুদ্দিন? তারা হারিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আমরা করোনা  মোকাবিলা করছি। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঋণী।  
দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০০১ পরবর্তী সময়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সম্মুখ সারির কর্মী ছিলাম। তখন আমাদের কর্মসূচী পালন করতে হয়েছে। আমরা ওই সময় কারাভোগ করেছি। আমাদের সিনিয়র নেতাদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ করেছি। নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছিল। নারী নির্যাতনে বিশ্বরেকর্ড করেছিল খালেদা জিয়ার সরকার। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি শ ম রেজাউল করিম ভাইয়ের সাথে একমত হয়ে বলতে চাই, এদেশে এন্টি আওয়ামী লীগ অর্থাৎ পাকিস্তানপন্থীরা ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাকে হত্যা করার জন্য ২১ বার চেষ্টা চালিয়ে সফল হতে না পেরে, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক হত্যা করতে চেয়েছিল। 
তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র না হয়েও তিনি আমাদের পরিবেশ রক্ষার অগ্রসৈনিক। তিনি সবার জন্য একধাপ এগিয়ে। দেশের জন্য, মানুষের জন্য, অনাগত একজন শিশু যেন ভবিষ্যতে প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থাই করে যাচ্ছেন। কৃষিজমি রক্ষা, বনভূমি সংরক্ষণের জন্য আইন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিবেশ একটি বহুমাত্রিক শব্দ। একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃক্ষরোপন ব্যাপকভাবে করার জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এ বছর বিশ্বের বাংলাভাষার মানুষ, গণতন্ত্রকামী মানুষ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। করোনার কারণে সেটা হয়তো হচ্ছে না। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সম্মানে পরিবেশ ঝুঁকি এড়াতে ব্যাপক মাত্রায় বৃক্ষরোপন করা হচ্ছে।  তথাকথিত পরিবেশবাদীরা একটা বৃক্ষরোপনও করেছেন কিনা, সেটা জানতে চাইতে হবে।






Related News