সম্প্রীতির মঞ্চ: যেখানে পদ নয়, বন্ধনই শেষ কথা- ডক্টর দিপু সিদ্দিকী

সম্প্রীতির মঞ্চ: যেখানে পদ নয়, বন্ধনই শেষ কথা

সুপ্রিয় বন্ধুজন

আমরা এখানে কেউ কোনো সুউচ্চ সিংহাসন আরোহণ করতে আসিনি। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ জার্নালিজম এলামনাই এসোসিয়েশন (পিবজা) আমাদের কোনো ব্যবসায়িক ক্ষেত্র নয়, নয় কোনো স্বার্থ হাসিলের মঞ্চ। এটি তো আমাদের এক টুকরো শান্তির নীড়। প্রতিদিনের চেনা ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর পেশাগত লড়াইয়ের শেষে আমরা যেখানে একটু মুক্ত বাতাস নিতে আসি; যেখানে এসে আমরা একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করি, কাঁধে হাত রেখে স্মৃতিরোমন্থন করি। এটি আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা আর সামাজিক দায়বদ্ধতার এক পবিত্র আঙিনা।

তাহলে কেন এত বিভেদ? কেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত কাদা ছোড়াছুড়ি আর গোপনে মিটিংয়ের দেয়াল তোলা?

আমাদের এই সংগঠনটি একটি নিপুণভাবে গাঁথা সুন্দর ফুলের মালা। বিশ্বাস করুন, প্রতিটি সদস্য সেই মালার একেকটি অনন্য ফুল। আমাদের মধ্যে থেকে যদি একটি ফুলও ঝরে যায়, তবে পুরো মালাটিই যে তার সৌন্দর্য হারাবে, অসম্পূর্ণ হয়ে পড়বে। এখানে পদ-পদবি কিংবা অহংকার কখনো আমাদের বন্ধুত্বের চেয়ে বড় হতে পারে না। নেতৃত্ব কোনো ভোগের বস্তু নয়, এটি দায়িত্ব। যিনি এই গুরুভার বহনে সক্ষম, আমাদের উচিত তাকে ভালোবেসে, প্রয়োজনে জোর করে হলেও সেই দায়িত্বে বসানো। যেদিন আমরা এই উদার মানসিকতা তৈরি করতে পারব, সেদিনই পিবজা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

আমাদের প্রত্যেকের আলাদা রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে, ভিন্ন ব্যক্তিগত দর্শন থাকতে পারে। কিন্তু যখন আমরা পিবজার ছায়াতলে এসে দাঁড়াব, তখন যেন সব পরিচয় ছাপিয়ে কেবল একটাই দর্শন মুখ্য হয়ে ওঠে—তা হলো ‘বন্ধুত্ব দর্শন’।

আজ অত্যন্ত বুকভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে দেখতে হচ্ছে, আমাদের প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় সদস্যরা কিছু অযৌক্তিক আক্রমণ আর শব্দ বোমার আঘাতে নীরবে কষ্ট পাচ্ছেন। প্রবীণদের এই অশ্রদ্ধা আর অশ্রু কোনো সংগঠনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এই অহংকার আর আক্রমণাত্মক পথ যদি আমরা এখনই পরিহার না করি, তবে ভাঙন কিন্তু দরজায় কড়া নাড়ছে। অনেকে হয়তো নীরবে ‘গুডবাই’ বলে চলেও যাচ্ছেন।

সময় থাকতে আমরা সচেতন না হলে, একদিন এই ভালোবাসার সংগঠনটি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তখন আমাদের এই পদ, অহংকার আর জেদ—সবকিছুই ভীষণ অর্থহীন শোনাবে।

আসুন বন্ধুরা, সব ভেদাভেদ ভুলে, মনের সব সংকীর্ণতা ধুয়ে-মুছে আমরা একে অপরকে বুকে জড়িয়ে নিই। পিবজাকে গড়ে তুলি সত্যিকারের এক সম্প্রীতির মঞ্চ হিসেবে। ভাঙনে নয়, আসুন আমরা গড়ায় বিশ্বাসী হই।

Share: