ফিরে দেখা-২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ

মেহেদী মাসুদ : আগামীকাল ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। বরাবরের ন্যায় এবারও হয়তো হবে অনেক নতুন রেকর্ড। যা কিনা আবার পরের আসরে ভেঙ্গে যাবে। মূলত রেকর্ড হয়ই ভঙ্গের জন্য। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে আমরা ফিরে তাকাতে চাই গত আসরের দিকে।
অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে ২০১৫ বিশ্বকাপ আয়োজন করে। এ আসরেই আফগানিস্তান দলের বিশ্বকাপ অভিষেক ঘটে। ২০১১ আসরের ন্যায় ২০১৫ বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণকারী দল সংখ্যা ছিল ১৪টি। দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দলগুলো।
গ্রুপ ‘এ’: বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ড।
‘এ’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলংকা টুর্নামেন্টের কোয়ার্টাফাইনালে খেলে।
গ্রুপ ‘বি’: ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
‘বি’ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে-ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে শ্রীলংকাকে, ভারত ১০৯ রানে হারায় বাংলাদেশকে, অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে পাকিস্তানকে এবং নিউজিল্যান্ড ১৪৩ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।
প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতকে ৯৫ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড দলের অপরাজিত থাকার রেকর্ড শেষ হয়ে যায় ফাইনালে। অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে ৭ উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে রেকর্ড পঞ্চম বারের মতো বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন অস্ট্রেলিয়া পেসার মিচেল স্টার্ক।
ব্যাটিং পারফরমেন্স :
৪১৭/৬- আফগানিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
৫৪৭- নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিলের রান সংখ্যা, ২০১৫ বিশ্বকাপে কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
২৩৭* টুর্নামেন্টে এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। ওয়েস্ট ইনডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিলের দখলে রয়েছে রেকর্ডটি।
৩৮ টুর্নামেন্টের মোট সেঞ্চুরি সংখ্যা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোন এক আসরে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির সংখ্যা এটি।
৪-টুর্নামেন্টে কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির সংখ্যা। ২০১৫ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ এ চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারা।
৪-হাফ সেঞ্চুরি। ২০১৫ বিশ্বকাপে কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ হাফ সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ, জিম্বাবুয়ের সিন উইরিয়ামস, পাকিস্তানের মিসবাহ উল হক এবং নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম চারজনেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ চারটি করে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন।
বোলিং পারফরমেন্স :
২২ উইকেট-২০১৫ বিশ্বকাপে কোন বোলারের সর্বোচ্চ শিকার। অস্ট্রেলিযার মিচেল স্টার্ক ও নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট উভয়েই ২২টি করে উইকেট শিকার করেছিলেন।
৭/২২- টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং ফিগার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ২২ রানে ৭ উইকেট শিকারের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডটি নিজের করে নেন নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি।
৭-বার পাঁচ উইকেট শিকারের ঘটনা ঘটেছে ২০১৫ বিশ্বকাপে। সাত ক্রিকেটার হলেন- নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি(৭/২২), অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক(৬/২৮), নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট(৫/২৭), অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক(৫/৩৩), দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির(৫/৪৫), পাকিস্তানের সোহেল খান(৫/৫৫) এবং ইংল্যান্ডের স্টিভেন ফিন(৫/৭১)।
উইকেটকিপিং পারফরমেন্স :
১৬- ডিসমিজাল-কোন উইকেটরক্ষক হিসেবে ২০১৫ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ এ ডিসমিজালের রেকর্ডটি গড়েন অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাড হাডিন।
৬- এক ইনিংসে কোন উইকেটরক্ষকের সর্বোচ্চ ডিসমিজালের রেকর্ড। ২০১৫ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে সর্বোচ্চ এ ডিসমিজালের নেকর্ডটি গড়েন পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ।
ফিল্ডিং পারফরমেন্স :
৯-টুর্নামেন্টে কোন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ক্যাচ সংখ্যা। ২০১৫ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৯টি ক্যাচ নেয়ার রেকর্ডটি গড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রুশো।
৪-এক ম্যাচে কোন খেলোয়াড়ের নেয়া সর্বোচ্চ ক্যাচ সংখ্যা। ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের সৌম্য সরকার এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে উমর আকমল দু’জনেই চারটি করে ক্যাচ নেন।

Share: